আপনারা কি জানেন আমাদের এই সভ্য সমাজের আড়ালে এখনো এমন এক জনগোষ্ঠী বাস করে যাদের কাছে আজও সভ্যতার আলো পৌঁছয় নি।যারা এখনো লজ্জা নিবারণের পোশাক ব্যবহার সম্পর্কে অবগত নয়। চলুন আজ বলি সেই আদিবাসী গোষ্ঠী সম্পর্কে যারা পরিচিতি মাশকো পিরো (Mashco Piro) নামে।
মাশকো পিরো হলো দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর আমাজন রেইনফরেস্টের গভীরে বসবাসকারী বিশ্বের বৃহত্তম যোগাযোগহীন আদিবাসী গোষ্ঠী। তারা আধুনিক সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থেকে নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনযাপন করে।
এদের শারীরিক গঠন সুঠাম ও বলিষ্ঠ হয়, এরা পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে শিকার করে জীবন নির্বাহ করে তাই এরা যথেষ্ট দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী। এদের গায়ের রং তামাটে এবং নারী পুরুষ উভয়ের লম্বা চুল রাখার প্রবণতা দেখা যায়। তাদের হাতে প্রায়ই দীর্ঘ কাঠের ধনুক এবং বড় বড় তীর দেখা যায়, যা তারা শিকার এবং আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে
নামের উৎপত্তি : তারা নিজেদের 'নোমোলে' (Nomole) বলে পরিচয় দেয়, যার অর্থ হলো 'আত্মীয়'। 'মাশকো' শব্দটি মূলত ১৮শ শতকের শেষদিকে বহিরাগতদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি অবমাননাকর শব্দ, যার অর্থ 'বন্য'।
সংস্কৃতি ও ভাষা : তারা আরওয়াকান (Arawakan) ভাষা, পরিবারের একটি প্রাচীন উপভাষায় কথা বলে। পুরুষ ও মহিলারা সাধারণত হাতে বোনা হলদে-বাদামী রঙের স্বল্প কাপড় কোমরে বা শরীরে জড়িয়ে রাখে।
ভয়াবহ ইতিহাস : ১৮৮০-এর দশকে আমাজনে 'রাবার বুম'-এর সময় রাবার ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়, সেই সময় তারা দাসত্ব ও হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে বনের গভীরে পালিয়ে যায় এবং তখন থেকেই বাইরের পৃথিবীর সাথে সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করে দেয়।
২০২৫ সালের পরিস্থিতি : সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের এলাকায় একটি বৃহত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় এবং বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এখন অস্তিত্ব সংকটে।
জীবনধারণের কৌশল : শুষ্ক মরসুমে তারা নদীর তীরে এসে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করে এবং পাম পাতা দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে বাস করে। বর্ষাকালে তারা বনের আরও গভীরে স্থায়ী ডেরায় ফিরে যায়। তারা মূলত যাযাবর হওয়ায় বনের পরিবেশ ও খাবারের উৎসের ওপর ভিত্তি করে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে।
স্বভাব : তাদের এলাকা রক্ষায় তারা কখনো কখনো বহিরাগতদের ওপর হিংস্র আক্রমণ করে। ২০২৪ সালে তাদের তীরের আঘাতে অন্তত চারজন কাঠুরে নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়।
তাদের সুরক্ষার জন্য পেরু সরকার ২০২৫ সালে বিশেষ বাজেট ঘোষণা করেছে এবং সংরক্ষিত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, তাদের আবাসস্থলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ না করলে এই গোষ্ঠীটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
মাশকো পিরোরা সাধারণত বহিরাগতদের দেখলে বা ড্রোনের আওয়াজ শুনলে সতর্ক হয়ে যায় এবং দ্রুত বনের গভীরে লুকিয়ে পড়ে। তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যটক বা সাধারণ মানুষকে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ না করার কড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে।
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।