Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
গুরু দত্ত, এক পতিতার কাহিনী, ও একটি অসমাপ্ত বাংলা সিনেমা

একটা গল্প শুনবেন? একজন পতিতার ভালোবাসার গল্প? শোনাই তাহলে...

এক যে ছিল ভাস্কর। তরুণ, সচ্ছল, প্রতিভাবান। মায়াবী মুখ, গভীর চোখ, খানিকটা যেন বিষন্ন, খানিকটা আবার স্বপ্নালু। সংসার বলতে বাবা-মা, আর তাল তাল মাটি! ভাস্কর সেই মাটি দিয়ে বানায় প্রতিমা, আর সেই প্রতিমা দিয়ে হয় বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব — দূর্গা পূজা।

ভাস্করের বাবা-মা চান ছেলে এবার বিয়ে করুক। ভাস্কর জানায় সেই বছর তার উপার্জন যদি ভালো হয়, সে বিয়ে করতে রাজি আছে।

সেই বছর দূর্গা প্রতিমা বিক্রি করে তার আশাতীত উপার্জন হলো! বন্ধুরা চেপে ধরলো ভাস্করকে, এতো টাকা রোজগার হয়েছে, এর অন্তত একটা অংশ আনন্দ উত্তেজনার পেছনে ব্যয় করা উচিত! জীবন তো একটাই।

বন্ধুরা সেই ভাস্করকে নিয়ে গেলো এক পতিতাপল্লীতে। সেখানে একটা ঘরের মধ্যে তাকে একরকম ঠেলেই ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।

অন্ধকার ঘর। ভাস্কর কিছু দেখতে পায় না। শুধু শুনতে পায় কান্নার শব্দ। একটি মেয়ের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কাদঁতে কাঁদতেই মেয়েটি প্রদীপ জ্বালায়। প্রদীপের আলোয় কিছুটা স্পষ্ট হয় মেয়েটির অবয়ব। তার আলোআঁধারে মেশা মুখের দিকে তাকিয়ে ভাস্কর চমকে ওঠে! এ যেন তারই বানানো দুর্গাপ্রতিমা — গৌরী!

ভাস্কর ভালোবাসে ফেলে মেয়েটিকে। হয়তো সেই প্রথম দেখার মুহূর্তে, হয়তো বা মেয়েটির অতীতের গল্প শুনতে শুনতে কোনো একটা সময়ে। হয়তো বা তাদের দেখা হওয়ার বহু আগেই বিধাতার ইচ্ছায় এই ভালোবাসার ভিত্তিস্থাপন হয়েছিল, নয়তো ভাস্কর কেন গিয়ে পৌঁছবে মেয়েটির ঘরে?

এতটা পড়ে কি মনে হচ্ছে সিনেমার গল্প লিখছি?

আসলে এটা ঠিক তাইই। তবে সিনেমাটা আর তৈরী হয়ে ওঠে নি। দুটি দৃশ্য শ্যুট হয়ে গেছিলো। দুটো গানের রেকর্ডিং হয়ে গেছিলো। তৈরী হলে এটি ভারতের প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি হতে পারতো। গুরু দত্ত পরিচালিত ও অভিনীত প্রথম বাংলা ছবি হতে পারতো। তাঁর স্ত্রী স্বনামধন্যা গায়িকা গীতা দত্ত অভিনীত প্রথম ছবি হতে পারতো। কিন্তু গুরু দত্ত শেষ পর্যন্ত ছবিটি আর শেষ করলেন না।

গুরু দত্ত — ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর শৈল্পিকতা নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। তাঁর সিনেমার ভাষা হিসেবে melancholy বা বিষণ্ণতার ব্যবহার, চিত্রায়নে দীর্ঘ ক্লোজ-আপ শটের ব্যবহার, আলোকসজ্জায় আলো, ছায়া এবং contrast-এর নাটকীয় ব্যবহার যাতে আলোর চেয়ে ছায়াই বেশি (সিনেমাটিক ল্যাঙ্গুয়েজে noir), এবং হিরো-হিরোইন-ভিলেন-এর চিরাচরিত সাদা-কালো চরিত্রগুলোর পরিবর্তে সাদা-কালো-ধূসর মেশানো জটিল চরিত্র সৃষ্টি যাতে এন্টাগোনিস্ট-প্রোটাগোনিস্ট-এর মূল চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলো সব মিলেমিশে গেছে — সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা এই অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, লেখকের প্রত্যেকটি ছবি এক একটি অসামান্য শিল্প।

