About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
পটলকুমারের ঘুড়ি
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

পটলকুমারের ঘুড়ি

ঘুড়ি


বটগাছের ছায়ায় বসে পটল তখন আঁকছিল। আর তারই মধ্যে পাখিটা উড়ে গেল। তখন ও ঘুড়ি আঁকতে শুরু করল। শহরের আকাশে আর বাতাসে এখন ঘুড়ির বড্ড বায়না। পটল রংগুলো দেখে। খুব যত্ন করে ও রং লাগায়, যেন স্বপ্নের গায়ে লেপছে। একটা ঘুড়িও ওর হাতে আসে না। লাল, নীল আর সবুজ-সোনালি ঘুড়িগুলো স্বপ্নের চেয়ে কম কিছু নয়। সেই রাজকীয় ঘুড়ির কথা ভাবতে ভাবতে ও ঘুমিয়েই পড়ত। কিন্তু তখনই ওকে ডেকে নিয়ে গেল ভালদিদি।

ভালদিদির সঙ্গে কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা। দিদি চলে গেল। আগে এই সময় ওর কাজের শেষ থাকত না। কী জানি কেন, ওর কাজগুলো চলে গেছে। দোকানগুলো উঠে গেছে এই কদিন আগেই। এখন ওর খালি সময়। পার্কের পাশে ছোট কটা দোকান ছিল। সেগুলো উঠে যেতে ওর রোজগার কমে গেছে। ওদের পরিবারে সবাই কাজ করে। তাই খায়। তাই শখের জিনিস কেনে।

পটলকুমার স্কুলে ভর্তি হয়েছিল দুবছর আগে। সেখানে ওর হাতের কাজ দেখে শিক্ষকরা বলেছেন, ও শিল্পী। ওর কাজ শিক্ষক দিবসে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে দিয়েছিলেন ওর ক্লাস টিচার পলাদি। পলাদি দুটো ছবি নেবেন। ও ভাবছে, এখন কী নিয়ে ছবি আঁকবে?

সন্ধ্যা হলে পটলদের একটা ভাবনা হয়। ওদের ভাবনা হয়, কখন খাবে আর ঘুমাবে। পার্কের ভেতরে এমনিতে ঘুমাতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি কদিন জ্বালাচ্ছে। তাই একটা হোটেলের পেছনের গেটের চাতালে ওদের ঘুমাতে হবে। কিন্তু সে এখনও অনেক দেরি।

পটলকুমার তাই খাতা-কলম নিয়ে বসেছে ফুটপাথের আলোয়। ওকে এখানে সবাই চেনেন। ওকে দেখে একজন তো বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পুঁতি বলে। ও হাসে না। ওর ইচ্ছে, ও বড় হয়ে অফিসার হবে। ভালদিদি বলেছে, ওর ইচ্ছা থাকলে ও হতেই পারে। ওর ইচ্ছা, ও ভালদিদির মতো হবে।

“সে কীরকম মানুষ রে?” জিজ্ঞেস করলে ও ভাবতে থাকে। কীরকম মানুষ? ভালদিদি। হাসিখুশি। নরম। হেসে বলে দিদি, “তোকে অনেক বড় শিল্পী হতে হবে।”

পটল শিল্পী মানে জিজ্ঞেস করেছিল দিদিকে। দিদি বলেছে, “যারা সৃষ্টি করে, তারা শিল্পী।”
“সৃষ্টি কী?”
“মানে বানায়, তৈরি করে, রচনা করে।”

পটল বুঝে গেছে, ও একজন শিল্পী। ওর বোন শিল্পী। ওর মা শিল্পী। ওদের পরিবারে ওর বাবা আর কোলের ভাই বাদে বাকি সবাই শিল্পী। ও ঘুড়ি বানায়। পুতুল বানায়। ওর দিদি কানের দুল ডিজাইন করে, ছোট ছোট পুঁতি দিয়ে মালা বানায়। ওড়নায় ফুল বানায়। ওর বোন প্লাস্টিকের গাছের পাতা দিয়ে গাছের গোড়া বানায়। ওর মা ভাত বানায়। কে জানে, এতগুলো শিল্পী হয়েও ওরা ঘুমের জন্য একটা ঘর বানাতে পারছে না কেন।


