Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
মুখোশের আড়ালে কুশীলব — বাংলার রাজনীতি
মুখোশের আড়ালে কুশীলব — বাংলার রাজনীতি

আধুনিকতায় মোড়া বিশ্বে যেকোনো কোম্পানির সিইওকে সকলেই অত্যন্ত সম্ভ্রমের চোখে দেখেন। কিন্তু অনেকেরই অজানা, একবার কলকাতা পৌরসংস্থার সিইও হয়েছিলেন দেশবরেণ্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সময়টা ১৯২৪। ব্রিটিশ অধীনস্থ কলকাতায় প্রথম পৌরনির্বাচনে সর্বজনশ্রদ্ধেয় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মহানাগরিক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। প্রিয় শিষ্য সুভাষকে সিইও পদে অভিষিক্ত করে চিত্তরঞ্জন জনহিতকর পুরপরিষেবার ক্ষেত্রে নজর দিলেন। এদিকে ব্রিটিশ শাসনের অসহযোগিতায় পুরসভার কোষাগার “ভাঁড়ে মা ভবানী”। আক্ষরিক অর্থে জনদরদী নেতা সুভাষচন্দ্র “মুশকিল আসান” করতে এগিয়ে এলেন। পরিকল্পনা রূপায়ণে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য যাতে না হয়, ওঁর মাসিক বেতনের (৩০০০ টাকা) অর্ধেক গ্রহণ করবেন বলে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন।

এই লেখা যখন লিখছি, ততক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপুজোয় দুই দফায় “জনতা জনার্দন” নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটপ্রত্যাশীদের মধ্যে যেমন উচ্চমেধাসম্পন্ন অধ্যাপক, সাংবাদিক, সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী রয়েছেন, তেমনই বহু প্রার্থীর আকাশছোঁয়া সম্পত্তির পরিমাণ অনেককেই অবাক করেছে। অনেক প্রাজ্ঞ মানুষ তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের এরকম পকেট গোছানো দেখে বিন্দুমাত্র চমকিত নন। তাঁরা জানেন, এটাই সাম্প্রতিক রাজনীতির দস্তুর।

বসন্তের রেশ কাটিয়ে মাঝেমধ্যে তীব্র দাবদাহ জানান দিচ্ছে যে সময়টা গ্রীষ্মকাল। কালবৈশাখীর দাপট আর রাজনৈতিক পরিবর্তন-প্রত্যাবর্তনের তীব্র লড়াই উতরে গেলে আগামী মাসখানেক দিকে দিকে শুধুই “কবিপ্রণাম”-এর বন্যা বইবে। আমরা অনেকেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও রাজবাড়ির তফাত জানি না, “গীতাঞ্জলি” ও “শেষের কবিতা”-র বাইরে এখনও সেভাবে রবিঠাকুরের সৃষ্টি চিনতে পারিনি। তবু বুকশেলফ আলো করে রবীন্দ্র রচনাবলি সাজিয়ে রাখা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিত্যদিন “অমুক দিনে তমুক অনুষ্ঠানে হাজির থাকছি” বার্তার মাধ্যমে সেলিব্রিটি তকমা ব্যক্ত করা আমাদের অবশ্যকর্তব্য।

পাঠকেরা ভাবছেন, এই সময়ে আবার রাজনৈতিক নেতাদের ধনদৌলতের কাসুন্দি ঘাঁটাঘাঁটি করা কি খুব প্রয়োজনীয়? আজকের রাজনীতিতে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আদর্শ, দায়বদ্ধতা — শব্দগুলো বিলুপ্তপ্রায়। বরং দলবদল, সুবিধাভোগ — এগুলোই প্রাসঙ্গিক। আপাতভাবে “দেশের ভালো, দশের ভালো” করতে নিজেদের নিয়োজিত করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাদের হৃদয়ের অন্তঃপুরে প্রস্ফুটিত হয় স্করপিও, নিউটাউনে ফ্ল্যাট হাঁকানোর লক্ষ্য। এখানেও ব্যতিক্রম আছে বইকি! রাজনৈতিক কেরিয়ারকে সমৃদ্ধ করে প্রাসাদোপম বাড়ি কিংবা ক্ষমতার অলিন্দে থাকার লোভলিপ্সা ছুঁতে না পারা তপন শিকদার, অজিত পাঁজা, অনিল মুখোপাধ্যায় থেকে বিমান বসুর মতো ব্যক্তিত্বরা তো এই সমাজেরই অংশ।

