About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
বর্ধমানের ক্ষীরগ্রামে সতীপিঠ মা যোগাদ্যার মন্দির
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

বর্ধমানের ক্ষীরগ্রামে সতীপিঠ মা যোগাদ্যার মন্দির

বর্ধমান-কাটোয়া লাইনের সবচেয়ে জাগ্রত ও রহস্যময় গ্রাম হলো ক্ষীরগ্রাম। বর্ধমান থেকে ৩৯ কিমি উত্তর-পশ্চিমে এবং কাটোয়া থেকে ২১ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে মঙ্গলকোট থানায় এর অবস্থান। কাটোয়া-বর্ধমান লোকালে কৈচর স্টেশনে নেমে টোটোয় যেতে হয়। বর্ধমান রাজের ইতিহাস, ৫১ সতীপীঠ আর রামায়ণের লোকপ্রচলিত কাহিনি — তিনটিরই সঙ্গম ঘটেছে এই ক্ষীরগ্রামে।

ক্ষীরগ্রাম নামের উৎস
কথিত আছে, প্রাচীনকালে এখানে ক্ষীরের মতো সাদা মাটি পাওয়া যেত, আর গ্রামের মাঝে বিশাল দিঘির জল ক্ষীরের মতো সাদা দেখাত বলে তার নাম হয় ক্ষীরদিঘি এবং সেখান থেকেই গ্রামের নাম ক্ষীরগ্রাম। ক্ষীরগ্রামের নাম সমস্ত তন্ত্রে উল্লিখিত আছে, যেমন: কুজ্জিকা তন্ত্র, বৃহনীল তন্ত্র, গন্ধর্ভ তন্ত্র, তন্ত্রসার, তন্ত্রচূড়ামণি, অন্নদা মঙ্গল, মহাপীঠ নিরীক্ষণ ইত্যাদি।

যোগাদ্যা: ৫১ সতীপীঠের এক পীঠ
পুরাণমতে, দক্ষযজ্ঞে সতী দেহত্যাগ করলে বিষ্ণু সুদর্শন চক্রে সতীর দেহ ৫১ খণ্ড করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের দ্বারা খণ্ডিত দেবী সতীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ পতিত হওয়ায় ৫১ সতীপীঠের অন্যতম হয়ে ওঠে এই ক্ষীরগ্রাম। এখানে দেবীর নাম যোগাদ্যা বা যুগাদ্যা, ভৈরবের নাম ক্ষীরকণ্ঠক বা ক্ষীরেশ্বর। দেবী এখানে উগ্রা ভদ্রকালী রূপে পূজিতা হন।

মন্দির চত্বরে দুটি যোগাদ্যা মন্দির আছে। একটি পুরোনো মূল মন্দির, আর ক্ষীরদিঘির মাঝে জলের নিচে নতুন মন্দির। আছে শিবমন্দিরও — ক্ষীরেশ্বর, ক্ষীরকণ্ঠক নামে পরিচিত।

রামায়ণের যোগ: মহীরাবণ-বধের কাহিনি
এই মন্দিরের সঙ্গে রামায়ণের লোকপ্রচলিত মহীরাবণ-কাহিনির সরাসরি যোগ আছে। রাবণের ছেলে মহীরাবণ মায়াবলে রাম-লক্ষ্মণকে পাতালে নিয়ে গিয়ে এই যোগাদ্যা দেবীর কাছে বলি দিতে চেয়েছিল। দেবী তখন মহিষমর্দিনী ভদ্রকালী।

হনুমান বিভীষণের রূপ ধরে পাতালে প্রবেশ করে মহীরাবণকে বধ করেন এবং রাম-লক্ষ্মণকে উদ্ধার করেন। তাই বলা হয়, হনুমানের বিজয় আর ভদ্রকালীর কৃপা — দুইই এই পীঠের মাহাত্ম্য। এই কাহিনির জন্যই ক্ষীরগ্রামকে অনেকে পৃথিবীর কেন্দ্রও বলেন।

বর্ধমান রাজ ও যোগাদ্যা মন্দির
মূল মন্দির বহু প্রাচীন। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, কালাপাহাড়ের আক্রমণে বা মুসলিম আক্রমণে মূল মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। পরে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বর্ধমানের রাজা কীর্তিচন্দ্র রায় মন্দিরের দক্ষিণ দিক পুনর্নির্মাণ করেন। কোনো কোনো মতে, রাজা কীর্তিচন্দ্রই এই মন্দিরের বর্তমান রূপের প্রতিষ্ঠাতা। এই তথ্য বর্ধমান রাজের ইতিহাসের সঙ্গেও মেলে, কারণ কীর্তিচন্দ্রই (১৭০২-১৭৪০) বর্ধমান রাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটিয়েছিলেন।

