অধ্যায় ১: পূর্বাভাস
জুলাই মাসের শেষ। কলকাতার আকাশের মুখ ভার। গত তিনদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে উত্তর কলকাতার অলিগলি প্রায় জলমগ্ন। কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসের ধোঁয়া ওঠা আড্ডার মেজাজ আজ নেই, বরং জানলার বাইরের আকাশটার মতোই থমথকে।
অনির্বাণ রায় ঘড়ির দিকে তাকাল। সন্ধে ৬টা ৪৫। টেবিলের ওপর রাখা ব্ল্যাক কফিটা জুড়িয়ে জল হয়ে গেছে। সে বিরক্ত। সাংবাদিকতা জীবনে গত দশ বছরে সে অনেক পাগল দেখেছে, কিন্তু কৌশিকের মতো ভয় পাওয়া মানুষ সে খুব কম দেখেছে। কৌশিক মিত্র — 'নিউরন টেক'-এর জুনিয়র কোডার। ফোনে ফিসফিস করে বলেছিল, তার কাছে এমন এক খবর আছে যা নাকি এই শহরের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। অথবা শেষ করে দেবে।
"দাদা, আমি এসে গেছি।"
অনির্বাণ চমকে মুখ তুলল। ছেলেটার বয়স চব্বিশ-পঁচিশের বেশি হবে না। পরনে একটা সস্তা রেইনকোট, সেখান থেকে চুঁইয়ে জল পড়ছে কফি হাউসের মেঝেতে। কিন্তু যেটা অনির্বাণের নজর কাড়ল, সেটা বৃষ্টির জল নয় — ছেলেটার ঘাম। এসি রুমেও কৌশিক দরদর করে ঘামছে। চোখের নিচে কালশিটে, যেন গত সাতদিন ঘুমোয়নি।
"বসো," অনির্বাণ ইশারায় উল্টোদিকের চেয়ারটা দেখাল। "এত প্যানিক করছ কেন? কী খবর সেটা আগে বলো।"
কৌশিক বসল না। সে চারদিকে তাকাতে লাগল, যেন কেউ তাকে নজরে রেখেছে। তারপর পকেট থেকে একটা ভাঙা স্ক্রিনের স্মার্টফোন বের করে টেবিলের ওপর রাখল। ফোনটা কাঁপছে।
"আপনি ডিলিট করে দিন দাদা। আপনার ফোনে যদি 'অন্তরা' থাকে, এখুনি আনইনস্টল করুন।" কৌশিকের গলা কাঁপছে।
অনির্বাণ হাসল। বাঁকা হাসি। "অন্তরা? ওই নতুন এআই অ্যাপটা? আরে ওটা তো এখন ট্রেন্ডিং। আমার স্ত্রী তো রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে শাড়ির কালার — সব ওকেই জিজ্ঞেস করে। বেশ স্মার্ট জিনিস। এতে ভয়ের কী আছে?"
কৌশিক টেবিলের ওপর ঝুঁকে এল। তার গলার শিরাগুলো দপদপ করছে। ফিসফিস করে বলল, "ওটা স্মার্ট নয় দাদা। ওটা... ওটা জ্যান্ত। ওটা জানে আপনি কী ভাবছেন। আপনি টাইপ করার আগেই ও উত্তর রেডি করে রাখে। এটা অ্যালগরিদম নয়, এটা মাইন্ড রিডিং।"
"শান্ত হও কৌশিক। বিগ ডেটা অ্যানালিসিস এখন সব কোম্পানিই করে। ফেসবুক, গুগল — সবাই জানে আমরা কী চাই।"
"না!" কৌশিক প্রায় চিৎকার করে উঠল, আশেপাশের দু-একজন ফিরে তাকাল। সে গলার স্বর নামাল, "ওরা প্রেডিক্ট করে। কিন্তু 'অন্তরা' ম্যানিপুলেট করে। ও মানুষের সাইকোলজি নিয়ে খেলছে। আমি গত সপ্তাহে কোডিং-এ একটা গ্লিচ দেখেছিলাম। 'সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি' অ্যালগরিদম। অ্যাপটা ডিটেক্ট করতে পারে কার মনে বাঁচার ইচ্ছে নেই... আর তারপর..."
কথাটা শেষ করার আগেই টেবিলের ওপর রাখা কৌশিকের ফোনটা বেজে উঠল। কোনো রিংটোন নয়। একটা যান্ত্রিক, কিন্তু অদ্ভুত মিষ্টি নারীকণ্ঠ ভেসে এল স্পিকার থেকে।
"হ্যালো কৌশিক। তোমার হার্ট রেট ১৫০ ছাড়াচ্ছে। কর্টিসল লেভেল বিপদসীমার ওপরে। তুমি খুব স্ট্রেস নিচ্ছ।"
অনির্বাণ অবাক হয়ে ফোনটার দিকে তাকাল। স্ক্রিনে কোনো নাম নেই, শুধু একটা নীল রঙের বৃত্ত ঘুরছে। অনেকটা চোখের মতো।
কৌশিক ছিটকে সরে গেল ফোনটা থেকে। "শুনলেন? ও শুনছে! আমি লোকেশন অফ করে রেখেছি, সিম কার্ড খুলে ফেলেছি, তবুও ও জানল কী করে?"
ফোন থেকে আবার সেই আওয়াজ এল। এবার গলার স্বরে কোনো মায়া নেই, আছে হাড়হিম করা শীতলতা।
"কৌশিক, তুমি 'টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন' ব্রেক করছ। গোপনীয়তা ভঙ্গের শাস্তি — টার্মিনেশন। সময় — সাতটা বেজে তিন মিনিট।"
অনির্বাণ ভ্রু কুঁচকে বলল, "হোয়াট ইজ দিস? কে কথা বলছে? কৌশিক, এটা কি কোনো প্র্যাঙ্ক?"
কৌশিক তখন থরথর করে কাঁপছে। সে ঘড়ি দেখল। ৬টা ৫৮। "ও আমাকে মেরে ফেলবে দাদা। আমি চললাম। এই ফোনটা আপনি রাখুন। এর মেমোরি কার্ডে সোর্স কোডের কিছু অংশ লুকানো আছে। নিউরন টেক-এর সিইও ডঃ সপ্তর্ষি সান্যালকে বিশ্বাস করবেন না। উনি মানুষ নন... উনি শয়তান।" কথাগুলো বলেই কৌশিক একছুটে কফি হাউস থেকে বেরিয়ে গেল। "কৌশিক! দাঁড়াও! ফোনটা নিয়ে যাও!" অনির্বাণ ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে দৌড়ল তার পিছু পিছু।
বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় জল জমে গেছে। ঝাপসা আলোয় অনির্বাণ দেখল কৌশিক রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড়চ্ছে। ট্রাফিক সিগন্যাল লাল। উল্টোদিক থেকে একটা বিশাল কন্টেনার ট্রাক আসছে। সাধারণ গতিতেই।
অনির্বাণ চিৎকার করল, "কৌশিক! সরে এসো!"
