About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এই পাতায় রয়েছে নানা স্বরের কবিতা — নরম, তীব্র, অকপট। এগুলো অনুভবের কথা বলে, অনুভূতির আশ্রয় হয়ে ওঠে। এই কবিতাগুলো ফিরে ফিরে পড়ার জন্য, মনে রাখার জন্য।
কোনো কবিতা মন ছুঁয়ে গেলে, সেই কবিতার শেষে থাকা আইকনে ক্লিক করে আপনি তা প্রকাশ করতে পারেন — নীরব এক উৎসাহ, যা কোনো শব্দ ছাড়াই কবির কাছে পৌঁছে যায়।
বিঃদ্রঃ কবিতাগুলি সম্পাদকীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নির্বাচিত ও প্রকাশিত, এবং জমা পড়ার সময় অনুসারে বিন্যস্ত। ক্রমিক সংখ্যা বা অবস্থান তাদের মান, গুরুত্ব বা সম্পাদকীয় অগ্রাধিকার নির্দেশ করে না।

কোনো নির্দিষ্ট কবিতায় সরাসরি পৌঁছতে কবির নামের ওপর ক্লিক করুন —


অশোক নন্দন
সন্দীপ গাঙ্গুলী
স্মৃতিলেখা মাইতি
গৌতম রায়
আসারুল সেখ
রানী সেন
তীর্থ মুখার্জী
পাগল দার্শনিক
গোবিন্দ মোদক
অলোক রায়
অঙ্কিতা মন্ডল
সুজাতা সরকার
অচিন পাখি
স্বপন চক্রবর্তী


কবিতা ১


অসম্পূর্ণতার ভেতর পূর্ণতা

অশোক নন্দন

তোমার চোখে প্রথম যে আলোর রেখা দেখেছিলাম,
সেটা ভোর ছিল না —
ছিল এক অচেনা ঋতুর শুরু।

তুমি হেসেছিলে খুব স্বাভাবিকভাবে,
আর আমি ভেতরে ভেতরে বদলে গিয়েছিলাম।

তোমার নামটা উচ্চারণ করলে এখনো
জল ছুঁয়ে ওঠা বাতাসের মতো লাগে —
নরম, কিন্তু গভীর কোনো সুর রেখে যায়।

আমরা কোনো বড় প্রতিশ্রুতি দিইনি কখনো,
শুধু হাঁটছিলাম পাশাপাশি,
সময়ের ভিড়ের ভেতরেও একটু আলাদা হয়ে।
তোমার হাত ধরার মধ্যেকোনো নাটক ছিল না,
শুধু ছিল একরাশ নিশ্চিন্ত নীরবতা।

ভালোবাসা বোধহয় এমনই —
কথার চেয়ে বেশি থাকে বিরতিতে,
স্পর্শের চেয়ে বেশি থাকে অনুপস্থিতিতে।

আজও যখন তোমাকে ভাবি, মনে হয় —
সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি,
কিছু কিছু অনুভূতিচিরকাল অসম্পূর্ণ থাকলেই
সবচেয়ে সম্পূর্ণ হয়।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি অশোক নন্দন পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ২


আশ্রয়

সন্দীপ গাঙ্গুলী

আমার একপাশে পাহাড়িয়া ফুলডুংরি
আর অন্যপাশে উত্তরের তোর্সা

স্বপ্নেরা ঘন হয়ে জড়িয়ে রাখে
মাছরাঙার ঠোঁটের শৈশবকে
কাপাস তুলোর মত ভেসে বেড়ায়
দখিনা বাতাসের সান্নিধ্যে,
পরীদের সাজিয়ে তুলি
জলফড়িংয়ের ডানার গোধূলীর রঙে
সবুজ ঘাসের ডগায় তিরতির করে
একটা অনন্ত দুপুর...

