About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
বিড়ম্বিত বসন্ত
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

বিড়ম্বিত বসন্ত

শীতের সকালে কুয়াশার আস্তরণ ঠেলে কমলাটে সূর্য মৃদু উষ্ণতা ছড়াচ্ছে। রজতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা মেঘের আড়াল ছেড়ে দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রমশ। আরও একটি দিনের শুরু।

ছাদের টবগুলোতে গাঁদা ফুটেছে অনেক ক’টা। রংবেরঙের ডালিয়া পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত। প্যাঞ্জি, লিলি, গোলাপ, রকমারি ফুলেরা যেন একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মনটা ভালো হয়ে গেল ঋতজার।

আজ অনেকদিন বাদে ছাদে উঠেছে ও, ফুলগাছগুলোয় জল দিতে। যদিও গাছের যত্ন মামনি নিজে হাতেই করেন। কাউকে ভরসা করেন না। আজ মামনির শরীরটা ভালো নেই, হাঁটুর ব্যথাটা বড্ড বেড়েছে। অগত্যা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিয়েছে ও।

ঝুনুদির এখন তুমুল চাপ। সাড়ে নটার মধ্যে বেরবে ঋতু। ওর পাতে যা-ই হোক তো কিছু দিতে হবে!

নাঃ! বড্ড দেরি হয়ে গেল। আজ আবার নতুন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জয়েন করবেন। কোনোরকমে স্নান সেরে নীল কুর্তিটা শরীরে গলিয়ে নেয় ও। ওপরে জ্যাকেট। কী ঠান্ডা!

ততক্ষণে ঝুনুদি তার পেটেন্ট ডাল, ভাত আর আলু ভাজা দিয়ে দিয়েছে ডাইনিং টেবিলে। নাকেমুখে গুঁজে নিয়ে নিচের গ্যারেজ থেকে স্কুটি বার করেই ওপর দিকে তাকায় ও। মামনি ঠিক ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যতই শরীর খারাপ থাক, এ রুটিনের অন্যথা হয় না।

মামনি মানুষটি বড্ড ভালো। তাই হয়তো তাঁর ভবিতব্য শুধু ঠকে যাওয়া — জীবনের বাঁকে বাঁকে।

মামনির মুখেই শোনা, জয়ের যখন মাত্র চার বছর বয়স, তখনই এক রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা যান ওর বাবা সায়ন সেনগুপ্ত। মামনির বয়স তখন ছাব্বিশও পেরোয়নি। জীবনযুদ্ধের সেই শুরু। বাপেরবাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি — কোনদিকেই কোনো সাহায্য পাননি মামনি।

শৈশবে বাবা। একটু বড় হতেই মাকেও হারালেন মামনি। দাদাদের সংসারে গলগ্রহ হয়ে দিন কাটছিল। সায়নের সঙ্গে বিয়েটা দাদারাই দিয়ে বেড়াল পাড় করেছিলেন, আর কখনো খোঁজ নিতে আসেননি — বোন বাঁচল না মরল!

সায়ন সেনগুপ্ত মানুষটি মন্দ ছিলেন না। সুখী হয়েছিল অমলা। মামনির নাম অমলা। সায়নেরও বাবা-মা ছিল না। দাদা-দিদিরা যে যার সংসারে ব্যস্ত। নিজস্ব বলতে দু’কামড়ার ঘর আর একফালি জমি। গাছের শখ ছিল সায়নের। ছেলে, জয় আর গাছ — এই নিয়েই দিব্যি সময় কেটে যেত মানুষটার। "সময়" বড়ই কম ছিল। বিধাতার হাতে মাত্র আটত্রিশেই সব শেষ। কম্প্যাশনেট গ্রাউন্ডে স্বামীর চাকরিটা পেয়েছিলেন অমলা।

কপালগুণে স্বামী-পরিত্যক্তা, নিঃসন্তান ঝুনুদিকে পেয়েছিলেন। ছোট্ট জয়কে দেখাশোনা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, ঘরের যাবতীয় কাজ — সব সামলাত ঝুনুদি।

ছোটবেলা থেকেই জয় শান্ত। পড়াশোনায় অত্যন্ত সিরিয়াস। শিশুসুলভ দুষ্টুমিও করেনি সেভাবে। বরাবরই ভালো রেজাল্ট ওর। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে তো রাজ্যস্তরে প্রথম দশের মধ্যে ছিল। জে.ই.ই. অ্যাডভান্সে ভালো র‍্যাঙ্ক করে ইলেকট্রনিকস নিয়ে বি.টেক করল কানপুর আই.আই.টি থেকে। তারপর এম.টেক। চোখধাঁধানো রেজাল্ট করে উড়ে গেল ইউ.কে।

