About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
স্বার্থপর
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

স্বার্থপর


নিশিবালাদেবী শাড়ির আঁচলটা বাঁ-কাঁধ থেকে টেনে ডান-কাঁধ হয়ে বুকে ঢেকে নিলেন। একটু শীত শীত করছে তাঁর। বসন্তের এই শুরুর সময়টায় একটু শীত করে বৈকি! তার ওপর সকালেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে।

সুকান্তবাবু সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে সামনের দিকে ছুড়ে ফেলে বললেন, "শীত করছে বুঝি?"

নিশিবালাদেবী মুখ থেকে একবার "হুম" শব্দ করে ডান হাত দিয়ে হাঁটুটা চেপে ধরে বেঞ্চিটাতে বসলেন। লাঠিটা বেঞ্চির গায়ে হেলান দিয়ে রেখে সামনের দিকে তাকালেন। শেষ বিকেলের চুরি যাওয়া আলোয় লেকের জল টলটল করছে। লেকের মাঝের গাছটায় পাখিদের সে কী ভীষণ কিচিরমিচির, তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দটা তিনিও উপভোগ করছেন বোধহয়!

সুকান্তবাবু তাঁর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, "ছেলের সঙ্গে সমস্যা মিটেছে? রাগ কমেছে বাবুর?"

নিশিবালাদেবী সামনের দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলেন, "নাহ, বরং আমার প্রতি বাবুর রাগ আরও দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু তবুও এই ব্যাপারে আমি কোনো আপস করব না। আর আমি একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তুমি ওর মাথায় এই ভূতটা ঢোকালে কী করে? কেন?"

সুকান্তবাবু নিরীহ দৃষ্টিতে তাকালেন নিশিবালাদেবীর দিকে। তারপর খুব শান্ত স্বরে বললেন, "আপস করতে বলছি না। তবে ছেলের ভবিষ্যতের কথাটা একবার ভাববে তো! ও যে সুযোগটা পেয়েছে, সেটা আর ক'জন পায় বলো দিকি?"

কথাগুলো শুনে নিশিবালাদেবীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এসে পড়ল সুকান্তবাবুর ওপর। ধূসর হয়ে আসা চোখজোড়ার সেই দৃষ্টি মোটা ফ্রেমের চশমার ভিতর দিয়েও সুকান্তবাবুর ভিতরে আলোড়ন সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।

মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন সুকান্তবাবু। অপরাধীর মতো মাথাটা নিচু করে নিলেন। জীবনের এই পঞ্চান্নটা বসন্ত কাটিয়ে আজকে তিনি এই জায়গায় এসে উপস্থিত হয়েছেন। নিজের কর্মের মাধ্যমে নাম, যশ সব কামিয়েছেন, কিন্তু তাঁর প্রতি নিশিবালাদেবীর যে অভিমান, সেটা শেষ করতে পারেননি। একরাশ হতাশা এসে গ্রাস করল তাঁকে। কিন্তু দোষটা কি তাঁর একার? সমস্ত অপরাধের ভাগীদার কি তিনি একাই?

অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর আজ তাঁর পাশে বসা নিশিকে তিনি জিজ্ঞাসা করতে পারবেন না। কারণ, তিনি জানেন, সত্যিই হয়তো পরিস্থিতি মানুষকে নিজের অজান্তেই অনেক অপরাধ করতে বাধ্য করে।

নিশিবালাদেবী চশমাটা খুলে শাড়ির আঁচলের খুঁট দিয়ে চোখ মুছলেন। তারপর একটু নরম হয়ে বললেন, "কতদিন আছ এখানে? আর কী জন্য এখানে এসেছিলে বললে না তো! তোমাদের জমিজায়গা তো সব বিক্রি করে দিয়েছ শুনেছি।"

