Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
নিজের ভেতরের পৃথিবীকে ভালোবাসার সময় বের করুন
নিজের ভেতরের পৃথিবীকে ভালোবাসার সময় বের করুন

শরীরের ভিতরে রয়েছে জীবনের গভীর সত্য। আমরা যতটা মন দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকাই, ততটা মন দিয়ে কখনোই নিজের শরীরের দিকে তাকাই না। প্রতিদিন সকালে আমরা যখন আয়নায় নিজেদের মুখ দেখি, তখন কি কখনো খেয়াল করি আমাদের চোখের নিচে কালি পড়েছে কেন? কিংবা কেন এত ক্লান্ত দেখায় নিজেদের? শরীর আমাদের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলে, শুধু আমরা শুনতে পাই না। আমাদের শরীর আসলে এক নীরব সংগীত যার প্রতিটি সুরের সঙ্গে যুক্ত আমাদের মন, আমাদের চিন্তা, আর আমাদের জীবনযাপন। আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন একেকজন প্রহরী। তারা সারাক্ষণ আমাদের জন্য কাজ করছে এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্রাম নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা? আমরা তাদের কথা শুনি না। তাই একসময় তারা ভয় পেতে শুরু করে, ক্লান্ত হয়ে পড়ে, চিৎকার করে ওঠে রোগের ভাষায়।

🔸 পাকস্থলী ভয় পায়, যখন আমরা সকালের জলখাবার বাদ দিই। দীর্ঘ সময় না খেলে পেটের অ্যাসিড যেন আগুন হয়ে ওঠে। পেট ব্যথা, গ্যাস, হজমের সমস্যা এসব শুরু হয় তখনই। সকালের প্রথম আহার আমাদের শরীরকে জানায়, "দিন শুরু হলো, শক্তি নাও।" কিন্তু আমরা সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করি তাড়াহুড়োর অজুহাতে।
🔸 কিডনি আতঙ্কিত হয়, যখন আমরা সারা দিনে যথেষ্ট জল পান করি না। শরীরের বিষাক্ত বর্জ্য তখন রক্তে জমে থেকে শরীরের প্রতিটি কোষকে বিষাক্ত করে তোলে। জল শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এটি আসলে শরীরের ভেতরের নীরব পরিচ্ছন্নতার কাজ করে।
🔸 গলব্লাডার ভয় পায়, যখন আমরা রাত জেগে থাকি। আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি আছে যা সূর্য ওঠা ডোবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। রাত ১২টার পর জেগে থাকা মানে সেই প্রাকৃতিক ছন্দ ভেঙে দেওয়া। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, মেজাজ খারাপ হয়, কাজে মনোযোগ থাকে না।
🔸 ক্ষুদ্রান্ত্র কাঁপে, যখন আমরা ঠান্ডা বা বাসি খাবার খাই। রান্নার পর ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়। আর ঠান্ডা খাবার শরীরে গিয়ে হজমের আগুন নিভিয়ে দেয়।
🔸 মূত্রথলি ও কিডনি ভয় পায়, যখন আমরা প্রস্রাব আটকে রাখি। এ এক অদ্ভুত অভ্যাস নিজের শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা। সময়মতো প্রস্রাব না করলে কিডনিতে চাপ পড়ে, সংক্রমণ হয়, কখনো কখনো স্থায়ী ক্ষতিও হয়।
🔸 ফুসফুসের দম বন্ধ হয়ে আসে, যখন আমরা ধোঁয়া, ধুলো, দূষণে নিঃশ্বাস নিতে বাধ্য হই। একবিংশ শতাব্দীর শহুরে জীবন যেন শ্বাসরুদ্ধ এক বাস্তবতা। অথচ প্রতিদিন সকালে কিছুটা খোলা হাওয়ায় হাঁটা, কিছুটা শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম এই ছোট ছোট অভ্যাসই ফুসফুসকে নতুন জীবন দিতে পারে।
🔸 লিভার আতঙ্কিত, যখন আমরা জাঙ্ক ফুডে ডুবে থাকি। এই খাবারে শুধু চর্বি নয়, থাকে প্রচুর রাসায়নিক রঙ, সংরক্ষণকারী পদার্থ। লিভার প্রতিনিয়ত সেই বিষ শোষণ করে কষ্ট পায়। একসময় ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টরলের দাসত্বে বন্দি হয়ে যায় পুরো শরীর।
🔸 হৃদপিণ্ড ভয় পায়, যখন আমরা লবণ আর তৈলাক্ত খাবারে ভাসি। রক্তচাপ বেড়ে যায়, ধমনীর পথ সংকীর্ণ হয়, একসময় হৃৎপিণ্ড হাল ছেড়ে দেয়। অথচ একটু হাঁটা, একটু হাসি, আর একটু মিতাচার এই তিনেই হৃদয় শান্ত থাকে।
🔸 অগ্ন্যাশয় কেঁপে ওঠে, যখন আমরা চিনি ও মিষ্টি দিয়ে নিজেদের পুরস্কৃত করি। মিষ্টির আনন্দ মুহূর্তিক, কিন্তু তার ফল দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস, ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি।
🔸 চোখও কাঁদে, যখন আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল বা কম্পিউটারের আলোয় ডুবে থাকি। চোখের নিজস্ব বিশ্রাম আছে, অন্ধকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে। কিন্তু আমরা সেই বিশ্রাম কেড়ে নিই নিজের হাতেই।
🔸 বৃহদান্ত্র ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়, যখন আমরা অতিরিক্ত ঝাল-মশলাযুক্ত ভাজাভুজি খাই। এর পরিণতি বদহজম, গ্যাস, ও নানা রোগের সূচনা।
🔸 মস্তিষ্ক ভীত হয়, যখন আমরা নেতিবাচক চিন্তায় ভরে উঠি। মানসিক চাপ শরীরের প্রতিটি অঙ্গে বিষের মতো কাজ করে। মন ভারী হলে শরীরও ভারী হয়, ইচ্ছাশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। বিজ্ঞান আজ স্পষ্ট বলছে শরীর আর মন আলাদা নয়। মন খারাপ হলে পেট খারাপ হয়, দুশ্চিন্তা হলে রক্তচাপ বাড়ে, ভয় পেলে শ্বাস ছোট হয়।

