কাঁটাতারের ওপার থেকে এপারে আসার প্রবল ইচ্ছা রহমতের। শুনেছে, ভারতে ঢোকার নানা চোরাপথ আছে। চেষ্টাও করেছে। কিন্তু যতবার করেছে, ধরা পড়েছে। এমনই একদিন ভোরবেলা বর্ডার পার করতে গিয়ে চেকপোস্টে ধরা পড়ল। সেনা জওয়ান প্রশ্ন করল,
"তুম কৌন হো? ইধর ক্যাইসে আয়ে?"
রহমত থতমত খেয়ে বলল, "বাবু, আমারে ছাইড়া দেন। আমি মুখ্যু গরিব মানুষ। কাঁটাতারের বেড়ার ধারে চাষের কামে আই। আমার বড় সাধ ইন্ডিয়া দ্যাশ দেখুম। কিন্তু পয়সা-কড়ি নাই। কী করুম! তাই সুযোগ পাইয়া যেখানটায় কাঁটাতার নাই, অই দিক দিয়া ঢুইকা পড়সি।"
জওয়ান ধমক দিলে রহমত ঘেমে নেয়ে একাকার। ওর লুঙ্গি ভিজে গেছে! লুঙ্গির পিছনের দিকে হলদে রঙের সঙ্গে একটা বিশ্রী গন্ধ বের হচ্ছে!
"অরে! ইয়ে কেয়া কর রাহা হ্যায়?" রহমতের অবস্থা দেখে সেনা জওয়ান হো হো করে হাসে। "অরে বেওকুফ! ভাগ, ইয়াহাঁ সে! ভাগ!"
রহমত কোনোরকমে লুঙ্গিটা ধরে দে দৌড়! দু’একবার আছাড়ও খায়। বাড়ি ফিরে হাঁপাতে হাঁপাতে বউকে বলে, "জানু, আজ বড় জোরে বেঁচে গেছি!"
"ক্যান গো? কী হইছিল? তুমি কি ওইপার গেছিলা?"
"হ, জানু। কিন্তু ধরা পড়সি।"
"এইসব বাদ দাও। কোনোদিন দেখবা, একটা গুলি আইসা তোমার মাথার খুলি উড়াইয়া দিবে।"
রহমত দমে যাওয়ার পাত্র নয়।
আইনুন চাচা সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা করেন। বইপোকাও বটে। পত্রিকার নভেম্বর সংখ্যা পড়ছিলেন। ওই সময় বাড়িতে বুথ লেভেল অফিসার আসেন। আইনুল পত্রিকা হাতে বেরিয়ে এসে দেখেন, স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক তথা বি.এল.ও. অর্ক ব্যানার্জী।
"ও ভাইজান, আসুন বাড়ির ভেতর দিয়ে।"
রহমতকে দেখে অর্ক জিজ্ঞেস করল, "আইনুলদা, উনি কে?"
রহমত তখন চাপে পড়ে গেছে, আমতা-আমতা করে বলে, "বাবু... আমি মানে... আমি!"
"কী ‘আমি আমি’ করছো? বলো, কে তুমি?"
রহমত তখন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ওই অফিসারের পা জড়িয়ে ধরে।
"বাবু, আমারে ছাইড়া দ্যান। আমি মুখ্যু গরিব মানুষ। এই দ্যাশে অইয়া পড়সি। ভুল হইছে, বাবু।"
অর্ক আর কিছু না বলে গোপনে থানায় খবর দেয়। থানার ওসি তৎপরতার সহিত সেনার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রহমতকে একপ্রকার চ্যাংদোলা করেই নিয়ে আসে।
রহমতের করুণ দশা! কী আর করবে! বর্ডারে এপারে দাঁড়িয়ে সেনা জওয়ানকে বলছে, "বাবু, আমারে ছাইড়া দ্যান। আমার বড় সাধ এই দ্যাশে থাকুম। আপনারে আমি পদ্মার খাঁটি ইলিশ ধরাইয়া খাওয়ামু। একখান দুধেল গরুও জোগাড় কইরা দিমু। কিন্তু আমারে তাইড়াইয়েন না... এই দ্যাশ থেইকা..."
লেখক কবি, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। শৈশব থেকেই নাটকের মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বাণিজ্যে স্নাতক ও এমবিএ ডিগ্রিধারী। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত Azadi ka Amrit Mahotsav–এর Desh Bhakti Geet Competition-এ পূর্ব বর্ধমান জেলায় জেলা স্তরের বিজয়ী এবং রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় সম্মানপ্রাপ্ত। তাঁর স্বরচিত কবিতা, অনুগল্প, গল্প, প্রবন্ধ ও অনু-উপন্যাস জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সর্বভারতীয় সমাজ বন্ধু সম্মাননা (২০১৯–২০) সহ বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় সংবর্ধিত। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি করেন; ডেইলি হান্ট-এ প্রকাশিত তাঁর লেখার সংখ্যা ৬৭-রও বেশি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে তিনটি একক কাব্যগ্রন্থ, একটি গল্পগ্রন্থ, একটি উপন্যাস ও পাঁচটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ। পেশাগত জীবনে নারী, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন — এক হাজারেরও বেশি নাবালিকাকে শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার কাজে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। কলমের আঁচড়ে সমাজ ও পাঠকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়াই তাঁর লেখার অভীষ্ট।
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।