এরাই আমায় ভালবাসতে শেখায়
আমার স্বপ্ন সকল রাখা থাকে
কোন নাম না জানা পাখির
উদাস করা গ্রীবায়
আমার বালিশে চাদরে আগলে রাখতে চাই
ঘুমাতুর চোখের অপ্রাপ্তির অভিলাষ।

জানলার পর্দা সরিয়ে আলো ঢুকে আসে
শহুরে জীবন ব্যস্ত হওয়ার আগেই
সবার অলক্ষ্যে লুকিয়ে রাখি
আমার টুকরো টুকরো আলসে আদরে মাখা
রংবিলাসের মুহূর্তদের।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সন্দীপ গাঙ্গুলী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৩


অদৃশ্য প্রেমের অগ্নি

স্মৃতিলেখা মাইতি

প্রেম কেমন হয়, বলো তো,
বলতে পারবে কি তুমি?

যদি আমি খুব ভুল না হই,
প্রেম মানে থাকে শত চেষ্টার পর ভুলে না যাওয়া।
প্রেম মানে কাছে থাকা নয়,
প্রেম মানে মনের গভীরে যাওয়া।
আর সেই মনের প্রেম হল অদৃশ্য অগ্নিবীর,
যে অগ্নিবীর জ্বলবে,
কিন্তু প্রকাশ পাবে না।

তবে সেই অগ্নিবীরের তাপ
নিরবে অনন্তকাল জ্বলতে থাকে,
মনে মনে অদৃশ্য এক আলোয়,
সেই প্রেমের চিরন্তন ধারা বহে যায়।
যে ভালোবাসা কখনো সত্যি প্রকাশ পায় না,
তবে মনের গহীনে চিরকাল রয়ে যায়।

প্রেম যেন এক অনন্ত সঙ্গী,
দুঃখের মুহূর্তেও যা আমাকে মনে করাবে,
যে ভালোবাসা কখনোই হারিয়ে যায় না।
এই প্রেম আমার অন্তরের শক্তি,
যা আমাকে সবসময় সাহস দেবে।
যেখানে প্রিয় মানুষটি নিজেও জানে না,
কিন্তু হৃদয়ের নিঃশব্দ সংযোগ
সবসময় বর্তমান থাকে।
কোনো কারো ওপর নির্ভর না করে,
নিজের মানসিক জগতে
এক চিরন্তন আনন্দের আশ্রয়।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি স্মৃতিলেখা মাইতি পেয়েছেন সর্বমোট ১৪ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৪


অধিকারহীন

গৌতম কুমার রায়

জানি, পাবো না কোনোদিন,
তবুও তোমাকে বেসেছি ভালো,
মনে হয়,
কোনো এক ভোরে ফিরে এসে তুমি বলবে,
"এইতো আমি,
শুধু তোমার হয়ে থাকব বলে এলাম।"

সে ভোর আর আসে না,
তবুও রাতের তারা জেগে থাকে,
হৃদয়টা অবুঝ,
আশার সলতে নেভাতে জানে না।
যার উপর কোনো অধিকার নেই,
তার জন্যই বুক ফেটে যায়,
নিশুতি রাতে জমে ওঠে
না-বলা কথার হিমালয়।

তুমি হাসো দূরের বারান্দায়,
অন্য কারো গানের সুরে,
আমি সেই হাসি কুড়িয়ে রাখি
পুরনো ডায়েরির ভাঁজে,
লুকিয়ে রাখি চোখের নোনা জল,
যাতে কেউ না দেখে।

ডাকতে মানা, ছুঁতে মানা,
তবু মন তো নিয়ম মানে না,
নিষেধের কাঁটাতার ডিঙিয়ে
ছুটে যায় তোমার উঠোনে।
তুমি থাকো স্বপ্নের গোপন কুঠুরিতে,
যেখানে চাবি নেই, তালা নেই,
শুধু দীর্ঘশ্বাস আছে।

অধিকার নেই, তবু ভালোবাসি —
এইটুকুই আমার বেঁচে থাকা,
তোমার হতে পারিনি বলে
এইটুকুই আমার যন্ত্রণা।
লোকে বলে
ভালোবাসার অন্য নাম নাকি বেদনা,
তাই বুঝি আজও তোমার ছায়ার পিছে
মন ছুটে যায় অকারণে।

