About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
ছাদ হারাবার ভয়
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ছাদ হারাবার ভয়

"আমার দাদু, মানে মৌলানা গোলাম রব্বানি, তোমার দাদু, মানে শ্রী বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডলকে এক খণ্ড জমি বিক্রি করেছিলেন। সে দলিল আমি পেয়েছি; দাদুর ট্রাঙ্কে। অনেক চেষ্টা করে আমি তোমার নম্বর যোগাড় করেছি। এই কাগজ আমাদের দুই পরিবারেরই কাজে লাগবে।"

"সরি! রং নাম্বার!" বেশ রাগত স্বরেই বলল বহ্নি।

এই নিয়ে তিন বার এল ফোনটা। আগের দু'বার অজানা নম্বর দেখে ধরেনি। অজানা নম্বর থেকে ফোন এলেই আজকাল প্রথমেই মনে হয় ডিজিটাল প্রতারণার কথা! এভাবে হয়তো অনেক সময় জরুরী ফোন-ও মিস হয়ে যাচ্ছে!

ওপাশ থেকে পুরুষ কিন্তু পরুষ নয় একটি কণ্ঠ, খুব নরম গলায় বলল, "হ্যালো, আমি ইব্রাহিম বলছি।" বহ্নি ফোনটা কেটে দিল। কী জ্বালাতন রে বাবা! কে এক ইব্রাহিম ফোন করে যাচ্ছে! একে আজ অফিসে দিনটা ভাল যায়নি। তার ওপর বাড়ি ফিরে ইস্তক শুনছে কী সব নাকি ফর্ম দিয়ে গেছে বাড়িতে। সেই ফর্মে লিখতে হবে তেইশ বছর আগে তারা কোথায় ভোট দিয়েছিল। এই নিয়ে বাবা বাড়ি মাথায় করছে; দিদা ঘন-ঘন আঁচলের খুঁটে চোখ মুছছে! আর বহ্নি পড়েছে মুশকিলে। সে এখনও ব্যাপারটাই ভাল বুঝে উঠতে পারেনি। চারদিকে জোর আলোচনা চলছে ঠিকই; কিন্তু সেসব শোনার তার সময় কোথায়? সে একটা চাকরি করে, এবং তার অফিস তাকে উদয়াস্ত খাটিয়ে মারে। মাঝে-মাঝে বহ্নির মনে হয় 'কলুর বলদ' প্রবাদটা তার জন্য একেবারে উপযুক্ত। বহ্নির মা নেই! তাই তাকে বাড়িরও অনেক কিছু দেখতে হয়। এই যেমন, মাস-কাবারি চাল আনতে যাবে বাবা। হাজার বার বললেও একটা রিক্সা ভাড়া করবে না। হাতে করে বয়ে আনবে দশ কেজি চাল! সেটা যাতে বাবাকে না করতে হয়, বহ্নি তাই ওটা নিজে নিয়ে আসে সময় করে। সেটাই করতে গিয়ে, আজ অফিস পৌঁছোতে দেরি হল বলে, অমৃতা ম্যাডাম বলে দিলেন, "এ অফিসে সাড়ে দশটার মধ্যে ঢুকতে হবে, নইলে...!" নইলে আর কিছু হোক্ না হোক্, ঝাল-ঝাল কথা দিয়ে কারও মনটাকে ঠিক বিধ্বস্ত করে দেওয়া যায়, যেটা আজকাল দেশে খুব চলছে।

তার ওপর অমৃতা ম্যাডাম আবার এ.সি. ছাড়া থাকতেই পারেন না। আর বহ্নিকে তাঁর চেম্বারেই বসতে হয়। সেই এ.সি-র ঠাণ্ডায় বহ্নির এমন কষ্ট হয়, যে তাকে সব ঋতুতেই মাথায় স্কার্ফ জড়িয়ে বসে থাকতে হয়।

