রাত তখনো শেষ হতে অনেক দেরি। শীতের মুখে এই নতুন গড়ে ওঠা আধা শহরের হাওয়ায় বেশ একটা শিরশিরানি ভাব। আকাশ গাঢ় কালির মতো কালো, তাতে জোনাকির মতো জ্বলছে নক্ষত্রগুলো; ফ্যাকাশে চাঁদটা এক-আধ টুকরো মেঘের আঁচলে ঢাকা পড়ে লুকোচুরি খেলছিল।
'সিটি ভিউ এনক্লেভের' আকাশছোঁয়া টাওয়ারগুলো যেন শীতের ছোঁয়া পেয়ে স্বস্তিতে কুয়াশার চাদর গায়ে ঢুলছে। মোটামুটি সব টাওয়ারগুলোতেই কমবয়সী ছেলে-মেয়েগুলো তাদের তৈরি অলীক দুনিয়ায় ব্যস্ত, অথবা গেমিং-এর নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। বড় বড় টাওয়ারগুলোর প্রায় সবকটিতে ঝাঁ-চকচকে আলোগুলো নিভে গেছে। শুধু কমন এরিয়াগুলোতে, যাওয়া-আসার পথগুলোতে, পার্কিং এবং এন্ট্রি গেটে এখনো জ্বলজ্বল করছে হলুদ আলো।
কিছু কিছু ফ্ল্যাটে অবশ্য হালকা আলোর আভা দেখা যায়। সেখানে থাকেন নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা, যারা স্বল্প ঘুমের পর এই নির্মল ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে উঠেছেন। ওনারা ছাড়াও এই সময় দুই শ্রেণির মানুষ জেগে থাকে — এক যোগী, আর... দুই শহরের ছিঁচকে চোর। নাহ্, একটা ভুল হল — আর এক শ্রেণির, নীরব উপস্থিতি অপরিহার্য। তারা হল গঙ্গাধরের মতো দারোয়ান, থুড়ি সিকিউরিটি গার্ডরা। শুধু এখানে নয়, কলকাতার সব বড় বা ছোট কমপ্লেক্সে এরা সজাগ হয়ে জেগে বসে আছে। এই সময় যখন বাকি শহর গভীর ঘুমে, তখন এই মানুষগুলো অন্যদের সম্পদ ও শান্তি রক্ষায় নিজেদের ডিউটি পালন করে চলেছেন।
এই গভীর নিস্তব্ধতার মধ্যে, একটি টাওয়ারের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গাধর রায়, যিনি ইউনিফর্মের সজাগ প্রতিনিধি — সোজা বাংলায় দারোয়ান। গঙ্গাধর রায়ের কাঁধের ওপর পুলিশের মতো মজবুত খাকি শার্ট, বুকে পরিষ্কার করে সেঁটে দেওয়া 'সিটি ভিউ সিকিউরিটি' ব্যাজ। তার পরনে ইস্ত্রি করা ট্রাউজার আর কোমরে ক্যানভাসের বেল্ট। এই শীতের রাতেও তার কপালে সামান্য ঘাম, কারণ তার চোখ স্থির নয় — সারাক্ষণ ফটক থেকে লবি এবং দূরের রাস্তা পর্যন্ত স্ক্যান করে চলেছে। তার হাতে ধরা পুরনো কিন্তু ভরসাযোগ্য টর্চটি মাঝে মাঝে নীরব করিডোরে আলোর রেখা ফেলছে। গঙ্গাধরের ঋজু দেহভঙ্গি বলে দেয়, তিনি এখানে শুধুই একজন কর্মচারী নন, তিনি এই ঘুমন্ত শহরের রক্ষক। এই সময় তাঁর সজাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত যখন তার পাশেই তার সহকর্মী বৃদ্ধ অমলদা টুলে বসে ঢুলছেন। এই সময়টায় যাওয়া-আসা থাকে না, তাই ধরা পড়ে অমলদার চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই গঙ্গাধর অমলদাকে ডেকে তোলে না — আহা, পেটের টানেই তো এই বয়সেও উনি কাজে আসতে বাধ্য হন।