১৯২৫ সালের ৯ই জুলাই ব্যাঙ্গালোরে (বর্তমান বেঙ্গালুরুতে) জন্ম নেন বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন। ছোটবেলায় একবার একটি দুর্ঘটনার কবলে, এবং আর একবার গুরুতর জ্বরে পড়েন তিনি। বাবা শিবশঙ্কর রাও পাড়ুকোন ও মা বাসন্তী পাড়ুকোন তখন ছেলের নতুন নামকরণ করলেন গুরুদত্ত পাড়ুকোন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল এই নাম পরিবর্তন ছেলের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। পরবর্তীকালে গুরুদত্ত পাড়ুকোন নিজের পদবীটি ছাঁটাই করে গুরু দত্ত হিসাবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। সে নামে তিনি এতটাই খ্যাতনামা, যে তাঁর বংশধররা আজও পাড়ুকোন নয়, দত্ত পরিচিতি বহন করছে।

বাংলার সাথে, বিশেষ করে কলকাতার সাথে, গুরু দত্তের গভীর সম্পর্ক ছিল। ছোটবেলায় ভবানীপুরে কাটিয়েছেন অনেকগুলি বছর। তাঁদের বাড়ির কাছে প্রায়শই যাত্রা হতো, তিনি বাংলা যাত্রার বিশেষ ভক্ত ছিলেন। ঝরঝরে বাংলা বলতেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ছিল। 'সাহিব, বিবি অউর গুলাম' বা 'পিয়াসা'র মতো critically acclaimed ছবিগুলির গল্প, পটভূমি ও চরিত্রগুলির মাধ্যমে তিনি তাঁর সেই বাংলাপ্রীতির পরিচয় বার বার দিয়েছেন। শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও তাঁর কাছের মানুষ ছিলেন সাহিত্যিক বিমল মিত্র ও চিত্রনাট্যকার নবেন্দু ঘোষের মতো বাঙালি গুণীজনেরা। ভালোবেসে বিয়েও করেছিলেন এক বাঙালিনীকে — গীতা রায়, বিয়ের পর গীতা দত্ত।

নবেন্দু ঘোষ (পরিণীতা, দেবদাস, লাল পাত্থর, অভিমান প্রভৃতি ছবির চিত্রনাট্যকার) আত্মজীবনী 'একা নৌকার যাত্রী'তে গুরু দত্তের সাথে তাঁর প্রথম আলাপের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে লিখেছেন যে পদবি হিসাবে দত্ত'র ব্যবহার ও পরিষ্কার বাংলা বলতে পারার কারণে তিনি গুরু দত্তকে বাঙালিই ভাবতেন। গীতা দত্ত (সেই সময় গীতা রায়) -র ভাই মুকুল রায় যখন তাঁকে বলেন যে গুরু দত্ত বাঙালি নন, তিনি যারপরনাই অবাক হয়েছিলেন!

গুরু দত্ত কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর বাবা রেলে চাকরি করতেন, বহু বছর ধরে বাংলার অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে, বেশ কিছুদিন তিনি পুরুলিয়ায় স্টেশন মাস্টার ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই, পুরো স্কুলজীবনে বাংলাই গুরু দত্তর প্রথম ভাষা ছিল। তাই মাতৃভাষার চেয়ে বাংলা ভাষায় তাঁর দখল বেশি। জন্মসূত্রে হয়তো তিনি কোঙ্কানি, কিন্তু 'জন্ম' তাঁর বাংলায়।