এতকিছুর মধ্যে বহ্নির জীবনের একমাত্র আনন্দ রাতে খেয়ে উঠে সে একটু গল্পের বই পড়তে ভালবাসে। আজও একটা নতুন গল্পের বই নিয়ে বসেছিল। কিন্তু প্রথমে ঐ কী যেন একটা কাগজ নিয়ে হুলুস্থুলু চলল! তার ওপর এই রং নাম্বার। তার অ্যাকাউন্টে কী এমন টাকা আছে, যে চোরেরা তার পেছনে পড়েছে? ফর্ম না কী অলপ্পেয়ে কাগজ, সেটা নিয়েই নাড়া-চাড়া করছিল বহ্নি। ছবি লাগাতে হবে, বলতে হবে সেই কোন্ বছরে সে কোথায় ভোট দিয়েছিল? আরে! অত বছর আগেকার ভোটের কথা সে বলবে কেমন করে? তখন তো তার আঠেরো বছর বয়সই হয়নি। সেটা না বলতে পারলে কী সব একগাদা কাগজ জমা দিতে হবে। বাবা তো তার মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, মার্কশিট, সব চাইছিল। এ আবার কী নতুন সার্কাস? যাক্! লেখাপড়া তো করেছে, এই ভাবতে ভাবতে সার্টিফিকেটের ফাইলটা আলমারি থেকে বের করল বহ্নি।

এম.এস.সি পাশ করেছে সে। তখন মা বেঁচে ছিলেন। মায়ের কথা মনে করে মনখারাপ হল বহ্নির। বেছে বেছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট আর সার্টফিকেটটা বের করল বহ্নি। কালকের জন্য ফেলে রাখার দরকার নেই। সকালে জেরক্স করতে গেলে যদি আবার দেরি হয়ে যায়! অমৃতা ম্যাডাম আজ "নইলে"! বলে থেমে ছিলেন। কাল আবার অফিস পৌঁছোতে দেরি হলে হয়তো শূন্যস্থান পূরণ করে ফেলবেন। আজই গৌরাঙ্গর দোকান থেকে জেরক্স করে এনে বাবাকে দিয়ে দেওয়াই ভাল। ন'টা বাজে; দশ মিনিটে চলে আসবে ভেবে বেরিয়েই পড়ল বহ্নি। বাবা বা দিদা কেউ কিছু বলল না। বহ্নিকে কেউ কিছু জিজ্ঞেসই করে না। মাঝে-মাঝে বহ্নির মনে হয়, সে একটা না-মানুষ। কোথাও তার কোনো প্রয়োজন নেই।

গৌরাঙ্গর দোকানে জেরক্স করে ফেরার পথে বটতলাটা পেরিয়েই যে ছাতিম গাছটা, তার নীচে একটু দাঁড়াল বহ্নি। গাছটা ঠিক বহ্নিরই মত, একলা দাঁড়িয়ে থাকে। কথা বলার কোনো লোকই নেই; তবুও ও কিন্তু ওর নিজের মত করে কথা বলে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত কী তীব্র মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছিল! এখন একটু-একটু শীত পড়েছে। গন্ধটা অনেক ফিকে হয়ে এসেছে। গাছটার তলায় এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে ঠিক নিজের মত আর একজন কাউকে দেখার অনুভূতিতেই সম্ভবত, বহ্নির মনখারাপটা একটু সেরে গেল।

ঠিক তখনই! মুঠোফোনটা আবার বাজল। বাড়ির ফোন মনে করে, স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েই, হাতের কাগজ-পত্র সামলাতে সামলাতে, ফোনটা ধরে হ্যালো বলল বহ্নি। কিন্তু, বাড়ির ফোন তো নয়! আবার সেই রং নাম্বার!

