১
কবিতা কী, এই আলোচনার চেষ্টা এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। তাঁরই শব্দ মনে করি — ‘অধরা মাধুরী ধরেছি…।’ মনে করি, ‘ফাঁকি দিয়ে বিধাতারে / কারুশালা হতে তাঁর চুরি করে আনি রং-রস।’ কিন্তু শুধুই কি মাধুরী? শুধুই রং-রস? সত্তরের দশকের সেই রক্তাক্ত সময়কে ধরে রেখেছে যেসব কবিতা, যেগুলিকে সংকলিত করে কবি রাহুল পুরকায়স্থ আমাদের ঋণী করেছেন, সেইসব কবিতার জন্য কি এই জাতীয় শব্দ এমনকি অবমাননাকরও নয়? একটু ফিরে দেখি বিপুল চক্রবর্তীর কবিতার অংশ: “বাদামের খোসার মতো / ভেসে যাওয়া মানুষের লাশ, / শূন্য ঠোঙার মতো / পড়ে থাকা মানুষের লাশ। / … … আমি হাঁটছি / আমার শিরায় শিরায় অরণ্য, তার / আদিম হিংস্রতা। / আমি হাঁটছি / আমি হাঁটছি!” এইসব কবিতার মূলে রয়েছে সামাজিক ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জার্মান দার্শনিক থিওডর অ্যাডর্নো বলেছিলেন: আউসভিৎসের পরে কবিতা লেখা ‘বার্বারিক’। নাৎসি বর্বরতাকে অনুভব করার জন্য বর্তমানের একটি ছবিই হয়তো যথেষ্ট: আউসভিৎসের সংগ্রহশালায় এক পাহাড় জুতো। বাচ্চাদের। আরেকটা ছবি মনে করি: ছোট্ট ছোট্ট সুটকেসের ডালায় নাম আর ঠিকানা লেখা। সেইসব বাচ্চা — যাদের নিয়ে আসা হয়েছিল ইউরোপের নানান দেশ থেকে, মালগাড়ি বোঝাই করে। তারা আর ঘরে ফেরেনি। তাদের নিঃশ্বাসে আজও আউসভিৎসের বাতাস ভারী হয়ে আছে। আচ্ছা, এমন যদি ঘটে? একজন মানুষ আউসভিৎসের সংগ্রহশালা দর্শন করতে এসেছেন; সেইসব সুটকেসের মধ্যে তিনি তাঁরই কোনো ভাই বা বোনের নাম-ঠিকানা দেখলেন? কোনো কবিতা কি ধারণ করতে পারবে তাঁর সেই অনুভূতিকে?
চেকোস্লোভাকিয়ার টেরেজিন নাৎসি ক্যাম্পে বন্দি অনেক শিশু নিজেদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে গেছে। তার অনেকটাই — সমস্তকিছু সত্ত্বেও — কবিতায়। আর অনেকটা ছবিতে। সংকলিত আছে ‘আই নেভার স অ্যানাদার বাটারফ্লাই’ বইতে (শোকেন বুকস)। বারো বছরের ইভা পিকোভার কবিতার অংশ: “My heart still beats inside my breast / While friends depart for other worlds. / Perhaps it’s better — who can say? — / Than watching this, to die today?” তবু শৈশব, হয়তো শৈশব বলেই, বেঁচেও থাকে। নাম-না-জানা এক শিশুর কবিতা: “Momma told me to write to you today, / but I had no time. New children arrived / with the latest transport, and / I had to play with them.” ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪-এর মধ্যে টেরেজিন ক্যাম্পে পনেরো হাজার শিশু আসে। একশোজনও ফেরেনি।
তাহলে? সভ্যতার চিরকলঙ্কও আঁকা হতে পারে কবিতায়? যা অভাবনীয়, ‘বার্বারিক’, তাকেও প্রকাশ করতে পারে কবিতা?