শুনে নবেন্দু ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, "তাহলে তো তুমি কোঙ্কানি বাঙালি।”

গুরু দত্ত দু'দিকে মাথা নেড়ে বলেছিলেন, “না, আমি বাঙালি কোঙ্কানি।”

তো এই বাঙালি কোঙ্কানি গুরু দত্ত ও বাঙালিনী গীতা রায়ের প্রথম দেখা হয় ১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'বাজি' ছবির সেটে। ছবির নায়ক দেব আনন্দ, পরিচালক তাঁর পরম বন্ধু গুরু দত্ত। প্রভাত ফিল্ম কোম্পানিতে স্ট্রাগল করার দিনগুলোতে দেব আনন্দ ও গুরু দত্ত একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁদের মধ্যে যে প্রথমে সফল হবে, সে অন্যজনকে ব্রেক দেবে। নিজের ভাই চেতন আনন্দের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েও দেব আনন্দ বন্ধুকে দেওয়া সেই কথা রেখেছিলেন তাঁর নবনির্মিত প্রযোজনা সংস্থা 'নবকেতন'-এর প্রথম ছবি 'বাজি' পরিচালনার দায়িত্ব গুরু দত্তকে দিয়ে। 'বাজি' বক্স অফিসে সাফল্য তো পেয়েইছিলো, ছবির গানের রেকর্ডও বিক্রির রেকর্ড ভেঙেছিল। এস ডি বর্মনের সুরে, সাহির লুধিয়ানভীর কথায়, এ ছবির বেশিরভাগ গান গেয়েছিলেন গীতা রায়। সবকটি গান সুপারহিট। বিশেষকরে "তদবির সে বিগড়ি হুই তকদীর বনা লে" গানটি আজও সমান জনপ্রিয়।

২৫ বছরের গুরু দত্ত আর ২০ বছরের গীতা রায় সেই ছবি করতে করতে একে অপরের প্রেমে পড়লেন। বাড়ির অমতেই গীতা সম্পর্ক গড়েন গুরু দত্তের সাথে। শুরুতে ওঁরা বিয়ে করে কিছুদিন বেশ ভালোই ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সুখের ঘরে দুর্ভাগ্য এসে কড়া নাড়লো একদিন।

তিন সন্তান হয় তাঁদের। তরুণ, অরুন, নীনা। বিয়ের আগে গুরু দত্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁদের বিয়ের পরেও গীতা স্বাধীনভাবে গান গাইবেন। কিন্তু বিয়ের পর তিনি চাইলেন যে তাঁর স্ত্রী কেবল তাঁর প্রযোজিত বা পরিচালিত ছবিতেই গান গাইবেন, আর পাশাপাশি পরিবার এবং বাড়ির যত্ন নেবেন।

গুরু দত্তের বোন ললিতা লাজমির মতে গীতা দত্তকে নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রচেষ্টাই তাঁদের সম্পর্কে প্রথম চিড় ধরায়। প্রতিটি সফল ছবির মাধ্যমে, গুরু দত্ত খ্যাতি অর্জন করে চলেছিলেন। অপরদিকে গীতা ক্রমশ আটকে পড়ছিলেন সংসারের বেড়াজালে। গুরু দত্ত তাঁর কাজে এতো সময় দিতে থাকলেন যে পরিবারকে দেওয়ার জন্য সময় তাঁর প্রায় রইলোই না। ধীরে ধীরে গীতা দত্তের সাথে তাঁর মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকলো। ফাটল ধরলো সম্পর্কে। আর সেই ফাটল ধরে গুরু দত্তের জীবনে প্রবেশ করলেন নতুন এক নারী — ওয়াহিদা রহমান।

