Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
কপিল বাবার আশ্চর্য কাহিনী
বেশ কয়েক মাস পর তান্ত্রিক বাবা কঙ্কাল উদ্ধার করে নিজের কুটিরে নিয়ে আসেন। বিভিন্ন উচ্চমার্গের সাধনার সাথে শবসাধনা করেছেন তিনি। ভূত-প্রেতাত্মার সংস্পর্শ ছিল তাঁর। পারলৌকিক জগতের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতে পারতেন।
কপিল বাবার আশ্চর্য কাহিনী

(এই ঘটনা আমার বৌদির কাছে শুনেছি। ওনার বাপের বাড়ি হাজারিবাগে। সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা — ওনার পরিচিত কপিল বাবার জীবনের। যেমন শুনেছি সেরকম লিখছি।)

বৌদির বাবা মানে জেঠুমনি কোলিয়ারীতে চাকরি করতেন। কাজের সূত্রে অনেক মানুষের সঙ্গে তাঁর চেনাশোনা ছিল। সেরকম কপিল বাবা একজন। বৌদিরা তখন তেরো-চৌদ্দ বছরের। ওনার বাবারা দুই ভাই মিলে একই পরিবারে থাকতেন। কপিল বাবা তান্ত্রিক ছিলেন। তবে তাঁকে দেখে যত ভয় লাগতো, মানুষটা সেরকম ছিলেন না। ভূত-প্রেত, তন্ত্র-মন্ত্র এসবে পারদর্শী ছিলেন।

কপিল বাবা মানুষ হিসেবে ভালো ছিলেন। তাঁর কপালে আঁকা থাকত সিঁদুরের ত্রিপুন্ডক, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, কাঁধে মাধুকরীর ঝোলা আর হাতে ছোট ত্রিশূল, পরনে লাল কাপড়। শীতে বড়জোর একটা শাল। বৌদির বাবার বাড়িতে ওনার অবাধ যাতায়াত ছিল। বাড়ির ছোটদের খুব ভালোবাসতেন। নানা ধরনের টোটকা-ওষুধ দিতেন। বৌদির মা-কাকীমা ওনার কাছে ছেলে-মেয়েদের জন্য ওষুধ চেয়ে নিতেন। তবে কোনো দিন নিজের বিদ্যা অকারণে কারো কাছে জাহির করতেন না। বৌদিদের বাড়ি এলে বৌদির মায়ের হাতে তৈরি এককাপ চা না খেয়ে উঠতেন না। জেঠুমনির সঙ্গে খুব পরিচিতি থাকায় জেঠুমনি ওনাকে "তুমি" বলতেন।

আমাদের আজকের ঘটনা কপিল বাবাকে নিয়ে। আমার বৌদি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

একদিন রবিবার বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যেবেলায় বৌদিদের বাড়িতে কপিল বাবার আগমন। কী কারণে সেদিন আবার লোডশেডিং। কোলিয়ারীতে সাধারণত এরকম হয় না। তবে কোনো কারণবশত হয়েছিল। বৌদির বাবা কাকা খুশি হলেন ওনার আসাতে। বাচ্চারাও খুশি। নিশ্চয়ই আজ গল্প হবে। পড়াশোনা করতে হবে না।

উনি এসেই হাঁক পাড়লেন, "বড়বৌদি, কড়া করে এককাপ চা চাই, তাড়াতাড়ি।"

ততক্ষণে বাচ্চারা ওনাকে চেপে ধরেছে — গল্প শোনাতে হবে। নানা কথার মাঝে হঠাৎ করে জেঠুমনি বললেন, "কপিল, একটা কথা বলি। তোমার আগের জীবনের কথা, মানে পূর্বাশ্রমের কথা কিছু মনে আছে? কীভাবে এই তন্ত্র-মন্ত্রের জীবন বেছে নিলে, একটু বল শুনি। না, তোমাকে আমি জোর করছি না। কারণ শুনেছি সাধু-সন্ন্যাসীদের দীক্ষা নেওয়ার পর ওসব মনে রাখতে নেই।"

একথায় কপিল বাবা একটু যেন গম্ভীর হয়ে গেলেন।

চারপাশে পরিবেশটা একটু গা ছমছম করা। তার ওপর বৃষ্টি পড়ছে। সন্ধ্যেবেলা। একটু চুপ করে থেকে কপিল বাবা বললেন, "আপনি ঠিক বলেছেন, বাবু। আমার এরকম জীবন ছিল না। এক বিশেষ কারণে আমাকে এই জীবন বেছে নিতে হয়েছে। আজ তোমাদেরকে সে কাহিনীই বলব।"

