Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
চোখ খোল
চোখ খোল

গভীর জঙ্গল, পাহাড়ের অগম্য স্থানগুলো দিয়ে সমতলে নেমে চলেছে অজস্র তিরতিরে ঝোরা। পাহাড়ের বাসিন্দাদের জল আনতে সমতলে যেতে হয়। আজ সকালে ঝিংকু মাঝির পেটে সামান্য ডালভাত পড়েছে। ভাতের সঙ্গে যেটুকু জল পেটে যাওয়ার তা গেছে। কিন্তু তাতে কি তৃষ্ণা মেটে? চড়াই ভেঙে জঙ্গল থেকে জ্বালানি জোগাড় করতে গিয়ে তার গলা শুকিয়ে কাঠ। এক ঘোঁট পানি লাগবে, বড্ড তেষ্টা পেয়েছে ঝিংকুর।

মাথা থেকে কাঠের বোঝা নামিয়ে ঝিংকু দম নেয়। হঠাৎ গাছের ফাঁক দিয়ে সে দেখে একটা ছোট গাছের পাতা কেমন নড়েছে। হাওয়ায় দোল খাওয়া পাতার নাচন এরকম হয় না। বরং বাচ্চা হাতির মাথায় ঘোর লাগলে যেমন নড়ে, এ দোলা ঠিক তেমনই। ঝিংকু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পাতার দিকে। হঠাৎ ঝিংকুর মনে হয় ফোঁটা ফোঁটা জল চুঁইয়ে পড়ছে পাতার ওপর। দাঁড়িয়ে পড়ে সে। মাথায় বাঁধার কাপড়টা খাড়া করা কাঠে ঝুলছিল। চটজলদি কাপড়ের টুকরো হাতে নিয়ে ঝিংকু গাছটির কাছে যায়। একটা পাথরের ওপর বসে কাপড়ের ফেট্টির এক অংশ সে মেলে ধরে চুঁইয়ে পড়তে থাকা জলের নিচে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভিজে সপসপে হয়ে ওঠে কাপড়। কাপড় মুঠোয় করে মুখের আগায় চিপে ধরে ঝিংকু। তার শুকনো গলা নিঙড়ানো জলে ভেজে। আবারও জল ধরে ভিজে ওঠে কাপড়। কাপড় মাড়াই করা জল ফের চালান হয়ে যায় গলায়। পরম শান্তিতে বার কয়েক একই পদ্ধতিতে গলা ভিজিয়ে ঝিংকু ভিজে কাপড়ে ধুলোমাখা মুখ মুছে নেয়।

এখন বেশ খানিকটা ভালো লাগছে তার। কাঠের বোঝা মাথায় তুলে ঘর পানে যাত্রা করে ঝিংকু। সূর্যের অবস্থান গাছের ছায়ায় মিলিয়ে নিয়ে ঝিংকু বুঝতে পারে, সন্ধ্যা নামতে এখনও দেরি আছে। বেলাশেষে মা ক্ষেত থেকে ফিরবে। একটু গড়িয়ে নেবে ভেবে কী মনে করে ঝিংকু স্কুলপাঠ্য ভূগোল বই হাতে তুলে নেয়। আনমনে পাতা উল্টাতে উল্টাতে সে দেখে এক বিশাল তলাওয়ের ছবি। তলাওয়ের নাম উচ্চারণ করতে পারে না ঝিংকু। চেঁচিয়ে সে পড়তে থাকে — ত রস-ই-কার তি, ল য় আকার লা, হ্রস্ব ই য়া।

ঠিক সেই সময় দাদু নেঙটি পরে ধুলোমেখে ঘরে ঢোকে। ঝিন্নারাম আজ সময়ের আগেই ঘরে ঢুকে পড়েছে। তার নজর পড়ে ঝিংকুর হাতের খোলা বইয়ের পাতায়। ঝিংকু বই গুছিয়ে রাখতে গেলে দাদু তার কাছ থেকে বইটা চায়। ঝিংকু হেসে বলে, “তোমাদের ছোটবেলায় গ্রামে স্কুলই ছিল না, তুমি কী করে পড়বে? তোমায় বরং আমি আগে লেখাপড়া শেখাই, তারপর বই দেখো।”

