Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
প্রযুক্তির নেশায় বন্দি ভবিষ্যৎ
প্রযুক্তির নেশায় বন্দি ভবিষ্যৎ

আজ আমি সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে চাই — আমরা সত্যিই কোন পথে হাঁটছি? আমরা কি এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্বটাই ভুলে যাচ্ছি? পরিবর্তন সবসময়ই সময়ের সঙ্গে আসে, প্রজন্মের সঙ্গে আসে — এটা সত্য। কিন্তু আজ যে পরিবর্তন চোখে পড়ছে, তা যতটা বিস্ময়কর, তার থেকেও বেশি ভয়ানক। কারণ বদলে গেছে শুধু সময় নয়, বদলে যাচ্ছে মানুষের মন, চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ।

আমরা যারা আগের প্রজন্ম — আমাদের ভুল ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু তবুও আমরা মানুষের গল্প জানতাম, সমাজের ভাষা বুঝতাম, অন্যের কষ্টের শব্দ শুনতে পেতাম। কিন্তু আজকের ছোট বাচ্চারা — যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ — তারা যেন এক অদ্ভুত অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা মোবাইলের পর্দার ভেতর নিজেদের বন্দি করে ফেলেছে। Free Fire, PUBG, COC — এই কয়েকটি গেম তাদের পৃথিবীকে গ্রাস করে নিয়েছে। এখন তাদের চোখে পৃথিবী মানে স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো, চরিত্রের স্কিন, কয়েন, ডায়মন্ড, ক্ল্যান, র‍্যাঙ্ক, কিল। মানুষের হাসি-কান্নার জগৎ তাদের কাছে অচেনা। দুটো কথা বললে তারা বলে — "পারব না", "জানি না", "দরকার নেই"। একটি প্রজন্ম যদি এমন মনোভাব নিয়ে বড় হয়, সমাজ কি এগোতে পারে?

তারা গেমের যুদ্ধ জিততে পারে, কিন্তু জানে না বাস্তব জীবনের যুদ্ধ কত কঠিন। তারা গেমে দল বানাতে পারে, কিন্তু পাঁচজন মানুষকে নিয়ে সত্যিকারের একতা গড়তে জানে না। তাদের হৃদয়ে ভালোবাসা আছে, কিন্তু সেই ভালোবাসাকে সমাজের কাজে লাগানোর সাহস নেই। তাদের মস্তিষ্ক দ্রুত কাজ করে, কিন্তু সেই বুদ্ধিকে বাস্তবতার দিকে ফেরানোর ইচ্ছাশক্তি নেই। আমি নিজের চোখে দেখেছি — বাড়ির বাচ্চারা দিনের পর দিন স্ক্রিনের ভেতর হারিয়ে যায়। তাদের কাছে বাইরের দুনিয়া কোনো গল্পের বইয়ের মতো — শুধু "আছে", কিন্তু তারা সেটা "জানে" না। তারা পড়ে, লেখে, পরীক্ষায় পাশও করে, কিন্তু পড়াশোনার বাইরে যে বিশাল জীবন রয়েছে — মানুষ, প্রকৃতি, সংগ্রাম, শক্তি, ব্যথা — তা তাদের কাছে একেবারে অচেনা অন্ধকার।

এভাবে একটি প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে, যারা ঘরের দেয়ালের রং চেনে, কিন্তু মানুষের চোখে আটকে থাকা জল দেখতে পায় না। যারা গেমের শব্দ শুনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সমাজের কান্না, প্রতিবাদ বা অন্যায়ের শব্দ তাদের কানে পৌঁছায় না। যারা ভার্চুয়াল জগতে হিরো, কিন্তু বাস্তব জীবনে নিজেদের পরিচয়টাই খুঁজে পায় না। এসব দেখতে দেখতে আমার ভিতর ভয় জমে যায়। ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভয় পাই, কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজ গড়বে। তারা যদি আজই স্ক্রিনের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে, তাহলে তাদের চোখের আগুন নিভে যাবে, চিন্তার দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। আজ তারা শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিকভাবে একা, দুর্বল ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।

এরপর আসে আমার নিজের কথা। আমারও অনেক স্বপ্ন আছে, সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছে আছে। আমি চাই মানুষকে নিয়ে কাজ করতে, মানুষের জন্য কিছু গড়তে, ভাঙা জিনিস জোড়া লাগাতে। কিন্তু আমাকে থামিয়ে রাখে একটি পরিচয় — আমি একজন মেয়ে। সমাজের দৃষ্টিতে আজও মেয়েদের পথ সীমিত, স্বপ্ন সীমিত, সুযোগ সীমিত। মেয়েরা চাইলে সব পারে, তবুও সমাজ বারবার তাদের ইচ্ছেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমারও সে অভিজ্ঞতা আছে। হাজারো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পারি না।