ততক্ষণে কপিল বাবা আর অন্যদের জন্য চা আর গরম সিঙ্গাড়া নিয়ে বৌদির মা আর কাকিমা রান্নার লোককে নিয়ে হাজির। রহস্যগল্পের গন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাই, এমনকি কাজের মেয়েটা পর্যন্ত সেখানে জুটেছে। চা শেষ করে কপিল বাবা শুরু করলেন তাঁর আশ্চর্য কাহিনী। ওনার জবানবন্দিতেই বর্ণনা করছি।

"সত্যি, আমি এরকম ছিলাম না, ম্যানেজার বাবু। আমার বাবা খুব ভালো গাড়ি চালাতেন। কলকাতায় আমার জন্ম। বরাবর ওখানেই থেকেছি, শৈশব-যৌবন কেটেছে। পড়াশোনাতে ভালো ছিলাম। বাবা একজন ডাক্তারসাহেবের গাড়ি চালাতেন। তাঁরই তত্ত্বাবধানে হসপিটালের অন্যান্য ডাক্তারবাবুদের কয়েকজনের গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নেন। ভালো স্বচ্ছল পরিবার ছিল আমাদের।

আমার অন্যান্য ভাইরা পড়াশোনা করলেও আমার খুব শখ ছিল গাড়ি চালানোর। সেজন্য বাবাকে ধরে বসলাম — গাড়ি চালানো শিখব। বাবাকে রাজি করিয়ে বাবার কাছে গাড়ি চালানো শিখলাম। ধীরে ধীরে আমি বাবার মতো দক্ষ ড্রাইভার হয়ে গেলাম। এর মধ্যে বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়লে ডাক্তারবাবুদের গাড়ি চালানোর দায়িত্ব আমার ওপর পড়ল। আমি খুব ভালোভাবে গাড়ি চালাতাম বলে ওনারা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। মাসের শেষে মোটা অংকের টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতাম। দিন কেটে যাচ্ছিল আমার। ভালো ড্রাইভার হিসেবে নাম হল। ডাক্তারবাবুরা 'কপিল ড্রাইভার' বলতে অজ্ঞান! খুব ভালোবাসতেন আমাকে। আমি ও কোনো দিন বেইমানি করিনি ওনাদের সাথে।

কিন্তু একদিন আমাকে এমন একটা ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, যা আমাকে আমার জীবনের এমন একটা সত্যর সামনে দাঁড় করায়, যার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না।

একদিন এরকম গভীর রাত। ডিসেম্বর মাস। শীতকাল। আমি একজন ডাক্তারবাবুকে বাড়িতে পৌঁছাতে গেছিলাম। ওনাকে বাড়িতে নামিয়ে বাড়ি যাব। ডাক্তারবাবুদের গাড়ি চালালেও নিজে বাইকে যাতায়াত করতাম। ঘড়িতে দেখলাম ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁইছুঁই। বেশ জোরেই বাইক চালাচ্ছি।

হঠাৎ শুনলাম কোনো মহিলা আমাকে ডাকছে — "কপিল, এই কপিল, তুই আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস? উত্তর দে।"

চমকে উঠলাম, বাবু। মা কালীর সাচ্চা ভক্ত আমি। নেশা-ভাঙ করি না। মাথাটা কেমন ঘুরে উঠলো। বাইকে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে ফেলি! নিসুতি নিঝুম রাত। দূরে জঙ্গলে শেয়াল ডাকছে। পাল্লা দিয়ে ঝিঁঝিঁ পোকা গান জুড়েছে। সেই প্রথম ভয় পেলাম। স্পষ্ট শুনেছি কোনো মহিলার ডাক। গা কেমন শিরশির করে উঠল। ভাবলাম মনের ভুল, তাই এরকম হল।

কিন্তু না। আবার সেই ডাক। জায়গাটা শুনশান নির্জন। বাইক থেকে নামলাম। জনমনিষ্যের সাড়া নেই। গাঢ় কালো অন্ধকার রাস্তায় একা আমি। শুধু বাইকের জোরালো আলো ভরসা। ধীরে ধীরে সেটাও ম্লান হয়ে লাল হয়ে গেল। সামনের অন্ধকার কিছুটা যেন জমাট বেঁধে গেল। বাইকের ফিকে লাল আভায় দেখলাম, জমাট বাঁধা অন্ধকার যেন মানুষের অবয়ব ধারণ করল। অবয়বটা একটা নারীর। তাকে দেখে আমার ভয়ে দাঁতে কম্পন ধরে গেল। মনে হল, আমার হাত-পা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলাম।