ঘড়ির দিকে না তাকিয়েও গঙ্গাধর বলে দিতে পারেন যে এখন তিনটে বাজতে চলেছে। গঙ্গাধর হাতে ঘড়ি পরেন না। কাজে ঢুকেই নিজের লকার রুমে নিজের বেশভূষার সঙ্গে হাতের ঘড়িটিও খুলে রাখে, ড্রেস পরে কাজে যোগ দেন। কারণ এই চাকরিতে সময় মেপে কাটানো যাবে না। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি বুঝেছেন, ঘড়ির টিকটিক সময়কে বেঁধে রাখতে পারে না; উপরন্তু বারবার সময় দেখে মন উচাটন হয়। যেমন এখন তিনি জানেন যে ব্রহ্ম মুহূর্ত উপস্থিত। ঠিক এই মুহূর্তে, তিন ভিন্ন পথের পদধ্বনি এসে মেশে এই ব্রহ্ম মুহূর্তের নীরবতায়।
প্রথম পদধ্বনিটি লবি থেকে ভেসে আসা নরম, ধীর পদশব্দ। এগুলি যোগীর পদধ্বনি। টাওয়ারের ছাদের দিকে যাওয়ার লিফটের কাছে গিয়ে থামে ষাটোর্ধ্ব নিবেদিতা দেবীর ছায়া। তাঁর পরনে সাদা, পরিচ্ছন্ন কাপড়, গলায় রুদ্রাক্ষমালা, সারা শরীর জুড়ে অপার স্নিগ্ধতা। তাঁর হাতে কোনো টর্চ নেই, কারণ তাঁর দৃষ্টি অভ্যন্তরীণ আলোর দিকে। এই ব্রহ্ম মুহূর্তে ছাদে উন্মুক্ত আকাশের নিচে বসে তিনি তাঁর ধ্যান শুরু করবেন। গঙ্গাধর শুধু একবার শ্রদ্ধার সঙ্গে মাথা নেড়ে তাঁর উপস্থিতি নথিবদ্ধ করে নেন।
দ্বিতীয় পদধ্বনি অবশ্য বাইরের রাস্তায়, খুব সন্তর্পণে, প্রায় কোনো শব্দ না করে হেঁটে আসে দু'টি ছায়ামূর্তি — ছিঁচকে চোর। এলাকায় এরা রাম-শ্যাম বলে পরিচিত। তাদের পরনে মলিন পোশাক, মাথা ঢাকা কাপড়ে। তাদের চোখে লোভ, আর হাতে ছোট একটি যন্ত্র, যা দিয়ে তারা পাশের অপেক্ষাকৃত দুর্বল নিরাপত্তার একটি ছোট দোকানে আজ রাতের 'কাজ' সারবে। তারা বুক ফুলিয়ে চিটিংবাজি করা আজকের 'রাঘব বোয়াল'দের মতো স্মার্ট নয়, তারা এখনো অন্ধকারে লুকিয়ে কাজ করে। গঙ্গাধরের সজাগ চোখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করেন, কিন্তু তার নজরদারির এলাকা ভিন্ন, তাই তিনি উদ্বিগ্ন হন না। তবুও সতর্কতার জন্য তিনি তাঁর ওয়াকি-টকি সেট-এ ফিসফিস করে অন্য গার্ডকে সাবধান করে দেন।
তৃতীয় পদধ্বনিটি অবশ্যই গঙ্গাধরের নিজের বুট-পরা পায়ের শব্দ। তিনি ধীরে ধীরে টহল দিতে শুরু করেন — গেটের লোহাটা শক্ত আছে কিনা, পার্কিং লটে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি আছে কিনা। এই পদধ্বনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই পদধ্বনি নীরবতার প্রাচীর ভেঙে দেয় না, বরং নীরবতাকেই সুরক্ষা দেয়। তাঁর এই টহল, তাঁর এই সজাগতা, আর তাঁর দৃঢ় উপস্থিতিই নিবেদিতা দেবীকে তাঁর ধ্যানকক্ষে শান্তি দেয় এবং রাতের অন্ধকারে রাম-শ্যামের মতো ছিঁচকে চোরদের এই কমপ্লেক্সে ঢুকতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই সেই ব্রহ্ম মুহূর্ত, যখন একদিকে শুদ্ধতা, অন্যদিকে পাপ। আর মাঝখানে — তাঁর মতো এক সজাগ পাহারাদার, যিনি এই দুই জগতের মাঝে দাঁড়িয়ে কেবল একটিই কাজ করেন... নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত, এই নিস্তব্ধতার তিনিই সম্রাট।
ঘড়ির কাঁটা এতক্ষণে সকাল চারটের দিকে মুখ করে আছে। এই সময়টাতেই সাধারণত প্রহরী গঙ্গাধরের মন সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকে — ভোরের আগে যে গভীর নীরবতা নামে, তাতেই সামান্যতম শব্দও বড় হয়ে কানে আসে।
