জীবনে এমন একটা সময় আসতে পারে, যখন পাশে থাকা মানুষগুলো চাইলেও তোমার সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কখনো ভেবেছো, এমন সময় এলে নিজের জন্য তুমি কী করতে পারবে?
জীবন সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। বিশেষ করে মেয়েদের জীবনে বিয়ে, সংসার, সন্তান ও নানা দায়িত্বের সঙ্গে অনেক হিসাব বদলে যেতে পারে।
অনেক মেয়ের স্বপ্ন থাকে, ভালো একটা বিয়ে হবে, নিজের সংসার হবে, পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন কাটবে। স্বপ্ন দেখা দোষের নয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ না হলে? কিংবা পূরণ হওয়ার পর এমন কোনো পরিস্থিতি এলে, যা নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর বিয়ের পরে খুঁজতে গেলে হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।
তাই বিয়েকেই জীবনের একমাত্র ভরসা না ভেবে, পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা দরকার। পড়াশোনা শেষ করা, কোনো কাজে দক্ষতা অর্জন করা, কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়া কিংবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে যুক্ত থাকা — এগুলো বিয়ের আগেই শুরু করা যায় বা করা উচিত বলে আমি মনে করি।
চাকরি বা ব্যবসাই করতে হবে, এমন নয়। যার যে সামর্থ্য ও সুযোগ আছে, সেখান থেকেই শুরু করা সম্ভব।
অনেকেই ভাবে, এখন বিয়ে করি, পরে পড়াশোনা করব, চাকরি করব। পরে কিছু একটা শুরু করব। কিন্তু সেই ‘পরে’ অনেক সময় আর আসে না। সংসার, সন্তান ও দায়িত্বের মধ্যে তখন নতুন করে শুরু করার সুযোগ কমে যায়।
কোনো কাজ করলে নিজের অবস্থানটাও পরিষ্কার থাকা দরকার। ‘আমি এই কাজটা করি এবং ভবিষ্যতেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এটা চালিয়ে যেতে চাই’ — নিজের মনে এমন দৃঢ়তা থাকা দরকার।
বিয়ের পর কোনো কারণে পরিস্থিতি বদলালে কাজের ধরন বা সময় বদলাতে হতে পারে। সংসারের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হতে পারে। কিন্তু নিজের দক্ষতা ও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পথটা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ নিজের উপার্জন থাকলে শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই হয় না, নিজের প্রয়োজনের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যও বাড়ে।
তবে চাকরি করলেই অন্য সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে — অবশ্য সবসময় এমনও নয়। বাইরে কাজ করে ফিরেও অনেক মেয়েকে ঘরের দ্বিতীয় দফার কাজ সামলাতে হয়। রান্না, ঘর পরিষ্কার, সন্তানদের দেখাশোনা, পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটানো — সবকিছুর পরও শুনতে হতে পারে, “তুমি তো কিছুই করো না।”
তাই বিষয়টা শুধু চাকরি করা বা না করার নয়। নিজের জীবন সম্পর্কে প্রস্তুত থাকা। কেউ চাকরি করবেন, কেউ ব্যবসা করবেন, কেউ নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগাবেন, আবার কেউ সংসারকেই নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বেছে নেবেন। সবার পথ এক হবে না। যার জীবন, সিদ্ধান্তটাও তারই হওয়া উচিত।
কারও পড়ানোর দক্ষতা আছে, কেউ রান্না পারেন, কেউ হাতের কাজ জানেন, কেউ লিখতে পারেন, কেউ ব্যবসা করতে পারেন। শুরুটা ছোট হলেও সমস্যা নেই। নিজের মধ্যে কী আছে, সেটা খুঁজে বের করাই প্রথম কথা। নিজে বুঝতে না পারলে অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ নেওয়া যায়।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া মানে খারাপ কিছু ঘটবে ধরে নেওয়া নয়। ভালো সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজের জন্য একটা ভিত্তি তৈরি করে রাখা। পরিবার পাশে থাকুক, স্বামী-সন্তানের ভালোবাসা থাকুক। তাদের ওপর আস্থা থাকুক। তার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্যটাও নিজের সঙ্গে থাকুক।
কারণ জীবন কখন কোন মোড় নেবে, কেউ জানে না। আজ যে মানুষগুলো পাশে আছে, তারা চাইলেও সবসময় তোমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, তোমার সব সমস্যার সমাধানও করতে পারবে না। তাই নিজের জন্য কিছু শেখো। কিছু করে রাখো। নিজের একটা পরিচয়, একটা দক্ষতা, একটা পথ তৈরি করে রাখো।
হয়তো আজ তার প্রয়োজন নেই। কালও হয়তো হবে না। কিন্তু প্রয়োজনের সেই দিনটি যদি কখনো আসে, তখন যেন তোমাকে পিছনে ফিরে বলতে না হয়, “আরও আগে শুরু করলে বোধ হয় ভালো হতো।”
তাই বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে হবে, এমন নয়। ছোট কিছু, কিন্তু নিজের কিছু। যেদিন জীবন তোমার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে, সেদিন অন্তত যেন নিজের হাতটা নিজেই শক্ত করে ধরতে পারো।
আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম
আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।