হঠাৎই সে নারী অবয়ব কথা বলে উঠল। শুনলাম সেই মেয়েলি কণ্ঠ বলছে, "কপিল, এ তুই কী জীবন যাপন করছিস? এ জীবন তো তোর নয়। তোর ডাক পড়েছে। তোর জন্য কেউ অপেক্ষা করছে। তোকে সেখানে যেতে হবে। তোর জীবনের আসল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ। তোর ডাক পড়েছে কারণ তোর জীবন ঈশ্বর মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার জন্য বেছে রেখেছেন। যা বাড়ি গিয়ে সব কিছু খুলে বল মা-বাবকে। তাঁদের অনুমতি ছাড়া কিছুই হবে না। যা, তাড়াতাড়ি বাড়ি যা। আমি এখন যাই। পরে সময়মতো যোগাযোগ হবে তোর সাথে।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কিন্তু আপনি কে? আমাকে চিনলেন কীভাবে?"

মহিলা কণ্ঠ বলল, "আমি কে সেটা পরে জানলেও চলবে। আর তোর সব উত্তর পরে সময়মতো পাবি। এখন যা। তোর এখন অনেক কাজ।"

এই বলে সে নারী কণ্ঠ মিলিয়ে গেল। আমি বাড়ি এলাম।

পরদিন সকালে মা আর বাবাকে সবকিছু খুলে জানালাম। আমার মা তো শুনেই কান্নাকাটি শুরু করলেন। কিন্তু বাবা আমাকে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিলেন। বললেন, "মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে পুণ্য কাজ আর কিছু হয় না। তুমি তোমার কাজে সফল হও বাবা।" আর মাকে বোঝালেন, "অযথা কান্নাকাটি করে ওকে ভ্রমিত কোরো না। ওকে ওর কাজে নামতে দাও।"

অবশেষে মা রাজি হলেন। আমি দুজনের অনুমতি পেয়ে গেলাম। সেদিন গভীর রাতে আবার সে নারী কণ্ঠ আমাকে ডাকলো — 'কপিল, তুই জেগে আছিস?'

আমি বললাম, "হম, জেগে আছি। বল, কী করতে হবে?"

সে নারী কণ্ঠ বলল, "একটা কাচা ধুতি-পাঞ্জাবী পরে বেরিয়ে আয়। আর বেরোনোর আগে মা আর বাবাকে প্রণাম করে বাইরে আয়।"

তার কথা মতো কাজ করে বাবা-মাকে প্রণাম করে বাড়ি ছাড়লাম। চোখে জল এসে গেছিল। কিন্তু আমাকে মহৎ উদ্দেশ্যে নামতে হবে। কান্নাকাটি শোভা পায় না। বাইরে বেরিয়ে দেখি রাত প্রায় ভোর হতে চলেছে। আকাশে ধ্রুবতারা জ্বলজ্বল করছে। অশরীরী মেয়ের কণ্ঠ আমাকে নিয়ে চলল পথ দেখিয়ে।

ক্রমে ভোরের আলো ফুটতে লাগল। চারদিকে পাখ-পাখালির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এক অচেনা অজানা রাস্তায় সেই অশরীরী কণ্ঠ আমাকে নিয়ে চলল। সে রাস্তায় কোনো দিন আগে আসিনি। অচেনা মানুষ, অচেনা জায়গা, অচেনা গ্রাম। তখন এতটা আন্দাজ বেলা নয়টা হল। তখনও পথ চলেছি। রাস্তা যেন শেষ হয় না। একটা জিনিস খেয়াল করলাম — ওই অশরীরী মেয়েলি কণ্ঠ আমি ছাড়া আর কেউ শুনতে পাচ্ছে না।