কিন্তু আজ দিনটা ব্যতিক্রমী। আজ তার শরীর জুড়ে ক্লান্তি, মন জুড়ে বিষন্নতা নিয়ে গঙ্গাধর তার নজরদারি থাকা টাওয়ারের প্রধান ফটকের পাশে তার জীর্ণ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। গত পনেরো বছর ধরে এই সিটি ভিউ এনক্লেভ তার দ্বিতীয় বাড়ি। সে এখানকার প্রতিটি গাছের পাতা, প্রতিটি নুড়ি-পাথর চেনে। কিন্তু আজকের রাতটা কেমন যেন অন্যরকম। কনকনে বাতাসটা নিশ্চল, আর কুয়াশাটা এতটাই অস্বাভাবিক ঘন যে টর্চের আলো দুই হাতের বেশি দূর পৌঁছাচ্ছিল না।
নিজের পুরোনো অভ্যেস অনুযায়ী, গঙ্গাধর উঠে শেষবারের মতো পুকুরের ধারটা ঘুরে রাউন্ড দিয়ে আসতে গেল। এই পথে অন্যদিন তার মিনিট দশেক লাগে। আজ কুয়াশার কারণে মনে হচ্ছিল যেন অনন্ত পথ হেঁটে চলেছে।
পুকুরপাড়ের কাছে পৌঁছাতে গিয়েই গঙ্গাধরের শরীরে এক হিমশীতল স্রোত অনুভূত হলো। তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানেই পাথরের মতো থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর অভিজ্ঞ মন সঙ্গে সঙ্গে সতর্কঘণ্টি বাজাল।
পকেট থেকে রুমাল বার করে তিনি তার চশমার কাঁচটা ভালো করে ঘষে নিলেন — এতক্ষণের টহলদারির সামান্য ক্লান্তি বা কুয়াশার প্রভাব যেন চোখকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। তারপর, আবার তাকালেন।
নাহ্, ভুল দেখছেন না।
তার ডান দিকে, পুকুরের ঠিক মাঝখান বরাবর, যেখানে কেবল জলের নিস্তব্ধতা আর রাতের অন্ধকারের গভীরতা বিরাজ করে, সেখানে তিনি দেখতে পেলেন এক অবিশ্বাস্য আলোর রেখা। সবথেকে অশ্চর্যের হল, সেই আলোটা স্থির নয়। সেটাই ছিল আরও বেশি ভয়ের। আলোটা যেন জীবন্ত! সেটি কেমন যেন নড়েচড়ে, অত্যন্ত মৃদুভাবে, তালে তালে দুলছিল। আলোটা ঠিক জলে নয়, জলের উপর জমা হওয়া কুয়াশার স্তরের ঠিক ওপরে ভেসে বেড়াচ্ছে। আলোটা কিন্তু উজ্জ্বল দুধ-সাদা নয়, বরং পুরোনো, ফিকে সোনার মতো — যা এক ধরণের অশুভ, অলৌকিক আভা ছড়াচ্ছিল।
তাঁর পনেরো বছরের পাহারায় এমন দৃশ্য তিনি কখনো দেখেননি।
"ভুল দেখছি কি?" গঙ্গাধর প্রায় ফিসফিস করে স্বগতোক্তি করলেন। পেশাদারিত্বের কারণে তিনি পরিস্থিতিটি যুক্তির নিরিখে বিচার করতে চাইলেন। এটা কি কুয়াশার মধ্যে কোনো গাড়ির হেডলাইটের প্রতিচ্ছবি? অসম্ভব! এই এনক্লেভের পাঁচিল যথেষ্ট উঁচু, আর এই পুকুরটা বাইরের রাস্তা থেকে বেশ খানিকটা ভেতরে। তবে কি... কোনো অনুপ্রবেশকারী? সেরেছে, তাহলে তো তার চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।
হঠাৎ আলোটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হলো, আর ঠিক তখনই, অন্ধকারের নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো একটি শব্দ।
শব্দটা মৃদু, কিন্তু গভীর; অনেকটা বেহালার সুরের মতো। তবে সে সুর পরিচিত কোনো সুর নয় — অত্যন্ত বিষাদময়, হৃদয়বিদারক, যেন কোনো প্রাচীন, অশ্রুসিক্ত বিদায়সংগীত। কেউ যেন এই গভীর রাতে একা বাজিয়ে চলেছে। সুরের কম্পন পুকুরের স্থির জলকে মৃদু কাঁপিয়ে দিচ্ছিল, আর সেই কম্পন গঙ্গাধরের ভেতরে যেন এক অজানা ভয় ঢুকিয়ে দিল।
