টানা দশ দিন আমরা নারীশক্তির আরাধনা করলাম। মণ্ডপে দেবীকে প্রণাম জানালাম, আলোকসজ্জায় ঝলমল করল শহর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — উৎসবে দেবীকে সম্মান দিলাম, বাস্তবের নারীকে কি অন্তত সমান ভাবলাম?
একবিংশ শতকে মাতৃরূপেণ প্রতিটি নারী সর্বত্র ও সর্বদা নিজের নিরাপত্তা ও সাহসের উৎস হয়ে থাকেন। শক্তিরূপেণ নারী নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে, নেতৃত্ব দিতে ও পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। শান্তিরূপেণ তিনি স্থির ও সংযত, তবুও স্পষ্টভাষী — সমাজের কটাক্ষে নড়েন না। বুদ্ধিরূপেণ নারী আবেগের সঙ্গে যুক্তিবোধেও দৃঢ় — টেক, সায়েন্স ও পলিটিক্সে সমান বেগে এগিয়ে চলেন। লক্ষ্মীরূপেণ তিনি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর, নিজের পরিশ্রমে নিজের পরিচয় তৈরি করেন। আর মোহরূপেণ নারীর আকর্ষণ কেবল সৌন্দর্যে নয়, তাঁর মেধা, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাসেও প্রকাশ পায়।
আমরা চাইলে পরিবর্তনের সহযাত্রী হতে পারি, অনুঘটক হতে পারি। আবার চাইলে কিছু না করেও থাকতে পারি — তাতেও নারীরা তাঁদের নিজের গতিতে এগোবেন — সেই গতিতে বাধা সৃষ্টি না করলেই হলো। অন্যথায় অগ্রগতি হয়তো কিছুটা ধীর হবে, কিন্তু থামবে না। কারণ দেবীশক্তি অবশেষে সব বাধা ভেদ করে প্রবাহিত হবেই। আর যেদিন সেই শক্তি সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যাবে, সেদিন যারা তাঁকে থামাতে চেয়েছিল, তারা ইতিহাসের পাতার ফুটনোটেও স্থান পাবে না। মানুষ মনে রাখে বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহনের নাম, কিন্তু তাঁদের বিরোধীদের পরিচয়ে নয়, শুধু অশ্রদ্ধায় মনে রাখে।
প্রকাশিত হলো — বাঙালি.নেটওয়ার্ক-এর ❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের কার্তিক ১৪৩২ সংখ্যা। এই সংখ্যায় রয়েছে নানা বিষয়ভিত্তিক আকর্ষণীয় লেখা — সমাজ, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও জীবনের অন্যান্য রঙে ভরপুর। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মহিষাসুরকে ঘিরে একগুচ্ছ অফবিট লেখা — যেগুলোতে আছে কম জানা তথ্য, ঐতিহ্যের নতুন পাঠ, আর আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবনা। এই সংখ্যার শুরু হলো একটি অন্যস্বাদের ধারাবাহিক রচনাও।
চলুন, একসাথে পড়ি, ভাবি, আর Glocal বাংলার জন্য Vocal হই।