আজ ২৬শে ডিসেম্বর ২০২৪। গত বছর ঠিক এই দিনটাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে বাপি চলে গেছে, শুভাঙ্গী আর ওর মাকে ছেড়ে। তিথি নক্ষত্রের জন্য বাপির বাৎসরিকটা দিন চারেক এগিয়ে এসেছিল, সব কাজকর্ম মিটিয়ে ক্রিসমাসের ছুটির পর আজ বৃহস্পতি বার অফিসে জয়েন করবে শুভাঙ্গী।
বেরোনোর আগে বাপির পড়ার ঘরটায় ঢুকে বাপির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শুভাঙ্গী। ঘরটা আস্তে আস্তে গুছিয়ে ঠিকঠাক করতে হবে, রাজ্যের হাবিজাবি জিনিস জমিয়ে রাখা বাপির স্বভাব ছিল, গুচ্ছের পুরোনো ট্রাঙ্ক, সুটকেস, বই, খবরের কাগজ কী নেই বাপির পড়ার ঘরে, সব যেমনকার তেমন পড়ে আছে শুধু এইসব নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করার মানুষটাই আর কোত্থাও নেই! অন্যমনস্ক মুখে বাপির বইয়ের আলমারির মাঝের তাকে রাখা টিনের বাক্সটা খুলে দেখতে গেলো শুভাঙ্গী, মা এখনও রান্নাঘর থেকে ডাক দেয়নি, খেতে বসার আগে এই বাক্সটাই একটু নাহয় নাড়াচাড়া করলো।
মাঝারি মাপের চ্যাপ্টা বাক্সটা খুলতেই খুব হালকা ন্যাপথলিন এর গন্ধ নাকে এসে লাগলো, বাক্সের ডালাটা কেমন লগবগ করছে, কতদিন হাত পড়েনি কে জানে!
বাক্সের ভিতরে প্রথমেই চোখে পড়লো একটা পুরোনো কলেজ আইকার্ড, বাপির আই কার্ড, বাপির কলেজ জীবনের জিনিস আছে তার মানে এটায়। আইকার্ড টা সরিয়ে তার নিচের জিনিসটা বার করলো শুভাঙ্গী, একটা জরাজীর্ণ পুরোনো কালো কোট। এটা কী!? বাপির কলেজ জীবনের কোট নাকি?! সেটা এতদিন রেখে দিয়েছিলো বাপি!! খুব সাবধানে ভাঁজ খুলে কোটটা বুকে জড়িয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো শুভাঙ্গী, বাপির গায়ের গন্ধ লেগে আছে এটায়। কোটের পকেটের কাছটায় হাত পড়তেই একটা মৃদু খরমর শব্দ কানে এলো, আরে পকেটে কিছু আছে নাকি! সাবধানে পকেটে হাত ঢুকিয়ে চার ভাঁজ করে রাখা একটা বিবর্ণ হলদে হয়ে যাওয়া কাগজ বার করলো শুভাঙ্গী, এটা কী!?
আস্তে আস্তে শুভাঙ্গী খুললো কাগজটার ভাঁজ, ছিঁড়ে পড়ে যায়নি এটাই বাঁচোয়া! ছোট্ট একটা চিঠি।
প্রিয় রুন,
অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি। তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি। যে আছে মম গভীর প্রাণে ভেদিবে তারে হাসির বাণে,চকিতে চাহ মুখের পানে তুমি যে কুতূহলী।
তোমারি পথ চেয়ে আছি,
তোমার
ফাল্গুনী
২০/১২/১৯৮৫
চিঠিটা পড়ে খানিকক্ষণ থ হয়ে বসে রইলো শুভাঙ্গী। এ আবার কী!! কে এই রুন আর ফাল্গুনী!! জীবনে তো এদের নাম কখনও মা-বাপির মুখে শুনেছে বলেও মনে পড়ছে না! এদের প্রেমপত্র বাপির কলেজের কোটের পকেটেই বা এলো কোথা থেকে!