গঙ্গাধরের প্রতিটি পেশি টানটান হয়ে গেল। সজাগ থাকার প্রশিক্ষণে তার শরীর ততক্ষণে 'ফাইট অর ফ্লাইট' মোডে চলে গেছে। তিনি কাঁপা হাতে টর্চটা মুঠোয় শক্ত করে ধরলেন; এই শক্ত গ্রিপ তার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করছিল। তার অভিজ্ঞ মন তাকে ক্রমাগত সাবধান করছিল — "গঙ্গাধর সাবধান। পিছু হটো! এটা তোমার এলাকার কাজ নয়!" কিন্তু বছর পনেরোর অভিজ্ঞতা এবং কৌতূহল তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল। একজন এক্স মিলিটারি ম্যান হিসেবে তিনি এই রহস্য ফেলে যেতে পারেন না।
একবার শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকালেন তিনি। নিস্তব্ধ, কালো আকাশ। এই অলৌকিক দৃশ্যের সাক্ষী কেবল তিনি, আকাশের ওই একফালি চাঁদ আর চারপাশের ঘুমন্ত বিল্ডিংগুলো।
গঙ্গাধর ধীরে ধীরে, সাবধানে, মাটিতে পায়ের পাতা চেপে এগিয়ে চললেন সেই অলৌকিক আলোর উৎসের দিকে। তাঁর বুট জোড়ার শব্দ যেন এই নিস্তব্ধতায় বড্ড বেমানান লাগছে। গঙ্গাধর মনে মনে শঙ্কিত হলেন... কী অপেক্ষা করছে তার জন্য? চোর? নাকি এমন কিছু, যা তার পেশাদারিত্বের সংজ্ঞার বাইরে? সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে গঙ্গাধর পা টিপে টিপে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ ফেললেন। তার প্রতিটি ইন্দ্রিয় এখন পুকুরের মাঝখানে স্থির সেই রহস্যময় আলোর দিকে নিবদ্ধ। টর্চের শক্তিশালী আলোটা তিনি এখনো জ্বেলে দেননি। তার মন বলল অন্ধকারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাই শ্রেয় — হয়তো কোনো অনুপ্রবেশকারী আছে, যারা আলোর সামনে এলে দ্রুত পালিয়ে যাবে। সেই সুযোগ তাদের দেওয়া যাবে না।
বিষাদের সেই বেহালার সুরটি যেন আরও তীব্র হয়ে উঠল। এবার গঙ্গাধরের মনে হলো, সুরটি শুধু কান দিয়ে শোনা যাচ্ছে না, এটি যেন তার বুকের ভেতরটাকেও ছুঁয়ে যাচ্ছে — একটা গভীর শূন্যতার অনুভূতি তার মনকে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। সুরের মূর্ছনা তাকে সামনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক যেন ছেলেবেলায় শোনা নিশির ডাক।
পা টিপে টিপে তিনি পুকুরপাড়ের ঘন ঝোপের আড়ালে এসে দাঁড়ালেন। এখান থেকে আলোটা অনেক স্পষ্ট। পুকুরের জল এতটাই স্থির যে সেটা কালো আয়নার মতো দেখাচ্ছে। আর সেই কালো আয়নার ওপর, জল থেকে কয়েক ফুট ওপরে, সত্যিই কিছু একটা ভাসছে।
আলোর উৎসটি এখন আরও পরিষ্কার। এটি কোনো ফিলামেন্ট বা ব্যাটারির আলো নয়। এটি যেন এক প্রাচীন প্রদীপের গোছা বা শামদান, যার উপর ফ্যাকাশে সোনার রঙের আলো জ্বলছে। শামাদানটি জলে বা কুয়াশায় নয়, এক অদৃশ্য শক্তিতে স্থির হয়ে আছে। আর তার ঠিক নিচে, জলে ভেজা, একটা গাঢ় ছায়া!
গঙ্গাধরের প্রশিক্ষিত চোখ ছায়াটিকে দ্রুত চিহ্নিত করার চেষ্টা করল। সেটি কি কোনো প্রাণী? নাকি কোনো মানুষ?