জলের তলায় দেবীর রহস্য
ক্ষীরগ্রামের সবচেয়ে অলৌকিক বিষয় হলো মায়ের বাসস্থান। দেবী সারা বছর ক্ষীরদিঘির জলে নিমজ্জিত থাকেন। বছরে মাত্র একবার — বৈশাখী সংক্রান্তির আগের রাতে, মধ্যরাতে পুরোহিত ও ডুবুরিরা দিঘি থেকে দেবীর কষ্টিপাথরের বিগ্রহ তুলে আনেন। বৈশাখী সংক্রান্তির দিন মহা ধুমধামে পূজা হয়। প্রায় ৩-৪ দিন মেলা চলে, লক্ষাধিক মানুষ আসে। পূজা শেষে আবার দেবীকে জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এই কারণে বলা হয় — বছরে মাত্র একদিন জলের তলা থেকে ওঠেন মা। বৈশাখী সংক্রান্তি ছাড়াও বছরের আরও কয়েকটি বিশেষ তিথিতে দেবীমূর্তি জল থেকে তোলার পরম্পরার উল্লেখ পাওয়া যায়।

এত বছর জলে থাকার পরেও পাথরের মূর্তির কোনো ক্ষয় হয় না কেন সেও এক রহস্য।

১৩ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত দিঘিতে প্রচুর বড় বড় মাছ আছে, দেবীর মাছ বলে কেউ তাদের ধরে না। এই মাছেরা পুকুরের ধারে এসে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে খাবার খেয়ে যায়।

নরবলি ঘিরে জনশ্রুতি
আরেকটি জনশ্রুতি আছে যে দেবী যোগাদ্যা একবার রাজা হরিদত্তের স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে প্রতিদিন নরবলি দাবি করেন। শক্তির প্রতি ভক্তিপরায়ণ রাজা সাত দিনে তাঁর সাত পুত্রকে বলিদান করেন। এই প্রথা বজায় রাখার জন্য, রাজা আদেশ দেন যে ক্ষীরগ্রামের প্রতিটি পরিবারকে পালাক্রমে একজন সদস্যকে উৎসর্গ করতে হবে।

এভাবেই একসময় স্থানীয় ব্রাহ্মণ পুরোহিতের ছেলের পালা আসে। কথিত আছে ব্রাহ্মণ কাঁদতে কাঁদতে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। তখন দেবী এক বৃদ্ধার রূপে এসে নিজেকে বলির জন্য উৎসর্গ করেন। রাজা বুঝতে পারেন, ইনি স্বয়ং দেবী। দেবী এরপর আদেশ দেন — আজ থেকে তাঁর পূজায় আর কখনও নরবলি হবে না। তখন থেকে নরবলি বন্ধ।

আরেকটি লোকশ্রুতি অনুযায়ী, ব্রাহ্মণ তাঁর পুত্রকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। দেবী যোগাদ্যা তখন এক তরুণী ব্রাহ্মণ কন্যার ছদ্মবেশে পলায়নরত পুরোহিতকে আটক করে নরবলি প্রথা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অলৌকিকভাবে রাজার পুত্রদের ও অন্যান্য সকল বলিকে পুনর্জীবিত করেন।

সম্ভাব্য কারণ — মূর্তি রক্ষা
এই ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যাকে সারা বছর জলের তলায় রাখার পেছনে ইতিহাস, ভয় আর ভক্তি — তিনটেই আছে। এটি কোনো শাস্ত্রের নিয়ম নয়, এটি ইতিহাস থেকে তৈরি হওয়া একটি পরম্পরা, যা আজ অলৌকিক বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে।

আজ থেকে প্রায় ৪৫০-৫০০ বছর আগে বাংলায় কালাপাহাড়ের আক্রমণ হয়। কালাপাহাড় ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে মুসলিম হওয়া এক সেনাপতি, যিনি বাংলার বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। লোকশ্রুতি ও বর্ধমান রাজবাড়ির পুরোনো নথি অনুযায়ী, তখন ক্ষীরগ্রামের মূল মন্দিরটিও ছিল পাথরের বিশাল মন্দির, ভিতরে কষ্টিপাথরের দশভুজা মহিষমর্দিনী যোগাদ্যা মূর্তি।

পুরোহিতরা বুঝতে পারেন, সৈন্যরা আসছে। তখন মূর্তি বাঁচানোর আর কোনো উপায় না পেয়ে গ্রামের মাঝে যে বিশাল ক্ষীরদিঘি ছিল, তার গভীর জলে মূর্তিটি লুকিয়ে রাখেন। দিঘির ওপর কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদ দিয়ে ঢেকে দেন, যাতে কেউ বুঝতে না পারে। কালাপাহাড় মন্দির ভেঙে দিয়ে চলে যান, কিন্তু মূর্তি বেঁচে যায়।

পরে যখন পরিস্থিতি শান্ত হয়, তখন মূর্তি তোলা হয়, কিন্তু ততদিনে গ্রামবাসীর মনে একটি বিশ্বাস জন্মে যায় — মা জলেই নিরাপদ।

পরে রাজা কীর্তিচন্দ্র যখন মন্দিরের দক্ষিণ অংশ নতুন করে গড়েন, তখন তিনি একটি নকল বা প্রতীকী মূর্তি মন্দিরে রাখেন, আর আসল জাগ্রত কষ্টিপাথরের মূর্তিটি জলেই রাখার ব্যবস্থা পাকা করেন। সেই থেকেই নিয়ম হয়ে যায় — মা সারা বছর জলেই থাকবেন। এটাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক কারণ।