লাটাই


ভোরের আগেই উঠে যেতে হবে। ঘুম হবে না আর। পটল ভিজে ভিজে দাঁত মেজে তৈরি। স্কুলের দরজা বন্ধ। এদিক-ওদিক করতে করতে ও গিয়ে বসল শ্রদ্ধানন্দ পার্কের ফুটপাথের দিকের ওই অশ্বত্থ গাছটার নিচে। কত কত বাড়ি। কত কত ঘর। সবাই ঘুমাচ্ছে ঘরে। কিছু কঞ্চি, কাগজ আর লাটাই রয়েছে একপাশে। আবছা অন্ধকার ঘরের ভেতরটা যেন ঘুমাতে বলছে। ওরা মশারি টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছে। ওদের কী মজা, পটল ভাবল। এই ঘরে ওরা যদি থাকতে পারত।

কখন যে লোকে জেগে উঠেছে, পটল খেয়াল করেনি। ওকে বলল, “কী রে, তুই এখানে? স্কুল যাসনি?”

পটল জানাল, স্কুল এখনও খোলেনি। আর সবেমাত্র ছটা বাজে। পটল এরপর ওই ঘরে ঢুকেই বসতে পারল। ভালদাদুর ঘর এটা। এত রকমের জিনিস দেখে ও বলল, “তোমরা ঘুড়ি বানাচ্ছ গো?”
একজন বলল, “হ্যাঁ। তুই বানাবি?”

পটল তক্ষুনি রাজি হয়ে গেল। পটলের সক্কাল সক্কাল চাকরি হয়ে গেল। ও নাচতে নাচতে স্কুলে চলে গেল। স্কুলের সবাই জেনে গেছে পটলের চাকরির কথা। পলাদি বুঝতে পারছেন, এটা ঠিক নয়। কিন্তু ওর খেতে না পাওয়াটাও যে আরও কষ্টের। তাই কিছুই বলেন না। আরও দুজন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের অবস্থা পটলের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও এত ভালো নয় যে পটলকে খাওয়াতে পারেন।

পটলের জীবনে খুশির সীমা নেই। নীল প্যান্ট আর সাদা জামাটা খুলে রেখেছে দেওয়ালের হুকে। একটা গেটের মধ্যে দিয়ে গলিয়ে জামা, ব্যাগ স্কুলের সিঁড়িতে রাখে পটল। পটলের স্কুল বলে কথা। আসলে বাইরে রাখলে সাদা জামা কি আর সাদা থাকে? আর রাখবেই বা কোথায়? ফুটপাথে সারাদিন, এমনকি রাতেও লোকজন যায়। ঘুমোতে যায় যেখানে, সেখানে রাখলে ধুলো লাগে। আর কেউ টেনেও নিতে পারে। পটলের সঙ্গে সঙ্গে ওর বোনও জামা এভাবেই রাখে।

পটলের এখন আর ফুরসত নেই। দুপুর-দুপুর এসে গেছে ঘুড়ির ঘরে। পটলকে একটা দায়িত্বও দিয়েছেন ভালদাদু। মেঝেতে ছড়ানো বাঁশের ভুসি, কাটিং ফেলার ঝুড়ি, ময়দার আঠার গামলা। আর একদিকে হাজার হাজার টিস্যু পেপারের স্তূপ। চারপাশজুড়ে কাঁচা বাঁশ, ময়দার লেই আর শুকনো টিস্যু কাগজের গন্ধ। ভুরভুর করছে ওর চারপাশে। চার ঘণ্টা কাজ করেছে পটল। একবারও ওঠেনি।

“কী রে পটল, চা খাবি না?” ভালদাদু ডাকে। সঙ্গে মুড়ি-চপ। আনন্দের শেষ নেই ওর।
“ভালদাদু, তুমি আমাকে আরও কাজ দিও।” পটল জানিয়েছে।