ওয়াহিদা রহমান আর গুরু দত্তের সম্পর্ক ঠিক নারী পুরুষের চিরাচরিত প্রেমের সংজ্ঞায় ফেলা যাবে কিনা, তাই নিয়ে দ্বিমত আছে। কারোর মতে ওয়াহিদা ছিলেন গুরু দত্তের প্রেরণা, কারোর মতে নিবিড় প্রেম। একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদা রহমান বলেছিলেন, "আমাদের ভালোবাসা নিখুঁত ছিল না, কিন্তু বাস্তব ছিল। সিনেমার প্রতি আমাদের আবেগ এবং একসাথে সুন্দর কিছু তৈরি করার আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া ভালোবাসা।"

গীতা দত্ত, গুরু দত্ত ও ওয়াহিদা রহমানের মতো গুণীশিল্পীদের সম্পর্কের নৈতিকতা নিয়ে সমালোচনা করার দুঃসাহস আমি দেখাবো না। কারণ তাঁদের আবেগ, অনুভূতি, উপলব্ধি, সংবেদনশীলতার সঠিক পরিমাপ করার যোগ্যতা বা ক্ষমতা কোনোটাই আমার নেই। কিন্তু তাঁদের এই না হওয়া বা হয়েও ভেঙে যাওয়া সম্পর্কগুলোর অন্তিম পরিণতির সাথে, ছবিতে অভিনীত তাঁদের চরিত্রগুলোর যে অদ্ভুত সাদৃশ্য আছে, তা আমাকে বিস্মিত করে!

'পিয়াসা'র বিজয় এবং 'কাগজ কে ফুল'-এর সুরেশ সিনহা হয়তো গভীরভাবে ব্যক্তিগত। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই গুরু দত্ত অভিনীত এই চরিত্রগুলোকে সংবেদনশীল, আদর্শবাদী শিল্পী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যারা এই বাণিজ্যিক পৃথিবীতে শৈল্পিক স্বাধীনতার গ্রহণযোগ্যতা খুঁজতে নিজেদের অস্তিত্বের সাথেই সংগ্রাম করছে। কিন্তু গীতা দত্তর পরিণতিও যে 'সাহিব, বিবি অউর গুলাম'-এর 'ছোটি বহু'র মতো মর্মান্তিক হবে, তা কি কেউ ভেবেছিলো? নাকি সেই সাদৃশ্যও স্বেচ্ছায়?

মাত্র ৪১ বছর বয়েসে সিরোসিস অফ লিভার হয়ে মারা যান গীতা দত্ত। একাকিত্ব ঘোচাতে অত্যাধিক মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি, হুবহু মীনা কুমারী অভিনীত চরিত্রটির মতো! এর বছর আষ্টেক আগেই মাত্র ৩৯ বছর বয়েসে মারা গেছেন গুরু দত্ত। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুও অনেক প্রশ্ন রেখে গেছে। মদের সাথে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি ইনসমনিয়ার ভুগতেন। তাই তাঁর মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, না আত্মহত্যা, শুধু জল্পনা করা যায়। অনেকটা যেন 'কাগজ কে ফুল'-এর সুরেশ সিনহার অন্তিম পরিণতির মতো। ছবিতে একাকিত্বে তলিয়ে যাওয়া সেই পরিচালকের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসাবে দেখানো না হলেও, মৃত্যুর কারণটা ইন্টারপ্রিটেশন-এর জন্য উন্মুক্ত রেখে দেওয়া হয়েছে।

আত্মহত্যা হলে, গুরু দত্তর সেটা তৃতীয় প্রচেষ্টা ছিল। এর আগে দু'বার তিনি আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।

আচ্ছা, শুরুতে যে ভাস্কর ও পতিতার গল্প শুরু করেছিলাম, তাদের কি পরিণতি হয়েছিল?