দাদু হাত-পা, মাথা নেড়ে বইটা ছিনিয়ে নিয়ে ছবির মধ্যে ডুবে যায়। ঝিংকু ভাবে, ভাগ্যি আজ মায়ের আসার আগে দাদু ঢুকে পড়েছে। না হলে সারাদিন খেটেখুটে পরিশ্রান্ত হয়ে এসে মা দাদুকে বিষম গাল পাড়ত।

ঝিংকুর ছোটবেলায় তার বাবা গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে বাবা মাঝে মধ্যে আসত, আবার ভোর হওয়ার আগেই চলে যেত। সেই রাতগুলোয় তার মায়ের উৎকণ্ঠা, আবেগ ছিল দেখার মতো। বাবা কোথায় কী কাজ করে ঝিংকু জানে না। কারণ তাদের সংসারে তার কোনও প্রভাব পড়ে না। মা যে কেন মাঝে মধ্যে কাঁদে, তা বোঝার বয়স ঝিংকুর তখন ছিল না। আজ ঝিংকু কিছুটা হলেও বোঝে। কতটা রাস্তা পেরলে মা হওয়া যায়, ঝিংকু শুধু সেটাই বুঝে উঠতে পারে না।

তার বন্ধুদের মায়েদের জীবনসংগ্রাম অন্যরকম। তাদের বাপেরা বরং বউয়ের রোজগারের টাকায় মদ গিলে সুখে আছে। ঝিংকুর দাদু যে কোন ধাঁচার, সে বুঝতে পারে না। সকাল হলেই কেমন কাঁচালঙ্কা, নুন ভাতে মেখে খেয়ে-দেয়ে উধাও হয়ে যায় কোথায়, কেউ জানে না।

সূর্য ঢলে পড়েছে পাটে। তার শেষ ছোঁয়ায় প্রকৃতি উদাসীন। এই আবহে কাকলি-মুখর পাখির বাসায় ফেরার শব্দকল্প ঝিংকুর ভীষণ পছন্দের। কিন্তু আজ মা ফিরতে দেরি করছে কেন? পাখির গান মেয়ের কর্ণকুহর থেকে নিমেষে হারিয়ে যায়। মায়ের জন্য মন ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

হঠাৎ ঝিংকুর মনে পড়ে যায়, মা বলেছিল, আজ মতিয়ার ঘরে মিটিং আছে। সে দাদুকে জানায় মিটিংয়ের কথা। বুড়ো যেন নাতনির ইশারার অপেক্ষায় ছিল। বলার সঙ্গে সঙ্গেই ঝিন্নারাম পায়ে চটি গলিয়ে বের হয়ে যায়।

অন্ধকার হাতড়ে বুড়ো দেখে মতিয়ার বাড়ির সামনে জটলা। দূর থেকে সে রামান্নাকে দেখতে পায়। গাঁয়ের মোড়লের কাছে কিছু মানুষ অভিযোগ করছে। ঝিন্না কান খাড়া করে শুনতে থাকে।

একজন বলে, “আমাদের গাঁওয়ে কোনওদিন চুরি হয়নি। পুলিশবাবুরা এলে বড়জোর জবরদস্তি মুরগি তুলে নিয়ে যায়। সে তো হল গিয়ে ডাকাইতি। কিন্তু শাবল, গাঁইতি, ঝুড়ি — এ কি চুরির জিনিস! এ তো ঘরে ঘরে পাওয়া যায়।”
অন্যজনে বলে, “আমার ঝুড়ি চুরি গেছে।”
মোড়ল বলে, “বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে।”
মিনার বাপের গাঁইতি খোয়া গেছে। সে বলে, “আমি এখন ক্ষেতি করব কী করে?”
মোড়ল বলে, “বাবা, শহর গিয়ে কিনে আন। নয়তো আমার ঘরে লোহা আছে, পাহাড়ের নিচে লোহাশালে বানিয়ে নিয়ে আয়।”