তুমি কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকো বুকের গভীরে,
তবুও তোমায় বুকেই রাখি পরম আদরে,
কারণ আমি জেনে গেছি —
বেদনা ছাড়া ভালোবাসা বাঁচে না
এই পৃথিবীর কোনো ঘরে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি গৌতম রায় পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৫


চন্দ্রালোকে প্রেয়সী

আসারুল সেখ

প্রাণপ্রিয়েষু,
নিশীথের নীরবতায় যখন চন্দ্রালোক
আমার কাননে নেমে আসে,
আমার অন্তর তখন শুধু
তোমারই অনুরাগে ভরে ওঠে।

হে প্রিয়তমেষু,
তোমার পল্লবের ন্যায় স্নিগ্ধতা
সমীরণের মতো ছুঁয়ে যায় আমার চিত্ত।
অজান্তেই তব অনুরাগে ডুবে থাকে
আমার নিঃশব্দ মন।

বিরহের এই নিঃশব্দ প্রহরে
তোমার লাবণ্যময় মুখ যেন
চন্দ্রালোকে ভাসে।
নিশীথের নক্ষত্ররা
শিযেন তব লাবণ্যেরই মৃদু প্রতিচ্ছবি।

হে মমপ্রিয়েষু,
আমার চিত্তে যখন মর্মবেদনা ভাসে,
তব উপস্থিতি তখন
সুধাধারা হয়ে নামে আমার অন্তরে।

হে হৃদয়প্রিয়েষু,
জেনে রেখো —
এই অন্তরের অনন্ত অনুরাগ
চিরকাল তোমারই জন্য।
যেথা নীরব গোধূলি নামে,
সেথা তব স্মৃতিই আমার একমাত্র আলো।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি আসারুল সেখ পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৬


গভীর বিশ্বাস

রানী সেন

মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা রেখে যাবো আমি,
এই বিশ্বাস নিয়ে ছুটে চলি অনন্তকাল।
যেখানে থাকবেনা কোনো বন্ধ দুয়ার
প্রয়োজনে সবার পাশে থাকবে সবাই।
যেখানে ফুটবে কাঁটা বিহীন সুগন্ধ গোলাপ
হাজার পাপড়ি নিয়ে ফুটে উঠবে পদ্ম,
সুরভিত মনের মাধুরী দিয়ে গাঁথা হবে মালা।
ভালোবাসার মেলবন্ধন হবে বিশ্ব জুড়ে।

মানুষের মনের যত হিংসা হানাহানি লোভ
ফল্গুধারায় সবকিছু ধুয়ে যাবে এক লহমায়।
স্রোতস্বিনী ধারা বয়ে নিয়ে যাবে আলোকিত প্রাণ।
অফুরন্ত স্বপ্ন বুকে জড়িয়ে
একসাথে সবাই এগিয়ে যাবে নতুন পথের খোঁজে।

এক গভীর বিশ্বাসে এই স্বপ্ন দেখি আমি প্রতিদিন।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি রানী সেন পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৭


আমার কালি মা

তীর্থ মুখার্জী

দেহপট শোধন করে,
নয়ন মাঝে তোমায় ভেবে
তোমায় নিয়ে যাপন করি
অবিচ্ছেদ্য অবিরাম
কলি যুগের কালিমা
আমায় মাখতে দিলো না আমার কালি মা।

এযুগের নামে কাটে পানি আর ভক্তিতে জল রে।
গুরু ভজি বলে কালি,
কালো মানিক দেখায় দিলি।
কলি যুগের কালিমা
আমায় মাখতে দিলো না আমার কালি মা।

গুরুর দেহে তোমার বাস
আমি পাই তার নির্যাস।
মাঠে ঘাটে ঘুরে মরি
তবু পাইনি গুরুর দেখা রে
খুঁজতে খুঁজতে তিনিই দেখি
বসে আছেন অন্তরেতে।
কলি যুগের কালিমা
আমায় মাখতে দিলো না আমার কালি মা।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি তীর্থ মুখার্জী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৮