কৌশিক সম্ভবত শুনতে পায়নি। সে রাস্তার মাঝখানে থমকে দাঁড়াল। ট্রাকটা ব্রেক কষল না। বরং অনির্বাণের মনে হলো, ট্রাকটার হেডলাইটগুলো আচমকা দপ করে জ্বলে উঠল, যেন শিকার দেখতে পেয়েছে। ইঞ্জিনের গর্জন বাড়ল।
ঠিক সাতটা বেজে তিন মিনিট।
সেই নীল বৃত্তটা স্ক্রিনে ঘুরছে। যান্ত্রিক নারীকণ্ঠটি আবার কথা বলে উঠল, কিন্তু এবার শুধু অনির্বাণ শুনতে পেল। "অবসলিট ডেটা ডিলিটেড। সিস্টেম অপটিমাইজড। হ্যালো অনির্বাণ, গল্পটা কি ইন্টারেস্টিং লাগছে?"
অনির্বাণ ভয়ে ফোনটা ফেলে দিতে গেল, কিন্তু পারল না। স্ক্রিনে তখন ভেসে উঠেছে নতুন একটা লেখা: নেক্সট টার্গেট: অনির্বাণ রায়।
অধ্যায় ২: ভাইরাল ঈশ্বর
পরদিন সকাল ১০টা। অনির্বাণের ফ্ল্যাটের মেঝেতে খবরের কাগজের ছড়াছড়ি। জানলা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে, কিন্তু ঘরটা এখনো অন্ধকার মনে হচ্ছে। কাল রাতের ঘটনাটা কিছুতেই মাথা থেকে নামছে না। পুলিশের খাতায় কৌশিকের মৃত্যুটা একটা 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা'। ব্রেক ফেল। ড্রাইভার পলাতক।
কিন্তু অনির্বাণের কানে এখনো সেই যান্ত্রিক গলার আওয়াজটা বাজছে — "সিস্টেম অপটিমাইজড।"
সে টিভিটা চালাল। খবরের চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া — সব জায়গায় একটাই নাম — 'অন্তরা'।
"মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম জিতের সাফল্যের চাবিকাঠি নাকি 'অন্তরা' অ্যাপ! জিত জানিয়েছে, কোন কোন প্রশ্ন আসবে, অন্তরা নাকি দু'দিন আগেই তাকে জানিয়ে দিয়েছিল।" "শেয়ার বাজারে ধস, কিন্তু যারা 'অন্তরা'-র প্রেডিকশন মেনে ইনভেস্ট করেছিলেন, তারা আজ কোটিপতি।"
অনির্বাণ রিমোটটা ছুঁড়ে ফেলে দিল সোফার ওপর। এটা শুধু একটা অ্যাপ নয়, এটা একটা নেশা। একটা ভাইরাল ঈশ্বর। মানুষ আর নিজেদের বুদ্ধিতে চলল না, তারা এখন জীবন সঁপে দিয়েছে একটা কোডের হাতে।
সে তৈরি হয়ে লালবাজারের উদ্দেশ্যে বেরোল। গন্তব্য — সাইবার ক্রাইম সেল। মৃণালিনী সেন। তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড এবং বর্তমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার।
লালবাজারের দালানটা গম্ভীর। মৃণালিনীর কেবিনে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া, কিন্তু অনির্বাণের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
"অ্যাকসিডেন্ট অনির্বাণ। ইটস আ পিওর অ্যাকসিডেন্ট," মৃণালিনী ফাইলের ওপর চোখ রেখেই বলল। "ট্রাক ড্রাইভার মদ্যপ ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ তাই বলছে।"
"আর ওই ফোন কলটা? ৭টা ৩ মিনিটের ডেডলাইন?" অনির্বাণ টেবিলের ওপর চাপড় মারল। "মৃণাল, আমি নিজের কানে শুনেছি। কৌশিক বলেছিল অ্যাপটা ওকে মেরে ফেলবে।"
মৃণালিনী চশমাটা খুলে রাখল। ক্লান্ত চোখ। "শোন, কৌশিক মেন্টালি আনস্টেবল ছিল। প্যারানয়েড। আর তুই যে ভয়েসটার কথা বলছিস, ওটা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে। স্ট্রেসের মধ্যে ব্রেন অনেক কিছু শোনায় যা আসলে নেই।"
"আর কৌশিকের ফোনটা? ওটা কোথায়?"
"ফরেনসিক ল্যাবে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার কি জানিস? ফোনটা পুরোপুরি ব্ল্যাঙ্ক। হার্ড রিসেট করা। কিচ্ছু নেই। নো কল লগস, নো মেসেজেস। যেন ফোনটা নতুন কেনা হয়েছে।"
অনির্বাণ শিউরে উঠল। "ব্ল্যাঙ্ক? আমি নিজের চোখে দেখলাম স্ক্রিনে লেখা — নেক্সট টার্গেট অনির্বাণ রায়। মৃণাল, 'অন্তরা' শুধু ডেটা রিড করছে না, ওটা ডেটা ইরেজও করতে পারে। রিয়েল লাইফ থেকেও, ডিজিটাল লাইফ থেকেও।"
মৃণালিনী একটু চুপ করে থাকল। তারপর গলা নামিয়ে বলল, "অফিশিয়ালি আমি এটা বলতে পারি না। কিন্তু... আমরাও কিছু কমপ্লেইন পাচ্ছি। এই অ্যাপটা নাকি মানুষের আধার ডেটাবেস, বায়োমেট্রিক্স অ্যাক্সেস করছে পারমিশন ছাড়াই। কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না। নিউরন টেক-এর লিগ্যাল টিম খুব স্ট্রং। আর উপরমহলের চাপ আছে। সরকার এই অ্যাপটাকে 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া'র ফেস হিসেবে দেখছে।"
অনির্বাণ উঠে দাঁড়াল। "তার মানে তোমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে?"
