Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
একটি অসমাপ্ত গল্প
একটি অসমাপ্ত গল্প

বোলপুর স্টেশনের ছোট্ট প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামতেই রোদে-গরমে ঝলসে ওঠা বাতাসে একরাশ ধুলো উড়ল। সুচরিতা ব্যাগটা কাঁধে তুলে নামল। চোখের সামনে বিস্তীর্ণ আকাশ, শাল-পিয়াল গাছের নরম ছায়া, আর দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর — যেন অন্য এক জগৎ। কলকাতার ক্লান্ত শহুরে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে সে এসেছিল শান্তিনিকেতনে — শুধু বিশ্রাম নিতে নয়, নিজের হারিয়ে যাওয়া "আমি"-টাকে খুঁজে পেতে। রবীন্দ্রনাথের আশ্রমে পড়েছে তার বাবা, বহু গল্প শুনেছে শৈশব থেকে — "শান্তিনিকেতনে গেলে সময় থেমে যায়," বাবা বলতেন। আজ সেই সময়ের ভেতরেই যেন সুচরিতা নিজেকে খুঁজে পেল। অশ্বত্থ গাছের তলায় বসে কয়েকজন ছাত্র গান ধরেছে — "আমারো পরাণ যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো..." সুরের মায়ায় মুহূর্তেই হারিয়ে গেল সুচরিতা। সে জানত না, এই মাটির গন্ধ, এই সুর, আর এক তরুণ শিল্পীর চোখে তাকানো — সব মিলে তার জীবনের গতি বদলে দেবে।

পরের দিন সকালে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে হাঁটতে গিয়ে তার দেখা হয় অর্ণবের সঙ্গে — এক মৃৎশিল্পের ছাত্র, যার হাতে কাদা জীবন্ত হয়ে ওঠে। অর্ণবের শান্ত চোখ, ধীর গলায় কথা বলার ভঙ্গি — সুচরিতার মধ্যে অদ্ভুত টান তৈরি করে। তাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হতে থাকে, আর সেই সঙ্গে শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি, গান, নাচ, কবিতায় ভেসে ওঠে ভালোবাসা, আত্ম-অন্বেষণ ও জীবনের নতুন মানে। সকালের আলো তখন নরম, তালপাতার ফাঁক দিয়ে হালকা হাওয়া বইছে। সুচরিতা হাঁটছে বিশ্বভারতীর রাস্তা ধরে — লাল মাটির পথে হাঁটার মিষ্টি কড়মড় শব্দে মনে হয় যেন মাটিও কথা বলছে। গাছের ছায়ায় কিছু ছাত্রছাত্রী বসে অঙ্কন করছে। তাদের মধ্যেই একজন ছেলেকে দেখল — মাটির তৈরি একটি মূর্তি গড়ে দিচ্ছে ধীরে ধীরে। তার কপালে ঘাম, হাতদুটো কাদা মাখা, কিন্তু চোখে এক অদ্ভুত শান্তি।

সুচরিতা দাঁড়িয়ে দেখছিল। ছেলেটি হঠাৎ চোখ তুলে বলল — "দেখছেন? কাদা কিন্তু কথা বলে, শুধু শুনতে জানতে হয়।" সে হেসে বলল, "তাহলে আপনি নিশ্চয়ই কাদার ভাষা জানেন?" ছেলেটিও হাসল, "হয়তো একটু জানি। আমি অর্ণব। মৃৎশিল্প বিভাগে পড়ি।" সুচরিতা নাম বলল, "আমি সুচরিতা, কলকাতা থেকে এসেছি। একটু শান্তি খুঁজতে।" অর্ণব বলল, "শান্তি খুঁজতে কেউ এখানে আসে না, এখানে এলে শান্তি আপনিই খুঁজে নেয়।" তার কথায় এক অদ্ভুত বিশ্বাসের সুর। সুচরিতা কিছু না বলে হাসল। সেই হাসির মধ্যে যেন কিছু অচেনা অনুভব ভেসে উঠল।