স্ত্রীর সঙ্গে ভেঙে পড়া সম্পর্ক মেরামত করতে ১৯৫৭ সালে গুরু দত্ত 'গৌরী' নামের একটি ছবি তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেন। নায়কের ভূমিকায় তিনি, নায়িকার ভূমিকায় অভিনেত্রী হিসাবে স্ত্রী গীতা দত্তের আত্মপ্রকাশ। আশা বাঁধছিলেন ছবির কাজে একসাথে সময় কাটাতে কাটাতে তাঁদের সম্পর্কে সেই 'বাজি'র সময়কার স্পার্ক আরও একবার ফিরে আসবে! ১৯৫৯-এর 'কাগজ কে ফুল' ভারতের প্রথম সিনেমাস্কোপ বা ওয়াইডস্ক্রিন ছবি। কিন্তু 'গৌরী' ছবিতেই গুরু দত্ত প্রথম সিনেমাস্কোপ ব্যবহার শুরু করেন। ছবির কাহিনীকার ছিলেন বিমল রায়, চিত্রনাট্য নবেন্দু ঘোষের। গানগুলি গাইবেন গীতা দত্ত, লিখবেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, সুর দেবেন এস ডি বর্মন। জাতীয় স্তরের এতসব প্রতিভাবান বাঙালি শিল্পী একত্রিত হলেন গুরু দত্তের পরিচালনায় প্রথম বাংলা ছবি তৈরী করতে। এস ডি বর্মন নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করলেন দুটি গান — "জানি ভোমরা কেন কথা কয় না" এবং "বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি"। এই গানদুটির সুর পরবর্তীকালে এস ডি পুনঃব্যবহার করেন "জানি তুম তো ডোলে দাগা দেইকে" এবং নিঁদ চুড়ায়ে চৈন চুড়ায়ে, ডাকা ডালে তেরি বংসী" গানে।

কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে শুরু হয় 'গৌরী'র শ্যুটিং। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে গীতা এবং গুরু দত্তের সম্পর্কের এতটাই অবনতি ঘটেছিল, যে তাঁদের পক্ষে একসাথে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শ্যুটিং-এর মধ্যেই তাঁদের কথা কাটাকাটি চরমে ওঠে, এবং আর্থিক ক্ষতি সত্ত্বেও, একটি গানের দুটি মাত্র দৃশ্য চিত্রায়নের পরে, গুরু দত্ত ছবিটির নির্মাণ বন্ধ করে দেন।

সেই ভাস্কর ও পতিতার ভালোবাসার কাহিনী ছিল 'গৌরী' ছবির বিষয়বস্তু। কাহিনীতে ওরা বিয়ে করে কিছুদিন বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু এ গুরু দত্তের ছবি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাদের সুখের ঘরে দুর্ভাগ্য এসে কড়া নাড়লো একদিন। পতিতাপল্লিতে যে বন্ধুরা টেনে নিয়ে গেছিলো, তাদের একজন ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করলো, তার বাবা-মাকে সে জানিয়ে দিলো তাঁদের পুত্রবধূর অতীত। সংসারে শুরু হলো অশান্তি। শ্বশুর-শাশুড়ির কটুকথা, অত্যাচার। স্বামীকে সেই অশান্তি থেকে মুক্তি দিতে গৌরী একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। কোথায় হারিয়ে গেলো, অনেক চেষ্টা করেও ভাস্কর তাকে আর খুঁজে পেলো না। কিন্তু যখনি সে নতুন প্রতিমা বানায়, মাটির গৌরীর মুখমণ্ডলে ভেসে ওঠে তার গৌরীর মুখ। বছরের পর বছর গড়িয়ে যায়। ভাস্কর শুধু প্রতিমা বানায়, প্রতিমার মাঝে তার গৌরীকে দেখে, আর পথে, ঘাটে ঘুরে বেড়ায় গৌরীকে খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে। এছাড়া তার জীবনে আর কোনো ইচ্ছে নেই, বিনোদন নেই, শখ নেই, আহ্লাদ নেই।

বহু বছর পর একদিন গঙ্গায় দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের একটি শোভাযাত্রায় যেতে যেতে ভাস্কর দেখতে পায় একটি মহিলার মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মৃতার মুখের দিকে তাকিয়ে সে চমকে ওঠে!

ভাস্কর অবশেষে গৌরীকে খুঁজে পেয়েছিলো, কিন্তু গৌরীকে নিজের করে পায় নি আর!




আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
4.7 6 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top