Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
ধুলোর নিচে লুকোনো লাইনগুলো
আমার শরীর শিরশির করে উঠল। হাসপাতালের গন্ধের মতো একটা ঠান্ডা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল ঘরে। ঠিক তখনই স্কুটারের সিটের ওপর রাখা মোবাইলটা বেজে উঠল। মায়া। অসম্ভব। এই নম্বরটা যে নিষ্কর্মা, আট মাস কল করেনি!
ধুলোর নিচে লুকোনো লাইনগুলো

শহরের ভিড়েও কিছু নীরবতা থাকে


কলকাতার ভিড়ভাট্টা চেনা আমার বরাবরের অভ্যাস। তবু ট্রামলাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে সেদিন হঠাৎ মনে হলো — শহরটা খুব চুপচাপ। সাধারণ শব্দগুলো আছে — গাড়ির হর্ন, রিকশার ঘণ্টি, হাওয়ায় ঝুলে থাকা লাল-নীল পোস্টার — তবু যেন একটা ভার ছড়িয়ে আছে বাতাসে। আমার নাম আরিস। ৩২ বছর বয়স। পেশায় গ্রাফিক ডিজাইনার। তিন বছর ধরে একটা সম্পর্ক ছিল — মায়া। এখন সেটা নেই। তবে "নেই" শব্দে পুরোটা বোঝানো যায় না। যা নেই, তার মধ্যেই বেশি কিছু থেকে যায়। মায়া আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আজ আট মাস। কারণ — আমি তখন ভেবেছিলাম সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। কিন্তু সে কিছুই ব্যাখ্যা করেনি। শুধু চুপচাপ অদৃশ্য হয়েছিল। মানুষের জীবনে কিছু নীরবতা এমন হয়, যেগুলো সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে।

পুরোনো বাড়ির সামনে অচেনা এক খাম


সন্ধ্যা নামতে না নামতেই আমি একটা ফোন কল পেলাম — এক অচেনা মহিলা বললেন, "আপনি কি আরিস? আপনার নামে একটা খাম এসেছে। ঠিকানাটা ভুলে গেছে, তাই আমরা দোকানে আটকে রেখেছি।" খাম? কে পাঠাবে? আমি বললাম, "দোকানের নাম?" তিনি বললেন, "জনতা স্টেশনারি, বালিগঞ্জ প্লেস।" আমার বুকটা আচমকা ধক করে উঠল। জনতা স্টেশনারি — সেই দোকান যেখানে আমি আর মায়া প্রথম দেখা করেছিলাম। এটাও কি কাকতালীয়?

দোকানে পৌঁছে দেখি টেবিলের উপর একটা পুরোনো হলদে খাম। খামের ওপর লেখা — "আরিসের হাতে পৌঁছে দাও। যে-ই পাওয়া যাক।" লেখাটা মায়ার মতোই। তবে কেমন যেন কাঁপা, অগোছালো। আমি খুললাম। ভিতরে একটা কাগজ — হালকা ধুলো লেগে থাকা, যেন কোনো পুরোনো নোটবুক থেকে ছেঁড়া। পাঁচটা লাইন লেখা —
"আরিস, তুই যা ভাবছিস, সত্যিটা তা নয়।
আমার চলে যাওয়ার আসল কারণটা একদিন জানবি।
যদি আমার খোঁজে থাকিস —
৭৪, রঘুবাবু লেন। মধ্যরাত।
— মায়া"

আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল। রঘুবাবু লেন? ওই নামটা আমি কোনোদিন শুনিনি। কিন্তু "মধ্যরাত" শব্দটা — এটা কি সত্যিই মায়া লিখেছে? নাকি কেউ ওর হয়ে লিখেছে? নাকি এটা কোনো ফাঁদ? যাই হোক — আমি জানতাম, আজ রাত বারোটায় আমি ওই ঠিকানায় যেতেই হবে।