বিকেলে আশ্রমের ছায়া-ঢাকা প্রাঙ্গণে বসে তারা দুজন আবার দেখা করল। অর্ণব তাকে নিয়ে গেল তার কর্মশালায় — ছোট্ট কুঁড়েঘর, চারদিকে মাটির হাঁড়ি, প্রদীপ, মূর্তি, আর কাদার গন্ধে ভরা পৃথিবী। অর্ণব বলল, "এই কাদা, দেখুন, এর ভেতরেই গল্প আছে। আমরা শুধু তাকে রূপ দিই। অনেকটা কবির মতো।" সুচরিতা তাকিয়ে রইল মাটির মূর্তির দিকে — যেন নিঃশব্দে কিছু বলছে তাকে। তার মনে হলো, সে যেন নতুন করে নিজের মাটি খুঁজে পাচ্ছে। রাতের দিকে আশ্রমে গানের আসর বসেছে। বাঁশি, ঢোল, খোলের তালে ছড়িয়ে পড়ছে সুর — "বন পেরিয়ে রে পাখি, আয় আমার নীড়ে..." অর্ণবের পাশে বসে সুচরিতা শুনছে। চাঁদের আলোয় শান্তিনিকেতন তখন নিঃশব্দ স্বপ্নের মতো। সে বুঝল, হয়তো এখানেই তার যাত্রার শুরু — নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা।

সুচরিতা হাঁটছিল আশ্রমের পথে। গত রাতের গানের সুর এখনও কানে বাজছে। অর্ণবের মুখটা বারবার মনে পড়ছিল — তার শান্ত চোখ, মাটির গন্ধে ভেজা হাসি। ঠিক তখনই পেছন থেকে কণ্ঠ ভেসে এল — "আজও একা ঘুরছেন?" পেছনে তাকাতেই অর্ণব। কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ, হাতে কিছু মাটির রঙের ছোপ। "আপনার মাটির কাজ আজ দেখব," বলল সুচরিতা। অর্ণব মৃদু হেসে বলল, "তাহলে চলুন, আজ আপনাকে আমার অসমাপ্ত গল্প দেখাই।" তারা গেল কর্মশালায়।

টেবিলের ওপর একটা ভাঙা মূর্তি — এক নারীর মুখ, কিন্তু অর্ধেক অংশ অনুপস্থিত। সুচরিতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "এই মূর্তিটা কেন অসম্পূর্ণ রেখেছেন?" অর্ণব চুপ করল কিছুক্ষণ। "সব কিছুই কি সম্পূর্ণ হয়, সুচরিতা?" — তার গলায় ছিল এক অচেনা বিষাদ। "এই মুখটা আমার মায়ের," বলল ধীরে। "তিনি শান্তিনিকেতনেই ছিলেন, শিল্পী ছিলেন। আমি ছোট থাকতে চলে যান... একদিন হঠাৎ।" সুচরিতা চুপ করে গেল। তার চোখে অর্ণবের নিঃসঙ্গতা ধরা পড়ল, যেন এই মাটির গন্ধেই সে মাকে খুঁজে বেড়ায়।

সন্ধ্যায় তারা দুজনে বসেছিল কাদামাটির চুলার পাশে। অর্ণব একটা প্রদীপ জ্বালাল। আলোটা ধীরে ধীরে মাটির দেওয়ালে নেচে উঠল। সুচরিতা বলল, "আপনি জানেন, আমি কেন এসেছি এখানে?" অর্ণব তাকাল। "আমি একসময় খুব ভালো লিখতাম... কবিতা, গল্প। কিন্তু শহরের চাকরি, চাপ, একাকিত্বে সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি বেঁচে আছি, কিন্তু নিজের ভেতরটা মরেছে।" অর্ণব মৃদু স্বরে বলল, "তাহলে আপনি মাটির মতো। বাইরে শুকনো, কিন্তু ভেতরে নরম — জীবনের জন্য প্রস্তুত।" সেই মুহূর্তে দুজনের চোখে এক অদ্ভুত আলো ঝলকে উঠল। শান্তিনিকেতনের চাঁদ তখন নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে রইল তাদের নীরব বোঝাপড়ার।