চাইলে এগিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু সমাজের দেওয়াল আমাকে চাপে ধরে রাখে। মনে হয়, আমি যদি ছেলে হতাম, তাহলে হয়তো অনেকেই আমাকে ঠেকাতে পারত না। পাহাড় ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকত। কিন্তু আমি মেয়ে বলেই আমার পথ থামিয়ে দেওয়া হয়।

তবুও আমি একটি কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই — এই সমাজ বদলাবে, বদলাতে বাধ্য। কারণ পরিবর্তনের সূচনা সবসময়ই আসে একজন মানুষ থেকে। আজ যদি আমরা চুপ করে থাকি, তাহলে আগামী দিনের প্রজন্ম শুধু গেমের নেশায় ডুবে থাকা মানুষে পরিণত হবে। তারা জীবনের অর্থ বুঝবে না, সমাজের দায়িত্ব নেবে না, মানুষের পাশে দাঁড়াবে না। তাই আজই কথা বলতে হবে, দাঁড়াতে হবে, কিছু করতে হবে। আমি চাই বাচ্চারা গেম খেলুক, হাসুক, মজা করুক — কিন্তু একই সঙ্গে তারা যেন মানুষের কষ্ট বুঝতে শেখে, সমাজের প্রতি দায়িত্ব নিতে শেখে, অন্যের হাত ধরতে শেখে। কারণ কোনো ভার্চুয়াল আলোর জয় নেই — আসল জয় মানুষের চোখের আলোয়, মানুষের শক্তিতে, মানুষের একতায়। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায় না শুধু প্রযুক্তি; সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায় মানুষ — মানুষের চরিত্র, মানবিকতা, ভালোবাসা ও সংগ্রাম। সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তাদের হাতেই, যারা সত্যের পাশে দাঁড়ায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে জানে। আমি বিশ্বাস করি, আজ আমি একা হলেও কাল আমার পাশে হাজারো মানুষ দাঁড়াবে। যে মেয়ের ভিতরে আগুন আছে, যে স্বপ্ন দেখতে জানে, যে ভয়কে ভেঙে এগোতে জানে — তাকে কোনো দেয়াল চিরদিন আটকে রাখতে পারে না।

মানুষকে নিজের যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে না দিয়ে যেমন নেশার অন্ধকারে ঠেলে রাখা হয়, তেমনভাবেই সমাজ আমাদের সামনে আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্র দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ আমাদের চারপাশে চাকরির সংকট, শিক্ষার অবনতি, অর্থের অভাব — এগুলোই আসল সমস্যা। কিন্তু আমরা যাতে সেই সমস্যাগুলোর দিকে তাকাতে না পারি, সেই সুযোগটিই সমাজ নিখুঁতভাবে কাজে লাগায়।

আমাদের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় — নানারকম ভয় দেখানো হয়, অযথা নাটক তৈরি করা হয়, এমন সব বিভ্রান্তিতে আমাদের ফেলে রাখা হয় যাতে আমরা মূল প্রশ্নটাই ভুলে যাই। আর যখন নেশার মতো দিকহীন যাপন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন প্রতিবাদের আগুনটুকুও নিভে যায়। কারণ নেশা শরীরকে যতটা দুর্বল করে, মনের শক্তিকে তার থেকেও বেশি মাটিতে মিশিয়ে দেয়। আজকের জেনারেশন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম — সবাই কোনো না কোনোভাবে এই অদৃশ্য ফাঁদের মধ্যে আটকে পড়ছে। মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে, আত্মবিশ্বাসের ভিত নড়ে যাচ্ছে। নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহসও যেন ভেতর থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে। যে সমাজ একদিন তরুণদের কণ্ঠে বিপ্লব খুঁজে পেত, সেই সমাজই আজ তাদের নিঃশব্দ করে ফেলার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। নেশায় ডুবিয়ে রাখলে মানুষ আর প্রশ্ন করে না, অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় না, নিজের শক্তিকে চেনার ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলে। এটাই তো চাই সেই অদৃশ্য শক্তিগুলোর — যারা সমাজের গভীর সমস্যাগুলো ঢেকে রাখতে চায়, চায় না আমরা মাথা তুলে দাঁড়াই, নিজেদের অধিকার দাবি করি, অন্যায়কে প্রশ্ন করি।