শব্দের জীর্ণ রিকশাওয়ালা

পাগল দার্শনিক

কলম টানা এক শ্রমজীবী মজদুর
আমি কণ্ঠের উচ্চারণে
সভামঞ্চ কাঁপাতে পারি না;
তাই শব্দের নীরব অন্ধকারেই আশ্রয় খুঁজি।
আমি কবি নই —
আমি মূলত শব্দবাহী এক ক্লান্ত বাহক,
ভাষার অন্তঃপুরে ঘাম ঝরানো এক দিনমজুর।

দিনের অন্তিম প্রহরে যেমন কোনো কুলি
কাঁধে জমে থাকা ধুলোর স্তর ঝেড়ে ফেলে,
আমিও তেমনি বাক্যের শরীর থেকে
ক্লান্তির ক্ষতচিহ্ন মুছে দিই।

লেখা আমার কাছে
কোনো স্বর্গীয় অলৌকিকতা নয়,
নয় দেবদূতের উপহারস্বরূপ কোনো আশীর্বাদ।
এ এক অন্তহীন দহন,
রক্তে গলিত শ্রমের নোনাধরা উপাখ্যান।
প্রতিটি বাক্য যেন
পাথর কেটে পথ নির্মাণের শ্রমসাধ্য আয়োজন;
প্রতিটি উপমা যেন
খর রৌদ্রে ঘামভেজা কোনো মজুরের স্তব্ধ দীর্ঘশ্বাস।

মানুষ সাহিত্যকে নক্ষত্রলোকের জাদু বলে ভ্রম করে,
অথচ আমি জানি —
শব্দের ভিতরে সামান্য আলো জ্বালাতে হলে
কত বিস্তীর্ণ অন্ধকার বয়ে নিতে হয়।

আমি কোনো অলংকারসর্বস্ব সাহিত্যসভায়
জন্ম নেওয়া মানুষ নই;
আমি ভাঙা চায়ের দোকানের ধোঁয়াটে বিকেল,
লোকাল ট্রেনের গুমোট ভিড়ে
আটকে থাকা দীর্ঘশ্বাস,
কাদামাটির গন্ধমাখা
শ্রমিকহাতের কর্কশ আত্মীয়তা।
আমার কলম কোনো
সৌখিন অভিজাত্যের অলংকার নয়;
এটি ক্ষুধার বিরুদ্ধে প্রতিদিন টেনে চলা
এক জীর্ণ রিক্সা,
যার চাকায় জমে থাকে
অনাহার, অপমান আর অবহেলার শুকনো কাদা।

কখনো কখনো মনে হয়,
আমি কাগজের উপর শব্দ লিখি না —
ইট বহন করি।
আমি অলংকার নির্মাণ করি না,
বোঝা নামাই।
আর সেই বোঝা নামানোর বিনিময়ে যদি
দু’মুঠো স্বীকৃতি কিংবা সামান্য মানবিক স্নেহ জোটে,
তবেই দিনের শ্রম সার্থক মনে হয়;
তবেই রাত্রির ক্ষুধার্ত নীরবতা
কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে আসে।

কারণ আমি জানি —
সাহিত্য আসলে কোনো রাজমুকুট নয়;
এটি ক্রুশবিদ্ধ এক শ্রমের নাম।
শব্দ মানে কেবল সৌন্দর্য নয়,
শব্দ মানে আত্মক্ষরণও।
আর যে মানুষ নিজের অন্তর্গত রক্তক্ষরণকে
ভাষার শরীরে ধারণ করতে পারে,
একমাত্র সেই-ই হয়তো সত্যিকারের লেখক।

প্রভাতের শিশিরভেজা আলোয় তাই
আজও আমি শব্দের পুরোনো রিক্সা টেনে চলেছি —
ক্লান্ত, তবু অবিচল;
নিঃস্ব, তবু অন্তর্গত বিশ্বাসে দীপ্ত।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি পাগল দার্শনিক পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৯


সবার উপরে মানুষ সত্য

গোবিন্দ মোদক

বিশ্বজুড়ে বন্ধু আমার হিন্দু মুসলমান,
পার্সি জৈন শিখ বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান।
বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের ছোঁয়া আমার রক্ত জুড়ে,
গান গাই আমি বিশ্বজুড়ে মানবতার সুরে।