সত্যিই যেন উড়ে গেল ছেলেটা।

না! না! বালাই ষাট! বহালতবিয়তে বেঁচেবর্তে রয়েছে — বিদেশিনী স্ত্রী, শিশুপুত্র নিয়ে। জন্মদাত্রীর সঙ্গে কেবল সম্পর্ক নেই। উচ্চাকাঙ্ক্ষা ওর নাড়ির টান কাটিয়ে দিয়েছে চিরতরে।

অথচ সেই পুতুল খেলার মিথ্যে বিয়ের জের টেনে আজও রয়ে গেছে ঋতু মামনির কাছে। মরমি মানুষটির স্নেহছায়া ছেড়ে যাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারে না ও। জয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ঋতুর আইনত কোনো সম্পর্ক নেই মামনির সঙ্গে। সম্পর্কটা অন্তরের, তাই হয়তো অবিচ্ছেদ্য।

জয়ের সঙ্গে বিয়েটা হয়েছিল হঠাৎ করেই। একই পাড়ার দুটো গলি আগে-পরে ঋতুদের বাড়ি। ও স্কুল-কলেজ যেত এবাড়ির সামনে দিয়েই। শান্ত, মার্জিত, সুন্দরী মেয়েটি নজরে ছিল অমলার। মনে মনে ওকে পুত্রবধূ মনোনীত করেই রেখেছিলেন। ঝুনুদির গোয়েন্দাগিরিতে বাড়ির ঠিকানা সহ যাবতীয় তথ্য পেতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি।

ঋতুর তখন বি.এসসি-র থার্ড ইয়ার। জয় বাড়ি এসেছিল মাসদুয়েকের ছুটিতে। দেরি করেননি অমলা। নিজেই ছুটেছেন ঋতুদের বাড়িতে। ঋতুর বাবা রাজীব দাশগুপ্ত তো এই প্রস্তাবে হাতে চাঁদ পেলেন। ছোট শহরের গর্ব, স্বনামধন্য জয়রাজ সেনগুপ্তের মা স্বয়ং এসে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে! মেয়ের সৌভাগ্যে আপ্লুত হয়ে গেলেন রাজীববাবু। দীর্ঘশ্বাস গোপন করলেন। আজ যদি ঋতুর মা বেঁচে থাকতেন, খুব খুশি হতেন। দু’বছর আগে কালরোগ কেড়ে নিয়েছে ওর মাকে।

আপৎকালীন তৎপরতায় বিয়েটা হয়ে গেল। মায়ের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল জয়। ওর বর্তমান স্ত্রী মিলিন্ডার সঙ্গে লিভ-ইনে ছিল, আনুষ্ঠানিক বিয়েটা হয়নি। ঋতু যে একান্তই ওর মায়ের পছন্দ, ওর নয় — সে তথ্য যেমন জানাতে ভোলেনি ফুলশয্যার রাতেই, তেমন স্বামীত্বের অধিকার ফলিয়ে কৌমার্যের রক্তচিহ্নে রমনতৃপ্ত হতেও বাঁধেনি। জয়ের উদ্ধত পৌরুষে বিদ্ধ হতে হতে শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রণা মিলেমিশে দুচোখ ছাপিয়ে ধারা নেমেছে। ভালোবাসাহীন শারীরিক সম্পর্ক তো ধর্ষণের নামান্তর!

এই নির্লজ্জ রুটিনের হেরফের হয়নি বাকি এক মাস, যতদিন জয় ছিল। সবচেয়ে অসহ্য লাগত বিছানায় মিলিন্ডার সঙ্গে তুলনা। হতে পারে জয় শহরের গর্ব, কিন্তু মানুষ হিসেবে অতি নিকৃষ্টমানের! এক মাস নরকযন্ত্রণা সহ্য করার পর জয় চলে গেলে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল ঋতু। শরীর-মন তখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

ওদেশে পৌঁছেই জয় জানিয়ে দিয়েছিল ঋতুর সঙ্গে ওর সম্পূর্ণ মিসম্যাচ। ওকে ডিভোর্স দিতে চায় — প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ। ডলারের বিনিময়ে ক্ষতির পরিমাপ! সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল ঋতু।

জয়ের আচরণ স্তম্ভিত করে দিয়েছিল অমলাকে। আত্মজের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করলেন তিনি। ঋতু রয়ে গেল স্বামী-বিহীন স্বামীর ঘরে। ততদিনে এ বাড়িটা ওর নিজের বাড়ি হয়ে গেছে, আর নিজের মা হয়ে গেছেন মামনি। রাজীববাবুও আর মা-মেয়েকে আলাদা করার ধৃষ্টতা দেখাননি। নিজেই বরং দু’বেলা এসে খোঁজখবর নেন। একা মানুষ! অমলাও না খাইয়ে ছাড়েন না।

এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিন। সব মিলিয়ে সুখে না হোক, স্বস্তিতে আছে ঋতু।

আজ বড্ড দেরি হয়ে গেল। বায়োমেট্রিকে আঙুল ছুঁইয়েই নিজের ডেস্কে ছোটে ও। অনেক কাজ! নতুন এইচ.আর-এর সঙ্গে লাঞ্চ ব্রেকে দেখা করে নেবে।

সুইং ডোর ঠেলে অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢুকতেই চেয়ারে বসা মানুষটিকে দেখে অবাক হতেও ভুলে গেল ঋতু! সোহম! সোহম চ্যাটার্জি! কোচিং ক্লাসের সেই মুখচোরা, লাজুক ছেলেটা! ঋতুকে পছন্দ করলেও কখনো মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেনি। স্মৃতির সরণীতে হারিয়ে যায় ও।

তখন ক্লাস ইলেভেন। ক্লাস শুরুর মাস দুয়েক অতিক্রান্ত। একদিন ফিজিক্স কোচিং ক্লাসে মোহিত স্যারের পিছুপিছু ঢুকল সোহম। সার্থক নামই বটে। শান্ত, লাজুক, ভদ্র, মার্জিত। লম্বাটে সুদর্শন চেহারা। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফের আভাস! বিশেষত্ব ছিল ওর চশমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত দুটি চোখে। সারল্য আর ভদ্রতার সংমিশ্রণ ওর আচার-আচরণে। প্রথম দর্শনে ছেলেটিকে ভালোই লেগেছিল ঋতুর।

স্যার আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। শহরে বাবার কর্মসূত্রেই আগমন মেধাবী ছাত্রটির। স্যারের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় সেদিন ক্ষুব্ধ হয়েছিল ব্যাচের সেরা ঋতু। রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী — বলে প্রচ্ছন্ন গর্ব ছিল ওর। কপালগুণে স্যার আগের দু’মাসের নোটসগুলো ঋতুর থেকেই নিয়ে নিতে বললেন সোহমকে। পাঁচন গেলার মতো মুখ করে খাতা হস্তান্তর পর্ব সাঙ্গ করল ও।

ক্রমশ দেখা গেল কেমিস্ট্রি, ম্যাথস, বায়োলজি কোচিংয়েও সেম টিচার, সেম ব্যাচে মূর্তিমান হাজির! সপ্তাহে প্রায় রোজই দেখা হতো। তবে কথা — হাতেগোনা, তাও পড়াশোনা সংক্রান্ত। ঋতু অনুভব করত, চশমার আড়ালে একজোড়া মুগ্ধ চোখ ওকে অনুসরণ করে সর্বত্র। ভীতু ছেলেটি সাহস করে কোনোদিনই কিছু বলে উঠতে পারেনি।

ঋতু সাইকেলেই যাতায়াত করত। নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে অনুসরণ করলেও পাশে আসার সাহস হয়নি। ততদিনে ঋতুও উপভোগ করতে শুরু করেছে নীরব মুগ্ধতা।

সেবার সরস্বতী পুজোয় মায়ের হলদে জামদানিটা পরেছিল ঋতু। হালকা কাজল লাগিয়ে, লিপ বাম ঠোঁটে ঘসে নিয়েছিল। একরাশ এলোচুলে হলদে গোলাপে সম্পূর্ণ হয়েছিল সাজ। বন্ধুরা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলেও ওর মন প্রতীক্ষায় ছিল চশমার আড়ালে থাকা দুটি চোখের।

অবশেষে চার চোখ এক হয়েছিল। সোহমের মুগ্ধতা পরিবর্তিত হয়েছিল বিহ্বলতায়! ওকে একা পেয়ে কোনোরকমে বলতে পেরেছিল, "ঋতজা, তুমি খুব সুন্দর!" উপচানো হাসি সামলে ও "ধন্যবাদ" বললেও সোহমের কানে যায়নি। ততক্ষণে ও ত্রিসীমানায় নেই।

টুয়েলভের পরীক্ষার পর সোহম চলে যায় এই শহর ছেড়ে। সম্ভবত ওর বাবা আবার ট্রান্সফার হয়ে যান। যাওয়ার আগে দেখা করতে এসেছিল সোহম, দেখা হয়নি। ঋতুরা তখন কলকাতায়। ওর মা অন্তিমশয্যায়। কেমো চলছিল মায়ের।

তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। মাসখানেকের মাথায় মা চলে গেলেন। ঋতুর জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল।

আজ এত বছর বাদে আবার দু’জনে মুখোমুখি। বয়সোচিত ভারিক্কি ভাব এসেছে সোহমের। সামান্য মেদ জমেছে, যা ওর পুরুষালী সৌন্দর্যকে আরও ধারালো করেছে। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে ওর ব্যবহারেও। আজকের সোহম সপ্রতিভ।

সোহম অবাক বিস্ময়ে দেখছিল ওর প্রথম মুগ্ধতা — ঋতজাকে। এই পঁয়ত্রিশ বছরের জীবনে কর্মসূত্রে বহু মহিলার সংস্পর্শে এসেছে। ঋতজার মতো মুগ্ধতা আসেনি কাউকে দেখে বা মিশে। তাই তো প্রথম প্রেমের কাছে ফেরা! সেই অহংকারী, নাকউঁচু মেয়েটা কি আগের মতোই আছে? যদিও মনটা ছিল নরম ওর। লালচে ফর্সা রং, টিকালো নাক, একঢাল চুল। সেরা ছিল মায়াবী দুটো চোখ — ডুবতে ইচ্ছে করলেও বলা হয়ে ওঠেনি সাহস করে।

আজ ঋতু নির্বাক! সোহমের লজ্জা-সংকোচ যেন এত বছরে বর্তেছে ওর ওপর। ব্যাপারটা বুঝে এগিয়ে আসে সেদিনের ভীতু, লাজুক ছেলেটা। একান্ত কথোপকথনে পরিস্থিতি সহজ করে নেয় সোহম।

এরপর দ্রুত পট পরিবর্তিত হতে থাকে। এত বছরের না-বলা কথাটা বলতে দিন সাতেকের বেশি সময় নেয় না সোহম। মাসখানেকের অবমাননাকর বিবাহিত জীবনের কথা অকপটে বলে ঋতু। জয়ের বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামনি আত্মত্যাগে দরুন জয়ের মা আজ শুধুই ঋতুর মামনি। মহানুভব মামনির বিশ্বাসভঙ্গের কারণ হতে পারবে না ও।

সব জেনেও পিছু হটতে রাজি নয় সোহম। ঋতুর জীবনে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় কাহিনি অজানা ছিল না ওর। এই শহরে, এই ব্রাঞ্চে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসেছে ও — কেবল ঋতুর জন্য। সোহমের বাবা-মা সব জানেন। ছেলের পছন্দে অগাধ আস্থা আছে তাঁদের। কেবল ছেলের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে তাঁদের।

মামনিকে কিছুই গোপন করে না ঋতু। কিন্তু সোহমের কথা বলতে গেলেই রাজ্যের দ্বিধা এসে কণ্ঠরোধ করে দেয় ওর।

আজ অফিস থেকে ফিরতেই মামনি ওর ঘরে এলেন। ক’দিন ধরেই মেয়ের অস্থিরতা নজর এড়ায়নি ওঁর। মায়েরা সব বুঝতে পারেন। ঋতুর মাথায় হাত রাখতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়ে। সব বলে হালকা হয়। ফোঁপাচ্ছে ও। বারবার একই কথা — "আমার জন্য তুমি সব ছেড়েছ! আমি তোমায় ছেড়ে যাব না, মামনি!"

অমলা হেসে বুকে টেনে নেন ঋতুকে। "পাগলি মেয়ে! তুই আমায় এত স্বার্থপর ভাবিস? নিজের স্বার্থে তোকে বেঁধে রাখব? তোর জীবনটা নষ্ট করে দেব? ক’দিন থেকেই ম্যাট্রিমনি সাইটগুলোতে খোঁজখবর করছি। মনের মতো হচ্ছিল না। সোহম আমার কাজটা সহজ করে দিল। শুনেছি বাল্যপ্রেম অভিশপ্ত হয়। সে অভিশাপ তোরা কাটিয়ে উঠেছিস। আমি খুব শিগগির রাজীববাবুকে সঙ্গে নিয়ে সোহমদের বাড়িতে যাব। ওর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে। শুভ কাজ ফেলে রাখতে নেই।"

ঋতু আঁকড়ে ধরে মামনিকে।

দু’জনার দু’চোখে আনন্দাশ্রু ঝরে।




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

এই সংখ্যায় প্রযোজ্য নিয়ম

একজন পাঠক এই সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই প্রতিক্রিয়া এই সংখ্যার অন্য কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা। দ্রষ্টব্য: আষাঢ় ১৪৩৩ সংখ্যা থেকে এই নিয়ম আরও সহজ ও উদার করা হয়েছে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।