ব্যারিস্টারি পেশার ঐন্দ্রজালিক আকর্ষণ উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধন করেছেন জ্যোতি বসু থেকে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। এঁরা কি যুবসমাজের আদর্শ হতে পারেন না? পাম অ্যাভিনিউয়ের দু’কামরায় কাব্যে লালিত রাজনৈতিক সন্ন্যাস পালন করা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জীবনধারা অনুসরণ করাও কি বর্তমানে খুব বোকামি? নাকি এহেন অবাঞ্ছিত চিন্তাভাবনা ফুৎকারে উড়িয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করাই স্মার্ট হওয়ার আসল ইউএসপি?

সত্তর-আশির দশকে জনপ্রিয় ফুটবলারদের দলবদল এবং সংশ্লিষ্ট চিত্রনাট্য সর্বজনবিদিত। “প্রিন্স অব ক্যালকাটা”-কে মোহন কর্তা টুটু বসু হাইজ্যাক করে রাখায় চণ্ডী বাবু পুলিশের কাছে এফআইআর করলেন। পেশিশক্তির জোরে চিমা, কৃশানুদের দলবদল করানোর পরেও কর্মকর্তা থেকে প্লেয়ার — কারোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা হয়নি। পেশাদারী হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া উপেক্ষা করে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার উদাহরণ খেলার মাঠে ভুরি ভুরি আছে। কেউ ভুলতে পারে ’৮৪-র ডার্বিতে সুব্রত ভট্টাচার্যের অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা?

১৯৮৪ সালের ২৮শে জুন, লিগে কুমারটুলির বিরুদ্ধে চন্দন বসুর সঙ্গে হেড-টু-হেড সংঘর্ষে মাথা ফাটল তাঁর। মাত্র আটখানা সেলাই হল ক্ষতস্থানে। ভুল চিকিৎসার দৌলতে সুস্থ হওয়ার বদলে মোহন জনতার “ঘরের ছেলে” বাবলু আরও অসুস্থ, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। জুলাইয়ের শুরুতে ক্যাপিটাল নার্সিংহোমে নবকলেবরে সেলাই হল, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত পুরো বিশ্রাম। কিন্তু তিনি তো ফুটবল নামক শিল্পের পূজারী। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে দলকে শক্তি জোগানোর পরিবর্তে কাপুরুষের মতো বিশ্রামে থাকবেন, তা হয় নাকি? অবশেষে ২১শে জুলাইয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ। সাদা ব্যান্ডেজ মাথায় নিয়ে মাঠের মধ্যে ও বাইরে দু’জায়গাতেই লড়ে গেলেন, মোহনবাগানও সসম্মানে ম্যাচটা জিতে গেল।

প্রতিষ্ঠা দেওয়ার কারিগর পুরনো দল ও সমর্থকদের প্রতি মারাত্মকভাবে দায়বদ্ধতার অনন্য নজির স্থাপন করে ইস্টবেঙ্গলের লক্ষাধিক টাকার অফার ফিরিয়ে দেওয়া — এটাও কি ব্যতিক্রম বলে আমরা এড়িয়ে যাব? কেই-বা অস্বীকার করবে অ্যান্টিগায় ২০০২ সালের সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচ, অনিল কুম্বলের চোয়ালে ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রতিপক্ষকে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার লৌহকঠিন দৃঢ়তা?

