স্বাস্থ্যবার্তা: মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দায়িত্বশীল ও পরিমিত পান করুন। মদ্যপ অবস্থায় কখনোই গাড়ি চালাবেন না। এই লেখায় আলোচিত তথ্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইন অনুযায়ী বৈধ বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য।
মদ খাওয়া যদি একটা আর্ট হয়, তবে ককটেল খাওয়া হলো 'মডার্ন আর্ট' প্রদর্শনী — যেখানে ড্রিংকটা যদি একটা পেইন্টিং হয়, তাহলে গ্লাসটা হলো তার জমকালো ফ্রেম। আপনি হয়তো ভাবছেন, "ধুর মশাই! তরল জিনিস পেটে গেলেই হলো, তা সে মাটির ভাঁড়ে হোক বা কাঁচের গ্লাসে!" কিন্তু না, বার-টেন্ডারদের কাছে গ্লাসের সাইজ আর শেপ হলো জীবন-মরণ সমস্যা। ভুল ড্রিংক ভুল গ্লাসে দিলে নাকি ককটেলের আত্মা কষ্ট পায়!
আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন গ্লাসে কোন ড্রিঙ্কটা সার্ভ হয়, আর তার পেছনে কী বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে!
মার্টিনি গ্লাস
বার-এ ঢুকলে দূর থেকে যে উল্টানো পিরামিডের মতো গ্লাসটা চোখে পড়ে, সেটাই মার্টিনি গ্লাস। জেমস বন্ড এই গ্লাস হাতে নিয়েই বিশ্ব উদ্ধার করে গেছেন। এই গ্লাসের নিচে একটা লম্বা কাঠি বা 'স্টেম' থাকে। যাতে আপনার হাতের গরম আঙুলগুলো সরাসরি ড্রিংকের কাচটা ছুঁয়ে সেটাকে গরম না করে ফেলে। আর ওপরের চওড়া মুখটার কারণ হলো, আপনি যখন চুমুক দেবেন, তখন যেন ড্রিংকের অ্যারোমা সরাসরি আপনার নাকে ধাক্কা মারে।
মার্টিনি বা কসমোপলিটানের মতো যে ড্রিংকগুলোতে কোনো বরফ থাকবে না, শুধু থাকবে আভিজাত্য, সেগুলোই পরিবেশন করা হয় এই গ্লাসে। এ যেন অহংকারের ত্রিকোণমিতি। কিন্তু এই গ্লাসটা ধরে হাঁটা একটা অলিম্পিক লেভেলের খেলা। একটু উনিশ-বিশ হলেই ড্রিংক আপনার দামী পোশাকে। স্টাইল বেশি, ব্যালেন্স কম।
হাইবল এবং কলিন্স গ্লাস
এটা হলো সেই গ্লাস, যেটা হাতে দেখলে আপনার মা ভাববেন আপনি হয়তো লেবুর জল খাচ্ছেন। বারে গিয়ে ঝামেলা এড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। দেখতে হুবহু আমাদের বাড়ির জলের গ্লাসের মতো। কোনো ডাঁটি নেই, কোনো জ্যামিতিক জটিলতা নেই। লম্বা, সোজা এবং সরল।
মোহিতো, জিন অ্যান্ড টনিক, লং আইল্যান্ড আইসড টি প্রভৃতি ড্রিংক এতে পরিবেশিত হয়। এই ড্রিংকগুলোতে অ্যালকোহলের চেয়ে 'মিক্সার' (সোডা, জুস বা কোল্ড ড্রিংক) বেশি থাকে। আর থাকে প্রচুর বরফ। লম্বা গ্লাসের সুবিধা হলো, এটা বরফগুলোকে একটার ওপর একটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে, ফলে ড্রিংকটা অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকে। সোডা বা কার্বোনেশনের বুদবুদগুলো যাতে চট করে উড়ে না যায়, লম্বা দেওয়াল তাদের আটকে রাখে।
ওল্ড ফ্যাশন্ড বা রকস গ্লাস
এই গ্লাসটা হাতে ধরলেই কেমন যেন একটা "ম্যায় হুঁ ডন" টাইপ ফিলিং আসে। ছোটখাটো, চওড়া এবং ভারী তলাযুক্ত গ্লাস। হলিউড বা বলিউডের সিনেমায় (টলিউড ও) খলনায়ক বা সিরিয়াস নায়কদের হাতে এই গ্লাসই শোভা পায়।