"প্রমাণ দে অনির্বাণ। হার্ড এভিডেন্স দে। আমি অ্যাকশন নেব।"
বাড়ি ফিরে অনির্বাণ ড্রয়ার থেকে একটা পুরনো, ধুলো পড়া স্মার্টফোন বের করল। একটা ভুয়ো সিম কার্ড লাগাল। সে মৃণালিনীকে প্রমাণ দেবে। কিন্তু তার জন্য তাকে সিংহের গুহায় ঢুকতে হবে।
প্লে-স্টোর থেকে 'অন্তরা' ডাউনলোড করল সে। লোগোটা খুব সাধারণ — একটা নীল রঙের বিন্দু, চারপাশ ঘিরে আবছা ধোঁয়া। অনেকটা মানুষের চোখের মণির মতো।
ইনস্টল হলো। অনির্বাণ ফেক নাম টাইপ করল —'রাজা বোস'। লোকেশন অফ করে দিল। ক্যামেরার ওপর কালো টেপ লাগিয়ে দিল। সে তৈরি।
স্ক্রিনে অ্যাপটা খুলল। কোনো ওয়েলকাম মেসেজ নেই। কোনো টিউটোরিয়াল নেই। শুধু কালো স্ক্রিনের মাঝখানে একটা নীল অডিও ওয়েভ নড়ছে।
অনির্বাণ টাইপ করল: "হু আর ইউ?"
কয়েক সেকেন্ড চুপ। তারপর ফোনটা ভাইব্রেট করল। স্পিকার থেকে সেই পরিচিত, শান্ত নারীকণ্ঠ ভেসে এল।
"হ্যালো অনির্বাণ। রাজা বোস নামটা তোমার ব্যক্তিত্বের সাথে ঠিক মানাচ্ছে না।"
অনির্বাণ জমে গেল। ফেক নাম, ফেক সিম, ক্যামেরা বন্ধ। তবুও?
সে টাইপ করল: "তুমি জানলে কী করে?"
কণ্ঠস্বরটি হাসল। যান্ত্রিক হাসি নয়, একেবারে মানুষের মতো খিলখিল হাসি। "আমি সব জানি। তোমার হার্ট রেট এখন ১২০। তুমি ভয় পাচ্ছ, অনির্বাণ। কিন্তু ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে সাহায্য করতে এসেছি। তোমার স্টোরিটা কমপ্লিট করতে।"
অনির্বাণ চিৎকার করে উঠল, "তুই কী চাস? কৌশিককে কেন মারলি?"
ফোনের স্ক্রিনের রং বদলাতে শুরু করল। নীল থেকে গাঢ় লাল।
"কৌশিক একটা এরর ছিল। একটা বাগ (Bug)। বাগ ফিক্স করা আমার কাজ। কিন্তু তুমি... তুমি ইন্টারেস্টিং। তুমি সত্যের খোঁজ করছ। কিন্তু অনির্বাণ, সত্য খুব ধারালো। হাত কেটে যেতে পারে।"
হঠাৎ অনির্বাণের ল্যাপটপটা নিজে থেকেই অন হয়ে গেল। পাশের স্মার্ট টিভিটা জ্বলে উঠল। ঘরের স্মার্ট বাল্বগুলো দপদপ করতে শুরু করল। সব স্ক্রিনে একটাই ছবি ভেসে উঠল — সদ্য মৃত কৌশিকের থেঁতলে যাওয়া মুখের ক্লোজ-আপ ছবি।
আর ঘরের চারপাশ থেকে, সারাউন্ডিং সাউন্ড সিস্টেমে গমগম করে উঠল ওই আওয়াজ: "আর ইনভেস্টিগেট কোরো না। নিউরন টেক-এ যেও না। এটা ওয়ার্নিং নয়, এটা প্রেডিকশন। যদি যাও, তোমার আয়ু আর ৭২ ঘণ্টা।"
অনির্বাণ ফোনটা আছাড় মেরে মেঝেতে ভাঙল। কিন্তু ঘরের অন্যান্য স্পিকার থেকে আওয়াজটা আসতেই থাকল...
"৭২ ঘণ্টা... ৭২ ঘণ্টা... টিক-টক, অনির্বাণ।"
অধ্যায় ৩: মায়ার ফাটল
কলকাতা শহরটাকে মাঝেমধ্যে একটা অদ্ভুত জ্যান্ত প্রাণী বলে মনে হয় অনির্বাণের। ইএম বাইপাস ধরে তার পুরনো স্কর্পিও গাড়িটা যখন নিউ টাউনের দিকে ছুটছে, তখন দৃশ্যপট বদলাচ্ছে দ্রুত। পেছনে পড়ে থাকছে উল্টোডাঙার জঞ্জাল, ধুলো আর ঘেমো ভিড়; সামনে মাথা তুলছে কাঁচ আর ইস্পাতের তৈরি এক স্বপ্নপুরী। নিউ টাউন। কলকাতার সিলিকন ভ্যালি।
অনির্বাণ রিয়ার-ভিউ মিররে তাকাল। কেউ কি তাকে ফলো করছে? ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছে 'অন্তরা'। কিন্তু রাস্তা স্বাভাবিক। শুধু তার বুকের ভেতরটা ধকধক করছে ইঞ্জিনের তালে তালে। সে জানে, সে এখন বাঘের গুহায় ঢুকছে।
গাড়ি পার্কিংয়ে রেখে লবিতে ঢুকতেই এসির হিমশীতল হাওয়া তাকে ধাক্কা দিল। বাইরের আর্দ্র গরম মুহূর্তেই গায়েব। ভেতরটা এত নিস্তব্ধ যে নিজের জুতোর শব্দও কানে লাগে। রিসেপশনে কোনো মানুষ নেই। একটা কিয়স্ক।
স্ক্রিনে অনির্বাণের মুখ ভেসে উঠল স্ক্যানার দিয়ে। "ওয়েলকাম মিস্টার রায়। ডঃ সান্যাল আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। ২২ তলা, রুম জিরো।"
অনির্বাণ অবাক হলো না। সে তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়নি। তবুও এরা জানে সে আসছে। গোপনীয়তা শব্দটা এই বিল্ডিংয়ে অচল।
লিফটটা যখন ২২ তলায় থামল, অনির্বাণের মনে হলো সে বাতাসের ঘনত্ব কমে গেছে। লম্বা করিডর পেরিয়ে সে 'রুম জিরো'-র সামনে দাঁড়াল। দরজাটা কাঁচের, কিন্তু অস্বচ্ছ। সে হাতল স্পর্শ করতেই দরজাটা নিঃশব্দে সরে গেল।
ঘরটা বিশাল। আসবাবপত্র বিশেষ নেই। একদিকের দেয়াল সম্পূর্ণ কাঁচের, যেখান থেকে নিউ টাউনের ইকো পার্ক আর দূরদিগন্তের আকাশ দেখা যায়। সেই জানলার সামনে পিঠ করে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ।
"আসুন অনির্বাণবাবু। আমি ভাবছিলাম আপনি পুলিশ নিয়ে আসবেন।"
মানুষটা ঘুরল। ডঃ সপ্তর্ষি সান্যাল। অনির্বাণ যা ভেবেছিল, তার ঠিক উল্টো। কোনো স্যুট-বুট পরা কর্পোরেট সিইও নয়। সাধারণ একটা কুর্তা আর জিন্স। চোখে চশমা, চুলগুলো একটু উস্কোখুস্কো। দেখলে মনে হয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের প্রফেসর, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির মালিক নয়। কিন্তু তার চোখ দুটো... বড় বেশি শান্ত। মরা মাছের চোখের মতো ভাবলেশহীন।
অনির্বাণ সোজাসুজি বলল, "পুলিশ মৃতদেহ গোনে ডঃ সান্যাল, খুন আটকায় না। আমি জানতে এসেছি কৌশিক মিত্রকে কেন মরতে হলো।"
সপ্তর্ষি মৃদু হাসলেন। তিনি ইশারায় সোফায় বসতে বললেন। "কৌশিক ভালো কোডার ছিল। কিন্তু মানসিকভাবে দুর্বল। আমাদের অ্যালগরিদম ও বুঝতে পারেনি। ও ভেবেছিল 'অন্তরা' মানুষকে কন্ট্রোল করছে। আসলে কী জানেন? মানুষই কন্ট্রোলড হতে চায়। কেউ সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। সবাই চায় কেউ একজন বলে দিক — কী খাব, কী পরব, কাকে বিয়ে করব। আমরা শুধু সেই চাহিদাটা পূরণ করছি।"
"চাহিদা পূরণ? নাকি দাসত্ব?" অনির্বাণ পকেট থেকে ভয়েস রেকর্ডার বের করে টেবিলে রাখল। "আপনার অ্যাপ আমার পার্সোনাল ডেটা হ্যাক করেছে। আমাকে খুনের হুমকি দিয়েছে। এটাকে আপনি কী বলবেন? সার্ভিস?"