সেই রাতেই হঠাৎ এক ঝড় উঠল। গাছের ডাল ভেঙে পড়ল, বাতাসে ধুলো উড়ল, প্রদীপ নিভে গেল। সুচরিতা জানালার পাশে গিয়ে দেখল — অর্ণব ছুটে যাচ্ছে কর্মশালার দিকে। সে দৌড়ে গেল তার পিছু নিয়ে। দেখল, ভেতরে মাটির মূর্তিগুলো পড়ে গেছে, ভেঙে গেছে মায়ের মুখের প্রতিমাটিও। অর্ণব হাঁটু গেড়ে বসে আছে, নিঃশব্দে কাঁদছে। সুচরিতা কাছে গিয়ে হাত রাখল তার কাঁধে। "সবকিছু ভাঙে অর্ণব, তবু মাটি আবার গড়ে ওঠে।" অর্ণব তাকাল তার চোখে — "তাহলে আপনি থাকবেন তো, আবার গড়তে সাহায্য করবেন?" সুচরিতা মাথা নাড়ল। বাইরে ঝড় থেমে এসেছে। চাঁদের আলো আবার মাটির গন্ধে ভেসে উঠছে — যেন নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি।

শীতের ভোরে শান্তিনিকেতন যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। পথের ধারে আলপনা আঁকা, গাছে গাছে রঙিন ঝুল, দোকানে নতুন পাটের কাপড়, মাটির হাঁড়ি, বাঁশের বাঁশি — সবাই প্রস্তুত পৌষমেলার জন্য। সুচরিতা মেলার ভিড়ে হাঁটছে। বাতাসে বাউলের গানের সুর — "সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে..." চারদিকে আনন্দ, রঙ, সুর, নাচ, আর সেই চিরচেনা শান্তিনিকেতনের গন্ধ। তবু তার চোখ বারবার খুঁজছে এক মুখ — অর্ণবের। অর্ণবকে সে পেল মেলার এক কোণে, যেখানে সে নিজের মাটির শিল্প বিক্রি করছে। তার স্টলে নানা রকম মূর্তি — মা-ছেলের ভালোবাসা, বাউল গায়ক, নৃত্যরত নারী, আর কোণে রাখা এক নতুন সৃষ্টি — অর্ধেক মুখের নারীটি এখন সম্পূর্ণ। সুচরিতা বিস্ময়ে তাকাল। "এই তো আপনার মায়ের মুখ!" অর্ণব মৃদু হেসে বলল, "হ্যাঁ। কিন্তু এবার শুধু আমার মা নন — এই মুখে তোমার ছায়াও আছে।" সুচরিতা থেমে গেল। চোখে জল এসে গেল অজান্তে। অর্ণব বলল, "তুমি না এলে আমি হয়তো আবার গড়তে পারতাম না। তুমি আমাকে বিশ্বাস শিখিয়েছ।"

সন্ধ্যার দিকে মেলায় বাউল গানের আসর বসেছে। আলো, আগুন, সুর — সব মিশে গেছে এক অদ্ভুত জাদুতে। সুচরিতা বসে আছে ঘাসের ওপর, পাশে অর্ণব। বাউল গাইছে — "মনরে, ক্রমে রে মাটির পুতুল রে, প্রাণ দে যদি তাহে..." সুচরিতা ফিসফিস করে বলল, "অর্ণব, জানো, আমি লিখতে পারি না এতদিন ধরে... মনে হতো কিছু বলার নেই।" অর্ণব চুপ করে তার হাতটা ধরল, "তুমি লিখে ফেলো এই মাটির গল্পটা। আমাদের গল্পটা। শান্তিনিকেতনের গল্প।" বাতাসে আলপনার গন্ধ, খোলের তাল, আর তাদের হাতের উষ্ণতা — সব মিশে গেল এক নীরব প্রতিশ্রুতিতে। রাতের শেষে মেলা ফাঁকা হয়ে এলে, অর্ণব ও সুচরিতা হাঁটছিল রাস্তা ধরে। আকাশে তারা ঝলমল করছে। সুচরিতা বলল, "অর্ণব, যদি একদিন আমি আবার চলে যাই শহরে?" অর্ণব হেসে বলল, "তবে এই মাটি তোমার জন্য অপেক্ষা করবে।" সে থেমে গেল, তারপর যোগ করল — "আমিও।" চাঁদের আলোয় শান্তিনিকেতন তখন নিঃশব্দ, কিন্তু সুরে ভরা। সুচরিতা জানল, এই মাটির মানুষ আর এই গানের ভিতরেই তার আলো লুকিয়ে আছে।

