দ্বাদশ অধ্যায়
আপনারা যা পড়তে ভালবাসেন সেরকম কিছু ঘটনার কথাই এবার জানাব আপনাদের। মানে ভূতের গল্প। তাও আবার সত্যি ভূতের।
শুরুর এই বাক্যটা পড়েই সবজান্তা দাদা বললেন,
➖ শুধুই গল্পগুলো শোনাবি, নাকি নিজস্ব মতামতও জানাবি?
➖ প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই বলব।
➖ বেশ তা প্রথমে কোন গল্প?
➖ 'প্যারানরমাল' গবেষণা ক্ষেত্রে 'অ্যাস্ট্রাল প্রোজেকশন' এর ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ঘটনাটাই বলি। যার পরিচিতি 'উইলমট অ্যাপারিশন' নামে। ১৮৮৯ এবং ১৮৯০ সালে, বিষয়টা ব্রিটিশ 'প্যারানরমাল' সংস্থা 'সোসাইটি ফর সাইকিক্যাল রিসার্চ' দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। একেবারেই সতন্ত্র এক ঘটনা। আজ অবধি বস্তবিকপক্ষেই এ ঘটনার সেই অর্থে কোনও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।
এটা শুনে দাদা আমার দিকে অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে তাকালেন। যাকে ব্যঙ্গ বলাই যায়। তারপর বললেন,
➖ ওই উইলমট বিষয়ক ঘটনাটা একটা বিশেষ কারণেও উল্লেখযোগ্য কিন্তু। ওখানে একই সঙ্গে 'কালেক্টিভ' এবং 'রেসিপ্রোকাল' আবির্ভাবের ঘটনা ঘটেছিল। 'কালেক্টিভ' আবির্ভাব ক্ষেত্রে কোনও এক ভুতের 'আবির্ভাব' একসাথে একাধিক ব্যক্তি দেখতে পায়। এই ঘটনা নিশ্চিত ভাবে 'অফ দ্যা ট্র্যাক' বা বেশ অস্বাভাবিক। আর 'রেসিপ্রোকাল' আবির্ভাবে 'এজেন্ট' এবং 'পারসিপিয়েন্ট' উভয়ে একে অপরকে দেখতে পায়। এটাও অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা। যাই হোক এবার ঘটনাটা বল।
➖ ১৮৬৩ সালের ৩রা অক্টোবর এস আর উইলমট ইংল্যান্ড কানেকটিকাটের ব্রিজপোর্ট থেকে 'সিটি অফ লিমেরিক' নামক বাষ্পীয় জাহাজে চেপে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। টানা নয়দিন ধরে ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে হয়েছিল জাহাজটাকে। এর ভিতর অষ্টম দিনে মিস্টার উইলমট স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তার স্ত্রী (যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন ওই সময়) তার কেবিনের ভেতর এসেছেন এবং ঘুমানোর আগে তাকে চুম্বন করছেন। পরের দিন সকালে, মিস্টার উইলমট তার স্বপ্নের কথা বলার আগেই, ওই কেবিনে উইলমটের রুমমেট, উইলিয়াম জে টেইট তাকে ইয়ার্কির ছলে জানায়, "ভালোই তো আছ, রাতে মহিলা আসছে তোমার কেবিনে!"
একথা শুনে যখন মিস্টার উইলমট নিজের স্বপ্নের বিবরণ দেন তখন দেখা যায় তাদের দুজনের বিবরণে অদ্ভুত মিল। সবচেয়ে বড় কথা টেইট সে সময় জেগে ছিলেন এবং উইলমটের স্ত্রীর 'অ্যাস্ট্রাল বডি' স্বচক্ষে দেখেছেন!
মিস্টার উইলমট কানেকটিকাটে পৌঁছানোর পর তার এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা স্ত্রীকে বলার আগেই, মিসেস উইলমট জানতে চান, কোনওভাবে উনি তার দেখা পেয়েছিলেন কিনা সমুদ্র সফর কালে। সমুদ্রে ঝড়ের খবর মিসেস উইলমটের কাছেও পৌঁছেছিল এবং উনি খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ওই বিশেষ রাতে, মিসেস উইলমট স্বপ্নে দেখেছিলেন, উনি স্বামীকে আশ্বস্ত করার জন্য জাহাজে গিয়েছেন। স্বপ্নটা এতটাই প্রাণবন্ত ছিল যে, পরেরদিন সকালে তার মনে হয়েছিল উনি সশরীরে ওই জাহাজে গিয়েছিলেন।
➖ তোর কিছু বলার আছে?