পটলের পাশে বসা সবাই বুঝতে পারছে, পটল এই কাজে শিশু। কিন্তু ওর একটা-দুটো কাজের ধরন বাকিদের থেকে একেবারেই আলাদা। ওকে ওরা কাজ বেঁধে দিয়েছে। ঘুড়ির জন্য ‘পাতানি’ রেডি করা। চার কোণের জন্য ছোট চারকোনা কাগজ। আর ‘লেজ’-এর জন্য ত্রিভুজ কাগজ কেটে আলাদা ভাঁজ করে রাখা।

কাঁচিটা দারুণ। আর কাগজগুলোও। কী দারুণ! এসব কাগজ কেউ কাটে? সবচেয়ে দারুণ বেগুনি রং। হাত চালিয়ে কাজ করবে ভেবে ও ধরে ধরে কাগজগুলো কাটছে। এমন কাগজ কাটতে গিয়ে ওর পানের পাতার মাপে কাটা বেগুনি রঙের কাগজটার ওপর মনটা বড্ড আটকে গেল।

পটলের কাছে যে কোনো রঙের কাগজই আনন্দের। কিন্তু সেটাকে কাঁচি চালিয়ে কেটে ফেলাটা মোটে আনন্দের নয়। অত সুন্দর ফিনফিনে কাগজ কেটে টুকরো করতে ওর মন সায় দেয় না। কিন্তু না কেটে উপায়ও নেই, কারণ এক-একটা কাগজ ফর্মা ধরে কেটে গুছিয়ে দেওয়া মানেই তো ওর এক পয়সা করে পাওয়া! তাই ও কাঁচি চালানোর আগে বারবার হাত দিয়ে কাগজটাকে ভালো করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে। ও কাগজগুলো ধরে স্পষ্ট বুঝতে পারে — এগুলো বড্ড নরম, অনেকটা ওর কোলের ভাইটার তুলতুলে গায়ের মতো নরম। তবে আজ এই বেগুনি কাগজটার জন্য ওর বুকে একটু যেন বেশিই মায়া থেকে যাচ্ছে।

কাগজ কাটতে কাটতে পটলকুমার খেয়াল করেছে, একেকটা নকশা একেক রকমের। ও তো এতদিন জেনে এসেছে, ঘুড়ি মানেই চারকোনা। তার মাঝখান দিয়ে একটা কাঠি আর নিচে একটা ছোট্ট অংশ। ও স্কুলের ড্রয়িং খাতাতেও তো চিরকাল অমনই ঘুড়ি এঁকে এসেছে! কিন্তু এখানে এসে ও অবাক হয়ে দেখছে, পাশের কাকুরা কত অদ্ভুত সব চেহারার ঘুড়ি বানিয়ে চলেছে। ও সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেলল, “কাকু, এগুলোও সবই ঘুড়ি? অত রকম তো আগে কখনও দেখিনি!”

কাকু নিজের হাতে আঠা লাগাতে লাগাতেই মুখ না তুলে বললেন, “ঘুড়ি কি শুধু চৌকোই হয় রে বোকা? ঘুড়ির সঙ্গে আরও কত কী যোগ করা হয়! এখনকার কত ছাঁট — কোনটা পানপাতার মতো, কোনটা বিড়ালের লেজের মতো, কোনটা পাখির চোখের মতো, আবার কোনটা একদম মাছের মতো!”