রঘুবাবু লেন — শহরের অচেনা এক অন্ধকার


রাত বারোটার পাঁচ মিনিট আগে আমি স্কুটার থামালাম। রঘুবাবু লেন একটা সরু গলি। দুইপাশে পুরোনো ভাঙা বাড়ি, অর্ধেক আলো, অর্ধেক অন্ধকার। ৭৪ নম্বর বাড়িটা দেখে বুকটা কেঁপে উঠল। বাড়িটা দেখতে একটা অব্যবহৃত লাইব্রেরির মতো। জানালার কাঁচ ভাঙা। দরজাটা অর্ধেক খোলা। অদুরে বিড়ালের ছুটে যাওয়ার শব্দই একমাত্র জীবনের চিহ্ন। আমি দরজা ঠেলে ঢুকলাম। ধুলো জমে আছে সব জায়গায়। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুরোনো কাগজ। মাঝে একটা কাঠের টেবিল। ওর ওপরে — একটা লাল রেজিস্টার। যেন কেউ রেখে গেছে। রেজিস্টারের ওপর ধুলো জমে আছে — তবু কাছে যেতেই বুঝলাম — কেউ সাম্প্রতিকই ছুঁয়েছে এটা। আঙুলের দাগ আছে। আমি বইটা খুললাম। ভেতরে প্রথম পাতায় লেখা — "ধুলোর নিচে লুকোনো লাইনগুলো — মায়া"

আমার বুক ধক ধক করছে। রেজিস্টারের পাতা উল্টাতেই একটা ছবি বেরিয়ে এল। মায়ার ছবি। হাসছে। ঠিক যেভাবে আমাকে শেষবার বলেছিল — "আরিস, তুই আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।" কিন্তু ছবির পিছনে আরও একটা লাইন — "আমাকে খুঁজিস না।"

আমি নিঃশ্বাস ফেলে দাঁড়িয়ে রইলাম। হাওয়া যেন ঘন হয়ে গেল। বাড়ির নীরবতা যেন হঠাৎ আরও ভারী। ঠিক তখনই — পেছন থেকে কারো ধীর পায়ের শব্দ। আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। কেউ নেই। শুধু করিডোরের শেষে একটা ছায়া — উজ্জ্বল নয়, অস্পষ্ট। মানুষ কি? না কি আলো-ছায়ার প্রতিফলন? আমি কিছু বলার আগেই ছায়াটা মিলিয়ে গেল।

আমার শরীর শিরশির করে উঠল। হাসপাতালের গন্ধের মতো একটা ঠান্ডা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল ঘরে। আমি রেজিস্টারটা হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হতে গেলাম। ঠিক তখনই — আমার স্কুটারের সিটের ওপর রাখা মোবাইলটা বেজে উঠল। মায়া। অসম্ভব। এই নম্বরটা যে নিষ্কর্মা, আট মাস কল করেনি!

আমি কল তুললাম, "হ্যালো?" নিঃশ্বাস কাঁপছে আমার। ওপাশে সম্পূর্ণ নীরবতা। তারপর খুব ধীরে একটা গলা — "ওই বাড়িতে আর থাকিস না..." গলার স্বর — মায়া। অবিকল। তবে খানিকটা ক্লান্ত, ভাঙা। আমি চিৎকার করে বললাম, "মায়া! তুই কোথায়? তুই কি ঠিক আছে? কেন আমাকে এই ঠিকানা পাঠালি?" ওপাশে আবার নীরবতা। তারপর, "এটা শেষ নয় আরিস। আরও কিছু আছে। সব কিছুই ধুলোর নিচে লুকিয়ে আছে।" লাইন কেটে গেল।

আমার পা কাঁপছে। হাতের রেজিস্টার ভারী হয়ে উঠেছে। ও বেঁচে আছে? না কি কেউ তার নাম ব্যবহার করছে? কিন্তু ফোন কলটা আমার ফোনের কল-লিস্টে নেই। যেন কখনো কলই আসেনি।

রেজিস্টারের দ্বিতীয় সত্যি


বাড়ি ফিরে রেজিস্টারটা খুললাম। পাতাগুলোতে অদ্ভুত কিছু লেখা —
০১. "আমাকে খুঁজিস না।"
০২. "তোর ক্ষতি হতে পারে।"
০৩. "শহর আমাদের চেনে না।"
০৪. "শেষ পাতায় সত্যিটা লিখেছি।"
০৫. "কেউ আমাকে নজরদারি করছিল..."