পৌষমেলা শেষ হয়েছে। আশ্রমে আবার সেই নীরব সকাল। গাছের পাতায় রোদ ঝরে পড়ছে, পাখির ডাক, দূর থেকে ভেসে আসছে প্রার্থনার সুর। সুচরিতা জানালার পাশে বসে লিখছে — কলমের কালি যেন অনেকদিন পর মুক্তি পেয়েছে। পাতার পর পাতা জুড়ে সে লিখছে মাটির গন্ধ, অর্ণবের মুখ, শান্তিনিকেতনের আলো। তার ডায়েরির প্রথম লাইন — "যে মাটিতে আমি ফিরে এসেছি, সেখানে আমি প্রথম নিজেকে চিনেছি।" কিন্তু সেই সকালেই তার হাতে এসে পৌঁছাল এক চিঠি — কলকাতা থেকে। পুরোনো অফিস, যেখানে সে কাজ করত, তার জন্য এক নতুন সুযোগ এসেছে — বিদেশি প্রকাশনীর সঙ্গে কাজ, বড় পদ, বড় বেতন। সে জানল, যেতে হবে, হয়তো অনেক দূরে।

সন্ধ্যায় সে গেল কর্মশালায়। অর্ণব তখন নতুন মূর্তি গড়ছে — একটি নারী ও একটি পুরুষ একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, মাঝখানে এক প্রদীপ জ্বলছে। "চমৎকার লাগছে," বলল সুচরিতা ধীরে। অর্ণব হেসে তাকাল, "এই দুজনের মুখ এখনো ঠিক করিনি।" সুচরিতা চুপ করে রইল। তারপর বলল, "অর্ণব... আমার হয়তো যেতে হবে। কলকাতা, তারপর হয়তো আরও দূরে।" অর্ণবের হাত থেমে গেল। "যেতে হবে মানে?" "একটা কাজের সুযোগ এসেছে। আমি জানি, এটা হয়তো আমার জীবনের বড় সময়।" নীরবতা নেমে এল। বাইরে বাতাসে পাতা দুলছে, ভেতরে দুজনের চোখে অগোচর জল। অর্ণব বলল ধীরে, "যাওয়া আর ফেরা তো জীবনেরই অংশ, সুচরিতা। কিন্তু মনে রেখো, যেখানেই যাবে, তোমার ভিতরে এই মাটির একটা অংশ থেকে যাবে।" সুচরিতা তার দিকে তাকিয়ে বলল, "আর তোমার ভিতরে?" অর্ণব হেসে বলল, "তুমি তো এখানেই রয়ে গেলে, প্রতিটি মূর্তির আঙুলে, প্রতিটি গন্ধে।"

সেই রাতে বিদায়ের আগে তারা দুজন গেল বাউল গানের আসরে। বাউল গাইছিল — "চল রে চলো, নিজের খোঁজে চল রে মন..."। সুচরিতা চুপচাপ বসে শুনছিল। তার মনে হচ্ছিল, প্রতিটি শব্দ যেন তার জীবনের প্রতিধ্বনি। অর্ণব তার হাতে একটা ছোট্ট মাটির প্রদীপ তুলে দিল। "যেখানেই যাও, এটা নিও। এটা আলো জ্বালাবে যখন মনে হবে তুমি হারিয়ে গেছো।" সুচরিতা প্রদীপটা বুকের কাছে চেপে ধরল। ভোরে, ট্রেনের হুইসেল বাজল। সুচরিতা জানলার বাইরে তাকাল — লাল মাটির পথ, গাছের ছায়া, আর দূরে দাঁড়িয়ে অর্ণব। হাত নেড়ে কিছু বলল না, শুধু চোখে সেই চিরচেনা শান্তি। ট্রেন ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। সুচরিতা ডায়েরি খুলে শেষ লাইনটা লিখল — "বিদায় মানে শেষ নয়, ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি।"