ছায়াটি ধীরে ধীরে নড়ল। আর সেই নড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেহালা সুরটি থেমে গেল। তৎক্ষণাৎ পুকুরের শান্ত, কালো জল ফুঁসে উঠল!
কোনো শব্দ না করে, জলের তলা থেকে উঠে এলো একটি অবয়ব। সেটা মানুষ নাকি অন্য কিছু, অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারলেন না গঙ্গাধর। কিন্তু আলো এবং জলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই লম্বা অবয়বটির আকৃতি দেখে গঙ্গাধরের মেরুদণ্ড বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। ভয় বা বিস্ময় নয়, দীর্ঘদিনের কর্তব্য তাকে চালিত করল। এটি আর নিছক কৌতূহল নয় — এটি তার দায়িত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ।
"কে? কে ওখানে? দাঁড়িয়ে যান! নড়বার চেষ্টা করবেন না। কে আপনি? পরিচয় দিন!"
গঙ্গাধরের কণ্ঠস্বর গভীর এবং দৃঢ়, যেন রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেওয়া এক সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে তিনি টর্চের সুইচ টিপলেন। উজ্জ্বল সাদা আলো গিয়ে সরাসরি পড়ল পুকুরের মাঝখানে। আলো পড়তেই রহস্যময় সোনার আভাটা দপ করে নিভে গেল, শামাদানটি মিলিয়ে গেল বাতাসে। কিন্তু অবয়বটি তখনও তার দিকে ফিরে স্থির দাঁড়িয়ে। টর্চের আলোয় গঙ্গাধর যা দেখলেন, তাতে তার মত অভিজ্ঞ মনও স্তম্ভিত হয়ে গেল।
সেটি কোনো চোর বা অনুপ্রবেশকারী নয়। সেটি ছিল... একটি ভাসমান কফিন!
হ্যাঁ, একটি কাঠের তৈরি, পুরোনো, জলেভেজা কফিন। কফিনের ঢাকনা সামান্য খোলা। আর তার খোলা ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসছে ঘন সাদা ধোঁয়া। কফিনটি পুকুরের জলের উপর ভাসছে না, বরং জলের কয়েক ইঞ্চি ওপরে শূন্যে স্থিতিশীলভাবে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেমনটা আগে আলোর শামাদানটি ছিল।
আর সেই কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ধোঁয়ার কুন্ডুলি পাকানো একটি অবয়ব — যার শরীর থেকে টপটপ করে জল ঝরছে। তার মুখমণ্ডল কুয়াশার আড়ালে আবছা, কিন্তু তার দৃষ্টি — সেই দৃষ্টি যেন গঙ্গাধরের সমস্ত অস্তিত্বকে টেনে নিচ্ছে। দৃষ্টিতে কোনো রাগ বা ভয় নেই, কেবল অসীম, জমাট বিষন্ন এক নীরবতা!
গঙ্গাধরের হাত থেকে টর্চ প্রায় ফসকে পড়ে যাচ্ছিল। তিনি কেবল দু'টি শব্দ উচ্চারণ করতে পারলেন: "এ কী দেখছি..."
কিন্তু এই অলৌকিক দৃশ্যে ভয় পাওয়ার সময় নেই। তিনি দ্রুত তাঁর ওয়াকি-টকিটা মুখের কাছে আনলেন। এই মুহূর্তে তার প্রয়োজন অতিরিক্ত সাহায্য, কারণ এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, কোনো সাধারণ বিপদও নয়। তিনি বলতে চাইলেন —
"কন্ট্রোল! কন্ট্রোল! গেট নাম্বার টুতে অ্যাডিশনাল ফোর্সের প্রয়োজন! রিপিট, অ্যাডিশনাল ফোর্স! পুকুরপারে..." — কিন্তু আসলে তার গলা দিয়ে স্বর বেরালো না।
গঙ্গাধর কথা শেষ করার সময় পেলেন না। কুয়াশার তৈরি সেই মানব-আকৃতিটি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় জলের উপর দিয়ে ভেসে তাঁর দিকে এগিয়ে এলো। এটি হাঁটার চেয়েও দ্রুত, প্রায় মসৃণভাবে গ্লাইড করে আসছিল। গঙ্গাধরের মনে হলো, অবয়বটি যেন তার দেহের উত্তাপ শুষে নিচ্ছে — চারপাশের শীতের চেয়েও তীব্র একটি হিমেল অনুভূতি তার শরীরকে অবশ করে তুলল।
নিজের সবটুকু সাহস আর শক্তি একত্রিত করে অবশেষে গঙ্গাধর অতি কষ্টে ফিসফিস করে বলতে পারলেন — "কন্ট্রোল! কন্ট্রোল! পুকুরপাড়ে... বিপদ!"