নজরদারি? মায়াকে কেউ নজরদারি করছিল কেন? আমি পাতাগুলো উল্টাতে থাকলাম। দেখলাম মায়ার হাতের লেখা ক্রমশ কাঁপা। কিছু পাতা অর্ধেক ছেঁড়া। কিছু পাতা যেন তাড়াহুড়ো করে লেখা। এক পৃষ্ঠায় বড় করে লেখা — "আরিস, যদি কখনো সত্যিটা জানতে চাস — শহরের পুরোনো আর্কাইভ রুমে যাস। সেখানে একটা নীল ফাইল আছে। কোড — 21B."

আমি চমকে উঠলাম। পুরোনো আর্কাইভ রুম — কলেজ স্ট্রিটের কাছে পুরোনো পৌরসভার লাইব্রেরি। অনেক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। মায়া কি ওখানে কাজ করত? না কি সেখানে কিছু লুকানো আছে? রেজিস্টারের শেষ পাতায় লেখা — "আমাকে কেউ নিয়ে যাচ্ছে। তুই এলে বিপদ হবে। কিন্তু তুই আসবিই জানি... যদি আসিস — সাবধানে আসিস। চোখের সামনে সবকিছু যেমন দেখাস — তেমন নয়।"

গলার ভেতর সব শুকিয়ে গেল। বুঝলাম — কিছু খুব গভীর, খুব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। আর আমি সেটা জানতাম না।

পুরোনো আর্কাইভ রুমের ভয়াল নীরবতা


পরের দিন সকাল। আমি কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো আর্কাইভ ভবনে পৌঁছালাম। জায়গাটা পুরোপুরি ভাঙাচোরা। দরজায় তালা ঝুলছে। পাশে একটা ছেঁড়াখোঁড়া সাইনবোর্ড — "Archive Section—Closed Since 2019" কিন্তু তালাটা খোলা। মানুষ তো এভাবে তালা খোলা রাখে না। আমি দরজা ঠেলে ঢুকলাম। বাড়িটা বিশাল। ভিতরে অন্ধকার আর ধুলো। ছাদের কোনো অংশ ভেঙে পড়েছে। ফাঁকা ঘরগুলো কেমন যেন ভুতুড়ে লাগছে। এক কোণায় একটা আলমারি। সেখানে নীল রঙের বেশ কয়েকটা ফাইল।

কোড খুঁজতে খুঁজতে 21B পেলাম। হাত কাঁপছে। ফাইল খুললাম। ভেতরে কয়েকটা মেডিক্যাল রিপোর্ট। আর একটা নথি — "Case Study: M. Sen — Missing Person Report." মায়া সেন। আমি হিম হয়ে গেলাম। মায়া নিখোঁজ ছিল? আমার সাথে থাকাকালীন? না কি আমাদের সম্পর্ক ভাঙার পরে? আমি রিপোর্টটা পড়তে লাগলাম।

সত্যির অন্ধকার দিক


রিপোর্টে লেখা — "এম. সেন হঠাৎ নিখোঁজ। ইতিপূর্বে সন্দেহ করা হতো — তিনি সরকারী আর্কাইভে থাকা কিছু গোপন মেডিক্যাল রিপোর্ট লুকিয়ে ফেলেছিলেন।" গোপন মেডিক্যাল রিপোর্ট? এটা আবার কী? আরেকটা পাতায় বড় করে লেখা — "Subject had access to highly confidential psychological research files."

মায়া? মনোবিজ্ঞান সম্পর্কিত গোপন ফাইল? ও তো একজন সাধারণ লাইব্রেরিয়ান ছিল। অন্তত তাই বলত। আরো পড়লাম —
"She mentioned being followed by unknown men."
"She feared someone wanted to destroy the ‘truth’ she found."
"Before going missing, she wrote something in a personal notebook."
"That notebook has not been recovered."

ব্যস — আমার বুকের ভেতর ধাক্কা লাগল। ওই রেজিস্টারটাই সেই নোটবুক! যেটা কেউ খুঁজে পাচ্ছিল না। মানে — ও যেভাবে ঘটনার মধ্যে জড়িয়েছিল, সেটা সাধারণ সমস্যা ছিল না। মায়া কি কোনো সত্যি আবিষ্কার করেছিল? কোনো গবেষণা? কোনো অপরাধ? কোনো লুকোনো তথ্য? মনে পড়ে গেল — আমাদের সম্পর্ক ভাঙার ঠিক আগে মায়া বার বার বলত — "আরিস, এখনই কিছু বুঝবি না... সময় হলে বলব।" আমি তখন ভেবেছিলাম — ও আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্য কাউকে ভালোবাসছে। কিন্তু... ও তো অন্য কারো সাথে ছিল না। ও লড়ছিল — কোনো অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে।