বছর কেটে যাবে। কিন্তু যখনই আকাশে চাঁদ উঠবে, কিংবা কোনো গানে শান্তিনিকেতনের গন্ধ আসবে, অর্ণবের তৈরি সেই মাটির প্রদীপে আলো জ্বলে উঠবে — নিঃশব্দে, অনন্ত ভালোবাসায়। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। কলকাতার ব্যস্ততা, বিদেশে প্রকাশনার কাজ, শহুরে জীবনের কোলাহলে অনেক কিছু বদলে গেছে সুচরিতার জীবনে। তার বই বেরিয়েছে — "মাটির গান", যেখানে প্রতিটি গল্পে লুকিয়ে আছে এক আশ্রম, এক মাটি, এক মানুষ। আজ বহু বছর পর আবার ট্রেন থামল বোলপুর স্টেশনে। সুচরিতা নেমে এল — একই রোদ, একই গন্ধ, তবু মনে হলো যেন নতুন করে ফিরে এসেছে জীবনের প্রথম পাতায়। তার হাতে এখনো সেই ছোট্ট মাটির প্রদীপ। অর্ণবের দেওয়া আলো — যা এখনো নিভে যায়নি।

বিশ্বভারতীর পথে হাঁটতে হাঁটতে সে দেখল নতুন সব মুখ, নতুন প্রজন্মের গান, কিন্তু তার চোখ খুঁজছে পুরোনো কর্মশালাটা। যখন সেখানে পৌঁছাল, দেখল ঘরের দরজায় লেখা — "অর্ণব মৃৎশিল্প কেন্দ্র — মাটির পাঠশালা"। ভেতরে কয়েকজন ছাত্র মূর্তি বানাচ্ছে, একপাশে বড় ফ্রেমে টাঙানো অর্ণবের ছবি — নিচে লেখা: "মাটি যেমন বারবার গড়ে ওঠে, তেমনি মানুষও।" সুচরিতার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।

এক তরুণ শিল্পী এগিয়ে এসে বলল, "আপনি কি সুচরিতা দিদি? অর্ণবদা সব সময় আপনার কথা বলতেন। এই ঘরের প্রথম প্রদীপটা নাকি আপনিই জ্বেলেছিলেন।" সে নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। হাতের ব্যাগ থেকে মাটির প্রদীপটা বের করে টেবিলের ওপর রাখল। তারপর ধীরে বলল, "এবার তোমরা জ্বেলো, আমি এসেছি আলো দেখতে।"

বাইরে বিকেলের আলো পড়ছে। আশ্রমে বাউলের সুর ভেসে আসছে — "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি রে..."। সুচরিতার মনে পড়ছে, গুরুদেবের কাঁচের ঘর, শিক্ষা ভবন, কালোবাড়ি, আম্রকুঞ্জ, গৌরপ্রাঙ্গণ, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, মেলার মাঠ, ফার্স্ট গেট, দশরথদার লুচি, মেলার মাঠ, রতনপল্লি, নবদ্বীপদার চা, শিক্ষা ভবন মোড়, সাইকেল, বসন্তোৎসব, পূর্বপল্লীর রাস্তা, খোয়াই, চৈতি বাড়ি, ঘণ্টাতলা, পোস্ট অফিসের সামনের ঘন গাছে ঘেরা রাস্তা, ছাতিমতলা। সুচরিতা চোখ বন্ধ করল। আবার একটা সুর শুনতে পাচ্ছে, "আয় আর একটিবার, আয় গো সখা, প্রাণের মাঝে আয়।" আর কেউ পাচ্ছে কি শুনতে? তার মনে হলো, এই সুরের ভিতরেই অর্ণব আছে, এই মাটির গন্ধেই সে আছে, এই কবিগুরুর সংগীতে তাদের অনন্ত মিলনের স্থান। প্রদীপের আগুন জ্বলে উঠল — সুরে কম্পমান, মৃদু, নরম, অথচ গভীর।

শুরু হলো অসমাপ্ত কল্পনা...




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের আষাঢ় সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে ৩০ জুন, ২০২৬ (১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩)। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ২৫ জুনের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মান। বিস্তারিত তথ্য এবং লেখা পাঠানোর ডিজিটাল ফর্ম ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। প্রকাশিত মতামত বা বিশ্লেষণ Bangali Network-এর নিজস্ব অবস্থান, নীতি বা মতাদর্শের প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top