যাই হোক, এরপর এক মেঠো পথে চলতে থাকলাম। রাস্তাটা নির্জন। রাস্তাটা যেখানে শেষ, সামনে একটা শ্মশান। এবার অশরীরী কণ্ঠ আমাকে বলল, "সোজা এগিয়ে যা। আরও খানিকটা এগোলে মা ছিন্নমস্তা ও শ্মশান কালীর মন্দির পড়বে। তার সামনে শ্মশানের চুল্লি। ঐ চুল্লি না জ্বললে মায়ের পূজো হয় না। মায়ের মন্দিরের পাশে একটা বটগাছের নিচে পর্ণকুটির আছে। সেটাই তোর গন্তব্য। ওখানে কেউ তোর জন্য অপেক্ষা করছে। এবার আমার কাজ শেষ। পরে দেখা হবে তোর সাথে, তবে অন্যভাবে।"

এই বলে সে কণ্ঠস্বর বন্ধ হয়ে গেল।

শ্মশানের মাটি মাথায় ঠেকিয়ে প্রবেশ করলাম। জনমানবহীন এলাকা। ছোট গ্রাম্য শ্মশান। চারপাশে বড় বড় গাছের জঙ্গলে ভর্তি। মনে হল যেন গাছগুলো হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছে। ঝোপঝাড় প্রচুর। সম্পূর্ণ নির্জন জায়গা। আমি এগোতে লাগলাম। পাশ দিয়ে একটা সরু নদী বয়ে যাচ্ছে। নদীর জল স্থির। উজ্জ্বল সূর্যালোক। কোনো দিকে না তাকিয়ে আমি না থেমে চলতে লাগলাম দ্রুত গতিতে।

একটু এগিয়ে সামনেই সে মন্দির। তার উল্টো দিকে চুল্লি। রাতে হয়তো দাহকার্য হয়েছে কারো। একটা জলসমেত ভাঙা কলসী পড়ে আছে। ছেঁড়া লেপ, কাঁথা, বালিশ, ফুলের মালা পড়ে রয়েছে আশেপাশে। মন্দিরটা মনে হয় অনেক পুরনো। তাই ফাটধরা জায়গায় জায়গায়। মন্দিরটা তখন বন্ধ ছিল। মনে হয় সকালে পূজো হয়েছে।

যাই হোক, প্রণাম করে মাথা তুলতেই একটু দূরে সেই জরাজীর্ণ বটগাছ ও তার নীচে অশরীরী কণ্ঠে বলা পর্ণকুটিরটি চোখে পড়ল। ভাঙাচোরা কুটিরের ওপরের অংশ খড় আর লতাপাতায় ছাওয়া। চারদিকে দরমার বেড়া। তার কাঠের দরজা খোলা, আর ওটাই আমার গন্তব্যস্থল। দ্রুত এগিয়ে গেলাম সেদিকে।

কুটিরের দাওয়াতে পা রাখতেই ভিতর থেকে একটা গুরুগম্ভীর ভরাট কণ্ঠস্বর ভেসে এলো — 'ভেতরে আয়, কপিল। দরজা খোলা আছে।'

অবাক হয়ে গেলাম! ভিতরে যে আছে সে জানাল কী করে আমি এসেছি! যাই হোক, দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই চোখে ধাঁধা লেগে গেল। ঘরের ভেতরে জমাট বাঁধা অন্ধকার। বাইরে আলোর জোয়ার। বেলা আন্দাজ দশটা-এগারোটা হবে। ভিতরে এরকম কেন?

যাই হোক, অন্ধকারে চোখ সয়ে গেলে দেখলাম ঘরের ভেতরে একটা ঘিয়ের প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলছে। তার আলোয় দেখলাম ঘরের ঠিক মধ্যিখানে একজন বৃদ্ধ তান্ত্রিক বাবা বসে আছে। হাড়জিরজিরে জটাজুটধারী মানুষটির শরীর মাটির সঙ্গে প্রায় মিশে গেছে। শুধু বুকের দিকে একঝলক তাকিয়ে দেখলাম সেটা ওঠানামা করছে। পরনে তাঁর লাল বসন। কপালে রক্ততিলক।

তিনি স্নেহভরে আমাকে কাছে ডেকে বললেন, "আয় বাবা, তোর অপেক্ষায় আমি বসে আছি। আমার আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। তুই তন্ত্রশিক্ষার জন্য উপযুক্ত ও পারদর্শী। তাই শিষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমার সব বিদ্যা তোকে শিখিয়ে দিচ্ছি। ভালো করে শিখে নে। এসব মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রয়োগ করবি। ভুলেও কোনো খারাপ কাজে লাগিয়েছিস কি তোর মৃত্যু অনিবার্য।