সেই কারণেই আজ আমাদের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে। আমরা যেন ইচ্ছাশক্তিহীন এক নীরব প্রজন্মে পরিণত হচ্ছি, যাদের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রতিবাদের আগুন, প্রতিরোধের স্পর্ধা ও নিজেকে বদলে দেওয়ার সাহস। কিন্তু নেশা কখনোই শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না — এটি পুরো সমাজের অস্তিত্বকেই দুর্বল করে দেয়। আর সমাজ দুর্বল হয়ে গেলে তার ভবিষ্যৎও অন্ধকারে ডুবে যায়। তাই সময় এসেছে সত্যিটা স্বীকার করার — আমাদের কণ্ঠস্বর কেউ বাইরে থেকে বন্ধ করেনি; ধীরে ধীরে ভেতর থেকেই নিস্তেজ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের শক্তিকে দুর্বল করার জন্য অদৃশ্য শৃঙ্খল আমাদের উপর চেপে বসেছে। আজ দরকার সেই শৃঙ্খল ভাঙার সাহস, নিজের চোখে সত্যিটা দেখার ক্ষমতা এবং নিজের ভেতরের মানুষটাকে নেশা, ভয় ও বিভ্রান্তির হাত থেকে মুক্ত করার দৃঢ় ইচ্ছা। কারণ সমাজ পরিবর্তন শুরু হয় একজন মানুষের চোখে আগুন জ্বলে ওঠার মধ্য থেকেই।

আমাদের চারপাশে প্রতিদিন কত কিছু ঘটছে — চাকরির অভাব, শিক্ষার মানের পতন, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনীতি থেকে রাস্তাঘাট — সবকিছুতেই এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সমাজের ভেতরে ফুটছে অসন্তোষের আগুন, আর তার উপর চলছে নিত্যনতুন হাঙ্গামা। কিন্তু এসব থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যেন আমাদের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এক নতুন দুনিয়া — গেম, রিল, শো-অফ আর ভার্চুয়াল নেশা। এটা কি সত্যিই মানুষ নিজে থেকে বেছে নিচ্ছে? নাকি এর পেছনে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

যখন সমাজে সমস্যা বাড়ে, তখন মানুষের মনকে অন্যদিকে ঘোরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও বাড়ে। আজকের ছাত্রছাত্রীরা — যাদের হাত ধরে দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়ার কথা — তারাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে আছে ভার্চুয়াল উত্তেজনায়। বই, ভাবনা, প্রশ্ন, সচেতনতা — সব ধীরে ধীরে পিছনে চলে যাচ্ছে। লাভ কার? যারা চায় নতুন প্রজন্মকে ভাবতে না দিতে, লড়তে না দিতে, প্রশ্ন করতে ভুলিয়ে দিতে — তাদেরই। আরও বড় সত্য হলো — সমাজে চাকরি নেই, সুযোগ নেই, মানসম্মত শিক্ষা নেই। যদি শিক্ষার শুরু থেকেই বাচ্চাদের দুর্বল করে দেওয়া যায়, মনোযোগ ভেঙে দেওয়া যায়, চরিত্র নরম করে ফেলা যায় — তাহলে ভবিষ্যতে তারা কোন মুখে চাকরি চাইবে? কোন শক্তিতে অধিকার চাইবে? যে মানুষ ভাবতেই ভুলে যায়, সে দাবিও করতে জানে না। হয়তো সেই কারণেই কুয়াশার মতো বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তরুণদের জীবনে।

সমাজ ভাঙছে, শিক্ষা শূন্য হচ্ছে, আর একদল প্রশ্নহীন প্রজন্ম বড় হচ্ছে, যাদের স্বপ্ন স্ক্রিনে আটকে যাচ্ছে। এভাবে ধীরে ধীরে একটি জাতির ভিত দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। এটাই আজকের সমাজের সত্য — পর্দার আড়ালে একটি বড় খেলা চলছে, আর খেলার মাঠে নেমে যাচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

আজ আমরা প্রত্যেকে শুধু গেমে আটকে নেই — আমরা রিল, ফোন, ভার্চুয়াল দুনিয়া — সবকিছুর দাস হয়ে গেছি। যেন হাতের মুঠোয় থাকা এই ছোট্ট স্ক্রিনটাই আমাদের জীবন, আর তার বাইরের বাস্তব পৃথিবী ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা — এই প্রযুক্তিকে ভালো কাজে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা তা শিখিনি। আমরা ব্যবহার করছি, হ্যাঁ — কিন্তু ভাসিয়ে দিচ্ছি নিজেদের, হারিয়ে ফেলছি মনোযোগ, চরিত্র, এমনকি ভবিষ্যৎও। একটি জিনিসকে ভালোভাবে ব্যবহার করার যে বুদ্ধি, সংযম ও সচেতনতা দরকার — আমাদের সমাজে তা শেখানো হয় না। ফোন আমাদের জ্ঞান দিতে পারত, দক্ষতা বাড়াতে পারত, ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে পারত — কিন্তু আমরা সেটাকে বানিয়ে ফেলেছি নেশা। এটি আমাদের অজান্তে ঘটে যাওয়া কোনো ভুল নয়; এটি আজ আমাদের অভ্যাস, আরও কঠিন ভাষায় বললে — এটি আমাদের এক গুরুতর খারাপ স্বভাব।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম — স্কুলের বাচ্চা থেকে কলেজের ছাত্রছাত্রী — সবাই এই অদৃশ্য ঘূর্ণির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। পড়াশোনার পাতা কম খুলছে, রিলের পর রিল বেশি স্ক্রল হচ্ছে। বাইরের পৃথিবী দেখা কমছে, ভুয়া জগতে ডুবে থাকা বাড়ছে। নিজের সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে আমরা ডুবছি এমন এক আনন্দে, যার পরিণতি শুধু শূন্যতা।

এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাবতে ভুলে যাবে, পড়তে ভুলে যাবে, পরিশ্রম করতে ভুলে যাবে। একটি শক্তিশালী জাতিকে ভেঙে ফেলতে যতটা সময় লাগে, তার চেয়ে কম সময় লাগে তাকে স্ক্রিনে বুঁদ করে দিতে। আজ আমাদের বড় ভুল হলো — প্রযুক্তিকে ব্যবহার না করে আমরা প্রযুক্তির হাতে ব্যবহার হয়ে যাচ্ছি। এটাই সমাজের জন্য বড় বিপদ, এটাই আমাদের চরিত্রের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। যতক্ষণ না আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে পারছি, ততক্ষণ এই স্ক্রিন-নেশা আমাদের মনের দেয়াল ভেঙে দেবে, আর একদিন বুঝতেই পারব না — আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছি। তবুও এখনও দেরি হয়নি। আমরা চাইলে প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে পারি — গেমের পর্দা থেকে জীবনের রাস্তায়, একাকীত্বের ঘর থেকে একতার মাঠে, নীরবতার খাঁচা থেকে সত্য বলার মঞ্চে। ভবিষ্যৎ আমাদের হাতেই, আর পরিবর্তনের আগুন শুরু হয় এখান থেকেই।

ছাত্রছাত্রীরা এই দেশের এক শক্তির উৎস, যারা ব্রিটিশ শাসনের অন্ধকার সময় থেকেই অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় — যেখানে সমাজ ভয় পেয়েছে, বয়স্করা চুপ থেকেছে, ক্ষমতাবানরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেখানে সামনে দাঁড়িয়েছে ছাত্রসমাজ। তাদের রক্ত গরম, স্বপ্ন উজ্জ্বল, চোখে ভবিষ্যতের ছবি স্পষ্ট। ডিরোজিও তরুণদের মধ্যেই জাগরণের আগুন দেখেছিলেন; তিনি বুঝেছিলেন দেশ বদলাবে তাদের হাত ধরেই। মাস্টারদা সূর্য সেনও দেখেছিলেন — তরুণদের সাহস সাম্রাজ্য কাঁপাতে পারে। সেই সময়ের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ছাত্রসমাজ — যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার মশাল উঁচু করে ধরেছিল। তাই ব্রিটিশরা সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিল তাদের; কারণ জানত, ছাত্রসমাজ চুপ থাকলে আন্দোলন থেমে যায়, আর তারা জেগে উঠলে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে।

আজও সেই শক্তি ছাত্রদের ভিতরে আছে। কিন্তু আজকের প্রজন্মকে অন্যভাবে টার্গেট করা হচ্ছে — সংঘর্ষ, ইতিহাস, সমাজ ও প্রতিবাদের পথ থেকে সরিয়ে তাদের মন বন্দি করা হচ্ছে মোবাইলের গেমে, অর্থহীন নেশায়, কৃত্রিম দুনিয়ায়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট — যেন তারা আর প্রশ্ন না করে, প্রতিবাদ না করে, নেতৃত্ব না দেয়। গেম আর স্ক্রিনের ভেতরে তাদের ভবিষ্যৎ আটকে রেখে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে জাগ্রত বুদ্ধি, উদ্যম ও নেতৃত্বের শক্তি। কারণ একজন চিন্তাশীল ছাত্র বিপ্লব আনে, কিন্তু একজন বিভ্রান্ত ছাত্র স্ক্রিনেই হারিয়ে যায়। তাই ছাত্রসমাজকে নেশায় ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা — যেন আগামী দিনের ডিরোজিও জন্ম না নেয়, মাস্টারদার পাশে দাঁড়ানোর মতো বীর ছাত্র তৈরি না হয়। ইতিহাস প্রমাণ করে — যে দেশ তার ছাত্রদের দুর্বল করে দেয়, সে দেশ নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়।




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top