পৌরাণিক তথা আধ্যাত্মিক কারণ — উগ্রা দেবীকে শান্ত রাখা
যোগাদ্যা কোনো শান্ত লক্ষ্মীপ্রতিমা নন, তিনি উগ্রা ভদ্রকালী। রামায়ণমতে, মহীরাবণ এই রূপেরই পূজা করে রাম-লক্ষ্মণকে বলি দিতে চেয়েছিল।

তন্ত্রমতে, উগ্র দেবীকে সবসময় জলে বা ঠান্ডা স্থানে রাখতে হয়, না হলে তাঁর তেজে গ্রামের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষীরদিঘির ঠান্ডা জল দেবীর উগ্রতা শান্ত রাখে। তাই তাঁকে জলবাসিনী বলা হয়। দিঘির মাছগুলোকে মায়ের সন্তান বা পাহারাদার মনে করা হয়, কেউ তাদের ধরে না।

আরেকটি বিশ্বাস আছে — দেবী নিজেই স্বপ্নে পুরোহিতকে বলেছিলেন, “আমি জলেই থাকতে চাই, আমাকে বিশেষ তিথিতে তুলে পূজা করলেই হবে।”

বৈশাখী সংক্রান্তির উৎসব
বৈশাখী সংক্রান্তির আগের রাতে এই জল থেকে তোলার উৎসবটিই ক্ষীরগ্রামের সবচেয়ে বড় উৎসব।

বৈশাখী সংক্রান্তির আগের রাতে মধ্যরাতে গ্রামের ডুবুরি ও পুরোহিতরা মশাল জ্বালিয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ক্ষীরদিঘিতে নামেন। মন্ত্র পড়ে দেবীকে তোলা হয়। বৈশাখী সংক্রান্তির দিন সকাল থেকে ৩ দিন ধরে বিরাট মেলা ও মহাপূজা হয়। হাজার হাজার ভক্ত তখন মায়ের আসল রূপ দর্শন করতে পারেন। পূজা শেষ হলে আবার তাঁকে জলে নিমজ্জিত করা হয়।

অনেক প্রবীণ মানুষ বলেন, মূর্তিটি তোলার সময় দিঘির জল অদ্ভুতভাবে আন্দোলিত হয়, আর মাছগুলো মূর্তির চারপাশ ঘিরে থাকে।

এক কথায় বললে, জলের তলায় রাখা শুরু হয়েছিল মূর্তি বাঁচানোর তাগিদে, আর সেটাই আজ ভক্তির পরম্পরা হয়ে গেছে। এটাই ক্ষীরগ্রামকে বাংলার ৫১ সতীপীঠের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় করে রেখেছে — যে মা সারা বছর অদৃশ্য, শুধু বছরে একবার ভক্তদের দেখা দেন।

কীভাবে যাবেন?
ক্ষীরগ্রামের নিকটবর্তী রেলস্টেশন কৈচর, বর্ধমান-কাটোয়া রেলপথে। কৈচর স্টেশন থেকে ক্ষীরগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৫ কিমি। স্টেশন থেকে টোটো বা স্থানীয় গাড়িতে যোগাদ্যা মন্দিরে পৌঁছনো যায়। কাটোয়া থেকেও বাস বা গাড়িতে মঙ্গলকোট হয়ে ক্ষীরগ্রাম যাওয়া যায়।

কলকাতা থেকে আসতে হলে ট্রেনে বর্ধমান পৌঁছে সেখান থেকে কাটোয়া লাইনের ট্রেনে কৈচর নেমে টোটো ধরে ক্ষীরগ্রাম যাওয়া যায়। আবার কাটোয়া পৌঁছে সেখান থেকেও সড়কপথে ক্ষীরগ্রাম আসা যায়। নিজস্ব গাড়িতে এলে বর্ধমান বা কাটোয়ার দিক থেকে মঙ্গলকোট হয়ে ক্ষীরগ্রামে পৌঁছনো সম্ভব।

বৈশাখী সংক্রান্তির সময় মেলা ও বিশেষ পূজার জন্য প্রচুর ভক্তসমাগম হয়, তাই ওই সময় গেলে যাতায়াত ও থাকার পরিকল্পনা আগে থেকে করে নেওয়া ভালো। থাকার জন্য কাটোয়ায় হোটেল আছে। সাধারণ সময়ে কলকাতা থেকে সকালে বেরিয়ে দিনে দিনেই ক্ষীরগ্রাম ঘুরে আসা যায়।




আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম

আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের কার্তিক ১৪৩৩ সংখ্যাটি ১ নভেম্বর ২০২৬ (১৪ই কার্তিক) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২০ অক্টোবরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
গঠনমূলক পরামর্শ দিন
মন্তব্যে আপনার মতামত জানান
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
Scroll to Top

‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।