বাপি বললেই তো চোখের সামনে সদা হাস্যময়, অগোছালো, অন্যমনস্ক একটা লোকের ছবি ভেসে ওঠে। শুভাঙ্গীর প্রতিটা ছোটো বড় সাফল্যে যার মুখে এত্ত খানি চওড়া হাসি, প্রতিটা জন্মদিনে ক্রিসমাসে যার হাত ভর্তি এত্ত এত্ত গিফট, স্কুলের গার্ডিয়ান মিটিংয়ে, রাত জেগে মেয়ের কলেজ এ্যাসাইনমেন্ট লিখে দেওয়াতে সব সময় এগিয়ে আসা লোকটাই তো শুভাঙ্গীর বাপি, আর শুভাঙ্গীর মার "এই শুনছো"! সারাজীবন খালি বাড়ি-অফিস করে বেড়ানো আর নিজের বউ মেয়েকে নিয়ে সোহাগ করে বেড়ানো লোকটার পকেটে এ কোন গোপন রহস্যের হদিস! তাহলে কী বাপির কোনো প্রেমিকা ছিল অল্প বয়সে? তাকে কি সময়মতো বাপি নিজের মনের কথা বলে উঠতে পারেনি? তাই নিজের ব্যর্থ প্রেমের ইতিহাস রেখে দিয়েছে লুকিয়ে? ফাল্গুনী, কি বাপির কোনো ছদ্ম নাম? রিজেকশনের ভয়ে অন্য নামে লেখা প্রেম পত্র?
মনে মনে অস্থির হয়ে ওঠে শুভাঙ্গী। এই রুন আর ফাল্গুনী, এরা কারা, কোথায় থাকে, বাপির সাথেই বা কী সম্পর্ক এদের। বাপির পুরোনো ফোন নম্বর লেখার ডায়রিটা বার করবে? তাতে কী এই নামের কোনো ফোন নম্বর বা ঠিকানা লেখা থাকতে পারে? মা কে কি এখনই এই নিয়ে কিছু বলাটা ঠিক হবে? মা কি আদৌ কিছু জানে এই প্রসঙ্গে? কী করবে এখন শুভাঙ্গী!
"কী রে কই গেলি, ভাত বেড়েছি তো, আয় তাড়াতাড়ি, অফিসের দেরী হচ্ছে না!"
মা-র ডাকে সম্বিত ফিরল শুভাঙ্গীর। ঘর ছেড়ে বেরোতে গিয়ে কী ভেবে চিঠিটা সাবধানে নিজের শার্টের পকেটে ভরে নিলো ও। অফিসে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখতে হবে। বাপির কাছে এই ৩৯ বছরের পুরোনো প্রেমপত্র কোথা থেকে এলো, খুঁজে বার করতে হবে।
টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলটাও সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠলো, শুভাঙ্গী উঁকি মেরে দেখলো, অরিত্রর ফোন। বাজুক গিয়ে, এখন সত্যি কারুর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছে চিঠিটা হাতে পাওয়ার পর থেকেই।
কোনো রকমে নাকে মুখে দুটো গুঁজে, মা র কাছে কম খাওয়ার জন্য বকুনি খেতে খেতে অফিসে ছুটলো শুভাঙ্গী। অফিসে পৌঁছে কাজের ফাঁকে বারবার চিঠিটার কথা মাথায় ঘুরছিল ওর।
মজা দেখো, কদিন পরই নতুন বছর শুরু হবে, ১লা জানুয়ারি মাকে নিয়ে একটু মন্দিরে যাওয়ার বাসনা ছিল শুভাঙ্গীর। এখন এই চিঠিটা মাথায় ঢুকে গেলো, আর মনোযোগ দিতে পারবে কোনো কিছুতে, যতক্ষণ না ব্যাপার টার কিছু নিষ্পত্তি হচ্ছে! ওর এই সব বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার স্বভাব নিয়েই না বাপি কতবার ওকে বলতো, "সব কিছু বড় জটিল করে ভাবিস তুই মামনি!"