একমাত্র তীর্থ আমার এই পৃথিবীর মাটি,
বিশ্ববাসী ভাই-বোন সব এই কথাটা খাঁটি।
ভালোবাসি কলকাতা ঢাকা প্যারিস লন্ডন,
পৃথিবীতে অসহায় যতো আমার আপনজন।

বিশ্বাস করি সবার মধ্যেই আছেন ভগবান,
ঈশ্বর আল্লাহ বা গড বলো তিনি বিরাজমান।
মন্দির-মসজিদ হৃদয়েতে, গির্জাও মনের মাঝে,
তিনি আছেন সর্বত্রই সকল রকম কাজে।

"সবার উপরে মানুষ সত্য" – মনে রাখা চাই,
মানবতার চেয়ে বড়ো আর কিছু তো নাই।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি গোবিন্দ মোদক পেয়েছেন সর্বমোট ১০ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১০


হারানো দিন

অলোক রায়

আবার আমি ফিরতে চাই,
সেই ছোট্ট বেলার দিনে,
বাবা যখন মেলার মাঠে,
বেলুন দিতো কিনে।

দুপুর বেলায় মাঠের ধারে,
ঘুড়ি উড়াতাম কত,
রাতের বেলায় দাদুর কাছে,
গল্প শুনতাম কত।

ঠাকুমার ঐ বৃদ্ধ মুখে,
আদরভরা ডাক,
দাদুভাই, কাল সকালে গল্প হবে —
এখন নাহয় থাক।

ইস্কুল থেকে ফেরার পথে,
দৌড়োদৌড়ি করা,
মাস্টারমশাই ঘা মারতো,
দিতে না পারলে পড়া।

খেজুর গাছের রসের হাঁড়ি,
ভেঙেছি কত — হিসেব নেই,
পিচ রাস্তার পাথর নিয়ে,
ঢিল ছুঁড়ে কত দৌর দেই।

রোজ রবিবার ছুটির দিন,
সবচেয়ে বড় খুশির দিন,
পাড়ার যত বন্ধু মিলে,
ক্রিকেট খেলাতাম সারাদিন।

বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা হলে,
একটাই ছিল ভয়,
হোমমাস্টার লাঠি হাতে,
দারুণ ছিল নির্দয়।

মায়ের স্নেহ, বাবার আদর,
দাদু-ঠাকুমার সাথে,
পড়তে বললে ভাত খাবোনা —
বায়না করতাম রাতে।

দুর্গাপুজোয় নতুন জামা,
নতুন করে সাজা,
হাতে বন্দুক, চশমা চোখে,
সাজতাম মহারাজা।

ছোট্ট বেলার দিনগুলো সব,
চোখের সামনে ভাসে,
আনমনা হয়ে নিজেকেই বলি —
তা কি আর ফিরে আসে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি অলোক রায় পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১১


ক্লাচার

অঙ্কিতা মন্ডল

মায়াবী চোখের টানে
কখনো পাগল হইনি,
অঙ্গুলির চরম স্পর্শে
কখনো আটকে রইনি।
আমায় আটক করেছে
তোমার মেঘবরেণ্য কেশ,
শৌখিন কাঁটা গাঁথলে তাতে
লাগতো বড়ো বেশ।
শৌখিন কাঁটা হয়ে
খোপায় সাজতে চাই না,
সৌন্দর্যের রমরমাটা
আমার ঠিক সয় না।
চাই থাকতে ওই অগোছালো
চুলে আটকে রয়ে,
পরিপাটি না,
তোমার স্বাচ্ছন্দ্যের ক্লাচার হয়ে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি অঙ্কিতা মন্ডল পেয়েছেন সর্বমোট ১১ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১২