এখন যা শেখাবো মন স্থির করে শিখে নে। আর আমি তোকে একটা তালপাতার পুঁথি দিয়ে যাব। রোজ সকালে স্নান সেরে কাপড় ছেড়ে আগে ঠাকুরের পূজো করে নিবি। তারপর খাগের কলম আলতায় ডুবিয়ে আমার শেখানো মন্ত্র তাতে লিখবি। এটা তোর গুরু-মন্ত্র হবে। কাউকে এর উল্লেখ করবি না। নে, বোস এবার। তোকে সব শিখিয়ে দিই।"

ওনাকে প্রণাম করে পাশে রাখা কম্বলের আসনে বসলাম। আন্দাজ বেলা এগারোটা। নির্জন জায়গা। আমার কেমন শীত শীত করে উঠলো। গা শিউরে উঠল। ভয়ও লাগছিল। তান্ত্রিক মানুষ। বলি দেবে না তো কালীমন্দিরের সামনে!

কিন্তু কিছু করার নেই। অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছি। পালাবার পথ বন্ধ। প্রদীপের আলো ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শুধু আমি আর তান্ত্রিক বাবা যেন জীবন্ত, বাকি সব মৃত।

যাই হোক, উনি অনেক কিছুর ব্যাখ্যা করলেন। বললেন, "জানবি, তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী এই বিশ্ব হল মহাকাল শিব ও মহাকালীর দিব্যলীলা। তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বিবরণ আছে, তার প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্ত করা। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ তন্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা করে। তন্ত্র-মন্ত্র, মারন, উচাটন, বশীকরণের নাম হয়তো শুনে থাকবি। এগুলো মোটেও কিন্তু হেসে উড়িয়ে দেবার বিষয় নয়। প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে ও লিপিতে এর উল্লেখ আছে।"

আরও অনেক কিছু গুরুদেব আমাকে বলছিলেন। আমার মতো লোক, যে কিনা এতদিন গাড়ি চালানো নিয়ে কারবার করেছে, কীভাবে যে এসব আয়ত্ত করলাম — মা কালীই জানেন। সাধনপদ্ধতির সবকিছু খুলে বলতে নেই। কিছু মনে করবেন না, বাবু।

সারাদিন তান্ত্রিক বাবার কাছে অনেক কিছু শিখলাম। শিক্ষা যখন শেষ হল, তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে কারণ তান্ত্রিক বাবা বললেন, "রাত অনেক হয়ে গেছে, কপিল। তোর অনেক পরিশ্রম হয়েছে। এবার খেয়ে শুয়ে পড়। কাল তোকে রওনা দিতে হবে।"

এই বলে কাউকে হাঁক দিয়ে ডাকলেন, 'কোথায় আছো? এস এবার।'

বাইরে শ্মশানভূমি থেকে শিবা রব ভেসে আসছিল। হঠাৎই দেবীর মতো সুন্দর এক তরুণী হাসিমুখে একটা থালা হাতে নিয়ে যেন অন্ধকার ভেদ করে প্রকট হলেন। প্রদীপের আলোয় দেখলাম, তাঁর পরনে লাল পাড় সাদা সাড়ি, গলায় মোটা বিছে হার, সিঁথিতে সিঁদুর, পায়ে আলতা, হাতে শাঁখা-পলার সাথে মোটা সোনার কঙ্কন। সেগুলো প্রদীপের আলোয় ঝলমল করছে, বিশেষ করে গলায় সোনার বিছে হারটা।

আমার সামনে তিনি থালাটা রাখলেন। সঙ্গে সঙ্গে একটা সুমিষ্ট সুগন্ধ নাকে এলো। থালায় নানা ধরনের খাবার সাজানো। খুব খিদে পেয়ে গেছিল। চটজলদি খেতে শুরু করলাম। কিন্তু খাবার জল ছিল না। আমার অতটা মনেও ছিল না। খেয়ে উঠে কুটিরের দাওয়াতে হাত ধুতে বেরোলাম।