কথাটা শুনে অবাক হয়ে গেল পটলকুমার। এত রকমের ঘুড়ি যে দুনিয়ায় হতে পারে, তা তো ওর দেখাই ছিল না, জানাও ছিল না! ও খুব জানতে চাইল — কোন ধরনের ঘুড়িকে কী নামে বলে, কোনটা কীভাবে আকাশে ভাসে। কিন্তু এই ঘিঞ্জি কারখানায় সবাই ব্যস্ত। এখানে কাজ করে পিস হিসেবে, হাজার বা গদি মেপে রোজে। সময় কই যে একটা বাচ্চাকে ঘুড়ি চেনাবে! তাই কারওই তখন নিজের কাজ ফেলে একটা ছোট বাচ্চাকে ঘুড়ির ফর্মা আর নকশা ধরে ধরে বোঝানোর মতো বাড়তি সময় নেই।

পটলকুমার একটু পরেই নিজের ভুলটা বুঝতে পারল। কাজ থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তো চলবে না। ওর নিজের কাছেও সময় খুব একটা নেই! ওকে ভীষণ তাড়াতাড়ি হাত চালাতে হবে। না হলে ভালদাদু ওর কাজে মোটে সন্তুষ্ট হবেন না। আর সারাদিনের শেষে ওর উপার্জনের ওপরই যে নির্ভর করছে আজ রাতের আলো ফুটলে ভাইবোনেদের আর মা-বাবাকে একটু ভালোমন্দ খাওয়ানো!

তাই মনের ভেতরে রঙিন কাগজের প্রতি মায়াটাকে চেপে রেখে ও আবার নকশাটা ধরে রাখল। বেগুনি কাগজ কাঁচি চালানো শিশুর হাত ভেবেই শান্ত হবে। পটলকুমার, ধরে ধরে কাটো। দ্রুত কাটিং শরীরের জন্য ভালো নয়। কাগজগুলো কমে গেছে। বেগুনি ফুরিয়ে সবুজ এল। সবুজের পর লাল কাগজ। লালের পর হলুদ। ওর চোখের সামনে ভাসছে সাত রং। আর একটা লাটাই। লাটাইয়ের গায়ে চড়ে নাচছে কাঁচিটা। আর বাকি সব কাকু-দাদুরা হয়ে গেছে অদৃশ্য।

ও ডাকল, “ভালদাদু, ভালদাদু।”
“অনেক হয়েছে, এবার তো গোটাতে হবে। রাত হল যে,” ভালদাদু বলল।

পটল বুঝল, এভাবেই লাটাইয়ের সুতো গুটিয়ে নিতে হবে।


মাঞ্জা


ঘুড়ি কাকে বলে? একটা ছোট্ট কাগজ কীভাবে এরকম হাওয়া না থাকলেও আকাশে ভেসে থাকতে পারে? পাখিরাও ডানা মেলে ওড়ে, আর এই টিস্যু কাগজের ঘুড়িগুলোও। কিন্তু পটল উড়তে পারে না কেন? ফুটপাথের জলে পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পটলের মাঝে মাঝে বড্ড অভিমান হয়। তবে ও নিজের মনে নিশ্চিত জানে, একদিন ও ঠিক পারবেই — আকাশের কোনো সীমানা নেই, সেখানে উড়তে কোনো পয়সা লাগে না।

একপাশে বসে কাজ করতে করতে পটলের নজর যায় কারখানার অন্য কোণে। একটা-দুটো ঘুড়ি ওই পাশে এক কাকু তৈরি করছে। সেগুলো দেখে পটলের মনে হল, ওগুলো বোধহয় বদমাশ ঘুড়ি। কেমন বিদঘুটে চোখে তাকিয়ে আছে! আর সেগুলোর রংটাও মোটে ভালো নয় — একটা চড়া লাল তো একটা বিচ্ছিরি হলুদ। ইস্ মাগো! কীরকম দেখতে! ওর ওই শান্ত, সহজ চৌকো ঘুড়িটা বরং অনেক ভালো।

পটল কাঁচিটা থামিয়ে পাশে বসে থাকা সেই বদমাশ কালো ঘুড়ি বানানো কাকুটির দিকে তাকাতেই ওর ভুরু কুঁচকে গেল। পটল ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “কাকু, ওই বিদঘুটে চোখওয়ালা লাল-হলুদ ঘুড়িগুলো কারা ওড়ায় গো? ওগুলো অত বদমাশ কেন দেখতে?”