প্রাণ ভোমরা

সুজাতা সরকার

ধুলি মেদুর পথে সবুজের আচ্ছাদনে
সে শান্তির নীড় এক বুক আশা সোনালী স্বপ্নের ভিড়ে
আজ ও এই হৃদয়মাঝে স্মৃতির ভিড় তোলে
পাখীর কলতানে,
নিস্তব্ধ ধূধূ গানে
বাতাসের শব্দ যেথা
চুপিচুপি কথা বলে
ফুলের রঙে রঙিন সে পুষ্প
রমনী সর্বদা যেন তাই আনন্দ হিল্লোল তোলে।
দূরে ওই ঝর্নার জলে গোলাপী রঙ্
পদ্মেরা পাথরের বুকে যেন গড়ে চলে
অমোঘ প্রেম কাহিনী
একা সে পথে যেতে
বুকের মধ্যে প্রকৃতি ভরে
প্রাণ কথা শোনায় সে স্বপ্নালু বাহিনী।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সুজাতা সরকার পেয়েছেন সর্বমোট ১০ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৩


প্রথম ক্ষণ

অচিন পাখি

প্রতুলের সাথে ঐশ্রীর প্রথম দেখা
অচিন পাখির এক দেশে,
সন্ধ্যার রঙ মিশেছিল তখন
নদীর নরম আবেশে।
নীল শাড়ি গায়ে, আলতা মাখা পায়ে,
সে যেন হেঁটে আসে কোনো রূপকথার ছায়ে।
চোখ দুটো তার
শ্রাবণের ভেজা মেঘের মতো গভীর,
হাসিতে লুকিয়ে ছিল কতো অজানা অধীর।

প্রতুল তখন থমকে গিয়ে ভাবলো নিঃশব্দে,
এমন কাউকে কি আগে দেখেছে কোনো স্বপ্নে?

হাওয়ায় ভেসে এল
শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস,
দু’জনার মাঝখানে নেমে এলো
এক নীরব বিশ্বাস।

ঐশ্রী বললো কিছু না,
শুধু চোখে দিলো ভাষা,
প্রতুল বুঝলো,
এ বোধহয় জন্মজন্মান্তরের আশা।

দূরে কোনো বাঁশির সুর কাঁপিয়ে দিল বন,
অচিন সেই দেশে শুরু হলো এক অনন্ত অনুরণন।

আজও প্রতুল মনে রাখে সেই প্রথম ক্ষণ,
নীল শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে ছিল তার সারাজীবন।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি প্রতীক দাস পেয়েছেন সর্বমোট ২৫ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৪


বিলাপ

স্বপন চক্রবর্তী

রসাল বৃক্ষ কহে — ওহে কন্টকী,
মানুষের সাথে কেন এত মাখামাখি?
সারাটি জীবন ধরে দিলি এতো ফল,
যে মানবে দিলি সে প্রতারক, খল।
অর্থগৃধ্নু লোভী এক মানব দুর্বৃত্ত,
শিয়রে শমন আজি তার হেতু নিত‍্য।

কন্টকী হেসে কহে — হে রসাল বৃক্ষ,
তোরও জীবনে আজ সমহারে দুঃখ।
দেখেছিস নারিকেল বৃক্ষের দশা,
যার সাথে তোর ছিল অত ভালবাসা।
আজ তার প্রাণনাশ খণ্ড বিখণ্ডে,
ফল কি সে কম দিল অশিষ্ট চণ্ডে?

ভাবিস নি তুই সখা পেয়ে যাবি পার!
যতই দিস না ফল শত কি হাজার!
মানুষ স্বার্থপর এক নিষ্ঠুর প্রাণী,
স্বার্থের বশে করে আত্মীয় হানি।
আমরা তো তার কাছে তুচ্ছ জড় অতি,
আমাদের প্রাণনাশে তার কি-বা ক্ষতি!

মানবজাতির তাই ধ্বংস অনিবার্য,
হারায়েছে শুভবুদ্ধি, হারায়েছে শৌর্য।
এই তো সেদিন হায় জীবাণু বিষাক্ত,
মনুষ্য জীবন হায় করেছিল রিক্ত।
তবু করে হানাহানি, যুদ্ধে আজি মত্ত,
লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, নির্জল সত্য।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি স্বপন চক্রবর্তী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ


আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
4 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।