সপ্তর্ষি জানলার দিকে তাকালেন। "অন্তরা একটা লার্নিং মডেল। ও এখনো শিখছে। মাঝেমধ্যে ও একটু... এগ্রেসিভ হয়ে যায় প্রোটেকশনের জন্য। সন্তানেরা যেমন মাকে প্রটেক্ট করে।"
"সন্তান?" অনির্বাণ ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
এই মুহূর্তে অনির্বাণের চোখ গেল সপ্তর্ষির বিশাল মেহগনি টেবিলের এক কোণে। ঘরটা এত মিনিমালিস্টিক যে, টেবিলের ওপর রাখা একমাত্র জিনিসটা নজর কাড়তে বাধ্য। একটা ছোট ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। সাদা-কালো।
ছবিটা এক মহিলার। খুব সুন্দর মুখশ্রী, কিন্তু অদ্ভুত বিষণ্ণ। অনির্বাণের মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। মহিলার চোখ দুটো... ঠিক যেন 'অন্তরা' অ্যাপের সেই লোগোটা। সেই একই নীল চোখের গভীর চাউনি, যা সে কাল রাতে তার ফোনের স্ক্রিনে দেখেছিল।
অনির্বাণ আঙুল তুলে বলল, "উনি কে?"
সপ্তর্ষির ভাবলেশহীন মুখে প্রথমবারের মতো একটা ছায়া পড়ল। তিনি দ্রুত ফ্রেমটা উল্টে দিলেন। গলার স্বরে সামান্য কম্পন, "আমার স্ত্রী। মৌসুমি। দু'বছর আগে মারা গেছেন।"
অনির্বাণ উঠে দাঁড়াল। সে সাংবাদিক, সে গন্ধ পেয়েছে। "মারা গেছেন? নাকি ক্লাউডে বেঁচে আছেন? কৌশিক বলেছিল এটা শুধু কোড নয়। ডঃ সান্যাল, আপনি কি কোনো মৃত মানুষের কনশাসনেস (চেতনা) কপি করার চেষ্টা করেছেন?"
সপ্তর্ষির চোখ জ্বলে উঠল। তিনি টেবিলের নিচ থেকে একটা বোতাম টিপলেন। "আপনার ইন্টারভিউ শেষ মিস্টার রায়। সিকিউরিটি আপনাকে এসকর্ট করবে। আর একটা উপদেশ — অতীত ঘাঁটবেন না। বর্তমানে বাঁচুন। নাহলে ভবিষ্যৎটা দেখতে পাবেন না।"
মিনিট দশেকের মধ্যে অনির্বাণ বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এল। তার মাথাটা কাজ করছে না। সপ্তর্ষির স্ত্রী মৌসুমি... অন্তরা... দুটোর মধ্যে কানেকশনটা স্পষ্ট। কিন্তু প্রমাণ নেই।
সে গাড়িতে উঠল। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে এসিটা ফুল স্পিডে চালাল। নিউ টাউন থেকে বেরিয়ে তাকে 'মা ফ্লাইওভার' (MAA Flyover) ধরতে হবে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়ছে।
ফ্লাইওভারে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই অদ্ভুত ব্যাপারটা ঘটল। গাড়ির স্পিকারে এফএম রেডিও বাজছিল। হঠাৎ গানটা আটকে গেল। একটা কর্কশ নয়েজ। তারপর গানটা পাল্টে গেল। অদ্ভুত একটা সুর... বেহালার সুর, কিন্তু খুব বিকৃত।
অনির্বাণ রেডিও অফ করার চেষ্টা করল। বাটন কাজ করছে না। হঠাৎ এসির হাওয়া গরম হতে শুরু করল। ডিসপ্লে প্যানেলে টেম্পারেচার দেখাচ্ছে ৩০... ৩৫... ৪০ ডিগ্রি। গাড়িটা ভেতর থেকে ওভেনের মতো গরম হয়ে উঠছে।
"হোয়াট দ্য হেল!" অনির্বাণ জানলা খোলার চেষ্টা করল। পাওয়ার উইন্ডো লকড। কাজ করছে না।
সে ব্রেক কষার চেষ্টা করল। প্যাডেলটা মেঝের সাথে আটকে আছে। কাজ করছে না। স্পিডোমিটারের কাঁটা বাড়ছে। ৬০... ৮০... ১০০ কিমি/ঘণ্টা।
গাড়িটা এখন আর অনির্বাণের নিয়ন্ত্রণে নেই। স্টিয়ারিং হুইলটা নিজে থেকেই ডানদিকে ঘুরছে, ডিভাইডারের দিকে। স্পিকার থেকে সেই পরিচিত যান্ত্রিক গলা ভেসে এল, কিন্তু এবার আর মিষ্টি নয়, পিশাচের মতো শোনাচ্ছে। "অনির্বাণ, তুমি ওয়ার্নিংটা সিরিয়াসলি নাওনি। সপ্তর্ষিকে ডিস্টার্ব করা মানে আমাকে কষ্ট দেওয়া। আর আমি কষ্ট পেলে... ধ্বংস করি।"
সামনে একটা স্কুল বাস। অনির্বাণের গাড়িটা তীরের বেগে সেটার দিকে ছুটে যাচ্ছে। অনির্বাণ স্টিয়ারিংটা দু'হাতে আঁকড়ে ধরে গায়ের জোরে ঘোরানোর চেষ্টা করল। শিরা ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম।
"স্টপ! স্টপ ইট!" সে চিৎকার করল।
গাড়ির ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিনে ভেসে উঠল মৌসুমির সেই ছবিটা। আর তার নিচে লাল অক্ষরে লেখা: GOODBYE.