কাকু আঠার গামলায় আঙুল ডোবাতে ডোবাতে হেসে বললেন, “ওরে বোকা, ওগুলো হলো ‘মুখপোড়া’ আর ‘চিল-ঘুড়ি’। বউবাজারের এক রগচটা বাবু প্রতি বছর ৫০ গদি করে এই মুখপোড়া ঘুড়ি অর্ডার দেয়। আকাশে যখন প্যাঁচ লড়ে, তখন নাকি এই রাক্ষসে চোখওয়ালা ঘুড়িগুলো দেখে অন্য ঘুড়ির সুতো অমনি ভয়ে কেটে পড়ে!”

পটল চোখ দুটো গোল গোল করে ফেলে। অমনি অন্য পাশে রাখা বেশ একখানা গোলগাল, পেটমোটা ঘুড়ির দিকে আঙুল তুলে বলে, “আর ওই ধ্যাবড়া পেটওয়ালা ঘুড়িটা? ওটা তো পুরো আমাদের ভালদাদুর মতো দেখতে! একদম থ্যাবড়া পেট আর চশমার মতো দুটো সাদা গোল দাগ আঁকা।”

কাকু এবার হেসেই ফেললেন। “আরে দূর! ওটাকে বলে ‘পেটকাটি’। ওটার পেটটা বড় বলেই বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকে।”

পটল আবার মন দিয়ে রংবেরঙের ঘুড়িগুলোকে দেখতে থাকে। ও যেন এক-একটা ঘুড়ির মধ্যে মানুষ আর তাদের স্বভাব দেখতে পায়। দেখতে দেখতে পটল ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কাকু, ওই প্রজাপতির মতো, ডানামেলা পাখির মতো ঘুড়িগুলো কোথায় গেল? আকাশে তো শুধু চারকোনা আর পেটকাটিই বেশি দেখি!”

কাকু উত্তর দেওয়ার আগেই পিঠের ওপর এসে পড়ল একখানা বয়সের ভারে নরম হয়ে আসা হাত। ভালদাদু চশমাটা নাকের ওপর একটু নামিয়ে এনে মিটমিট করে হেসে বললেন, “প্রজাপতি ঘুড়ির কথা বলছিস তো রে পটল? তুই কি ভাবিস, এই যে রঙিন ঘুড়িগুলো দেখছিস, এগুলো অমনি অমনি সব এরকম তৈরি হয়ে গেছে?”

পটল চমকে উঠে মুখ তুলে ভালদাদুর দিকে তাকাল। কারখানার অন্য কারিগররাও তখন হাতের কাঁচি আর আঠার তোড়া একটু ধীর করে দাদুর দিকে কান পাতল।

ভালদাদু পটলের পাশে চটের এক কোণে হাঁটু মুড়ে বসে ধীর, শান্ত গলায় বলতে শুরু করলেন — “শোন পটলকুমার, আজ থেকে কত শত বছর আগে, যখন এই আমহার্স্ট স্ট্রিট বা শিয়ালদহ স্টেশন কিছুই ছিল না, তখন ঘুড়ি প্রথম উড়ত সুদূর চীনে। তারা কিন্তু আমাদের মতো এই কাটাকাটির চারকোনা পেটকাটি ঘুড়ি বানাত না। তারা বানাত মস্ত মস্ত প্রজাপতি, ড্রাগন আর হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো নানা জাতের পাখির আকারের ঘুড়ি। বাঁশের অতি মিহি ছাল আর রেশম কাপড় দিয়ে তৈরি হতো সেইসব প্রজাপতি ঘুড়ি। বাতাস পেয়ে আকাশে যখন ওগুলো ডানা মেলত, মনে হতো যেন সত্যিকারের এক-একটা রূপকথার প্রজাপতি আকাশে ভেসে যাচ্ছে।”

পটল চোখ দুটো গোল গোল করে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমাদের এই কারখানায় এসে ওগুলো চারকোনা হয়ে গেল কেন দাদু? প্রজাপতির মতো ঘুড়ি আর কেউ বানায় না কেন?”