আমাদের মনে পড়ে যায় লেখক এলি ভিজেলের নাৎসি ক্যাম্পের স্মৃতিকথন, ‘নাইট’ (হিল অ্যান্ড ওয়াং)। ক্যাম্পে কিশোর এলির বাবাকে অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে। আর এলি এক্কেবারে চুপ করে লুকিয়ে বসে আছে — যাতে বোঝা না যায় যে নিগৃহীত ঐ মানুষটি তার বাবা। সেই আত্মগ্লানি বয়ে বেড়িয়েছেন সারাজীবন।
২
ইহুদিদের মধ্যে এক প্রথা আছে: পূর্বপুরুষদের কথা স্মরণ করতে হলে তাঁরা ‘আমরা’ বলে উল্লেখ করেন — ‘ওঁরা’ নয়। ‘আমাদের যখন নাৎসি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল’: এইভাবে ইহুদিরা সহমর্মিতার বোধ জাগিয়ে রাখেন — অ্যান মাইক্লস বলছেন। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, সময়ের ধারণাকেও ভেঙেচুরে দেওয়া যায়। তাই ইহুদিরা আজও নাৎসি ক্যাম্পে নিহত হচ্ছেন। আজও তাঁরা মিশর থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন। এবং যা অ্যান মাইক্লস বলেননি, সেই অতীতকে বর্তমানের মধ্যে জারিত রাখার কারণেই হয়তো বা ইহুদিদের একাংশের মধ্যে তীব্র জাতিগত উন্মাদনা জেগে আছে; যার প্রকাশ ঘটে অকল্পনীয় ভায়োলেন্সের মধ্যে।
১৯৪৮-এ ইহুদিরা তাঁদের নিজেদের দেশ খুঁজে পেলেন। গঠিত হলো ইজরায়েল। গঠিত হলো তৎকালীন ব্রিটিশ প্যালেস্তাইন ম্যান্ডেটের কিছু অংশ নিয়ে। (বাকি অংশ প্যালেস্তাইন — যাকে অনেক দেশ আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করলেও এই সেদিন পর্যন্ত অনেক দেশ রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়নি।) আর তার পর? আরব রাষ্ট্রগুলি একযোগে সেই নবগঠিত ইজরায়েলকে আক্রমণ করলে যুদ্ধ হলো। ইজরায়েল যুদ্ধে জিতল। শুরু হলো প্যালেস্তিনীয়দের অন্তহীন দুর্গতি। প্যালেস্তাইনের আদি অ-ইহুদি বাসিন্দাদের অর্ধেককে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হলো। পালাতে হলো ইহুদিদের আক্রমণের ফলে। তারপর থেকে বারবার প্যালেস্তাইনের অ-ইহুদি বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ইজরায়েল রাষ্ট্র তার আয়তন বাড়িয়ে চলেছে। থাবা বসিয়েছে অধিগৃহীত অংশে। তৈরি করেছে একের পর এক ইহুদি বসতি। প্রধানত ইউরোপের নানান দেশ আর সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া থেকে দলে দলে ইহুদিরা মধ্য-এশিয়ায় অবস্থিত এই ইজরায়েলে এসে বসবাস শুরু করেছেন, নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ইহুদিরা এসেছেন আফ্রিকা আর আমেরিকা থেকেও। তাঁদের অনেককে স্থান দেওয়া হয়েছে প্যালেস্তাইনের অধিগৃহীত অঞ্চলে। রাষ্ট্রের মদতে সাধারণ ইহুদি নাগরিকেরা প্যালেস্তিনীয়দের বাড়িঘর, জমি, ক্ষেত দখল করেছেন। বিতাড়িত প্যালেস্তিনীয়রা ছেড়ে যাওয়া বাসগৃহের চাবি রেখে দিয়েছেন নিজেদের কাছে। সেই চাবি এক প্রতীক। এক প্রতিজ্ঞা। প্রতীক, তাঁদের অধিকারের। প্রতিজ্ঞা, মাটির কাছে — একদিন ফিরে আসব।
‘ফিউজিটিভ পীসেস’-এ অ্যান মাইকেলস লিখছেন, ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি করে, কারণ আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই।
নাৎসিরা ইহুদিদের মনুষ্যেতর বলে মনে করত। তাঁদের উল্লেখ করত ‘ফিগারেন’ জাতীয় অবমাননাকর শব্দে। ইহুদিদের নাগরিকত্ব বিলোপ করা হয়েছিল। নিজেদের বাসগৃহ থেকে উচ্ছেদ করে প্রথমে তাঁদের ঘেটোতে রাখা হতো। রাস্তাঘাটে চিহ্নিত করার জন্য তাঁদের জামাকাপড়ে হলুদ রঙের তারা লাগানো বাধ্যতামূলক ছিল। রেস্টুরেন্টে নোটিশ লাগানো থাকত: কুকুর আর ইহুদিদের প্রবেশ নিষেধ। ইহুদিরা কোনো পোষ্য রাখতে পারতেন না। (যারা মানুষ নয়, তারা কীভাবে অন্য প্রাণীকে পোষ্য রাখতে পারে!) রাস্তাঘাটে যেকোনো সময়ে সাধারণ নাগরিকদের হাতে ইহুদিদের হেনস্থা দৈনন্দিন ঘটনা হয়ে উঠেছিল। আর ক্যাম্পে, অন্তিম সময়ে, যখন ইহুদি বন্দিদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, নাৎসি সেনাদের মুখে ফুটে উঠত বিকৃত হাসি। অ্যান মনে করেন, সেই হাসি চূড়ান্ত আত্মপ্রতারণার বহিঃপ্রকাশ। অত্যাচারিতরা আদতে মানুষ — অসহনীয় এই উপলব্ধির সামনে সৈন্যরা বিকারগ্রস্ত হয়ে উঠত।