ওল্ড ফ্যাশন্ড , নেগ্রোনি, বা সোজাসাপ্টা অন দ্য রকস এই গ্লাসে পরিবেশন করা হয়। গ্লাসের তলাটা খুব মোটা ও ভারী হয়। এর পেছনে কারণ হলো, এই ড্রিংকগুলোর ভেতরেই চিনি, পুদিনা বা লেবুর খোসা চামচ দিয়ে 'মাডল' বা থেঁতো করা হয়। পাতলা গ্লাস হলে তো থেঁতো করতে গিয়ে গ্লাসটাই ভেঙে হাত কেটে যাবে! আর চওড়া মুখের কারণে এতে বড় চারকোনা বরফের টুকরো অনায়াসে ফিট হয়ে যায়।
কুপ গ্লাস
কাঠির ওপর গোঁজা বাটির মতো দেখতে এই গ্লাসটির ইতিহাস দারুণ। বলা হয়, ফ্রান্সের রানী মেরি আঁতোয়ানেতের স্তনের আকৃতি নকল করে নাকি এই গ্লাসের ডিজাইন করা হয়েছিল! যদিও এটা ঐতিহাসিক গুজব।
ডাইকিরি, সাইডকার বা শ্যাম্পেনের ককটেল এই গ্লাসে পরিবেশিত হয়। মার্টিনির মতোই এর লম্বা ডাঁটি হাত থেকে ড্রিংককে দূরে রাখে। তবে মার্টিনির মতো এর কোণগুলো সুচালো নয়, ফলে ড্রিংক ছিটকে পড়ে যাওয়ার চান্স অনেক কম। আপনি যখন পার্টিতে নাচতে নাচতে কথা বলবেন, তখন কুপ গ্লাস আপনাকে কম লজ্জিত করবে।
গ্লাসের থিওরি তো হলো, এবার একটু প্র্যাক্টিক্যাল হয়ে যাক! বারে গিয়ে পকেট খালি না করে, বাড়িতেই মাত্র ৩-৪টি সাধারণ উপকরণ দিয়ে বানিয়ে ফেলুন বারের মতো রিফ্রেশিং আর ফ্লেভারফুল একটি ককটেল। বাড়ির হাইবল বা সাধারণ কাচের লম্বা গ্লাস থাকলেই হবে। আমাদের চেনা মোহিতো-র সঙ্গে বাঙালির প্রিয় 'গন্ধরাজ লেবু' আর কাঁচালঙ্কার একটা হালকা টুইস্ট। গরমে বা উইকেন্ডের আড্ডায় এর চেয়ে রিফ্রেশিং আর কিছু হতেই পারে না!
বেঙ্গল স্পাইসড মোহিতো
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
🔸 হোয়াইট রাম: ৬০ মিলি
(বদলে ঘরোয়া স্প্রাইট বা সোডা দিয়ে 'মকটেল'ও করতে পারেন)
🔸 গন্ধরাজ লেবু: ১টি
(পাতিলেবুও চলবে, তবে গন্ধরাজের স্বাদই আলাদা)
🔸 পুদিনা পাতা: ১০-১২টি
🔸 চিনি বা সুগার সিরাপ: ২ চামচ
🔸 কাঁচালঙ্কা: মাত্র ১টি ছোট টুকরো
(ঝালের জন্য নয়, জাস্ট একটা ফ্লেভারের জন্য)
🔸 সোডা বা স্প্রাইট: গ্লাস ভর্তি করার জন্য
🔸 প্রচুর বরফ কুচি
মাত্র ২ মিনিটে বানানোর সহজ পদ্ধতি:
প্রথমে আপনার সাধের হাইবল বা লম্বা গ্লাসের তলায় পুদিনা পাতা, ৪ টুকরো করে কাটা গন্ধরাজ লেবু, কাঁচালঙ্কার ছোট্ট টুকরোটি এবং চিনি দিন। এবার বেলন-চাকি বা চামচের পেছন দিক দিয়ে হালকা হাতে চেপে চেপে রসটা বের করুন। সাবধান! পুদিনা পাতা যেন একেবারে চাটনি না হয়ে যায়, জাস্ট রস আর গন্ধটা বের করলেই হবে।
এরপর উপর থেকে সোডা বা স্প্রাইট ঢেলে গ্লাসটা ভর্তি করে একটা লম্বা চামচ দিয়ে তলা থেকে ওপর পর্যন্ত সবটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। আর সাজানোর জন্য গ্লাসের কানায় একটা গন্ধরাজ লেবুর গোল চাকা আর একটা পুদিনা পাতা গুঁজে দিন।
লেবুর সুগন্ধ, পুদিনার রিফ্রেশিং ফিল আর লঙ্কার সেই হালকা চনমনে ভাব আপনার সারাদিনের ক্লান্তি এক সেকেন্ডে দূর করে দেবে। প্রথম চুমুকটা যেন পারফেক্ট হয়! চিয়ার্স!
মূল ভাষা: ইংরেজি। এটি বাংলা অনুবাদ।
আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম
আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।