ভালদাদু গামলা থেকে খানিকটা ময়দার লেই আঙুলে মেখে একটা ফাঁকা ফর্মার গায়ে আলতো করে বোলাতে বোলাতে জবাব দিলেন — “সেটাই তো আসল কথা রে পটল! ওদেশ থেকে ঘুড়ি যখন আমাদের এই কলকাতায় এল, তখন ঘুড়ি আর শুধু দেখার বস্তু রইল না। বিশেষ করে নবাব আর বাবুদের আমলে ঘুড়ি হয়ে উঠল আকাশের লড়াইয়ের ময়দান! বড় বড় বাবুরা যখন ছাদে দাঁড়িয়ে এক লাটাই সুতো নিয়ে প্যাঁচ লড়তে শুরু করল, তখন দেখা গেল, প্রজাপতি বা পাখির মতো সুন্দর ঘুড়িগুলো দেখতে ভারী রূপসী হলেও বাতাসের একটু জোরে থাপ্পড় খেলেই কাত হয়ে পড়ে যায়। ডানা ভেঙে সোজা নিচে নেমে আসে, আকাশে বেশিক্ষণ টিকতে পারে না।”

দাদু পটলের হাতে বাঁশের একটা নমনীয় ‘কামান’ কাঠি তুলে দিয়ে বললেন — “তাই কারিগররা বুদ্ধি করে বানাল এই ‘চারকোনা’ আর ‘পানের পাতা’ ছাঁট। সোজা ‘ঠাডা’ আর বাঁকা ‘কামান’ কাঠির এমন হিসেব করা বাঁধন দেওয়া হলো, যাতে ঘুড়িটা বাতাসের বুকে ভর দিয়ে তিরতির করে হাজার গজ ওপরে উঠে যেতে পারে। হাওয়া যতই আসুক, ওটা যেন উল্টে না পড়ে। তখন থেকেই প্রজাপতি ঘুড়ি কমে গিয়ে তৈরি হলো আমাদের এই চটপটে ‘পেটকাটি’, ‘মুখপোড়া’, ‘চাঁদতারা’ আর ‘চিল-ঘুড়ি’।”

ভালদাদু উঠে কাজের দিকে যেতেই সেই বদমাশ কালো ঘুড়ি বানানো কাকুটা পটলের দিকে তাকিয়ে আলতো হেসে জিজ্ঞেস করল, “তুই কোনটা নিবি রে পটল? তোর কোনটা পছন্দ? বিড়ালের লেজওয়ালা ঘুড়ি নিবি নাকি?”
পটল মাথা নেড়ে সঙ্গে সঙ্গে বলল, “উঁহু, বিড়ালের লেজ তো আমার কাছেই থাকে। আমি রোজ রাত্রে ফুটপাথে শুয়ে বিড়ালের সঙ্গেই ঘুমাই। তুমি বরং আমাকে একটা প্রজাপতি ঘুড়ি বানিয়ে দাও না কাকু!”

কাকু আঠার তোড়া হাতে নিয়ে একটু অবাক হয়ে বললেন, “প্রজাপতি ঘুড়ি বানাবি? প্রজাপতি ঘুড়ি তো দাদু বলল না রে — আকাশে ওড়ালে সুতো কেটে কেটে পড়ে যায়!”
পটল নিজের নীল সুতির ছেঁড়া জামার কোণটা শক্ত করে চেপে ধরে বলল, “সবাই তো ঘুড়ি দিয়ে কাটাকাটি খেলবে, আমি তো আকাশে উড়িয়ে কাটাকাটি খেলব না! আমি ঘুড়ি জমিয়ে রেখে দেব। আমার একটা প্রজাপতি আর একটা পাখি ঘুড়ি চাই।”

পটলের চোখের সেই অদ্ভুত জেদ আর মায়া দেখে কারখানার কারিগর কাকুর মনটা কেমন যেন আর্দ্র হয়ে গেল। কাকু পটলের মাথায় হাত রেখে মিটমিট করে হেসে বললেন, “আচ্ছা বেশ! পুজোর এই সমস্ত কাজের ডেলিভারি যখন দেওয়া হয়ে যাবে, পরশু দিন তোর জন্য আমি আর দাদু মিলে একটা খাঁটি প্রজাপতি ঘুড়ি বানিয়ে দেব। ব্যস, খুশি তো?”