গ্যাস চেম্বারের দরজা খোলার পরে দেখা যেত, ছাদের যে ছিদ্র দিয়ে মারণ গ্যাস ভেতরে ঢোকানো হয়েছিল, তার কাছে মৃতদেহের পিরামিড গড়ে উঠেছে। একটু বাতাসের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী মানুষদের গড়ে তোলা পিরামিড। (আউসভিৎস ক্যাম্পের সেই গ্যাস চেম্বারে দেখেছি, দর্শনার্থীদের কেউ কেউ দেওয়ালগুলিতে নখের দাগের চিহ্ন খুঁজে চলেছেন। মনের গতি বড় বিচিত্র।)
নব্বইয়ের দশকে অ্যান মাইক্লস লিখছেন: ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি করে। কারণ, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই।
আমাদের মনে পড়ে যায়, গাজায় নিরস্ত্র মানুষের ওপরে — শিশুদের ওপরে — গুলি চালানোর ছবি কী অবলীলায় ইহুদি সেনারাই তুলেছে। সেইসব ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে। সিগারেট খেতে খেতে নির্বিকার ইহুদি সেনা নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে — আছে সেই ছবিও। হাসপাতালের পর হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গাজা সিটির অধিকাংশ বাড়িঘর মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার — উদ্দেশ্য প্যালেস্তাইনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেওয়া। আক্ষরিক অর্থেও, শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে অসংখ্য শিশু, কিশোর-কিশোরী।
অবরুদ্ধ গাজায় ইজরায়েল এমনকি বাচ্চাদের ‘বেবি ফর্মুলা’-ও ঢুকতে দেয়নি। মাসের পর মাস। সাধারণ ইহুদি নাগরিকেরাও সেই কাজে সামরিক বাহিনীকে সাহায্য করেছেন।
নাৎসি ক্যাম্পে জীবন্ত ঝুলে থাকা বাচ্চাটিকে দেখতে দেখতে কেউ অসহায় ক্রোধে বলে উঠেছিলেন, ‘ঐ তো, ঐখানে ঝুলছেন ঈশ্বর।’
আর গাজা?
৩
সেই ছোট্ট মেয়েটির কথা একবার মনে করি। ছয় বছরের হিন্দ রজাব। আত্মীয়দের সঙ্গে কোনো সুরক্ষিত স্থানে চলে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল। বেরিয়েছিল, কেননা ইজরায়েলি সেনা গাজা সিটি থেকে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। হিন্দ রজাবদের গাড়িটা ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। হিন্দের আত্মীয়রা সকলেই মারা যান। মেয়েটির সঙ্গে ফোনে প্যালেস্তাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ ঘটলে হিন্দ বারবার তাকে বাঁচানোর জন্য আবেদন করে। সম্ভব-অসম্ভব সমস্ত বাধা পেরিয়ে যখন রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স সেখানে পৌঁছয়, হিন্দ তখন নিহত। টেলিফোনে সন্ত্রস্ত হিন্দের সেই ফিসফিস করে বলা কথাগুলি রেকর্ড হয়ে আছে। ‘আমার ভয় করছে,’ শিশুটি বলেছিল।
গাজার এক কবি, মোসাব আবু তোহা। তাঁর ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে গেছে। তবু ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়েও কবিতা লিখেছেন। লিখছেন (‘ফরেস্ট অফ নয়েজ’, ফোর্থ এস্টেট): “We are skidding off the map. / We make a hole in the air / as we fall. / The air is stuffed with ash / each time an F-16 drops / its bombs on cemeteries.” আবু তোহার কবিতায় এক বাপ তাঁর ছোট্ট মেয়ের নিথর দেহ কোলে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছোটেন; যাঁরা সেই দৃশ্য দেখেন, তাঁরাও পেছন পেছন দৌড়োন। “You are alive / for a moment, / when living people / run after you.” আবু তোহার কবিতায় রাত্রিবেলা মা তাঁর বাচ্চাদের গান শোনান — বোমাবর্ষণের শব্দকে আড়াল করার জন্য। এক ছোট্ট বালক নিজের কম্বল দিয়ে তার থেকেও ছোটো বোনকে ঢেকে দেয়, যাতে তার বোন লুকিয়ে পড়তে পারে। আর যেখানে “… a stone near a cemetery suggests / why give birth to children / at all”।