"বাপি, কোথায় চলে গেলে তুমি, আমাকে এই অথৈ সাগরে ফেলে রেখে! ১লা জানুয়ারির আগে কোথা থেকে বার করবো এই দুজনের পরিচয়, কে বলে দেবে আমাকে!" ভাবতে ভাবতে মাথা গরম হয়ে যায় শুভাঙ্গীর। একবার ভাবে, বাপির কলেজ জীবনের বন্ধু গৌতম কাকু বা প্রণয় কাকুকে ফোন লাগাবে। বাপির কলেজ জীবনের কোনো প্রেমিকা থাকলে বাপির সহপাঠীরা নিশ্চয়ই জানবে। কিন্তু এত গুলো বছর পর সত্যিই কী এসব করার কোনো প্রয়োজন আছে!? আর মা? মা কী বলবে এসব শুনে!
বাড়ি এসেও, গলায় হঠাৎ বিধে যাওয়া মাছের কাঁটার মতোই অস্বস্তিটা মনের মধ্যেই ছিল শুভাঙ্গীর। সারাদিন ভেবেও কিছু কূল কিনারা করতে পারেনি, কাউকে বলতেও পারেনি ব্যাপারটা, উপরন্তু বারবার ফোন করে খোঁজ নেওয়ার জন্য অরিত্রকে বেকার খানিক ঝাড় দিয়ে ফেলেছে।
সন্ধ্যার চা-টা নিয়ে শুভাঙ্গীর মা গোপা দেবী, শুভাঙ্গীর ঘরে ঢুকে দেখলেন, মেয়ে অন্ধকার ঘরে টেবিলের ওপর রাখা বাপির ছবির সামনে চুপচাপ বসে আছে।
"কী রে বাবুই, সন্ধ্যা বেলা এরকম ঘর অন্ধকার করে বসে আছিস কেনো? শরীর খারাপ লাগছে?" — ঘরের আলোটা জ্বেলে দিয়ে মেয়ের মাথায় হাত রাখেন গোপা দেবী। শুভাঙ্গী মুখ তুলে তাকাতেই, চমকে যান তিনি! "কী হয়েছে বাবুই, মুখটা এরকম শুকনো লাগছে কেনো তোর? অফিসে কিছু হয়েছে? কী সমস্যা আমাকে বল! এই বাবুই!"
একটা নিঃশ্বাস ফেলে হাতে মুঠো করে রাখা চিঠিটা মা র দিকে এগিয়ে দেয় শুভাঙ্গী। না, আর পারছে না ও, কাউকে না বলা অবধি শান্তি পাচ্ছে না মনে। যা হয় হোক, মা ছাড়া বাপি র ব্যাপারে আর কার সাথে কথা বলবে ও!
"কী রে এটা?" — বলে চিঠিটা সাবধানে খুলে পড়েন গোপা দেবী, এক মুহূর্ত চোখ বুলিয়েই হেসে ওঠেন তিনি — "ওহ, এ তো সেই চিঠিটা!"
"মানে!! মা, তুমি জানো এই চিঠিটার ব্যাপারে! কে লিখেছিল এটা, কাকে ই বা লিখেছিলো?"
"কে আবার লিখবে, এটা তোর বাপির জবানিতে লেখা। আমাকেই লিখেছিলো সে!"
"মা, এটা ১৯৮৫ র চিঠি, তখন বাপি কলেজে আর তুমি স্কুলের ছাত্রী! তোমাদের বাড়িও এক জায়গায় ছিল না, বাপি কী করে লিখতে পারে এরকম চিঠি। আর এই নামগুলো?"
"বলছি রে বাবা বলছি সব, একটু দাঁড়া" — চায়ের কাপ নিয়ে মেয়ের বিছানায় গুছিয়ে বসেন গোপা দেবী। তার পর শুরু করেন তাঁর গল্প...