"হ্যালো! আমি ইব্রাহিম...!" এই পর্যন্ত বলতেই বহ্নি গলায় সরষে বাটার ঝাঁঝ মিশিয়ে বলল, "বলছি তো ভাই আপনাকে! রং নাম্বার! কেন বিরক্ত করছেন বারবার?" বহ্নি ফোনটা কেটে দিতেই যাচ্ছিল। কিন্তু ওপাশের কণ্ঠস্বর এমন একটা প্রশ্ন করল, যে বাঁ হাতে সার্টিফিকেট আর ডান হাতে মুঠোফোন নিয়ে বহ্নি ছাতিম তলায় দাঁড়িয়ে রইল; রং নাম্বার বলে রূঢ ভাবে কেটে দিতে পারল না। কী এমন বলল সেই অচেনা কণ্ঠ?

"হ্যালো! আপনি কি শ্রী বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডলের নাতনি বহ্নিশিখা মণ্ডল? আমার কথাটা একটু শুনুন প্লিজ!" বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডল বহ্নির দাদুর নাম; তিনি এখন আর বেঁচে নেই। কিন্তু যে লোক দাদুর নাম করল, তাকে কি আর রং নাম্বার বলে রেখে দেওয়া যায়? যে লোক তার দাদুকে চেনে, সে তো অজানা হতে পারে না।

বহ্নি বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ভেবেছিল, রাস্তার উল্টোদিকের গৌরাঙ্গর দোকানে জেরক্স করে ফিরে আসতে দশ মিনিট লাগবে। কিন্তু, ঐ এক ফোন আসার ফলে বাড়ি ফিরতে দশটা বাজল।

যে গল্প শুনল, বহ্নির মনে হচ্ছে, এই গল্পটা লিখে রবিবাসরীয়তে পাঠালে ওরাও নির্বাচন না করে পারবে না।

সেই রং নাম্বার যখন বলল, "আপনি কি শ্রী বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডলের নাতনি বহ্নিশিখা মণ্ডল?" বহ্নি অদম্য কৌতুহলে বলে ফেলল, "আপনি আমার দাদুকে চেনেন? আপনি কে বলুন তো?" রং নাম্বার বলল, "আমি ইব্রাহিম...ম্-মানে চন্দন। তুমি তখন অনেক ছোট ছিলে, তোমার হয়তো সবটা মনে নেই। আমার দাদু তোমার দাদুর বন্ধু ছিলেন। আমার দাদুর নাম মৌলানা গোলাম রব্বানি। তোমরা তখন বেলডাঙায় থাকতে, মনে আছে? বেলডাঙা, বড়ুয়া কলোনি? তুমি আমার দাদুকে রবার দাদু বলতে, মনে আছে তোমার? শোনো বহ্নি! এই যে দেশ জুড়ে কী একটা যজ্ঞ শুরু হয়েছে, এতে তোমার-আমার পরিবার একই বিপদে। আমি আবার মুসলমান, কাজেই, বুঝতেই পারছ! কিন্তু, তোমরাও তো মতুয়া! শোনো, আমার দাদু, মানে মৌলানা গোলাম রব্বানি, তোমার দাদু, মানে শ্রী বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডলকে এক খণ্ড জমি বিক্রি করেছিলেন। সে দলিল আমি পেয়েছি; দাদুর ট্রাঙ্কে। অনেক চেষ্টা করে আমি তোমার নম্বর যোগাড় করেছি। এই দুঃসময়ে এই কাগজ আমাদের দুই পরিবারেরই কাজে লাগবে। তুমি কি একবার দেখা করতে পারো? না, মানে, যদি আপনি ঠিকানা বলেন, আমি এটা জেরক্স করে স্পিড পোস্ট করে দিতে পারি।"

বহ্নির মনে হচ্ছিল, সে যেন একটা টান-টান রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজের গল্প পড়ছিল। ওপাশে, ইব্রাহিম-ও মনে হয়, একটানা কথা বলার পর, জল খাওয়ার জন্য বিরতি নিল। বহ্নি বলল, "আবার আপনি কেন? রবার দাদুর কথা আমার বেশ মনে আছে। তোমরা এখন থাকো কোথায়?"