আলোচনার গতি-প্রকৃতি দেখে ঝিন্না দাঁড়িয়ে না থেকে বাড়ি ফিরে আসে। ঝিংকুকে তার মায়ের খবর জানিয়ে খাটিয়ায় শরীর এলিয়ে দেয় ঝিন্না। কিছুক্ষণ পরে মা এসে দেখে উঠোনে তার গাঁইতি আছে, চুরি যায়নি। কোদাল তার হাতেই ছিল, চুরি যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আর উচিত হবে না এইসব জিনিস বাইরে ফেলে রাখা। খুরপি, গাঁইতি সব সরঞ্জাম রামান্না ঘরে তুলে রাখে।

ঝিংকু জিজ্ঞেস করে, “তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?”
উত্তরে রামান্না বলে, “ডাইন লেগেছে গাঁওয়ে। রাতে কেউ বাইরে যাবি না।”
ঝিংকু জিজ্ঞেস করে, “কী করে বুঝলে?”
“মোড়ল বলেছে, ডাইন লেগেছে। ঝাড়ফুঁক করাতে হবে। নাহলে কেন গাঁওয়ের প্রত্যেকের পেটব্যথা, বমি হবে?”

ঝিন্না মন দিয়ে শোনে রামান্নার কথা। তারপর পাগলের হাসি হেসে চিৎ হয়ে হাত-পা ছুঁড়তে থাকে। রামান্না চটে গিয়ে বলে, “লোকের শরীর খারাপ হলে কেউ হাসে? আমার মনে হয় তোর দাদুর ওপর ডাইন ভর করেছে। ঝিংকু, আগে তোর দাদুকে ঝাড়তে হবে।”

ঝিন্নারাম চুপ মেরে যায়।

রামান্না বলে, “আমি মোড়লকে বলছি। কোম্পানির কারখানা থেকে বেশ কয়েক বছর হল বিষ নিঃসৃত হচ্ছে। তরল বর্জ্য মিশছে জলে। মাটির নিচে জমা জল বিষের প্রভাবে কলুষিত। আদিবাসী মানুষ লোহা চিবিয়ে খেতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা ছাড়াই তারা দিব্যি যুগ যুগ বেঁচে ছিল। জমিনের বিনিময়ে প্ল্যান্টে ফুরনে কাজ পেয়ে তারা অল্পে খুশি ছিল। মজুরি যা হোক, আগে তো জুটত না কিছুই। এখন তবু সপ্তাহান্তে পাতে একটা ডিম জোটে।”

সরকারি কাগজে আসে নতুন নতুন অর্ডার। আরও জমি অধিগ্রহণ করা হবে। চিন্তা কী, জঙ্গলের মালিক যখন আদিবাসী, তখন মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের অভাব হবে না। সীমাহীন জমি কোম্পানির দখলে যায়; দখলে যায় জঙ্গল। উৎখাত হয় পাহাড়তলিতে থাকা মানুষজন। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দৌড় করাচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সাইরেন বাজার আগেই ঢুকতে হবে সকলকে। সারা গ্রাম এখন চাষবাস ফেলে কারখানায় কাজ নিয়েছে। রামান্না একগুঁয়ে, জেদি। সে তার শ্বশুরমশায়ের কথায় মান্যতা দিয়ে আজও চাষ করে চলেছে। ঝিন্না তাকে বলেছে, “বহু আপন কো মাত বেচনা।”

মাঠে দাঁড়িয়ে রামান্না দেখে সক্কলে ছুটছে যেন ভেঁপুর কেনা গোলাম। সরকার বাহাদুর টিউবওয়েলগুলোতে লাল রঙের কাঁচি দিয়েছে। এগুলো জল পানের অনুপযুক্ত। এগুলো থেকে নাকি অ্যাসিড বের হয়। অ্যাসিড কী, এলাকার মানুষ জানে না। পানযোগ্য জলের উৎস কারও জানা নেই। পাহাড়ের জল জঙ্গলের চোরাপথে গ্রামের বড় জলাধারে নেমে আসে। জলাধারের জল ক্রমশ খাবার অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে, যদিও ইদানিং জলাধারে আগের মতো জল জমে না। কুয়োগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। মানুষ চাপাকলের লাল জল খেতে বাধ্য হচ্ছে।

মালতি মাঝি হাত-পা ফুলে মারা গেছে। পুজোপাঠ, ঝাড়ফুঁক কোনও কাজে আসে না। ঝিন্নারামকেও ঝাড়া হয়েছিল। ফল হয়নি কিছু। ঝিন্না ঝাড়ুর আঘাতে চিলচিৎকার করছিল আর বলছিল — “মুর্খ, লাল পানি খেলেই মরবি, ঝাড়ে বংশে উজাড় হবি। বাঁচতে গেলে ওঝা নয়, আমার ছেলের মতো তাকদ চাই। পারবি কোম্পানির কাজকাম বন্ধ করতে?”