"১৯৮৫ সাল মানে সে বছর তোর বাপি গ্র্যাজুয়েশন পাস করেছে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে আর আমি তখন ১৫ বছরের ক্লাস নাইনের ছাত্রী, বেথুন স্কুলের। প্রতিদিন বিডন স্ট্রীট, মানে তোর মামাবাড়ি থেকে আমার পিসির হাত ধরে স্কুলে আসতাম, লাল পাড় সাদা শাড়ী পরে দুই বিনুনি বেঁধে। আর স্কুলের ঠিক উল্টো দিকে হেদুয়া পার্কের সামনে একটা ছোট্ট চায়ের দোকান ছিল, তোর বাপি কলেজে পড়াকালীন প্রায়ই ওখানে যেতো চা খেতে। সেই ছিল আমাদের প্রথম দেখা।"
"কখনও রাস্তা পেরিয়ে এসে বাপি তোমার সাথে কথা বলেনি?"
"দূর, পাগল নাকি। আমার সাথে বড় পিসি থাকতো, তাঁকে ডিঙিয়ে তোর বাপির সাহস ছিল এসে কথা বলার? তার ওপর যা মুখচোরা ছিল সে। শুধু দেখতাম চেয়ে থাকতো এক নাগাড়ে, আমি স্কুলে ঢুকে গেলে সেও চলে যেতো। তোর বাপির কলেজের ওই তিনটে বছর চায়ের দোকানে হত্যে দেওয়াটা আমার মোটামুটি অভ্যাস হয়ে গেছিল। রোজ ভাবতাম, আজ যদি ছেলেটা কিছু বলে! তোর বাপি সাহসই করতে পারেনি কোনোদিন। আসলে নিজে ছিল মফস্বলের, যৌথ পরিবারের বড় ছেলে। খাস উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির একমাত্র মেয়েকে প্রেম নিবেদন করতে কুণ্ঠা বোধ করতো।"
"তাহলে তুমি এসব জানলে কী করে?!"
মৃদু হাসলেন গোপা দেবী, শুভাঙ্গী দেখলো প্রৌঢ়া মায়ের চোখে যেন সেই পঞ্চদশী কিশোরীর দৃষ্টি, "তোর বাপি ই বলেছে এসব, বিয়ের পর। তোর বাপির বন্ধু, তোর গৌতম কাকুর মাসীর বাড়ি ছিল ওই বিডন স্ট্রীট এ। তোর বাপির মনোবেদনা জেনে, গৌতমদা ই খোঁজ খবর নিয়েছিল আমার বাড়ির। এমনকি ওই ডিসেম্বর মাসে কলেজ থেকে নিজেদের গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট আনতে যাওয়ার দিন তোর বাপিকে ওই লাভ লেটার গৌতমদা-ই লিখে দিয়েছিল, তোর বাপির হাতের লেখা ভালো নয় বলে। তোর বাপি স্কুলের গেটে এসে ও শেষ অবধি ওই চিঠি আমাকে দিয়ে ওঠার সাহস জুটিয়ে উঠতে পারেনি, চলে গেছিল। তারপর তো যা হয়, সংসারের চাপ ছিল মাথায়, চাকরির জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। ভালো ছাত্র হওয়ার জন্য এক চান্সেই রাজ্য সরকারি অফিসার হয়ে যায় তোর বাপি, প্রথম পোস্টিং নিয়ে বছর ছয়েকের জন্য চলে যায় মালদায়। তোর বাপির কলকাতায় ফিরে আসার মধ্যে আমি বেথুন স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে, বেথুন কলেজ থেকেই গ্র্যাজুয়েশন পাস করে টুকটাক কম্পিউটার ট্রেনিং নেওয়া শুরু করেছিলাম। এর মধ্যে তোদের বাড়িতে তোর বাপির জন্য পাত্রী দেখার তোড়জোড় হচ্ছিল, তখন তোর গৌতম কাকু তোর ঠাকুমার কানে আমার কথা তোলে। তখন তোর দাদুর তরফ থেকে আমাদের বাড়ি যোগাযোগ হয়, আর ব্যাস।"