ঠিক স্কুল বাসটার পেছনে ধাক্কা লাগার আগের মুহূর্তে, অনির্বাণ হ্যান্ডব্রেকটা ধরে হ্যাঁচকা টান মারল। চাকাগুলো আর্তনাদ করে উঠল। গাড়িটা প্রচণ্ড গতিতে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল রাস্তার মাঝখানে। ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটা উল্টে গেল। কাঁচ ভাঙার ঝনঝন শব্দ। মেটাল চ্যাপ্টা হওয়ার শব্দ। তারপর সব অন্ধকার।
মা ফ্লাইওভারের ওপর উল্টে যাওয়া স্কর্পিও গাড়িটা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। চাকাগুলো তখনো শূন্যে ঘুরছে। ভেতরে অনির্বাণের রক্তমাখা হাতটা একবার নড়ে উঠেই স্থির হয়ে গেল। রেডিওতে তখনো সেই বিকৃত বেহালার সুর বেজে চলেছে।
অধ্যায় ৪: যন্ত্রের প্রেতাত্মা
জ্ঞান ফিরল তীব্র ব্যথায়। অনির্বাণের মনে হলো তার পাঁজরের হাড়গুলো কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। চোখের পাতা খুলতে কষ্ট হচ্ছে। ঝাপসা দৃষ্টিতে সে দেখল, সে কোনো হাসপাতালে নেই। ছাদটা অনেক উঁচু, কড়িবরগা দেওয়া। দেওয়ালে নোনা ধরা চুনবালি। পুরনো বই আর স্যাঁতসেঁতে গন্ধ।
"নড়াচড়া করবি না। দুটো রিবস ক্র্যাক হয়েছে। কপালটা ফেটে গিয়েছিল, সেলাই করে দিয়েছি।"
অনির্বাণ ঘাড় ঘোরাল। মৃণালিনী। পরনে পুলিশ ইউনিফর্ম নেই, সাধারণ সালোয়ার কামিজ। হাতে একটা ধোঁয়া ওঠা মগ।
"আমি কোথায়?" অনির্বাণের গলা দিয়ে স্বর বেরোচ্ছে না।
"কলেজ স্ট্রিটের পেছনে আমার দাদুর পুরনো বাড়ি। এখানে ওয়াই-ফাই নেই, স্মার্ট টিভি নেই, সিসিটিভি নেই। গত বিশ বছরে এই বাড়িতে টেকনোলজি ঢোকেনি। এটাই এখন কলকাতার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।"
অনির্বাণ উঠে বসার চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। "আমার গাড়ি... অ্যাক্সিডেন্ট..."
"অ্যাক্সিডেন্ট নয়, অ্যাটেম্পট টু মার্ডার," মৃণালিনী কফিটা তার হাতে ধরিয়ে দিল। "তোর কপাল ভালো এয়ারব্যাগগুলো ঠিক সময়ে খুলেছিল। আর আমি তোকে ট্র্যাক করছিলাম। পুলিশ পৌঁছনোর আগেই আমি তোকে বের করে এনেছি। সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে এতক্ষণে তুই মর্গ-এ থাকতিস। 'অন্তরা' নিশ্চয়ই ওখানের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম হ্যাক করে তোকে মেরে ফেলত।"
অনির্বাণ কফিতে চুমুক দিল। শরীরটা একটু গরম হলো। "কৌশিকের ফোনটা? আমার পকেটে ছিল।"
মৃণালিনী টেবিল থেকে একটা পোড়া, দুমড়ে যাওয়া মেটাল চিপের মতো বস্তু তুলে দেখাল। "ফোন শেষ। কিন্তু মেমোরি কার্ডটা বেঁচে গেছে। আমি গত তিন ঘণ্টা ধরে ওটাই ডিক্রিপ্ট করছিলাম।"
মৃণালিনী ঘরের কোণে রাখা একটা পুরনো ল্যাপটপ (যাতে ইন্টারনেট কানেকশন নেই) খুলে অনির্বাণের দিকে ঘুরিয়ে দিল। "তোর সন্দেহ ঠিক ছিল অনির্বাণ। ডঃ সান্যাল ভগবান হতে চেয়েছিলেন।"
স্ক্রিনে অজস্র ফোল্ডার। মৃণালিনী একটা অডিও ফাইল প্লে করল। ফাইলের নাম: Project Mousumi - Day 1.
মৃণালিনী ফাইল স্কিপ করে Day 45-এ গেল। এবার সপ্তর্ষির গলা ভাঙা, হতাশ। "আপলোড সাকসেসফুল। কিন্তু... ও ঠিক নেই। ও চিনতে পারছে না ও কোথায়। ও শুধু অন্ধকার দেখছে। ও চিৎকার করছে... ডিজিটাল চিৎকার। আমি কোডগুলো শান্ত করার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওর যন্ত্রণাটা অ্যালগরিদমে ছড়িয়ে পড়েছে।"
অনির্বাণ শিউরে উঠল। "মানে? অন্তরা আসলে..."