বাইরে গাছের সমারোহে জমে আছে চাপ অন্ধকার। গাছের মাথার ওপর ডালপালার ফাঁক গলে চাঁদের আলো আসছে। নিস্তব্ধ রাত। ঝোপঝাড়ে জোনাকির আলো হীরে-মানিকের মতো জ্বলছে। দূরে জঙ্গলে শেয়াল ডাকছে। সামনে শ্মশান। শ্মশান কালীর মন্দিরে হয়তো সন্ধ্যেবেলায় পূজো হয়েছিল। খুব আবছা একটা আলো-আঁধারি পরিবেশ তান্ত্রিক বাবার কুটিরের দাওয়া থেকে দেখা যাচ্ছে। হয়তো আলোটা প্রদীপের। একটা ভুতুড়ে ভয়াল পরিবেশ।

বাইরে একটা বালতিতে জল ছিল। তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে ভিতরে ঢুকে গেলাম। এসে দেখি সেই অল্পবয়সী মেয়েটি আর নেই। এই অল্প সময়ে সে গেল কোথায়?

তান্ত্রিক বাবা বললেন, "নে, এবার শুয়ে পড়। অনেক ধকল গেছে তোর ওপর দিয়ে।"

আমি ওনাকে মেয়েটির ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই উনি ধ্যানে মগ্ন হয়ে গেলেন। যাই হোক, কথা না বাড়িয়ে সামনে রাখা একটা চাটাই বিছিয়ে আমি শুয়ে পড়লাম। শোয়া মাত্রই ঘুম। রাতে আর কিছু ঘটনা ঘটেনি।

পরদিন একটু বেলা করেই ঘুম ভাঙলো। উঠে দেখি তান্ত্রিক বাবা তখনও ধ্যানস্থ অবস্থায় রয়েছেন। আমি বাইরে গিয়ে দাওয়াতে রাখা সে বালতির জলে মুখ ধুয়ে এলাম। বাইরে আলোর জোয়ার। দেখে মনে হচ্ছে না, কাল রাতে অমন ভয়াল ভয়ঙ্কর অবস্থা ছিল। যাই হোক, ততক্ষণে ওনার ধ্যান ভেঙেছে। সে অল্পবয়সী মেয়েটির দেখা আর পেলাম না। বাইরে আলো হলেও ভিতরে সেই আলো-আঁধারি অবস্থা।

তান্ত্রিক বাবাকে প্রণাম করে ওনার দেওয়া সমস্ত জিনিসপত্র একটা পুঁটলিতে বাঁধলাম। এবার ফেরার রাস্তা উনিই বলে দিলেন। সেই পথে বেরিয়ে শ্মশানের মা ছিন্নমস্তা ও মা কালীর মন্দিরে একবার প্রণাম করে হাঁটতে লাগলাম।

শ্মশান থেকে বেরিয়ে তান্ত্রিক বাবার কথামতো ডানদিকের রাস্তায় চলতে থাকলাম। বেশ কিছুটা হাঁটার পর খুব জলতেষ্টা পেল। মনে পড়ল, কাল রাত থেকে জল খাওয়া হয়নি। আর একটু এগিয়ে একটা গ্রাম পড়ল। সেখানে একটি কুয়োকে ঘিরে মেয়েদের ভিড়। কেউ বাসন মাজছে, কেউ কাপড় ধুচ্ছে, কেউ কুয়ো থেকে জল তুলছে। ওদের একজনকে বলতে সে আমার হাতে একটা গ্লাস তুলে দিল। দু-চার গ্লাস জল ঢকঢক করে খেয়ে শান্তি হল।

একজন মহিলা বলল, "তুমি কি খেয়েছ যে এত জল খাচ্ছ?"

আমি বললাম, "আপনাদের গ্রামের শেষে শ্মশানে যে বাবা থাকেন, ওখানে কাল রাতে ছিলাম। ওখানেই একজন মাঈজি আছেন। উনি রাতে অনেক কিছু খাওয়ালেন, কিন্তু জল দেননি। সেজন্য হয়তো এত তেষ্টা পেয়েছিল।"

আমার কথা শুনে মহিলারা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। একজন বলল, "ঐ শ্মশানে পর্ণকুটিরে যে বাবা থাকেন, তার কথা বলছ?"

আমি বললাম, "হ্যাঁ গো। ওখানেই তো কাল রাতে ছিলাম আমি।"

সেই মহিলা আবার বলল, "সেকী? ওখানে তো কোনো স্ত্রীলোক থাকে না। আমরাও ঐ শ্মশানের মন্দিরে পূজো করতে যাই মাঝে মাঝে। কিন্তু কোনো দিন কোনো স্ত্রীলোককে তো দেখিনি! তুমি তবে কার কথা বলছ, পরদেশী?"