ওয়াকি-টকি সেটে কেবল শেষ শব্দটিই ধ্বনিত, প্রতিধ্বনিত হল। তার সামরিক প্রশিক্ষণে ভয় পাওয়ার কোনো স্থান নেই, কিন্তু এখন তার শরীর সম্পূর্ণ বিদ্রোহ করছে — এটি কোনো পরিচিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই নয়। সজাগ গঙ্গাধর একটি মুহূর্তও নষ্ট করলেন না। তিনি বুঝলেন, এই জিনিসটির মুখোমুখি হওয়া তার সাধ্যের বাইরে। তিনি দ্রুত পিছন ফিরে, ঝোপঝাড় মাড়িয়ে, প্রধান গেট বা অন্য দারোয়ানের দিকে দৌড়াতে শুরু করলেন। তাঁর বুটের শব্দ নিস্তব্ধ রাতে প্রচণ্ড জোরে আওয়াজ তুলল, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি এই নীরবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু কুয়াশার অবয়বটির শব্দ করার দরকার ছিল না, নিঃশব্দে সে উড়ে আসছে গঙ্গাধরের দিকে।
গঙ্গাধর দৌড়াচ্ছেন, আর তার পেছনেই শুনতে পেলেন জলের উপর দিয়ে ভেসে আসা সেই বিষাদময় বেহালার সুর। সুরটা এখন আরও কাছে, আরও জোরে বাজছে, কিছুতেই তাঁর পিছু ছাড়ছে না। গঙ্গাধরের মনে হলো, সুরটা যেন তার হৃদয়ের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে তিনি একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন। তাকে তাড়া করে ছুটে আসছে সেই কফিনটি!
কফিনটি জলের উপর শূন্যে ভাসতে ভাসতে তার পিছু ধাওয়া করছে! কফিনের খোলা মুখ থেকে সাদা ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে, আর সেই ধোঁয়ার মধ্যেই কুয়াশা মেখে সেই অবয়ব, স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি কোনো মানুষ নয়, কোনো প্রযুক্তিও নয় — এটি পুরোপুরি অলৌকিক।
টার্নের কাছে এসে গঙ্গাধর দেখলেন, দূরে কমন এরিয়ার আলো জ্বলজ্বল করছে। তার লক্ষ্য — যে কোনো মূল্যে ওই আলোর নিচে পৌঁছানো এবং অন্য দারোয়ানকে সজাগ করা।
দৌড়ানোর সময় তিনি আচমকা একটি হোঁচট খেলেন। "উফ!" হাতের টর্চটা ছিটকে পড়ল ঘাসের ওপর। আলোটা নিভে যেতেই সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার যেন গ্রাস করল তাকে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাল রহস্যময় অবয়ব। সেটি দ্রুত তার কাছে এসে থামল। বেহালার সুরটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। চারপাশ আবার হাড় হিম করা নিস্তব্ধতা। শুধু বাতাসে ভাসছে গঙ্গাধরের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ। গঙ্গাধর দ্রুত উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেন, পারলেন না। ভয়ে নিজের হাত দিয়ে চোখ ঢেকে এই শীতল, কুয়াশাময় উপস্থিতির কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেন। কী করে তিনি এই অশরীরী শক্তির বিরুদ্ধে লড়বেন?
ঠিক তখনই, কুয়াশার আবছায়ায় থাকা মুখমণ্ডলটি খুব ধীরে ধীরে, মানবীয় স্বরে, ফিসফিস করে বিষন্ন গলায় বলে উঠল — "আমি... আমার গানটা খুঁজে পাচ্ছি না..."
স্বরে কোনো হুমকি নেই, আছে এক নিদারুণ আর্তি।
গঙ্গাধর সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে কুয়াশার মানুষটির দিকে তাকিয়ে। তার হাত থেকে টর্চ পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ঘাসের ওপর। গঙ্গাধর সতর্কতার সঙ্গে উত্তর দিলেন, "গান? কোন গান? আপনি কে?"