সুকান্তবাবু কিছু একটা উত্তর দেওয়ার আগেই সামনের লাল ইটের রাস্তা দিয়ে এক যুগল হাত ধরাধরি করে হেঁটে এগিয়ে গেল। খুব চেনা চেনা লাগছে কি এই যুগলকে? তিনি ভালো করে দেখলেন। হ্যাঁ, এই যুগলটি তো তাঁর খুব চেনা। এক ফেলে আসা অতীতের পাতা থেকে উঠে এসেছে তারা। বসন্তের বিকেল, লেকের ধার আর দুটি ছেলে-মেয়ের সদ্য প্রেমে পড়া এক মধুর অতীত। কলেজ থেকে বেরিয়ে সপ্তাহে অন্তত দুটো দিন নিজেদের জন্য দুটো ঘণ্টা বের করা। সেই ট্রেন লাইনের ধার থেকে ছিঁড়ে আনা সাদা বোগেনভেলিয়ার থোকা, সেই ত্রিকোণ কাগজে মোড়া ধোঁয়া ওঠা ঘটি-গরম, সেই চারমিনারে পুড়তে থাকা সদ্য যুবকের ঠোঁট — সবটাই ভীষণ চেনা সুকান্তবাবুর।

এইসব ভাবতে ভাবতেই কেমন যেন অতীতের দিনগুলিতে হারিয়ে গিয়েছিলেন সুকান্তবাবু। নিশিবালাদেবীর পুনরায় প্রশ্নে ঘোরটা কাটল তাঁর। "কী হলো, উত্তর দিলে না যে! মনে মনে আবার কোনো ফন্দি আঁটছ বুঝি? নাকি আবার আমার মন ভোলানো কোনো মিথ্যের আশ্রয় নিতে চাইছ?"

সুকান্তবাবু খানিকটা বিরক্ত হলেন নিশিবালাদেবীর এরূপ প্রশ্নে। কিন্তু তিনি জানেন, তাঁর পাশে বসা এই মহিলাটিকে তিনি কোনোভাবেই আর আঘাত দিতে অথবা কড়া ভাষায় জবাব দিতে পারবেন না। সেই পথটা তিনি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। মানুষ বাইরে নিজেকে যতই সত্যবাদী অথবা নিরপরাধী দেখাক, নিজের বিবেকের কাছে তার অপরাধ কখনো চাপা থাকে না।

সুকান্তবাবু বললেন, "গত সোমবার বিকেলের ফ্লাইটে বেরিয়ে যাব। আর হয়তো কোনোদিন আসা হবে না!" নিশিবালাদেবী মুচকি হেসে বললেন, "বেশ, আর এসো না। তুমি এলে আমাদের পোড়া অতীতগুলো সঙ্গে করে নিয়ে আসো। আমি আর সেই পোড়া জায়গায় ফিরতে চাই না।"

সুকান্তবাবু কিছু একটা বলতে যাবেন, ঠিক সেই সময় তাঁদের সামনে এসে উপস্থিত হলো একটি আইসক্রিমওয়ালা। তাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল, "বাবু, আইসক্রিম দেব নাকি?" সুকান্তবাবু তাকালেন নিশিবালাদেবীর মুখের দিকে।


হাতে বোগেনভেলিয়ার একটা থোকা নিয়ে সুকান্ত হাসিমুখে এসে দাঁড়াল নিশির সামনে। সুকান্তকে এতটা খুশি অনেকদিন বাদেই দেখল নিশি। সেও হাসিমুখে কাগজ-ফুলের থোকাটা নিয়ে বলল, "মনে হচ্ছে খুব খুশি আজ, কী ব্যাপার?"

সুকান্ত ব্যাগের চেন খুলে একটা কাগজের মতো কিছু বের করে নিশির হাতে দিয়ে বলল, "এটা তোর জন্য, খুলে দেখ।"

নিশি কাগজটা উল্টে-পাল্টে দেখতেই তার মুখের অবয়ব পরিবর্তন হয়ে গেল। চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মনে হলো, এবার আর সে নিজের ভালোবাসাকে নিজের কাছে আটকে রাখতে পারবে না। তবুও নিজেকে সামলে সে হাসিমুখে বলল, "যাক, তোর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন তাহলে সফল হতে চলেছে!"