আমার মাথায় কেমন গোলমাল হয়ে গেল। কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা শ্মশানপানে দৌড় দিলাম।

এক দৌড়ে শ্মশানে এসে তান্ত্রিক বাবার কুটিরের কাছে থামলাম। কাল ঠিকমতো খেয়াল করিনি। আজ দেখলাম কুটিরের সামনে দাওয়ার একপাশে ত্রিশূল পোঁতা মাটির বেদী। মাটির তৈরি বেদীর উপর শুকনো জবা ফুল ছড়ানো। সিঁদুরের চিহ্নও রয়েছে জায়গায় জায়গায়।

বার দুয়েক 'গুরুদেব, গুরুদেব' বলে ডাকলাম। ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পেলাম না। সাহসে ভর করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। কালকের মতো আজ আর ঘরটা অন্ধকার নয়। পিছনের দিকে দুটি জানলা খোলা। বেশ আলো রয়েছে ঘরে। কিন্তু তান্ত্রিক বাবা নেই। ঘরে পূজোর জিনিস ছাড়া কোনো আসবাবপত্র নেই।

ঘুরে চলে আসছি, হঠাৎ করেই একটা জিনিস দেখে চোখ কপালে উঠে গেল। দেখি ঘরের ভেতরে দেওয়ালের দিকে একটা বেদীর উপরে একটা কঙ্কাল বসে রয়েছে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখি তার পরনে কালকে রাতে মেয়েটির মতো ঘোমটা দেওয়া লাল পাড় সাদা সাড়ি, কপালে সিঁদুর, হাড়পায়ে আলতা। সেখানে সিঁদুর মাখানো বেশ কয়েকটি নরকরোটি আছে। ভালো করে গুনে দেখলাম পাঁচটি। তন্ত্রসাধনাতে পঞ্চমুণ্ডির আসনের কথা গুরুদেবের কাছে শুনেছি। এটা সেই। এখানে বসে শবসাধনা হয়। এটা গুরুদেবের সাধনাস্থল হবে।

একটা জিনিস দেখে অবাক হলাম, যখন দেখলাম বসে থাকা কঙ্কালের গলায় কালকে রাতে দেখা তরুণীর বিছে হার, হাতে শাঁখা-পলার সাথে সোনার কঙ্কন। আমার তখন কাঁচা বয়স, বাবু। চোখে ভুল একবারেই দেখিনি। জানলা দিয়ে রোদ এসে তার গায়ের উপর পড়েছে। তাতেই গয়নাগুলো ঝলমল করছে।

মনে কেমন একটা সন্দেহ হল — এই কঙ্কাল কাল রাতে দেখা ঐ তরুণীর নয় তো! কিন্তু এটা যদি ঐ মেয়ের কঙ্কাল হয়, তাহলে কাল রাতে তাকে জীবিত দেখলাম কীভাবে? আমার মাথাটা কেমন ঘুরে গেল। হঠাৎ একটা ভয় লেগে গেল। গোটা শরীরের রোম খাড়া হয়ে গেল। বুঝলাম এ বড় সাংঘাতিক জায়গা। বেশিক্ষণ এখানে থাকা ঠিক নয়। সেজন্য দ্রুত পায়ে সে ঘর ত্যাগ করে হাঁটতে লাগলাম। আর পেছনে ফিরে তাকাতে সাহস ছিল না।

এরপর শুরু হয় আমার তন্ত্রশিক্ষার জীবন। তান্ত্রিক বাবা মানে আমার গুরুদেবের দেখানো পথে সব নতুন করে শুরু করলাম। তখন থেকে শ্মশান-মশানেই থাকতাম। তপ, ধ্যান, যোগ আর লোককল্যাণে দিন কাটতে লাগল। কিন্তু মন থেকে সেই সজ্জিত কঙ্কালটির কথা মুছে যায়নি। ওটা যদি ঐ মেয়ের হয়, তাহলে সেদিন রাতে জীবিত অবস্থায় তাকে দেখলাম কীভাবে?

আরও ভাবতাম — প্রথম যখন তান্ত্রিক বাবার কুটিরে ঢুকেছিলাম, তখন তো তাকে দেখিনি! অবশ্য সেসময় জানলা বন্ধ ছিল। ঘরে একটা প্রদীপ ছাড়া আর কিছু জ্বলে নি। সেজন্য হয়তো চোখে পড়ে নি। কিন্তু ওই কঙ্কালের সাজসজ্জা অবিকল সেই তরুণীর মতো। গলার বিছে হার, হাতের কঙ্কন তার প্রমাণ দিচ্ছে। কী রহস্য আছে এর পেছনে?