আর্কাইভ রুমে অজানা উপস্থিতি


হঠাৎ — কাছের কোনো তাক থেকে শব্দ হলো। কেউ আছে? আমি টর্চ জ্বালালাম। একটা ছায়া। দীর্ঘ, স্থির, দাঁড়িয়ে আছে আমাকে দেখছে। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, "কে!" কেউ উত্তর দিল না। ছায়াটা ধীরে ধীরে অন্যদিকে সরে গেল। আমি ওর পেছনে দৌড়ালাম। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই — গোটা আর্কাইভ ভবনটা কাঁপতে লাগল। উপর থেকে ধুলো ঝরছে। দেয়ালে ফাটল ধরছে। আমি তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে এলাম। বেরোতেই ফোন আবার বেজে উঠল। নাম — "Unknown"। তুললাম। ওই একই গলা — "আরিস, তুই সত্যির খুব কাছে চলে এসেছিস।" আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, "মায়া! তুই কোথায় আছিস? জীবিত না —" ওর গলা কেঁপে উঠল, "এই শহরে সব কিছু চোখে দেখা যায় না..." লাইন কেটে গেল। আমি হাঁফাতে লাগলাম। মনে হলো কেউ আমার পিঠের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ঘুরলাম — কেউ নেই। শুধু বাতাসে ধুলোর গন্ধ।

রেজিস্টারের শেষ পাতায় সত্যি


বাড়িতে ফিরে রেজিস্টারটা শেষবার খুললাম। শেষ পাতাটা আগে ফাঁকা ছিল। কিন্তু এখন সেখানে নতুন করে কিছু লেখা। অসম্ভব — আমি তো কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিইনি। পাতায় লেখা — "আরিস, যদি তুই এটা পড়ছিস — তবে আমার কাছে খুব কম সময়। তুই যা খুঁজে পেয়েছিস — তা শুধু ফাইল নয়। অপরাধী শুধু একজন নয়। তারা শহরের ভেতরেই আছে। আমাকে তারা চেয়েছিল। কারণ আমি জানি — ওদের গবেষণা মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমি শহরের উত্তর দিকের পুরোনো ট্রামঘরে আছি। এটাই শেষবার ঠিকানা দিচ্ছি। আসিস... তবে একা আসিস না।"

লাইনটা পড়ে আমি থমকে গেলাম। কেন একা যেতে মানা? কার কাছ থেকে লুকিয়ে আছে? ওর লেখা কি সত্যিই? নাকি কেউ ওর লেখা নকল করছে? কিন্তু যদি ও সত্যিই বিপদে থাকে? আমি পুলিশ ডাকব ভাবছিলাম — ঠিক তখনই জানলার বাইরে কিছু নড়াচড়া টের পেলাম। জানলা খুলতেই দেখি একটা ছেঁড়া কাগজ উড়ে এসে জুড়ে গেছে। ধুলো লেগে যেন ধূসর। কাগজে মাত্র তিনটা শব্দ — "দৌড় শুরু কর।"

আমি বুঝলাম — কেউ আমাকে নজর দিচ্ছে। কেউ জানে আমি সব বুঝে ফেলছি। কেউ কাছে আছে। এখন থেমে থাকা যাবে না।

পুরোনো ট্রামঘরের অন্ধকারে শেষ দেখা


রাত ২টায় পৌঁছলাম দক্ষিণ কলকাতার পুরোনো ট্রামঘরে। জায়গাটা পুরো অন্ধকার। মাটিতে শুধু ধুলো। সামনে মরচে ধরা ট্রাম। বাতাসে দূষিত লোহার গন্ধ। আমি টর্চ জ্বালাতেই কোনো একটা ছায়া দৌড়ে পালাল। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম — "মায়া! তুই আছিস?" কেউ উত্তর দিল না।