কুয়াশার অবয়বটি পুকুরের দিকে ইশারা করল। ভাসমান কফিনটি ধীরে ধীরে আবার জলের গভীরে নেমে হারিয়ে গেল।
"আমার সুর, আমার বেহালা... আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি ওইখানে ঘুমিয়ে আছি... কতদিন, কত বছর ধরে। আমার গান আমাকে জাগিয়ে তুলেছে, কিন্তু আমি তা খুঁজে পাচ্ছি না।"
গঙ্গাধরের অভিজ্ঞ দারোয়ানের পোশাকের নিচে থাকা মানব মনটি তখন এক গভীর মানবিক সঙ্কটের সামনে পড়ল। এটা কি সত্যি? নাকি কোনো ভন্ড চোরের নতুন ছলনা? তিনি উঠে দাঁড়ালেন। টর্চটা তুলে নিয়ে কুয়াশার আবছা মানুষটির দিকে আলো ফেলতে সুইচ টিপলেন, আলো জ্বললো না।
"আপনার বেহালা কোথায়?" প্রশ্ন করলেন গঙ্গাধর। ভয় কিছুটা কাটলেও, তার শরীর তখনো কাঁপছে।
"জল... জল... আমাকে লুকিয়ে দিয়েছে," ফিসফিস করে বলল সেই অবয়ব।
গঙ্গাধর তখন বুঝতে পারলেন, এই ব্রহ্ম মুহূর্তে তিনি কেবল চোর-ডাকাত বা সাধকদের সাক্ষী নন। তিনি এখন এক প্রাচীন বিষাদের গভীর রহস্যের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার পাহারার কাজ এখন বদলে গেছে এক গভীর, অলৌকিক অনুসন্ধানে। গঙ্গাধর সম্পূর্ণ হতবাক। টর্চের আলোয় ভাসমান কফিনটি এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কুয়াশার অবয়বটি — এ সবই তার বাস্তব জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের বাইরে। কিন্তু অবয়বটির কণ্ঠস্বরে ছিল কেবল এক ব্যাথা, এক গভীর, অসীম বিষাদ।
গঙ্গাধরের মনে এক তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হলো। তার কাজ নিরাপত্তা রক্ষা করা, এই মুহূর্তে তার কন্ট্রোল রুমে ফোন করা উচিত। কিন্তু এই বিষণ্ণ কণ্ঠস্বর এবং অবয়বের অলৌকিক উপস্থিতি তাকে আবার পুকুরের দিকে এনে ফেলল।
তিনি ধীরে ধীরে পুকুরের জলে পা দিলেন। কুয়াশার অবয়বটি তার আবছা হাত বাড়িয়ে পুকুরের দিকে ইশারা করল। ঠিক তখনই, সেই বেহালা সুরটি আবার মৃদুভাবে বেজে উঠল — তবে এবার যেন দূরে, পুকুরের গভীর তলদেশ থেকে। সুরটি যেন তাদের ডাকছে।
"এসো.... আমাকে সাহায্য করো," অবয়বটি প্রায় কাতর স্বরে বলল।
গঙ্গাধর টর্চ হাতে পুকুরের কালো, স্থির জলে গোড়ালি ডুবিয়ে দাঁড়ালেন। তার বুটের জুতো ভিজে মাটিতে গেঁথে গেল। কুয়াশার অবয়বটি তার থেকে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে। তিনি টর্চের আলো সোজা জলের উপর ফেললেন, যতদূর সম্ভব তলদেশ দেখার চেষ্টা করলেন। কিন্তু জল কেবল গভীর, অন্ধকার।
"আমি?" গঙ্গাধর প্রশ্ন করলেন।
অবয়বটি কোনো উত্তর দিল না। তার আবছা মুখমণ্ডল থেকে নীরবতা ঝরে পড়ল। শুধু ইশারায় গঙ্গাধরকে জলে নামতে বলল। ঠিক সেই মুহূর্তে, দূরের গেট থেকে অন্য দারোয়ানের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো — ওয়াকি-টকি সেটে গঙ্গাধরের অস্পষ্ট বার্তার পর তার সন্দেহ হয়েছিল কিছু একটা ঘটেছে। সে জোরে গলা চড়িয়ে বলল — "গঙ্গাধর? ক্যা হুয়া? সব ঠিক তো হ্যায়? তুমি ঠিক আছে? কীসের বিপদ?"