এই প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়িই পেলাম। একদিন গভীর রাতে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তান্ত্রিক বাবা আমাকে দর্শন দিলেন। জানালেন, তিনি দেহ রেখেছেন। আর সেদিন যে কঙ্কাল দেখেছি, সেটি ওনার বামা স্ত্রীর, ওনার সাধনসঙ্গিনী। তন্ত্রসাধনার সময় নারীর উপস্থিতি লাগে। যার ঐ কঙ্কাল, তিনি জীবিত অবস্থায় ব্রাহ্মণের কন্যা ছিলেন। পাশের গ্রামেই ওনার বাড়ি ছিল। সুলক্ষণযুক্ত ছিলেন। কিন্তু মাত্র ষোল বছর বয়সে কালাজ্বর আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আঠারো বছরের আগে যেহেতু দাহ করার নিয়ম নেই, তাই ওনাকে ওই শ্মশানেই সমাধিস্থ করা হয়।

তখন তান্ত্রিক বাবা ওখানেই অবস্থান করছিলেন। তাঁর তখন সাধনার জন্য এরকম একটা সুলক্ষণা দেহ দরকার ছিল। যোগবলে সব কিছু উনি জেনেছিলেন। ওকে সমাধিস্থ করার বেশ কয়েক মাস পর তান্ত্রিক বাবা কঙ্কাল উদ্ধার করে নিজের কুটিরে নিয়ে আসেন। বিভিন্ন উচ্চমার্গের সাধনার সাথে শবসাধনা করেছেন তিনি। ভূত-প্রেতাত্মার সংস্পর্শ ছিল তাঁর। বিশেষ ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে এই জগতের সঙ্গে পারলৌকিক জগতের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতে পারতেন। সেভাবেই কঙ্কাল শরীরে প্রাণ সঞ্চার করে নানাবিধ সাধনার কাজে লাগাতেন।

যে অলৌকিক কণ্ঠস্বর আমাকে তান্ত্রিক বাবার কাছে নিয়ে গেছিল, সেটা ঐ মেয়েরই ছিল। সেজন্য বলেছিল সে কে সেটা পরে জানলেও চলবে। আর তান্ত্রিক বাবার কুটিরে ঐ কঙ্কালটির গায়ের শাড়ি, গয়না ও সাজসজ্জা অবিকল সেই তরুণীর মতো কেন ছিল, তাও বুঝতে পারলাম। সেজন্য বলেছিল আমার সাথে ওর পরে দেখা হবে, তবে অন্যভাবে।

এরপর নানা জায়গায় ঘুরেছি, সাধনা করেছি। অনেক কিছু উপলব্ধি করেছি, শিখেছি। বছর চারেক আগে বাবা-মাকে প্রণাম করতে কলকাতা গেছিলাম। ওনারা আর কেউ বেঁচে নেই। ভাইদের নিজস্ব সংসার হয়েছে। ওদের আশীর্বাদ করে এলাম। অবশেষে তোমাদের এখানে হাজারীবাগে এসে পড়লাম।

তবে একটা কথা বিশ্বাস করি। তান্ত্রিক বাবাকে গুরু হিসেবে পেয়ে আমি ধন্য। সাধনার সর্বোচ্চ স্তরে তিনি যেতে পেরেছেন বলেই এত বড় অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন। মৃত মানুষের কঙ্কাল শরীরের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা সোজা কথা নয়। তুমি আমি সাধারণ মানুষ, তাঁকে কী বুঝব, ম্যানেজার বাবু বলতে পারেন?"

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে কপিল বাবা এবার তাঁর শ্রোতাদের দিকে তাকালেন। বৌদির ছোট বোনটা তার কোলে ঘুমিয়ে গেছে। একটু হেসে দেখলেন সবাই গায়ে গা দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর কথা শুনছে। একটু গলা খাকারি দিয়ে বললেন, "অনেক রাত হয়ে গেছে। আমাকে ও ডেরায় ফিরতে হবে। সবাই মা কালী আর ছিন্নমস্তা মায়ের ইচ্ছায় ভালো থাকো।"

এই বলে কপিল বাবা তাঁর কাহিনীর ইতি টানলেন।




আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top