দূরের এক ট্রামের ভেতর আলো দেখা গেল। আমি দৌড়ে গেলাম। ট্রামের ভিতরে ঢুকতেই দেখলাম — কোণায় বসে আছে একটা মেয়ে। চুল এলোমেলো, মুখ শুকনো। চোখে ভয়। আমি টর্চ ফেলতেই — ও মুখ তুলল। মায়া। জীবিত। কিন্তু বিধ্বস্ত। ও আমাকে দেখে ফিসফিস করে বলল — "ওরা আসছে... ওরা জানে তুই এসেছিস।" আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে ধরলাম। আমি বললাম — "কে ওরা? তুই আমাকে ফেলে কোথায় চলে গেছিলি?" ও গলা কাঁপিয়ে বলল — "ওরা আমাকে গবেষণার জন্য ব্যবহার করতে চাইছিল... আমার মাথার ওপর পরীক্ষা চালাত। আমি পালিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ওরা আমাকে ছাড়বে না। সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে ওরা সব করবে।"

আমার শরীর শিরশির করছে। আমি বললাম — "কিসের গবেষণা?" ও নিঃশ্বাস নিয়ে বলল — "মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার থেরাপি... ওরা আমাকে গিনিপিগ বানাতে চাইছিল।" আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম — "চল, এখান থেকে পালাতে হবে।" ঠিক তখনই — দরজার বাইরে পদশব্দ। একদল লোক। মায়া কাঁদতে লাগল। ও বলল — "ওরা এসে গেছে। আরিস, তুই চলে যা!" আমি চিৎকার করে বললাম — "তোর কথা শুনব না। তুই আমার কাছে ফিরে এসেছিস। আর আমি তোকে ছেড়ে যাব না।"

দরজা ভেঙে ঢুকল একজন। কথা বলল — "ওই মেয়েটা আমাদের। সে অনেক জানে। ওকে আমাদের লাগবে।" আমি গলা ফাটিয়ে বললাম — "আমি কাউকে কিছু করতে দেব না!" লোকটা বন্দুক তুলল। আমি মায়াকে ধরে ট্রামের অন্য দরজার দিকে দৌড়ালাম। ট্রামঘরের অন্ধকারে দৌড় — লোহা-জং আর ধুলোর মধ্য দিয়ে জীবনের জন্য দৌড়। মায়া বারবার বলছে — "আরিস, আমাকে ছেড়ে যা! তুই মরবি!" আমি চেঁচালাম — "আমাকে কিছু হলে তবুও পরোয়া নেই। কিন্তু তোকে হারানোর ভয় আমি আর নিতে পারব না!"

আমরা ট্রামঘর থেকে বেরোতে পারলাম। রাতের রাস্তা ফাঁকা। দূরে সাইরেনের শব্দ। সম্ভবত কাছাকাছি পুলিশ টহল ছিল। অপরাধীরা পালাল। আমি আর মায়া হাঁপাতে হাঁপাতে থেমে গেলাম। ও আমাকে জড়িয়ে ধরল। কাঁদতে কাঁদতে বলল — "আমি ফিরে আসতে পারিনি কারণ তোকে বিপদে ফেলব বলে ভয় ছিল..." আমি ওর মাথায় হাত রেখে বললাম — "তুই না ফিরলে আমিও মরে যেতাম।" ও খুব ধীরে বলল — "ধুলোর নিচে লুকোনো যে লাইনগুলো ছিল — আজ সব বেরিয়ে এল।" আমি হাসলাম। আমি বললাম — "এবার আর কোনো লাইন লুকিয়ে থাকবে না।"

নতুন শুরু


মায়া এখন নিরাপদে। পুলিশ পুরো ঘটনাটা তদন্ত করছে। ওরা যে পরীক্ষাগুলো চালাত, তার প্রমাণও পাওয়া গেছে। মায়া সুস্থ হচ্ছে। আমি আবার ওর পাশে আছি। এক সন্ধ্যায় ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে মায়া বলল — "আরিস, আমাদের গল্পটা তো শেষ হয়ে গেছিল মনে হয়েছিল..." আমি ওর হাত ধরে বললাম, "গল্প শেষ নয়। ধুলোর নিচে লুকোনো লাইনগুলোই আমাদের আবার শুরু করাল।" ও আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। তার চোখে এবার কোনো ভয় নেই।

শহরের বাতাসে ধুলো উড়ছে, কিন্তু সত্যিটা স্পষ্ট — এবার আমাদের মাঝে কোনো লুকোনো লাইন নেই।




আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top