একা একা ব্যাংকক থেকে ঘুরে এসেছি শুনে তাড়ু-মামা খুব নিরীহ মুখ করে প্রশ্ন করল, "কেমন এনজয় করলি?"
আমি একগাল হেসে বললাম, "দারুণ! চান্স পেলে আবার যাবো।"
উত্তরে তাড়ু-মামা দুষ্টু দুষ্টু মুখ করে বাঁ চোখটা মেরে একটা মুচকি হাসি দিল। তারপর বললো, "একশোবার যাবি তুই। এই তো যাওয়ার বয়েস।"
ব্যাংককে যাওয়ার সঙ্গে আমার বয়েসের সম্পর্কের অংকটা বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো। তারপর চমকে উঠলাম। হায় কপাল, সমাজে আমার এই মর্যাদা! যে লোক আমায় জন্ম থেকে চেনে, সেও আমায় শুধু সন্দেহই করছে না, একেবারে নিশ্চিত হয়ে আছে, যে ব্যাংককে আমি কোনো কুকাজেই গেছি।
এয়ারপোর্টের প্রিপেইড ট্যাক্সি কাউন্টারের লাইনে অপেক্ষা করতে করতে এইসব ভাবছি। তাড়ু-মামা তারমধ্যেই পরের প্রশ্নটা ছুঁড়ে মারলো — "তা, কত উড়িয়ে এলি?"
"উড়িয়ে তো ছি বেশ কিছু। আমি নিজেও উড়েছি বেশ খানিকটা। কিন্তু ব্যাংককে নয়, পাট্টায়াতে। ছবি দেখবে?" বললাম আমি।
এর ফাঁকে বলে রাখি তাড়ু-মামার আসল নাম তরুণ চক্রবর্তী। আমার মায়ের বাপের বাড়ির পাড়ায় থাকে। অবিবাহিত, বয়েস ৪৪, মায়ের চেয়ে অনেকটাই ছোট। আমার মায়ের এক বোন, কোনো ভাই নেই। আর তাড়ু-মামাও বংশের একমাত্র সন্তান। তাই প্রতিবছর মা আর মাসি তাড়ু-মামাকে ভাইফোঁটা দেয়।
ছবি দেখার প্রস্তাবে তাড়ু-মামা একটু ইতঃস্তত বোধ করলো। "ছবি তুলেছিস? তুই কি সত্যি ওসব করতে গেছিলি নাকি? আমি তো জাস্ট তোর টাঙ্গ খিঁচ্ছিলাম রে!"
তাড়ু-মামার বাংলাতে ইংরেজি, হিন্দি মিশতে শুরু করেছে। মানে বেশ ভালোই ঘাবড়ে গেছে। আমি এবার শান্তি পেলাম। যাক, আমার রেপুটেশন একেবারে ডে-টল সাবান দিয়ে ধোয়া − ৯৯.৯৯% পরিষ্কার।
পকেট থেকে এবার মোবাইলে ফোনটা বের করে মামাকে পাট্টায়াতে আমার ওড়ার থুড়ি প্যারাসেলিং করার ছবিটা দেখিয়ে দিলাম। তারপর এক এক করে ব্যাংককে আমার তোলা অন্যান্য ছবিগুলোও দেখালাম। তার মধ্যে আমার পছন্দের কিছু ছবি আপনাদের সাথেও শেয়ার করছি —
ছবি গুলো তুলেছিলাম 'সী লাইফ ব্যাংকক ওশান ওয়ার্ল্ড' এবং 'সাফারি ওয়ার্ল্ড পার্ক ব্যাংকক'-এ। কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।