আর এখনকার বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলবদল করা ব্যক্তিরাই মিডিয়ার মূল আকর্ষণ। শিষ্টাচার, নৈতিকতার মতো দার্শনিক শব্দবন্ধ “সোনার পাথরবাটি” রূপেই প্রতিপন্ন হচ্ছে। আকবরের ষোলো সেকেন্ডের গোলের চেয়েও দ্রুতগতিতে জার্সি বদলে ফেলছেন কিছু নেতা-নেত্রী। আচমকা কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে, কোনো অদৃশ্য পালমোনোলজিস্ট হয়তো কিছু টোটকা দিচ্ছেন। অচিরেই সুস্থ হয়ে তাঁরা সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন, “দলে থেকে কাজ করতে পারছি না, দমবন্ধ হয়ে আসছিল!” নতুন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে জয়ী হলে কেল্লাফতে, হেরে গেলে আবার শীতঘুম কাটিয়ে ডিগবাজি — এগুলো আজ সদ্যোজাত শিশুরাও জানে।

দাদাঠাকুর হয়তো এজন্যই লিখেছিলেন —

মোর ডিপোজিট মানি হল জব্দ
আমার মান গেল, মানিও গেল
আমি আসমান হতে পড়লাম দাদা
আমার আশা-মান দুই চূর্ণ হল

গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েই এই পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রিয় শিল্পী নচিকেতা প্রকাশ করেন —

ভোট ভোট ভোট
ডাইনে বায়ে রাজনীতি ঘর মেতে চলেছে
দল বদলের নীতি ঘরে ঘরে জমছে
দাদা, দিদি, পিসি, মাসি ঘর বদলাচ্ছে

যেভাবে গ্রিনল্যান্ড ভ্যানিশ করে, পুকুর বুজিয়ে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা তৈরি হচ্ছে, একই কায়দায় বঙ্গরাজনীতিতেও কি পরিবেশ দূষণ হচ্ছে? অবশ্য বহুযুগ আগেই ভোটপুজোর সময়ে সমাজে নিষ্কলঙ্ক পরিচয় প্রকাশের অদম্য স্পৃহা বারংবার তিরস্কৃত হয়েছে দাদাঠাকুরের লেখায়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজস্ব দায়দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও শুধু প্রচারপর্বে মানবপ্রেমকে চাকচিক্যময় মোড়কে উপস্থাপন করা — আজকের যুগের মেকি “জনসংযোগ” — নিন্দিত হয়েছে শরৎ পণ্ডিতের লেখায়।

আমি ভোটের লাগিয়া ভিখারী সাজিনু
ফিরিনু গো দ্বারে দ্বারে,
আমি ভিখারী না শিকারী গো,
আমায় আসল কেউ না বলিল না,
ক্যানভাস করিলাম যারে,
সব হাঁ ক’রে যে রইল দাদা
আমি কার হাঁ বল বোজাই কিসে
তাদের মুখের ভাষায় ভুলিনু আশায়
জানি না বুকের ভাষা
তাদের মনের কথা মনই জানে
ভোট দিবে কি নাহি দিবে
বুঝি গাছে তুলে মোরে মই কেড়ে নেবে

একবার সমাজের সম্ভ্রান্ত অভিজাত শ্রেণির প্রার্থীর বিপক্ষে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হলেন দাদাঠাকুরের স্নেহভাজন কার্তিক। অর্ধশিক্ষিত কার্তিককে নানাভাবে অপদস্থ করা ও টিকা-টিপ্পনী দেওয়ার পাল্টা দাদাঠাকুরের লেখায় উঠে এল তীব্র শ্লেষাত্মক বক্তব্য —

ভোট দিয়ে যা —
আয় ভোটার আয়।
মাছ কুটলে মুড়ো দিব,
গাই বিয়োলে দুধ দিব,
দুধ খেতে বাটি দিব,
সুদ দিলে টাকা দিব,
ফি দিলে উকিল হব,
চাল দিলে ভাত দিব,
... ... ... ... ...
কোনো কাজে লাগবো না