বুড়া মানুষকে ওঝা সহানুভূতি নিয়ে ঝাড়ছিল। যেমনি ওঝা আর ঝাড়ফুঁকের কথা বুড়ো তুলেছে, তেমনি ওঝার মারের প্রাবল্য শতেকগুণ বেড়ে গেছে। “তবে রে” বলে ঘর থেকে গাঁইতি এনে ঝিন্না এমন তাড়া করে, ওঝা শেষমেশ পালিয়ে বাঁচে।

ঝিংকু এখন পূর্ণ যুবতী। মাঝে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। কারখানার বিষে মাঠপ্রান্তর কলুষিত। রামান্না না গেলেও ঝিংকু বাধ্য হয়েছিল কারখানায় যোগ দিতে। রামান্নার শরীরেও বাসা বেঁধেছে মারণরোগ। রামান্নার হাত-পা ফুলে বেঢপ, চোখে সে ভালো দেখতে পায় না। কাঠ কুড়োবার শক্তিও তার নেই। কোনওরকমে চুলা জ্বালিয়ে সকালের আধসিদ্ধ ভাত ঝিংকুর মুখে যোগান দেওয়াই তার একমাত্র কাজ।

ঝিংকুর স্কুলের পাঠ চুকে যাওয়ায় দাদু খুব কষ্ট পেয়েছিল। দাদু তাকে বলেছিল, “তুই লিখাপড়া শিখতে না পারলে আমাকে কে শেখাবে?”

কাঠ কাটা সারা হলে রোজ সকালে সে কারখানায় যেত। ঝাড়খণ্ডের এই কঠিন প্রান্তরে ঝিংকু এখন পরিবারের রুটিরুজির যোগান দিতে ত্রস্ত। ঝিন্নার সঙ্গে ঝিংকুর দেখা হতে রোজ সন্ধ্যে হয়ে যায়। রামান্না তার শ্বশুরকে আর গাল দেয় না। তার মনে হয় মেঘবুরুর অভিশাপ লেগেছে তার ওপরে।

ইদানিং ঝিংকুর বাবা আর ঘরে আসে না। ঝিংকু মাকে জিজ্ঞেস করলে, মা কেবল কাঁদে। ঝিন্না সারাদিন কী খায়, কেউ খবর রাখে না। ঝিংকু একদিন জিজ্ঞেস করে তার দাদুকে, “সারাদিন না খেয়ে কী করে বুড়া ইঞ্জিন চলে?”
সাদা দুইপাটি দাঁতের ফাঁক দিয়ে চন্দ্রালোকিত রাতের মতো ঠিকরায় অনাবিল হাসি। লুকিয়ে রাখা শুকনো বেলের শাঁস দেখিয়ে ঝিন্না বলে, “ই দেখ।”

অবাক হয় ঝিংকু। রামান্না ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে, তার শ্বশুরমশাই কী দেখাতে এত উদ্‌গ্রীব। গ্রামে রামান্নার মতো অনেকেই চোখ এবং কর্মক্ষমতা দুইই হারিয়েছে। ইউনিয়ন বাবুরা দিনকয়েক “জিন্দাবাদ” হেঁকেছিল। তাদের পাল্লায় পড়ে উদ্যোগী যুবকেরা ঝান্ডা ধরেছিল। নাঃ, কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কোনও সুরাহা হয়নি। ঠিকাদারি শ্রমিকের রোজও বাড়েনি। মাঝখান থেকে ইউনিয়ন দাদাদের পকেটে রিসওত উপচে পড়েছিল।

উগ্র আন্দোলনের কারণে গ্রামের কয়েকজন আদিবাসী যুবক সদর জেলে বিনা শ্রমে দুপুরে দুমুঠো ভাত আর রাতে উপাদেয় শুকনো পোড়া রুটি খেতে পেয়েছিল। ঝিন্না বলত, “ইউনিয়ন বাবুদের সালাম। ভাগ্যিস তারা মানুষ ক্ষেপিয়েছিল, নাহলে ডরপোকদের মামাঘর দেখাই হত না।”

ঝিংকু এর প্রতিবাদ করলে ঝিন্না বলত, “এই গ্রামে তোর বাপের মতো সাহসী কয়জন আছে?”