এই যে পারস্পরিক সম্পর্ক এটাই মন-শরীর সংযোগ। তাই শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে, আগে মনকে শান্ত করতে হবে। মনকে ভালো রাখতে চাইলে, শরীরকে যত্নে রাখতে হবে। ধরো, তুমি যদি প্রতিদিন সকালে উঠে পাঁচ মিনিটও নিঃশব্দে বসে থাকো, নিঃশ্বাসের ওঠা-নামা লক্ষ্য করো তবে সেটাই ধ্যান। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, মন শান্ত হয়, শরীরের কোষগুলো পর্যন্ত যেন আনন্দে সাড়া দেয়।

আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল আমরা ভেবে নিই, শরীরকে ভালো রাখা মানে শুধু ওষুধ খাওয়া বা জিমে যাওয়া। না — শরীর চায় মনোযোগ, ভালোবাসা, নিয়মিত যত্ন। যেমন ফুল বেঁচে থাকে সূর্যের আলোয়, শরীরও বেঁচে থাকে যত্নের আলোয়। ভেবে দেখো, আমরা মোবাইলের ব্যাটারি কম হলে সঙ্গে সঙ্গে চার্জে দিই, কিন্তু নিজের শরীর যখন ক্লান্ত, নিদ্রাহীন, জল শূন্য তখনও আমরা কাজ চালিয়ে যাই অবহেলায়। এই অবহেলাই একদিন রোগ হয়ে ফিরে আসে।