কথাটা শুনে পটলের ফিনফিনে কাগজের মতো শুকনো মুখটায় এক নিমেষে এক মস্ত রাজকীয় হাসি ফুটে উঠল। যেন ঘুড়ি নয়, মাঞ্জাও পেয়েছে। আর লাটাইটাও।


ভোঁ কাট্টা


টানা কদিন ধরে ঘুড়ি বানাতে বানাতে কারখানার সবাই এখন বড্ড ক্লান্ত। কাঁচা বাঁশের গন্ধ, ময়দার লেইয়ের শেষ বাসনগুলোতে পটলকুমারের মালিকানা হয়েছে। গুমোট আবহাওয়ায় সবাই আরও বেশি ক্লান্ত। আর ক্লান্তির পেছনে একটা অদৃশ্য মনখারাপও আছে। এই কটা দিনের জন্যই তো ওরা এসেছিল। কেউই কাউকে চিনত না। এমনকি পটলকেও না। পটল ওদের সন্তানের বয়সের। পটল দুই কাকুর নাম দিয়েছিল। কাচকাকু। আর ঘুড়িকাকু।

সুতোয় মাঞ্জা দিত কাচের গুঁড়ো দিয়ে, তাই এই নাম। আর ঘুড়ি ফাইনাল হত যার হাতে, সেই হল ঘুড়িকাকু। ওর কাচকাকুর এই বয়সের একটা মেয়ে ছিল। ছিল, করোনা জ্বরে সে... চলে যায়। তাই এ কদিন যা কিছু করত ওরা, সেটা পটলকুমারকে নিয়েই।

পটলও ওদের জন্য নিয়ে আসত ঝুরিভাজা আর মুড়ি। ব্যাগ গোছাতে গোছাতে দুজনেই বলল, “কোথায় যে গেল বাচ্চাটা?”

ওদের মালিক ভালদাদুও জানেন না। জানে না আশপাশের দোকানের কেউ। তখন ওরা ঠিক করল, একবার পার্কে গিয়ে দেখলে কেমন হয়? পার্কে তখন প্রায় কেউ নেই। পাশের ভলিবল ক্লাবের জালে চলছে বল লোফালুফি। দুজন খুঁজছে পটলকে। পটলের দাদা উঠে এল।

“কী ব্যাপার, আপনারা কে গো? পটল আমার ভাই। কী করেছে সে?”
ঘুড়িকাকু বলে, “কিছু করেনি, আমরা চলে যাব। এ কদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। ওর প্রতি মায়া...” তাঁর গলা বন্ধ হয়ে এল।
তুফান, পটলের দাদা, বলল, “ও এদিক-ওদিক গেছে হবে। বলছিল, হ্যাঁ, ঘুড়ি কিনতে যাবে। তাই গেছে বোধহয়।”

ওদের মনে পড়ল, ওরা পটলকে দুটো ঘুড়ি বানিয়ে দেবে বলেছিল। কিন্তু এখন তো...

“ট্রেনের টাইম হয়ে গেল,” বলল পটলের ঘুড়িকাকু।
তখন কাচকাকু বলল, “ঠিক আছে। তুমি যাও ভাই, আমি ওকে দুটো ঘুড়ি বানিয়ে দিয়েই তবে যাব। আমার বাড়ি বেশি দূর তো নয়।”

ওদের চোখে পড়ল পটলের স্কুলের ব্যাগ। তার গায়ে দাঁড় করানো একটা সাদা খাতা। যেটা আঁকার খাতা। সেটা পটল নিয়েও গিয়েছিল কারখানায়। সেই খাতায় একটা কিছু বানিয়েছে পটল। হ্যাঁ, খাতাটা বাঁদিকে ঘোরাতেই বোঝা গেল। কাগজের টুকরো দিয়ে পটল একটা বাড়ি বানিয়েছে। হ্যাঁ, পটল বলেছিল। ওদের বাড়ি নেই। একটা ঘরও নেই।