সুকান্ত নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরল নিশিকে। তার শক্ত বাহুবন্ধনে নিজেকে এতদিন সুরক্ষিত মনে করত নিশি; কিন্তু আজ যেন এই বাহুবন্ধন তার কাছে অজগর সাপের বেড়ের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে, তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সে এই বন্ধন থেকে মুক্তি নিতে চায়। কিন্তু না, সে এ কাজ করতে পারে না। এখন এই কাজ করলে সুকান্তর মনোবল ভেঙে যাবে। ছেলেটা দিন-রাত এক করে দিয়েছিল বিদেশে পড়াশোনা করতে যাবে বলে। আর আজ যখন সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, তখন সে এতটা স্বার্থপর কী করে হবে? না না, এ কাজ করতে পারবে না সে। কিছুতেই না।

কিছুক্ষণ পর সুকান্তর বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিশি বলল, "তুই ফিরে আসবি তো? আমি কিন্তু অপেক্ষা করব তোর জন্য।"

নিশির এই প্রশ্নের কোনো উত্তর সেইদিন দেয়নি সুকান্ত। কেবল তার ডান হাতটা নিজের হাতে নিয়ে একটা চুমু খেয়েছিল। দু-চোখভরা বিশ্বাস নিয়ে তাকিয়েছিল নিশির দিকে। সুকান্তের সেই দৃষ্টিতে নিশি অনেকটা বেশি বিশ্বাস দেখেছিল আর দেখেছিল ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি।


দুজনের তরফেই কোনো উত্তর না পেয়ে আইসক্রিমওয়ালা হাঁকতে হাঁকতে ততক্ষণে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। সুকান্তবাবু আবারও বললেন, "আমি যে ভুল করেছি, সেই ভুল বাবু করবে না। এত ভয় পাচ্ছ কেন তুমি?"

নিশিবালাদেবী সামনের দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলেন, "যেদিন তুমি গিয়েছিলে, সেদিন যদি এই ভয়টা পেতাম, তাহলে আজ আমায় এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না।"

সুকান্তবাবু আর কিছু না বলে পকেট থেকে আবার একটা সিগারেট বের করে তাতে আগুন দিলেন। সামনের লেকের জলের মধ্যে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসছে। পাখিদের কিচিরমিচির কমে আসছে। কেমন যেন নিস্তব্ধ হয়ে উঠছে জায়গাটা।

সুকান্ত ফিরেছিল। হ্যাঁ, বিদেশ যাওয়ার বছর তিনেক পরে সে ফিরে এসেছিল। তখনও অপেক্ষা করেছিল নিশি। হঠাৎ করেই কোনো এক শীতের সকালে পরিযায়ী পাখির মতো নিশির সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল সুকান্ত। নিশিও তাকে নিজের ভেবে আবার আশ্রয় দিয়েছিল। সুকান্ত বলেছিল, "এবার বাড়িতে বল নিশি। আমি এবার তোকে বিয়ে করেই একেবারে নিজের সঙ্গে বিদেশে উড়িয়ে নিয়ে চলে যাব।"

নিশির কেমন যেন ভয় হয়েছিল। গলাটা শুকিয়ে এসেছিল। হাত-পা কেঁপে উঠেছিল সুকান্তের কথা শুনে। কিন্তু সে তখন কিছু বলেনি। বাড়িতে এসে বাবাকে সবটা জানিয়েছিল। তার বাবা-মা একেবারে রাজি হয়েছিল তার আর সুকান্তের বিয়ের জন্য, কিন্তু তবুও তার মনের ভেতর জন্মেছিল একটা "কিন্তু"... এই পৃথিবীতে তাকে ছাড়া তার বাবা-মায়ের আর কেউ নেই। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবটাই তাঁরা নিজেদের মেয়ের মধ্যে খুঁজে নিয়েছিলেন। আর সেই নিশিই কিনা নিজের স্বার্থের জন্য বিয়ে করে বিদেশে চলে যাবে? সে জানে, বিদেশ থেকে বললেই ফেরা যাবে না। অনেক প্রক্রিয়া, অনেক ঝামেলা সে দেশ থেকে ফেরার। যে বাবা-মা তাঁদের সমস্ত কিছু উজাড় করে দিল মেয়ের জন্য, সেই মেয়ে কিনা তাঁদের ছেড়ে এত দূরে চলে যাবে? কিছুতেই সেদিন নিজের মনকে বোঝাতে পারেনি নিশি।