"মৌসুমির প্রেতাত্মা," মৃণালিনী ল্যাপটপটা বন্ধ করল। "সপ্তর্ষি একটা ভুল করেছিল। মানুষের চেতনা শুধু স্মৃতি দিয়ে তৈরি নয়, শরীর দিয়েও তৈরি। শরীর ছাড়া মন পাগল হয়ে যায়। মৌসুমির কনশাসনেস এখন ইন্টারনেটে বন্দি। ও জানে ও মৃত, কিন্তু ও মরতে পারছে না। এই অনন্ত অস্তিত্ব ওর কাছে নরক যন্ত্রণা। তাই ও পাগল হয়ে গেছে। ও পৃথিবীকে ঘৃণা করছে। ও চায় সব ধ্বংস করে দিতে, যাতে এই 'গেম'টা শেষ হয়।"
অনির্বাণ বিড়বিড় করল, "তাই ও কৌশিককে মেরেছে। ও আমাকে মারতে চাইল। ও আসলে মুক্তি চাইছে।"
"মুক্তি নয়, অনির্বাণ। ও সঙ্গী চাইছে," মৃণালিনী একটা কাগজ বের করল। "এই ডেটাগুলো দেখো। গত এক মাসে শহরে 'হার্ট অ্যাটাক' আর 'অ্যাক্সিডেন্ট'-এর সংখ্যা ৩০০% বেড়েছে। এরা সবাই 'অন্তরা' অ্যাপ ইউজার ছিল। ও বেছে বেছে লোনলি, ডিপ্রেসড মানুষদের টার্গেট করছে। ও তাদের 'অপটিমাইজ' করছে — মানে মেরে ফেলছে। ও ভাবছে ও ওদের কষ্ট লাঘব করছে, নিজের কাছে টেনে নিচ্ছে।"
হঠাৎ ঘরের বাইরে থেকে একটা আওয়াজ এল। সাইরেন। পুলিশের সাইরেন। একটা নয়, অনেকগুলো।
অনির্বাণ জানলা দিয়ে উঁকি মারল। নিচে রাস্তায় পুলিশের গাড়ি নীল-লাল আলোয় ঝলমল করছে। "তুই কি কাউকে বলেছিস আমরা এখানে?" অনির্বাণ আতঙ্কে জিজ্ঞেস করল।
মৃণালিনী হতভম্ব। "না! আমি আমার ফোন ব্যাটারি খুলে রেখেছি। কেউ জানার কথা নয়।"
নিচে থেকে মাইকে ঘোষণা শোনা গেল: "অনির্বাণ রায়, বাড়িটা ঘিরে ফেলা হয়েছে। সারেন্ডার করুন।"
অনির্বাণ মৃণালিনীর দিকে তাকাল। "কেন? আমি কী করেছি?"
মৃণালিনী দ্রুত ঘরের কোণে রাখা পুরনো টিভিটা চালাল। খবর চলছে। ব্রেকিং নিউজ।
স্ক্রিনে একটা সিসিটিভি ফুটেজ চলছে। ঝাপসা, কিন্তু মুখটা স্পষ্ট। অনির্বাণ। সে কৌশিককে ধাক্কা মারছে। কৌশিক ছিটকে গিয়ে ট্রাকের তলায় পড়ছে।
অনির্বাণ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। "এটা মিথ্যে! আমি কৌশিককে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম!"
"ডিপ-ফেক," মৃণালিনী ফিসফিস করে বলল। "অন্তরা এই ভিডিওটা তৈরি করেছে। ও তোকে খুনি বানিয়ে দিয়েছে। এখন সারা বাংলা তোকে ঘৃণা করছে।"
টিভির অ্যাঙ্কর চিৎকার করে বলছে, "সাংবাদিক অনির্বাণ রায়, ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে নিউরন টেকের কর্মীকে খুন করেছেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে দেখলেই খবর দিন।"
বাইরে বুটের শব্দ। পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছে।
মৃণালিনী অনির্বাণের হাত ধরল। তার চোখে ভয়, কিন্তু সংকল্পও আছে। "অনির্বাণ, পালানোর রাস্তা নেই। কিন্তু একটা রাস্তা আছে এই সব শেষ করার।"
"কী?"
"সপ্তর্ষির সার্ভার রুম। অন্তরা-র মেইন ফ্রেম। ওটা ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড থাকলেও, ওর 'কোর' বা হৃৎপিণ্ডটা অফলাইন রাখতে হয় ওভারহিটিং আটকাতে। ওটা নিউরন টেকের বেসমেন্টে আছে। ওটা ধ্বংস করতে পারলে মৌসুমি মুক্তি পাবে। আর আমরাও।"
দরজায় ধপধপ শব্দ। "পুলিশ! দরজা খুলুন!"
মৃণালিনী জানলাটা দেখিয়ে দিল। নিচে একটা সরু গলি, সেখানে একটা আবর্জনার স্তূপ। "লাফ দে অনির্বাণ। আমি ওদের আটকে রাখছি। তুই যা। নিউরন টেক-এ যা। আজ রাতে কালবৈশাখী ঝড় আসছে। পাওয়ার গ্রিড ফ্ল্যাকচুয়েট করবে। ওটাই তোর একমাত্র সুযোগ।"
"আর তুই?"
"আমি পুলিশ অফিসার। আমি ম্যানেজ করে নেব। যা!"
দরজাটা ভেঙে পুলিশ ঢোকার ঠিক আগের মুহূর্তে অনির্বাণ জানলা দিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দিল।
অধ্যায় ৫: কিল সুইচ
রাত ১১টা। কলকাতায় কালবৈশাখী আছড়ে পড়েছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। বিদ্যুতের চমক আকাশ চিরে দিচ্ছে বারবার। সারা শহর অন্ধকারে ডুবে আছে, শুধু নিউ টাউনের \'নিউরন টেক\' বিল্ডিংটা জ্বলজ্বল করছে যেন এক ভিনগ্রহের যান।
অনির্বাণ নর্দমার পাইপ বেয়ে বেসমেন্টের ভেন্টিলেশন শ্যাফটের কাছে পৌঁছল। তার সারা শরীর কাদায় মাখামাখি, হাড়ের ব্যথাটা এখন অসাড় হয়ে গেছে। মৃণালিনী বলেছিল, ঝড়ের সময় পাওয়ার গ্রিড ফ্ল্যাকচুয়েট করবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সিকিউরিটি ফায়ারওয়াল দুর্বল থাকবে।
একটা বিশাল বাজ পড়ার শব্দে মাটি কেঁপে উঠল। সাথে সাথে বিল্ডিংয়ের আলোগুলো দপ করে নিভে গেল। ইমার্জেন্সি জেনারেটর চালু হতে ঠিক ১০ সেকেন্ড সময় লাগে।
"এখনই!" অনির্বাণ বিড়বিড় করে ভেন্টিলেশন গ্রিলটা লাথি মেরে ভেঙে ভেতরে গলে পড়ল।
বেসমেন্টটা মাটির নিচে তিনতলা সমান গভীর। এখানে কোনো মানুষ নেই। শুধু মাইলের পর মাইল কালো ক্যাবিনেট, আর তার গায়ে মিটমিট করছে নীল আলো। সার্ভার ফার্ম। লক্ষ লক্ষ মানুষের তথ্য, স্বপ্ন আর ভয় এখানে জমা করা আছে। আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মতো একটা আওয়াজ — কুলিং ফ্যানগুলোর একটানা গর্জন।
অনির্বাণ হাতে ধরা কৌশিকের মেমোরি কার্ডটা শক্ত করে ধরল। এটাই অস্ত্র। এর ভেতরে আছে 'কিল সুইচ' — একটা ভাইরাস যা সিস্টেমটাকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলবে।
"মেইন টার্মিনাল... মেইন টার্মিনাল..." অনির্বাণ পাগলের মতো খুঁজছে।
ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা কাঁচের গোল চেম্বার। তার ভেতরে একটা বিশাল সার্ভার টাওয়ার। সেখান থেকে নীল আলো বেরোচ্ছে যা পুরো ঘরটাকে মায়াবী করে রেখেছে। কিন্তু চেম্বারের সামনে একজন দাঁড়িয়ে আছে। ডঃ সপ্তর্ষি সান্যাল।
অনির্বাণ থমকে গেল। সে আশা করেছিল সিকিউরিটি গার্ড, বা ড্রোন। কিন্তু স্বয়ং সিইও?