শুভাঙ্গী অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল মায়ের দিকে, তার মা আর বাপির যে এমন একটা প্রেম কাহিনী আছে তা মোটেই জানা ছিল না। কিন্তু চিঠির নাম গুলো যে অদ্ভুত ঠেকছিল! ওর প্রশ্নটা আন্দাজ করে নিয়েই গোপা দেবী আবার শুরু করেন, "আমার ডাক নামটা জানিস তো? আমাকে তো বাড়ির লোকে 'বুরুন' বলে ডাকতো। যে নামটা তোর বাপির পছন্দ ছিল না কোনোদিন, সেই 'বুরুন' থেকেই ছোটো করে 'রুন'। আর তার পিতৃদত্ত নাম 'সব্যসাচী' কেই 'ফাল্গুনী' লিখেছিলো তোর গৌতম কাকু। দুটোই যে মহাভারতের অর্জুনের নাম। বরাবরের শিল্পী মানুষ, রহস্য করার ইচ্ছা হয়েছিল বোধ হয়। আমাদের বিয়ের পর ফুলশয্যার রাতে তোর বাপি এইসব গল্প শুনিয়েছিল আমাকে। খুব চিন্তায় ছিল, আমার তাকে মনে আছে কিনা! পাছে ভুলে যাই, মনে করানোর জন্য এত কথা!"
"তোমার মনে ছিল মা, বাপি কে?"
"আবছা আবছা ছিল। আমি তো আর তোর বাপির নাম ধাম জানতাম না। সব শুনে ভালোই লেগেছিল, তবে প্রেমপত্রটা আর নিতে ইচ্ছা করেনি। বিয়েই তো হয়ে গেছে তার সাথে, সব থেকে বড় কথা ওটা তোর বাপি নিজের হাতে লেখেও নি। এত লাজুক আর নার্ভাস ছিল তোর বাপি!"
সবটা শুনে মনটা অদ্ভুত একটা তৃপ্তি তে ভরে যাচ্ছিল শুভাঙ্গীর। মা সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "এর জন্য সকাল থেকে এত মুখ গোমরা করে আছিস, বাবুই? আমাকে আগে বলবি তো! তোর বাপিই ঠিক বলত, সব সহজ কথা কে বড় জটিল করে ভাবিস তুই!"
মা কে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল শুভাঙ্গী, "সত্যি মা, তুমি আর বাপি গ্রেট!"
"হয়েছে আর সোহাগ করতে হবে না। এসব থেকে তো একটু শিক্ষা নিতে পারিস বাবুই। সব সময় সবার মুখ ফুটে সব কথা বলার সাহস থাকে না। তাই তার-টা বুঝে নিতে হয়, তেমন হলে নিজেকেই এগিয়ে যেতে হয় একটু।"
"তুমি ঠিক কী বলছো মা!"
"তুমি ঠিক ই বুঝে গেছো বাবুই। আমি অরিত্রর কথা বলছি। তোর বাপির শরীর খারাপের দিনটা থেকে দেখছি, ছেলে টা সব সময় তোর পাশে থেকেছে, সব সময় ফোন করে খবর নিয়েছে, এখন ও নিয়মিত খোঁজ খবর নেয় তোর, তার সাথে দিনের পর দিন তোর মেজাজ ও শোনে! এসব কী এমনি এমনি হয়, বাবুই?"
টেলিপ্যাথির জন্যই হয়তো, বোবা হয়ে পড়ে থাকা শুভাঙ্গীর ফোনটা হঠাৎই বাজতে শুরু করলো। গোপা দেবী উঁকি মেরে নাম টা দেখে, "ঠিক আছে এবার ঝগড়া মিটিয়ে নিয়ে ভালো করে কথা বল, আমি আসছি" বলে মুচকি হেসে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন।
মোবাইলের স্ক্রিনে অরিত্রর নামটা জ্বলজ্বল করছে।