৪
যাঁর সঙ্গ কামনা করেন, রোগশয্যার পাশে তাঁর ‘জাগ্রত আবির্ভাব’-এ এক কবির মনে হয়েছিল, ‘আকাশে অগণ্য গ্রহতারা / অন্তহীন কালে / আমারি প্রাণের দায় করিছে স্বীকার।’ কিন্তু পরক্ষণেই তিনি স্বীকার করেন: ‘তার পর জানি যবে / তুমি চলে যাবে, / আতঙ্ক জাগায় অকস্মাৎ / উদাসীন জগতের ভীষণ স্তব্ধতা।’ — শুধুই মাধুর্য নয়।
ভীষণ স্তব্ধতারই অন্য এক প্রকাশ দেখি অ্যানি জাইদির ‘প্রিল্যুড টু আ রায়ট’ (আলেফ বুক) উপন্যাসে। যে উপন্যাসটি কখনো কখনো কবিতা পড়ার অনুভূতি জাগায়। স্কুলে ফরিদার সহপাঠীরা তাকে জোর করে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করে। ফরিদার দাদু সে কথা শুনে খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন। তারপর: ‘Listen. If it ever happens again — God willing it will not happen again — but if it does, don’t fight. Just eat it.’ — যে কথা ভুলে থাকতে চেয়েছিলাম, তা সহসা মনে পড়ে যায়। পথচলতি এক সহনাগরিকের উক্তি: ‘মুসলমানদের ঠান্ডা করে দিয়েছে।’ মনে পড়ে যায়, কলকাতায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইন্সটিটিউটের হোস্টেলের দেওয়ালে কেউ বা কারা গ্রাফিতি লিখে রাখে: কুকুর আর মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ।
নাৎসি ক্যাম্পের সেই বালক-ঈশ্বর, কিশোর এলি ভিজেল, অ্যান মাইক্লসের ক্ষুধার্ত বালকটি, গাজার হিন্দ রজাব আর ফরিদার দাদু — এঁরা সবাই এক ভূমিতে এসে দাঁড়ান।
৫
সমাজের এক অংশের মানুষ বিশ্বজোড়া সন্ত্রাসের পেছনে কেবলমাত্র মুসলমানদের দেখতে পান। তাঁরা সম্ভবত বিশ্বাস করেন, গাজা ধ্বংসের একমাত্র কারণ ৭ অক্টোবর ২০২৩। তাঁরা ভুলে যান, প্যালেস্তিনীয়রা — সঙ্গত কারণেই — ইজরায়েলকে এক দখলদার রাষ্ট্র মনে করেন; প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে রাষ্ট্র অন্যায়ভাবে তার সীমানা বাড়িয়ে চলেছে। তাঁরা মনে রাখেন না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামের একটি দেশ যে অভিযোগে ইরাক নামের একটি দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যায় — লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ যে আরোপিত যুদ্ধে প্রাণ হারান — পরবর্তীকালে সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। সম্ভবত এই তথ্যও তাঁদের স্মরণে থাকে না: কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক-যুদ্ধে প্ররোচিত করেছিল যে দেশটি, তার নাম ইজরায়েল।
গাজার কবি দোহা কোলত লিখছেন (‘লেটারস ফ্রম গাজা’, পেঙ্গুইন): ‘Does the world actually see us? ... If it does, then where is it? And if not, what is it doing?’ আর লিখছেন, ‘Sometimes, short-lived rescue efforts reach us, and other times, the world listens to our death stories with either astonishment or objection.’ দোহা কোলত লিখছেন, ‘While the world sleeps, the people of Gaza face a treacherous occupier and grapple with the mighty question, “How alone are we?”’
আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম
আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।