ক্ষমতার মোহ নিয়ে একটি গল্প না বললেই নয়। তৎকালীন মেয়র সুরেন্দ্রনাথ মল্লিকের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল বঙ্গীয় আইন পরিষদের মন্ত্রীত্ব লাভ করা। রাজভক্ত মল্লিক মশাই সুকৌশলে নানাভাবে ব্রিটিশ বাহাদুরকে তোষামোদ করেন। তাই লর্ড লিটনও এরকম আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে দেরি করলেন না। কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া মাত্র লিটন সাহেবের আনুকূল্যে সুরেন মল্লিকের মন্ত্রী হওয়া। কিন্তু স্বশাসিত সংস্থায় এহেন অনৈতিক নিয়োগের বিরুদ্ধে জল গড়াল আদালতে। নেপথ্যে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। অনেকের অজানা, এই মানুষটিই “দেশপ্রিয়” হিসেবে খ্যাত। আজও দেশপ্রিয় পার্কে ওঁর মূর্তি রয়েছে।

যাইহোক, মামলার ফলস্বরূপ মল্লিক মশাইয়ের মন্ত্রীত্ব গেল। উপনির্বাচনে চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ্য পার্টির সুরেন্দ্রনাথ হালদার বিপুল জনসমর্থনের জোরে বিজয়ী হলেন। এক্ষেত্রেও দাদাঠাকুরের লেখা ছড়া স্মরণীয় হয়ে আছে —

দক্ষিণ কলকাতা মুখরিত আজি রে,
দে রণ, দে রণ বলি হাঁকিল স্বরাজী রে।
... ... ... ... ...
বলিহারি স্বরাজীর কেয়া তোফা তোড়জোড়
মল্লিক বুঝিলেন বিধাতা বিরূপ মোর!

তবে এই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ কখনোই সৌজন্য, শালীনতার মাত্রা লঙ্ঘন করেনি। আর গত কয়েক দশকে দেশীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে সৌজন্য বড়ো বিষম বস্তু। এককালের দোর্দণ্ড প্রতাপ রাজনীতিবিদ আজ মিডিয়ার সামনে একদা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর ব্যক্তিগত কুৎসা উগরে নিজেকে সততার আধুনিকতম একক ভাবছেন। ভাবতেই পারেন। কিন্তু তিনিই জনগণের অতন্দ্র প্রহরী পুলিশের কর্তাকে “জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব” বলে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ব্রিটিশ শাসিত পুরনো কলকাতায় বিভিন্ন পথঘাট নির্মাণ করা, বাড়িতে দুর্গাপুজোর মাধ্যমে সমাজে নিজস্ব প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের চেষ্টা করতেন ধনী ব্যবসায়ীরা। গণ্যমান্য বিদ্বজ্জনদের মাঝে নিজেকে কুলীন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ছিল আকর্ষণীয় একটি অধ্যায়। তবে বর্তমান রাজনীতিতে সেই কৌলিন্য প্রতিষ্ঠার স্থান নিয়েছে ভোটের মার্জিন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দোর থেকে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী শঙ্কর লালওয়ানি প্রায় ১১.৭৫ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, যা এখনও ভারতের সর্বকালীন রেকর্ড। পশ্চিমবঙ্গের একটি কেন্দ্রও খানিকটা একই কারণে লাইমলাইটে এসেছিল, যেখানে সম্প্রতি এক তরুণ বিপ্লবী আচমকা “গব্বর সিং”-এর মতো দুধর্ষ দুশমনদের চিনিয়ে দিয়েছেন, চিনিয়েছেন ওঁর নিজস্ব সুবিধাবাদী অভিসন্ধিও।