আমাদের শরীর আসলে এক জীবন্ত পৃথিবী। রক্ত নদীর মতো বয়ে চলে, শ্বাস হাওয়ার মতো আসে যায়, হৃদপিণ্ড সূর্যের মতো আলো দেয়। এই শরীরের ভেতরেই আছে এক প্রকৃতি যার সঙ্গে যদি আমরা সুরে সুর মেলাতে পারি, তবে অসুখ আমাদের কাছে আসতে পারে না। ভোরবেলা সূর্যের আলোয় বসা উচিত। প্রভাতের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে, মনেও দেয় ইতিবাচক শক্তি। তাজা ও ঘরে বানানো খাবার খাওয়া উচিত, যতটা সম্ভব প্যাকেটজাত খাবার থেকে দূরে থাকা। প্রতিদিন অন্তত ১০ গ্লাস জল পান করা উচিত। জলই শরীরের আসল ওষুধ। ধ্যান, হাঁটা, ও নিয়মিত ব্যায়াম এগুলো মনকে শান্ত রাখে, শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। রাতের ঘুম হলো শরীরের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ঘুম না হলে মন অস্থির থাকে, শরীর অসুস্থ হয়। আমাদের নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকা উচিত। যত কম অভিযোগ, তত বেশি প্রাণশক্তি। আমাদের জীবনে উৎসব মানে আনন্দ, মিষ্টি, আলো, সাজ, গান। কিন্তু উৎসবের পর শরীর থাকে ক্লান্ত, মন ভারী। কারণ আমরা আনন্দে ভুলে যাই সংযমের কথা। এবার উচিত নিজের শরীরের প্রতি যত্নে ফেরা। এটাই সময়, আবার ধ্যানে ফেরা, নিজেকে ভালোবাসায় ফেরা।

শরীরকে ভালো রাখা মানে কেবল বাঁচা নয় এটা এক ধরনের আত্মপ্রেম। যখন তুমি শরীরের যত্ন নাও, তখন তুমি জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাও। এক কাপ গরম জল সকালে পান করা, ঘুম থেকে উঠে ৩০ মিনিট হাঁটা, রাতে ঘুমের আগে নিজের মনের সঙ্গে কথা বলা এই ছোট ছোট কাজগুলোই তোমাকে বড় সুখ দেবে। মনও চায় ভালোবাসা। মনকে শান্ত রাখতে হলে তাকে বিশ্রাম দিতে হবে। আজকাল আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল, স্ক্রিন, শব্দ, তাড়া এই সব কিছুর মধ্যে ডুবে থাকি। মন যেন এক রণক্ষেত্র। একটু নিঃশব্দ সময়, নিজের সঙ্গে সময় এই জিনিসটাই মন খুঁজে পায় না। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট নিজের সঙ্গে একা বসো। কেবল শ্বাস নাও, ছাড়ো। বিশ্বাস করো, তোমার শরীরও যেন বলবে "ধন্যবাদ!"

সুস্থ শরীর আর শান্ত মন এই দুইয়ের মিলেই আসে জীবনের আসল সৌন্দর্য। রূপ নয়, সাজ নয়, ধন নয়, শরীরের প্রাণশক্তি আর মনের প্রশান্তিই হলো আসল সৌন্দর্য। যখন তুমি ভোরে জেগে সূর্যোদয় দেখবে, এক গ্লাস জল খাবে, হাঁটবে, হালকা হাসবে তখনই তুমি পৃথিবীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলবে। তুমি হবে তোমার নিজের পৃথিবীর রক্ষক।

আমাদের প্রত্যেকের শরীরই এক অলৌকিক যন্ত্র যা প্রতিদিন নিঃশব্দে আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। শরীর ভয় পায় না যদি তুমি তাকে ভালোবাসো। মন ক্লান্ত হয় না যদি তুমি তাকে শান্তি দাও। তাই আজ থেকেই শুরু হোক এক নতুন পথচলা যেখানে খাবার হবে প্রার্থনা, জল হবে আশীর্বাদ, ঘুম হবে ধ্যান আর মন হবে শরীরের বন্ধু। জীবনের এই নিঃশব্দ সত্যটাই হয়তো সবচেয়ে সুন্দর।

যে নিজের শরীরের প্রতি প্রেম করতে শিখেছে, সেই সত্যিকার অর্থে জীবনের প্রেমে পড়েছে।




আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
5 35 ভোট
স্টার
guest
65 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top