ঝিংকু মায়ের জ্যোতিহীন দুঃখী চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে কথা বাড়াত না।

বেশ কয়েকদিন ঘরে ফেরেনি দাদু। ঝিংকুর হয়েছে জ্বালা। কী করা উচিত, বুঝে উঠতে পারে না সে। কাজে না গেলে রোজ জুটবে না। আগে ভালো ছিল — নিজের মাঠ, নিজের খেতি। প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রম দাও। শালার কোম্পানি না গেলে গাল দেবে, আবার পয়সাও কেটে নেবে। আগে মা নিজের ইচ্ছায় মাঠে যেত আর সে সবার সঙ্গে স্কুলে যেত। জীবনটা কেমন ঝোরার মতো বয়ে যেত। ঝিংকুর কান্না পায় যখন সে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে দেখে।

ঝিংকু কোম্পানির কাজে রওনা দেয়। উগ্র আন্দোলনের ফলে একটা ঘটনা অবশ্য ঘটেছিল, কোম্পানি ঠিকাদারদের অনুরোধে সকালে জলের গাড়ির বন্দোবস্ত করেছিল। এতে কতটা উপকার হয়েছে বলা মুশকিল, কারণ বাড়ির কামকাজ সেরে জলের ধান্দায় যেতে হত সবাইকে। নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে, পাহাড়-প্রকৃতির দেশে এখন জলের জন্যও লাইন দাও। জলের লাইনে ঝগড়া, মারামারি। মানুষে মানুষে বৈরিতার এমন অসভ্য আবহ ঝিংকু কোনওদিন দেখেনি।

সে ঠিক করে, আর যাইহোক, সে এমন কাড়াকাড়ির মধ্যে থাকবে না। সে টিউবকলের লাল জলই খাবে। কিন্তু মা? তাকে তো আর এই জল খাওয়ানো চলে না। তাকে মায়ের জন্য জল ধরতেই হবে।

লাইন সাপের মতো এঁকেবেঁকে অনেকদূর গেছে। সে জলের লাইনে কলসি রেখে নিজের তৃষ্ণা মেটাতে টিউবওয়েলের কাছে যায়। বন্ধু মিনা তাকে বিষজল খেতে বারণ করে। ঝিংকু ভয়ানক জেদি। মিনার কথা না শুনে সে জল পাম্প করতে থাকে। অনেক সময় ধরে কল টিপেও কোনও ফল হয় না। জলের বদলে আজ শুধু হাওয়া বের হচ্ছে চাপাকল দিয়ে। দেশের মানুষের ওপর কেন এমন শাপ লাগল, ভেবে পায় না ঝিংকু।

উপস্থিত কেউ কেউ বলে, “মেঘবুরুর চোখ পড়েছে। আমাদের ভালো দিন এল বলে।”

মোড়ল এসে পর্যবেক্ষণ করে। অঞ্চলের কোনও চাপাকলেই জল নেই। মোড়ল সুদিনের আগমনবার্তা নিশ্চিত করে বলে, “আগামী পূর্ণিমাতে ধুমধাম করে মেঘবুরুর পুজো চড়বে। সুদিন সমাগত।”

আজ রামান্না সকাল থেকেই চটে আছে। যতই গাল পাড়ুক সে, ঝিন্না তার শ্বশুর। বুড়াপ্পায় তাকে দেখার দায়িত্ব রামান্নার। কঠিন স্বরে রামান্না বলে, “ঝিংকু, আজ তোকে কাজে যেতে হবে না। যেখান থেকে পারিস হাড়জ্বালানি বুড়োকে খুঁজে আনবি তুই।”
মনে মনে খুব খুশি হয় ঝিংকু। রসিকতা করে সে বলে, “তোমার দরকার পড়লে তুমি খুঁজে আন।”
ঝিংকুর আবছায়া মুখে হাসির রেশ দেখতে পায় না রামান্না। ক্রোধান্বিত রামান্না বলে, “হ্যাঁ, তাই যাব।”