ভোটের দামামা বেজে যাওয়া মানেই মাঝমাঠে চোরাগোপ্তা ট্যাকলের প্রাধান্য। সেখানে শান্ত, নিরীহ মানুষদের প্রচারের আতিশয্য কম। যেমন ফুটবলজীবনে লাল কার্ড না দেখা অলোক মুখোপাধ্যায়দের লোকে মনে রাখতে চায় না। জনগণ মনে রাখতে চায় না কে. রামকৃষ্ণ বা সোম মারান্ডিকে — কংগ্রেস ও বিজেপির যে দু’জন প্রার্থী ১৯৮৯ ও ১৯৯৮ সালে মাত্র ন’টি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর দুনিয়ায় এরকম মার্জিন পরাজয়ের শামিল।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির দরুন আমরাও সকলেই এখন অ্যাকশন-থ্রিলারের ভক্ত। যাদের কাছে “রামন ম্যাগসাইসাই” প্রাপক টি. এন. সেশন কিংবা সুকুমার সেনের তুলনায় জ্ঞানেশ বাবু বেশি চর্চিত। যিনি ভোটার তালিকায় “আহা ভূত, বাহা ভূত/ কিবা ভূত, কিম্ভূত/ বাবা ভূত, ...পাকা ভূত/ সোজা ভূত, বাঁকা ভূত/ রোগা ভূত, মোটা ভূত/ আধা ভূত, গোটা ভূত”দের খুঁজে বের করার বদলে আরও জট পাকিয়ে ফেলেছেন।

খ্যাতির শীর্ষে থাকা আইনজীবী চিত্তরঞ্জন দাশ প্রায়ই বাড়ি ফেরার পথে ঘনিষ্ঠ বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সারাদিনের উপার্জন বিলিয়ে দিতেন। তারপর বাসন্তী দেবীর মুখোমুখি হয়ে আশ্বস্ত করতেন, “আজ তো সেরকম কিছু রোজগার হয়নি, দেখি কাল আবার চেষ্টা করব।” দেশের মানুষের উন্নতিকল্পে নিজের পৈতৃক বাড়ি, জমি — সবকিছু তিনি দান করে গিয়েছেন। দানের জলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে “চিত্তরঞ্জন সেবাসদন”, “ক্যান্সার হসপিটাল”-প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। তাঁরই সুযোগ্য অনুচর সুভাষচন্দ্র সিভিল সার্ভিসের পদমর্যাদা, সুযোগসুবিধার মায়াজাল থেকে সচেতনভাবে সহস্র যোজন দূরে রেখেছেন।

বর্তমান অস্থির সময়ের প্রেক্ষিতে এহেন অনাড়ম্বর, ত্যাগস্বীকারের আখ্যান সামগ্রিকভাবে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়েই থাকুক। আমরা শুধুই ঝাপসা হয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোয় উত্তরণের আশা ও মুখোশের বেড়াজালে বেড়ে ওঠা হতাশা নিয়েই তাকিয়ে থাকি “অন্ধকারের উৎস” থেকে “উৎসারিত আলো”-র প্রত্যাশায়।

তাই পরিশেষে কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায়ের লেখা ধার করে বলতে হচ্ছে —

মুখোশ, মুখোশ শুধু, চারিদিকে মুখোশের ভিড়;
আমাকে অস্থির
ক’রে তোলে, নিরুপায় হয়ে তুলি হাত
আকাশে, ... খটখটে মেঘ-রোদ্দুরের অনির্বচনীয়
সুন্দর নির্মাণ করে চিরায়ত
আর এক পৃথিবী;
আমি চেয়ে থাকি নির্নিমেষ।
... ... ... ... ...
মুখ ও মুখোশে আজ ভেদ নেই, কোন ভেদ নেই।




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের আষাঢ় সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে ২৫ জুন, ২০২৬। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ২০ জুনের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মান। বিস্তারিত তথ্য এবং লেখা পাঠানোর ডিজিটাল ফর্ম ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
4 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top