কন্ঠস্বর যত কাছে আসতে লাগল, কুয়াশার অবয়বটি তত দ্রুত অদৃশ্য হতে শুরু করল। বেহালার সুরটি হঠাৎ তীব্র হয়ে, শেষবারের মতো বেজে উঠে, যেন জলের গভীরে ডুবে গেল। অবয়বটি মিলিয়ে যেতেই — নিমেষের মধ্যেই জল আবার শান্ত হয়ে গেল, যেন কিছুই ঘটেনি। টর্চের আলোয় কেবল পুকুরের শান্ত, কালো জল আর তার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলেন গঙ্গাধর। তিনি দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন। কোথাও কিছু নেই।
খানিক পরেই অন্য দারোয়ান রামখিলাবন সেখানে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল, "আরে রামজী!!! কী হয়েছে? তুমি কী দেখেছ? জলের মধ্যে গেছ কেন? উঠে এসো, উঠে এসো।" গঙ্গাধরের চোখে তখনো সেই ফ্যাকাশে আলোর আভা লেগে আছে। তিনি নিজের ইউনিফর্মের কলারটা ঠিক করলেন। তার হাতে ধরা ওয়াকি-টকি আর টর্চ।
তিনি ধীর-স্থির গলায় বললেন, "না... কিছু না। মনে হয় একটা বড় মাছ লাফিয়ে উঠেছিল। আমি ভুল করে... হয়তো কিছু ভুল বার্তা দিয়ে ফেলেছি। সব ঠিক আছে, রামখিলাবন। চলো।"
ততক্ষণে গাছে গাছে পাখি ডাকতে শুরু করেছে। একটু পরে ভোরের আলো ফুটে হয়তো আকাশটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে এতদসত্ত্বেও জলের ওপর কুয়াশাটা যেন খুব ঘন হয়ে আসছে। রামখিলাবন চারপাশ দেখে কাঁধ ঝাঁকাল। "ঠিক আছে, গঙ্গাধর। কিন্তু সাবধানে থেকো। তোমার গলাটা কেমন যেন শোনাচ্ছিল।"
রামখিলাবন চলে গেল। গঙ্গাধর আরও কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে রইলেন পুকুরপাড়ে। পুকুরের জল আবার কালো আয়নার মতো স্থির। কোনো কফিন নেই। কোনো কুয়াশার মানুষ নেই। কোনো বেহালার সুর নেই। কেবল দূরে কমন এরিয়ার জ্বলজ্বলে আলো আর চারিদিকে পাখির কূজন। তিনি তার টর্চের আলোটা শেষবারের মতো পুকুরের ওপর ফেললেন। জলের গভীরে কোনো সুর বা কফিনের হদিশ পাওয়া গেল না। তিনি দৃঢ় পায়ে গেটের দিকে ফিরে গেলেন, কিন্তু গঙ্গাধরের মনে বেহালার সেই বিষাদময় সুরটা যেন গেঁথে রইল। আজ, এই রাতের প্রহরায় তিনি এমন এক রহস্যের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, যার সমাধান তিনি দিতে পারেননি।
পুকুরপাড়ে কি সত্যিই এক প্রাচীন বেহালাবাদকের আত্মা তার শেষ গান খুঁজছিল? নাকি এটা ছিল এক নিখুঁত চুরির চেষ্টা, যা অন্য কোনো অলৌকিক কায়দায় গঙ্গাধরকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো হয়েছিল? অথবা সবটাই তার কল্পনা।
গঙ্গাধর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেন না। ব্রহ্ম মুহূর্তের সেই নীরবতা এখন কেবল এক অসম্পূর্ণ সুরের রেশ বহন করে চলেছে। তিনি জানেন, যতদিন তিনি এই টাওয়ারের দারোয়ান থাকবেন, ততদিন পুকুরটি তার কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধার মতো থেকে যাবে।
লেখিকা একজন গৃহবধূ — হলুদ-মাখা হাতে কলম ধরেই নিজের দেখা পৃথিবীকে, নিজের উপলব্ধির আলোয়, শব্দে গাঁথেন। ছোট ও বড় গল্প — দু’ধরনের লেখাতেই তিনি স্বচ্ছন্দ, এবং মূলত সামাজিক মাধ্যমেই তাঁর লেখালেখির যাত্রা। বাংলা ভাষা ও বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই তাঁর সৃষ্টির অনুপ্রেরণা জন্ম নেয়। তাই তাঁর লেখার কেন্দ্রে বারবার ফিরে আসে বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, অনুভূতি ও নীরব অন্তর্লোক।