রামান্নাকে উঠতে দেখে একচোট হেসে মাকে জড়িয়ে ধরে ঝিংকু। তারপর কুড়ুল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে দাদুর খোঁজে। আজ তার গন্তব্য ছিল পাহাড়ের উল্টোপিঠে। যেদিকে গভীর অরণ্য একাকী আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকিয়ে আছে। যেদিকে মানুষজন সচরাচর যাতায়াত করে না। কারণ চালু পথে যারা যাতায়াত করে, তারা দেখতে পেলে দাদুর খবর নিশ্চয় দিত। তার পাগলা দাদুকে চেনে না, এমন মানুষ এ তল্লাটে নেই।

নিজের মনে কুঠার কাঁধে চলেছে ঝিংকু। মাঝেমধ্যে শুকনো মড়া ডাল পেলে সে কেটে রাখছে, ফেরার পথে নিয়ে যাবে বলে। সে দিন কয়েকের কাঠের জোগাড় করে ফেলতে চায়। জঙ্গলাকীর্ণ পথ পেরিয়ে সে এখন পাহাড়ের মাথায়। দাদুর টিকিটিও মেলে না সেখানে। যা মেলে তা হল পাথরের গুহায় দিব্যি একটা সাজানো ঘর। চৈত্রশেষের উষ্ণতা যেখানে ঝাঁজ হারিয়ে শীতল। যার মধ্যে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা আছে মহুয়া, কালোভেলা, আমলকী, আতা ইত্যাদি ফল।

গলা ভেজাতে ঝিংকু প্রাণভরে মহুয়া ফুল চিবাতে শুরু করে। মহুয়ার মাতাল গন্ধে তার বুক ভরে ওঠে। তৃপ্ত ঝিংকু পাহাড়ের কোণে হাজির হয়, যেখান থেকে নিচে কোম্পানির পাঁচিল এড়িয়ে সবকিছু দেখা যায়।

হঠাৎ তার চোখে পড়ে, যে নালাগুলি দিয়ে জল নামত নিচে দীঘিতে, সবকটা নালা শুকিয়ে কাঠ। এই জায়গাটায় ঝিংকু কোনওদিন আসেনি, তাই ওপর থেকে ঝোরাগুলি দেখার সৌভাগ্যও তার হয়নি। পাহাড়ের দিকে মাথা উঁচু করে তাকালে ঝোরাগুলি দেখা যেত। কী যে তার শোভা! কিন্তু ঝোরাগুলো শুকনো কেন, ভেবে কূল পায় না ঝিংকু। যদিও ভাবার মতো সময় তার নেই। মায়ের ইচ্ছা, দাদুকে আজ খুঁজে নিয়ে তবেই ফিরতে হবে।

সে ভাবে, মন বড়ই অদ্ভুত। ভিতরে ভিতরে দাদুর প্রতি মায়ের এমন টান ছিল, আগে সে কখনও জানতে পারেনি। ঝিংকু নামতে শুরু করে বিপরীত ঢাল দিয়ে। তার খেয়াল নেই, নির্ধারিত জায়গায় সে কাঠ কেটে রেখে এসেছে।

হঠাৎ তার চোখে পড়ে চলতি পথে নুড়ির তলায় সরু জলের ধারা। পাথর সরিয়ে ঝিংকু ফের আঁজলা ভরে জল পান করে। ঝিংকুর মায়ের মুখ মনে পড়ে যাচ্ছে। আগে জানলে বেঘোরে মালতি মাসিকে মরতে হত না।

চলার গতি বাড়িয়ে দেয় ঝিংকু। পাহাড়ের এ-প্রান্তে নিশ্চিত ঝোরা আছে কোথাও। ছোটখাটো নালাগুলো ঝিংকুর দৃষ্টি এড়িয়ে বয়ে যেতে পারছে না। সে তার আবিষ্কারের পরিধি বাড়াতে চায়। গ্রামের সব মানুষকে জানানো দরকার। অ্যাসিড জল খেয়ে আর কাউকে যেন মরতে না হয়।