ইব্রাহিম একটু সহজ হল, "বেলডাঙাতেই থাকি। কিন্তু, আমার অফিস পার্ক স্ট্রিটে। তাই সারা সপ্তাহ কলকাতায় থাকি, শনিবারে বাড়ি আসি। আর তোমরা?" বহ্নি বলল, "ত্রিবেণী। কিন্তু, আমার অফিস সল্ট লেকে। চলো, কাল দেখা করি। আজ আমাদের বাড়িতেও ঐ ফর্ম দিয়ে গেছে। সেই নিয়ে বাবা আর দিদা আমায় ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। ঐ দলিল দেখলে বাবা অনেকটা আশ্বস্ত হবে।"

হ্যাঁ, ওরা দেখা করেছে, পরের দিনই। ইব্রাহিম সেই দলিলের কপি বহ্নির হাতে তুলে দিয়েছে, যেখানে এক খণ্ড জমির অর্ধেক বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতা: মৌলানা গোলাম রব্বানি; জাতি: মুসলমান। ক্রেতা: বাঁটুল চন্দ্র মণ্ডল; জাতি: মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

শুধু তাই নয়, ওদের মধ্যে ছোটবেলার স্মৃতিচারণাও হয়েছে। ইব্রাহিম বলেছে, "তোমার তখন তিন বছর বয়স। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে বহ্নিশিখা উচ্চারণ করতে পারতে না; বলতে বই শেখা।" বহ্নি উলটে বলেছে, "আর তুমি কী করতে? আমাদের বাড়িতে এলেই ঠাকুরঘরে ঢুকে চন্দন পাটা নিয়ে চন্দন ঘষতে বসতে। ঐ জন্যই তো তোমার 'চন্দন' ডাকনাম হয়ে গেল। চন্দন বললে আরও আগেই চিনে ফেলতাম। তোমার ভাল নামটা তো ছোটবেলায় জানতামই না। কিন্তু, তুমি আমার ফোন নম্বর খুঁজলে কী করে?" ইব্রাহিম বলেছে, "একেবারে আন্দাজে ঢিল! ফেসবুক থেকে। ফেসবুকে লাগিয়ে রেখেছ যে ছবি, তাকে সত্যিই চিনতে পারিনি। ঐ দলিলটা পাওয়া ইস্তক তোমায় খুঁজছি।" বহ্নি বলেছে, "যদি রং নাম্বার হত? এরকম আন্দাজে ফোন করতে ভয় করল না তোমার?" ইব্রাহিম বলেছে, "করেছিল। অনেক ইতস্তত করেছি ফোনটা করার আগে। তারপর ভাবলাম, সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে যদি মাঝরাতে ডিরেক্টরি ঘেঁটে নব্বই বছর বয়সী মুখার্জী সাহেবের ফোন নাম্বার খুঁজে পাওয়া যায়, আমার আন্দাজটাই বা মিলবে না কেন? আর, সত্যি কথা বলতে, ছাদ হারাবার ভয় অন্য সব ভয়কে ফিকে করে দিয়েছে।"

নন্দনে সন্ধ্যে নামে। চলে যাওয়ার আগে ইব্রাহিম বলে, "বহ্নি, যোগাযোগ যখন হয়েই গেল, আবার দেখা কোরো।" বহ্নি বলেছে, "দেখা তো করবই। তুমিও বাড়ি এসো একদিন। বাবা খুব খুশী হবে।"

তারপর, ভিড় বাসে উঠে, হাওড়া স্টেশনে যাওয়ার পথে বহ্নির মনে হয় — আজ তার ক্লান্ত লাগছে না। অমৃতা ম্যাডামের শাসানি, অফিসে এ.সির নির্দয় ঠাণ্ডার অত্যাচার — কোনো কিছুর ভয়ই আজ তাকে বিরক্ত করছে না।

ছোটবেলার চন্দন পাটার সুগন্ধ! সে কি রং নাম্বার হতে পারে? ওটাই সঠিক নম্বর।




আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
3.6 8 ভোট
স্টার
guest
2 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।