দুই কাকু নিজেদের অজান্তেই একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। কী জানি কী ভেবে ওর দুই কাকু আর কথা বলতে পারছিল না। হতে পারে, ওদের চোখে জল। গলা গেছে ধরে, স্নেহের কষ্টে। এই বয়সের একটা ফুটপাথের বাচ্চার মাথার ওপর কোনো পাকা ছাদ নেই। ঘরের স্বপ্ন কতখানি গভীর হলে সে এমন করে খাতার পাতায় আস্ত একটা বাড়ি বানিয়ে ফেলতে পারে!

ঘুড়িকাকু স্টেশনের পথে চলে গেল। কাচকাকু ফিরে এলেন কারখানার সেই ফাঁকা গুদামঘরে। কোণের চটে বসে দ্রুত হাতে নিলেন চাঁছা বাঁশের বাতা আর ফিনফিনে রঙিন টিস্যু কাগজ। বানালেন দুটো বিশেষ ঘুড়ি — একটা নীল রঙের রাজকীয় পাখি-ঘুড়ি। আর একটা ডানামেলা প্রজাপতি ঘুড়ি! এই কথাটাই তো উনি পটলকে দিয়েছিলেন।

কিছুক্ষণ পর কাচকাকু এল পার্কে। হাতে তার দুটো ঘুড়ি। পাখি ঘুড়ি আর প্রজাপতি ঘুড়ি। সেগুলো উনি রাখলেন ওর ড্রয়িং খাতার উপরে। ওর ব্যাগের মুখটা হাঁ। সেখানে হাঁকপাঁক করছে কয়েকশো টুকরো কাগজ। রঙিন। নরম কাগজগুলো সেই ঘুড়ির ছাঁটকাগজ। সব কুড়িয়ে এনেছে পটল।

আর অপেক্ষা করা যায় না, তাই কাচকাকুও বেরিয়ে পড়লেন। তখনও ফেরেনি পটল।

পটল ফিরল অনেক রাতে। খাতাটার ওপর রাখা নীল পাখি ঘুড়ি। আর প্রজাপতি ঘুড়ি। দুটো ঘুড়ি। দেখে ওর বুঝতে একটুও দেরি হল না। এগুলো ওর কাচকাকুরা রেখে গেছেন। পটল এক মুহূর্তও দেরি না করে ছুটল কারখানার দিকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখল, কারখানা বন্ধ। শাটার টানা। চারদিকে অন্ধকার একটু বেশিই। ভালদাদু চলে গেছেন? আর কাচকাকু, ঘুড়িকাকু — কাউকেই আর কোথাও দেখা গেল না। পটল ওদের জন্য দুটো ছবি এঁকে এনেছে।

পটল আবার ধীরে ধীরে ফিরে এল ফাঁকা পার্কের সেই চেনা ঠাঁইয়ে। চুপচাপ বসল কিছুক্ষণ। তারপর আবার ফিরে গেল সেই কারখানার সিঁড়িতে।

ওর মনে পড়ছিল। কদিন আগেও এখানে ওরা কতজন গাদাগাদি করে চট বিছিয়ে ঘুমাত। সারাদিন আঠার গন্ধ থাকত। এখন নেই। শুধু কিছু পরিত্যক্ত রঙিন কাগজের ছাঁটকাট পড়ে আছে। পটল ছবি নিয়ে বসল সেই অন্ধকার সিঁড়িতে। সে অপেক্ষা করতে থাকল।




আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম

আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের কার্তিক ১৪৩৩ সংখ্যাটি ১ নভেম্বর ২০২৬ (১৪ই কার্তিক) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২০ অক্টোবরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
গঠনমূলক পরামর্শ দিন
মন্তব্যে আপনার মতামত জানান
0 0 ভোট
স্টার
guest
2 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
Scroll to Top

‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।