কোন কাজে সে নিযুক্ত হয়েছিল, ফিরে গিয়ে মাকে কী জবাব দেবে, কোনও কিছু তার মাথায় নেই। হঠাৎ এক জায়গায় এসে ঝিংকু দাঁড়িয়ে পড়ে। তার যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়েছে। প্রায় একহাজার ফুট খাড়াই। জঙ্গল-পাথরের এই পথ মানুষের অধিগম্যতার বাইরে। একটা শক্তপোক্ত গাছের মগডালে ঝিংকু নিমেষে চড়ে বসে। কারণ ঝোরাগুলি এই পথেই নামছে। তার জানা দরকার এরা কোথায় মিশেছে। গাছের ওপর থেকে এখন সবকিছু দৃশ্যমান। নিচে এক বৃহৎ জলাধার।

সে স্বপ্ন দেখছে না তো? চোখ মুছে নেয় ঝিংকু। তড়িঘড়ি গাছ থেকে নেমে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে গাছের শিকড় ধরে ধরে ঝিংকু নামতে থাকে।

মরীচিকা নয়, একটা আস্ত জলাধার, যার একপাশে রয়েছে হাজারো ছোটবড় পাথরের দেওয়াল। অন্য পাশে নিঃসীম সবুজ বনানী। শরীরের ক্লেদ ধুয়ে ফেলতে হবে এখুনি। সাত-আট কিলোমিটার হেঁটে সে ক্লান্ত। নিমেষে সে লজ্জাবরণ ছুঁড়ে ফেলে। তারপর মাটির বাঁধের ওপর থেকে লাফ দেয় শীতল জলে।

ডুবসাঁতারে অন্য পাড়ে গিয়ে একবার এপারের দিকে নজর করে সে। তার মনে হয়, আর দেরি করা উচিত হবে না। জঙ্গলমহলের সব্বাইকে ডেকে খুশখবরি দিতে হবে। জলদি জামাকাপড় গায়ে দিয়ে তরতর করে পাহাড় বেয়ে ঝিংকু নেমে আসে।

বাড়ি পৌঁছানোর ঠিক আগে তার দেখা হয় মিনার সঙ্গে। মিনা বলে, “কোথায় ঘুরছিস? ঝিন্না দাদা লৌট গিয়া।”

ঝিংকুর মনে পড়ে যায়, কোম্পানি ডিউটিতে সে কোন কারণে নাগা মেরেছিল। ঝিন্না দাদা তাকে এমন সুযোগ না দিলে হয়তো লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই যেত সাফা পানির উৎস।

বাড়িতে পৌঁছে ঝিংকু দেখে, নীরবে দাদু গাল খেয়ে চলেছে মায়ের কাছে। ঝিংকু মায়ের মুখে হাত চেপে ধরে বলে, “ফালতু কথায় সময় নষ্ট কোরো না। তুমি কি জানতে, জঙ্গলের গভীরে একটা জলাশয় আছে?”

রামান্না আবছায়া চোখের আলোয় তাকিয়ে থাকে ঝিংকুর দিকে।

ঝিংকু বলে চলে, “আগে জানলে তোমাকে অন্ধা হতে হত না। এই গাঁওয়ের লোকজন কি চোখ থাকতে অন্ধ?”

বলতে বলতে ঝিংকুর দুচোখের অঝোর ধারা ছড়িয়ে যায় নিকানো মেঝেতে। কান্নাভেজা গলায় সে বলে, “পাহাড়ের সবকটা মানুষ নিজের দেশকে চিনলে প্রকৃতির ওপর ভরসা করে নিজের এবং পরিবারের স্বাভাবিক জীবনধারণের ব্যবস্থা করতে পারত।”

রামান্না নির্বাক। ঝিন্না দাদা ঝিংকুর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। ঝিংকুর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে দাদুর ওপর। সে চিৎকার করে বলে, “তোমার আর বাবার মতো মানুষ পরিবারে থাকলে সেই পরিবারের অবস্থা এমনই হবে।”

পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন অভ্যাসমতো তৈরি হয় কারখানার কাজে যোগ দিতে যাবে বলে। ওরা পাখির মতো কিচিরমিচির করতে করতে একসঙ্গে পাহাড়ি পথ হাঁটে। এখন সবার মাথায় ফাঁকা মাটির কলসি। ঝিংকু আজ ওদের নেত্রী। সব্বাই অবাক হয়ে গিলছে ঝিংকুর গল্প।

পাহাড়ি শেষ বাঁক পার হলেই দেখা যাবে কারখানা নামক বধ্যভূমি। কিন্তু না, বাঁক আর ঘোরা হয় না। তার আগেই কারখানার উর্দিপরা পুলিশ ওদের গতিরোধ করে। অশ্রাব্য ভাষায় ওরা বলতে থাকে, “শালা কোম্পানির খাবি আর কোম্পানির গাঁড়ে বাঁশ দিবি! বল শালা, ঝিন্নারাম কোথায় থাকে?”

ঝিংকু এগিয়ে গিয়ে বলে, “কেন, আমার দাদু তোমাদের কোন পাকা ধানে মই দিল?”

“ও শালি, ঝিন্না তোর দাদু? তোর দাদু একজন খতরনাক আসামি। ঢ্যামনার বাচ্চাকে একবার ধরতে পারলে জেলের পানি পিলিয়ে ছাড়ব। শালা কোম্পানির জল বন্ধ করা, কোম্পানির চোখ এড়িয়ে কোম্পানির কেনা পাহাড়ে পরিখা কাটা? কোম্পানির জল শুকিয়ে যাবে আর তোদের তলাও ভাসবে জলে — বুড়ো ভেবেছেটা কী?”

হতবাক জনতা এর-ওর মুখ চেয়ে তাকিয়ে থাকে। ঝিংকুকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে ওরা ঝিন্নার ঠিকানায় নিয়ে যেতে চায়। এক ঝটকায় ঝিংকু নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। পথের ধারে পড়ে থাকা মাঝারি আকারের এক প্রস্তরখণ্ড ঝিংকু দুই হাতে মাথার ওপর তুলে নিয়েছে ততক্ষণে।

ঝিংকু চেঁচিয়ে বলে, “শালা হারামখোরের দল, এক পা এগোলে ভবলীলা সাঙ্গ করে দেব!”

লাঠিধারী সিকিউরিটির পাল বুঝে পায় না কী করা উচিত। তাদের একজন বলে, “ভালো হবে না ঝিংকু। কাজ করে দু-পয়সা পাচ্ছিস, মন ভরছে না? কোম্পানির সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া? জানিস, নেতা, কালেক্টর, মন্ত্রী — সবাইকে কোম্পানি কিনে রেখেছে?”

এরই মধ্যে কয়েকজন গ্রামে পৌঁছে গেছে। পুরুষ, নারী — যে যেখানে ছিল এসে হাজির হয়েছে অকুস্থলে। টাঙ্গি, হেঁসো, কুড়াল, তির-ধনুক — কোনও কিছুর অভাব নেই তাদের হাতে। ঘেরাটোপে বন্দি সিকিউরিটির দল বিভ্রান্ত।

স্বয়ং মেঘবুরু ঝিন্নারাম তার ফোকলা দাঁতের ফাঁক দিয়ে হাসছে। তার দুহাতে শাবল আর গাঁইতি। মিনার বাপ তার চুরি হয়ে যাওয়া গাঁইতিখানা চিনতে পেরেছে। সে ছুটে এসে ঝিন্নাকে নমস্কার করে।

রামান্না পথ হাতড়ে হাজির হয়েছে ঘটনাস্থলে। ঝিংকু চিৎকার করে বলছে, “আজ থেকে কারখানা চলবে আমাদের নিয়মে!”

“জয় জোহর” — সমবেত রবে কাঁপছে জঙ্গলমহল। ক্রমাগত সুর তুলে ডেকে চলেছে একঝাঁক চোখ গেল পাখি।

ঝিন্না গাছে পাখিদের দিকে তাকিয়ে বলে, “শোন সবাই, ওরা কী বলছে — চোখ খোল, চোখ খোল।”




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের আষাঢ় সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে ২৫ জুন, ২০২৬। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ২০ জুনের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মান। বিস্তারিত তথ্য এবং লেখা পাঠানোর ডিজিটাল ফর্ম ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
15 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top