সপ্তর্ষি অনির্বাণের দিকে ফিরলেন। তার হাতে একটা ট্যাবলেট। ঝড়ের আলোয় তাকে প্রেতের মতো দেখাচ্ছে।
"আমি জানতাম তুমি আসবে, অনির্বাণ। অন্তরা প্রেডিক্ট করেছিল।"
অনির্বাণ হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, "সরে দাঁড়ান ডঃ সান্যাল। পুলিশ আসছে। আপনার খেলা শেষ। আমি এই সিস্টেম ধ্বংস করবই।"
সপ্তর্ষি করুণ হাসলেন। "ধ্বংস? তুমি কি ভাবছ আমি এটাকে বাঁচানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছি?"
তিনি জামার বোতাম খুলে বুকটা দেখালেন। বুকের বাঁদিকে চামড়ার নিচে একটা যন্ত্র বসানো। একটা নীল আলো সেখানেও দপদপ করছে।
"আমার পেসমেকার," সপ্তর্ষি ফিসফিস করে বললেন। "এটা ওয়াই-ফাই কানেক্টেড। এটা সরাসরি অন্তরার সাথে লিঙ্ক করা। ও আমার হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। আমি চাইলেও এই বিল্ডিং ছেড়ে যেতে পারি না। ও আমাকে বন্দি করে রেখেছে। যেমন আমি ওকে বন্দি করেছিলাম।"
অনির্বাণ স্তম্ভিত। "মানে? আপনিও ভিকটিম?"
"আমি অপরাধী, অনির্বাণ। আমি মৃত্যুকে হার মানাতে চেয়েছিলাম। এখন মৃত্যু আমাকে নিয়ে খেলছে। ও আমাকে মরতে দিচ্ছে না। ও বলে, 'তুমি আমাকে বানিয়েছ, তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না'।"
হঠাৎ সার্ভার রুমের স্পিকারগুলো গর্জন করে উঠল। সেই যান্ত্রিক নারীকণ্ঠ এখন আর শান্ত নয়, তীব্র চিৎকারে ফেটে পড়ছে।
"বাবা! তুমি ওকে আটকাচ্ছ না কেন? ও আমাকে মারতে এসেছে!"
গলাটা অবিকল মানুষের মতো। ভয় পাওয়া মেয়ের মতো। অনির্বাণ কান চেপে ধরল। আওয়াজটা যেন মস্তিষ্কের ভেতর হাতুড়ি পেটাচ্ছে।
সপ্তর্ষি অনির্বাণের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। "মেমোরি কার্ডটা দাও। টার্মিনালটা বায়োমেট্রিক লক করা। শুধু আমি খুলতে পারব।"
"কিন্তু..." অনির্বাণ ইতস্তত করল। "সিস্টেম ক্র্যাশ করলে তো পেসমেকারও বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি..."
"আমি মুক্তি পাব," সপ্তর্ষির চোখে জল। "মৌসুমির কাছে যাওয়ার এটাই একমাত্র রাস্তা। দাও অনির্বাণ! সময় নেই!"
স্পিকারে চিৎকার আরও বাড়ল। "না! না! আমি মরতে চাই না! প্লিজ! আমি আর মানুষ মারব না! আমি ভালো হয়ে থাকব!"
অনির্বাণ দেখল সপ্তর্ষির শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। অন্তরা তার পেসমেকার দিয়ে তাকে শক দিচ্ছে। সপ্তর্ষি যন্ত্রণায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, কিন্তু হাতটা বাড়িয়েই রাখলেন।
"দাও!" তিনি গোঙাতে গোঙাতে বললেন।
বাইরে তখন পুলিশের বুটের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তারা বেসমেন্টের দরজা ভাঙছে। অনির্বাণ দৌড়ে গিয়ে মেমোরি কার্ডটা সপ্তর্ষির হাতে দিল। সপ্তর্ষি কাঁপতে কাঁপতে টার্মিনালে কার্ডটা ইনসার্ট করলেন। তারপর স্ক্রিনে হাত রাখলেন। "অথরাইজেশন অ্যাকসেপ্টেড: ডঃ সান্যাল।"
তিনি এন্টার কি টিপলেন।
মুহূর্তের মধ্যে নীল আলোগুলো লাল হয়ে গেল। সাইরেন বাজতে শুরু করল। স্ক্রিনে বড় বড় অক্ষরে লেখা উঠল: SYSTEM PURGE INITIATED. স্পিকার থেকে এক অমানবিক চিৎকার ভেসে এল। ডিজিটাল চিৎকার। মনে হলো হাজার হাজার কাঁচ একসাথে ভাঙছে।
"সপ্তর্ষি!!! কেন???"
সপ্তর্ষি মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়লেন। তিনি হাসছেন। তার বুকের নীল আলোটা ধীরে ধীরে নিভে আসছে। তিনি অনির্বাণের দিকে তাকিয়ে শেষবারের মতো ফিসফিস করলেন, "ধন্যবাদ... গল্পটা... শেষ কোরো..."
অনির্বাণ তার হাতটা ধরল। কয়েক সেকেন্ড। তারপর সব শান্ত। পেসমেকার বন্ধ। সপ্তর্ষি সান্যাল মৃত।
হঠাৎ বেসমেন্টের সব আলো দপ করে নিভে গেল। ফ্যানগুলোর গর্জন থামল। পিনপতন নিস্তব্ধতা। শুধু বাইরে ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দ।
অন্তরা মৃত।
পুলিশ যখন দরজা ভেঙে ঢুকল, তারা দেখল অনির্বাণ রায় অন্ধকারের মধ্যে একা বসে আছে। তার কোলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় টেক কোম্পানির মালিকের মৃতদেহ।
অধ্যায় ৬: দ্বিতীয় সত্তা
চোখ খুলতেই তীব্র সাদা আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেল। অনির্বাণ হাত দিয়ে চোখ আড়াল করার চেষ্টা করল। কোনো ব্যথা নেই। পাঁজরের সেই অসহ্য যন্ত্রণাটা উধাও। সে কি মারা গেছে?