পরদিন সুকান্ত যখন এক বুক আশা নিয়ে তার কাছে এসেছিল, তখন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল নিশি। সুকান্তের হাতে হাত রেখে বলেছিল, সে তার মা-বাবাকে এই দেশে ফেলে রেখে নিজের স্বার্থের জন্য অন্য দেশে গিয়ে সুখী হতে পারবে না।

সুকান্ত প্রথমটায় একটু হতাশ হলেও নিশির এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছিল। সে আরও একটা প্রতিশ্রুতি সেদিন দিয়েছিল নিশিকে। কিছুদিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসবে এই দেশে। আর তখন তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে। সুকান্তের চোখ থেকে সেদিন চোখ সরাতে পারেনি নিশি। তার প্রথম বিদেশে যাওয়ার দিন যে বিশ্বাস, যে প্রতিশ্রুতিটা সে দেখেছিল, আজ সেই বিশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিটাই ফিকে হয়ে ফুটে উঠেছিল সুকান্তের চোখে। মনে মনে হেসেছিল নিশি। ভেবেছিল, তুই আর ফিরবি না রে সুকান্ত, কোনোদিন ফিরবি না। আমি জানি।

তার কিছুদিন পরেই সুকান্ত উড়ে গিয়েছিল বিদেশের মাটিতে; কিন্তু নিশিকে দিয়ে গিয়েছিল ভালোবাসার এক অমূল্য উপহার। যে উপহারটিকে সঙ্গে নিয়ে নিশির এতগুলো বছর কেটে গেল।

সুকান্তবাবু উঠে দাঁড়ালেন। নিশিবালাদেবী ঝাপসা চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করলেন, "এতগুলো বছর পর কেন এসেছ জানালে না তো?"

সুকান্তবাবু চুপ করে রইলেন। নিশিবালাদেবীও লাঠিতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। অশ্রুসিক্ত চোখে তাকালেন নিজের ভালোবাসার দিকে। এই হয়তো তাঁদের শেষবারের মতো দেখা। আর হয়তো কোনোদিন দেখা হবে না তাঁদের। কিন্তু নিশিবালাদেবী প্রতিদিন দেখে সুকান্তকে। দিনরাত তাঁর সামনে ঘুরে বেড়ায় সুকান্ত। সেই সুকান্ত, যে সুকান্তকে সে আজীবন ভালোবেসে এসেছে।

সুকান্তবাবু একটা ঢোক গিলে বললেন, "প্লিজ নিশি, ছেলেটাকে যেতে দাও। নিজের স্বার্থের জন্য ছেলেটার ক্ষতি কোরো না তুমি, প্লিজ। এইভাবে স্বার্থপর হয়ে যেয়ো না নিশি।"

স্বার্থপর? নিশি 'স্বার্থপর'? কথাটা শুনেই হেসে ফেলেন নিশিবালাদেবী। তারপর সুকান্তবাবুর দিকে তাকিয়ে বলেন, "স্বার্থপর আমি, না তুমি, সুকান্ত? তুমি কেন এসেছ এখানে আমি জানি না ভেবেছ? আমি সবটা জানি। তবে তোমার এই উদ্দেশ্য আমি কিছুতেই চরিতার্থ হতে দেব না। কিছুতেই না।"

সুকান্তবাবু আর কোনো কথা বললেন না। কেবল চোখের ইশারায় বোঝালেন, তিনি পরাজিত। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন সামনের দিকে। নিশিবালাদেবী আবারও পিছনে পড়ে রইল। তিনি আর একবারও তাকালেন না তাঁর দিকে। কেবল পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে একটা ফোন করলেন।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওপার থেকে কেউ একজন ফোনটা রিসিভ করলে তিনি বলে উঠলেন, "পারলাম না মহুয়া। আমি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। আমাদের সারাটা জীবন এইভাবেই নিঃসন্তান কাটাতে হবে। ও স্বার্থপর, খুব স্বার্থপর।"




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

এই সংখ্যায় প্রযোজ্য নিয়ম

একজন পাঠক এই সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই প্রতিক্রিয়া এই সংখ্যার অন্য কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা। দ্রষ্টব্য: আষাঢ় ১৪৩৩ সংখ্যা থেকে এই নিয়ম আরও সহজ ও উদার করা হয়েছে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
3 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।