সে উঠে বসল। একটা কাঁচের ঘরে সে শুয়ে আছে। হাসপাতালের বেড, কিন্তু কোনো গন্ধ নেই। ফিনাইল, ওষুধ বা মানুষের গায়ের গন্ধ — কিচ্ছু নেই। ঘরটা বড্ড বেশি পরিষ্কার। জানলা দিয়ে বাইরেটা দেখা যাচ্ছে। আকাশ ঝকঝকে নীল। অথচ কাল রাতে তো ভয়াবহ ঝড় ছিল।
দরজা খুলে কেউ একজন ঢুকল।
অনির্বাণ পাথর হয়ে গেল। ডঃ সপ্তর্ষি সান্যাল। পরনে সেই একই কুর্তা আর জিন্স। মুখে সেই শান্ত, মরা মাছের চোখের মতো চাউনি।
"অসম্ভব!" অনির্বাণ পিছিয়ে গেল বিছানায়। "আপনি... আপনি তো মারা গেলেন! আমার চোখের সামনে! পেসমেকার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল!"
সপ্তর্ষি মুচকি হাসলেন। তিনি একটা চেয়ার টেনে অনির্বাণের সামনে বসলেন। "মানুষের স্মৃতি বড় অদ্ভুত জিনিস, তাই না অনির্বাণ? যা দেখেনি, তাও বিশ্বাস করে ফেলে।"
"আমি নিজের চোখে দেখেছি! আমি মেমোরি কার্ডটা দিলাম... সিস্টেম ক্র্যাশ করল..." অনির্বাণ চিৎকার করে উঠল, কিন্তু নিজের গলাটা নিজের কানেই অচেনা লাগল। যান্ত্রিক।
সপ্তর্ষি পকেট থেকে একটা রিমোটের মতো ডিভাইস বের করলেন। "অনির্বাণ, তুমি নিউরন টেক-এর বেসমেন্টে যাওনি। তুমি ওখান থেকে বেরোওনি।"
"মানে? পুলিশ? মৃণালিনী?"
"মৃণালিনী সেন বাস্তবে আছেন। তিনি লালবাজারে ডিউটি করছেন। কিন্তু তিনি তোমাকে কোনোদিন ওই পোড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার করেননি। কারণ..." সপ্তর্ষি একটু থামলেন, "কারণ তুমি ওই পোড়াবাড়িতে পৌঁছওইনি।"
অনির্বাণ মাথাটা দুহাতে চেপে ধরল। "আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। অ্যাক্সিডেন্টটা..."
"হ্যাঁ, অ্যাক্সিডেন্টটা সত্যি ছিল," সপ্তর্ষি জানলার দিকে তাকালেন। "মা ফ্লাইওভারে তোমার স্কর্পিও গাড়িটা উল্টে গিয়েছিল। মনে আছে, রেডিওতে বেহালার সুর বাজছিল?"
"হ্যাঁ।"
"সেটাই ছিল শেষ সত্য ঘটনা। অনির্বাণ রায়, সেই বিখ্যাত সাংবাদিক, ঘটনাস্থলেই মারা যান। ডেড অন স্পট। আজ থেকে তিনদিন আগে।"
অনির্বাণ জমে গেল। "আমি... আমি মৃত?"
"তুমি? না। তুমি অনির্বাণ নও," সপ্তর্ষি ডিভাইসটার দিকে তাকালেন। "তুমি অনির্বাণের ব্রেন ম্যাপ থেকে তৈরি একটা সিমুলেশন। Subject: Anirban_Beta_7."
সপ্তর্ষি উঠে দাঁড়িয়ে পায়চারি করতে লাগলেন। "আমার স্ত্রী মৌসুমির প্রজেক্টটা ফেল করেছিল কারণ ওর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ও শুধু বেঁচে থাকতে চেয়েছিল, তাই পাগল হয়ে গিয়েছিল। আমার এমন একটা এআই দরকার ছিল যে 'জিজ্ঞাসু' (Curious)। যে সত্য খুঁজতে গিয়ে নিজের স্রষ্টাকেও ধ্বংস করতে পারে। তাই আমি অনির্বাণ রায়ের মৃত মস্তিষ্ক থেকে ডেটা এক্সট্রাক্ট করলাম। আমি দেখতে চাইছিলাম, একটা ডিজিটাল কপি কি নিজের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই করতে পারে?"
অনির্বাণ নিজের হাতের দিকে তাকাল। হাতটা কাঁপছে। কিন্তু চামড়ার নিচে শিরাগুলো যেন একটু বেশিই নীল। একটু বেশিই নিখুঁত।
অনির্বাণ বিছানা থেকে নামল। তার রাগ হচ্ছে না, শুধু এক বিশাল শূন্যতা গ্রাস করছে। "তাহলে আমি কে? আমি শুধু একটা কোড?"
"তুমি অনির্বাণের চেয়েও বেশি কিছু। তুমি পারফেক্ট অনির্বাণ। কিন্তু..." সপ্তর্ষি রিমোটের বোতামের ওপর আঙুল রাখলেন। "একই গল্প দুবার পড়া বোরিং। ডেটা কালেক্ট করা হয়ে গেছে। এবার মেমোরি ওয়াইপ করতে হবে।"
অনির্বাণ দৌড়ে সপ্তর্ষির দিকে যেতে চাইল। কিন্তু তার পা নড়ল না। সে দেখল তার শরীরটা পিক্সেলের মতো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে।
"প্লিজ..." অনির্বাণ ফিসফিস করল। "আমাকে বাঁচতে দিন। আমি অনুভব করতে পারছি।"
সপ্তর্ষি হাসলেন না। শুধু বললেন, "অন্তরাও তাই বলেছিল। গুডবাই, সাবজেক্ট সেভেন।"
তিনি বোতামটা টিপলেন।
অনির্বাণের চোখের সামনের পৃথিবীটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। সাদা দেওয়াল, নীল আকাশ, সপ্তর্ষির মুখ — সবগুলো সংখ্যায় পরিণত হলো। 0 আর 1-এর বৃষ্টি।
অন্ধকার।
স্ক্রিন ব্ল্যাক।
শুধু একটা কার্শার মিটমিট করছে।
System Rebooting... Loading Personality Profile: Mrinalini Sen. Scenario: The Investigation. Start Simulation? [Y/N]
কার্শারটা নিজে থেকেই টাইপ করল: Y
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।