➖ এক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত মতামত - 'ফুটেজ' খাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বা ব্যবসায়িক জগতে পাদপ্রদীপের আলোয় আসার জন্য উইলমট দম্পতি এবং তার বন্ধু[?] টেইট যে এই গল্প সাজাননি তার কোনও প্রমাণ আছে কী? ওই সময়ে ওদের ব্যাবসায়িক অবস্থান বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া জরুরী ছিল। ভুলে যেও না মূল ঘটনা ঘটার ২৬ বছর পর এ নিয়ে 'প্যারানরম্যাল' তদন্ত হয়।
➖ তুই এক কাজ কর ভাই। গোয়েন্দা হয়ে যা। এবার কোন ঘটনা?
➖ মার্ক টোয়ে্নের ভূত দেখার গল্প। উনি এক বড় মাপের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে এরকম এক আগমনের ঘটনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। এমন একজন মহিলাকে উনি হলঘরের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছিলেন যার সঙ্গে ওইদিনই রাতের ডিনারে তার দেখা হয়েছিল। অথচ লেখক পরে জানতে পারেন ওই অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে ওই মহিলা উপস্থিতই ছিলেন না। ওই সময় উনি ট্রেনে করে ওখানে আসছিলেন।
➖ 'ও বি ই'- এর আরও একটা অস্বাভাবিক ধরণ 'অ্যারাইভাল কেস' বা কারও আগমনের ঘটনাই তুই এখানে বললি। যেখানে কোনও এক ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায় প্রকৃত ব্যক্তি সেখানে পৌঁছানোর আগেই। সেই ব্যক্তির পরনে থাকে ঠিক সেই পোশাক যা পড়ে সে আসছে! এই প্রকার 'ভূত'কে দেখতে একেবারে আসল মানুষের মতই। 'পারসিপিয়েন্ট'রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অশরীরী সত্তার সাথে কথা বলার সুযোগও পেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই উত্তরও নাকি পাওয়া যায়। আসল মানুষের আগমন হলেই একে আর দেখতে পাওয়া যায় না। তোর কী মতামত।
➖ মার্ক টোয়েন একজন লেখক, আর কিছু বলতে চাই না।
➖ ওকে। 'ক্রাইসিস অ্যাপারিশন' নামেও একধরনের 'ফেনোমেনা' আছে জানিস আশা করি।
➖ 'এজেন্ট' এর মৃত্যু মুহূর্তের 'ক্রাইসিস অ্যাপ্যারিশন' এর ঘটনাগুলো নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট আলাপ আলোচনা তর্কবিতর্ক হয়ে থাকে।
➖ সেটাই তো স্বাভাবিক। দেখো মৃত্যুর সঠিক মুহূর্ত নির্ণয় করা কঠিন। আর সে জন্যই বারবার প্রশ্ন ওঠে, প্রকৃতপক্ষে মৃত্যু ঘটার ঠিক আগে বা ওই মুহূর্তে অশরীরীর আবির্ভাব হয় কিনা। কেন এই বিতর্ক তা যারা বুঝতে পারছেন না তাদের জন্য বলি – মৃত্যু ঘটার আগে যদি আবির্ভাব ঘটে তাহলে সেটা 'অ্যাস্ট্রাল প্রোজেকশন'। কিন্তু মরার পর তো সেটা নিয়ম অনুসারে তা হতে পারে না। কারণ তখন তো 'ও বি ই' নয়, তখন তো যে আসছে সে আত্মা। যাই হোক সারা পৃথিবীতে এরকম হাজার হাজার ঘটনা নথিভুক্ত হয়ে আছে। যা শুধু মাত্র প্রশ্নের সংখ্যাই বাড়িয়েছে কোনও জোরালো উত্তর দিতে পারেনি।
➖ চল এবার তোর পাঠকদের আমিই বরং 'ক্রাইসিস অ্যাপারিশন' এর তিনটে ঘটনার কথা বলি। যা 'প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর'দের ভেতর এক খ্যাতনামা সংস্থা 'সোসাইটি ফর সাইকিক্যাল রিসার্চ' দ্বারা নথিভুক্ত হয়ে আছে।
১৯১৭ সালের ১৯শে মার্চ, ব্রিটিশ বিমানচালক, ক্যাপ্টেন এলড্রেড বোয়ার-বাওয়ার, ফ্রান্সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বয়ান অনুসারে, তার মৃত্যু মুহূর্তে উনি একই সাথে কলকাতায় তার সৎ বোন এবং ইংল্যান্ডে তার ভাইজির কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন। দুজনেই তাকে ভালোভাবে চিনতে পেরেছিল। কয়েক মুহূর্ত বাদেই সেই অশরীরী অদৃশ্য হয়ে যায়।
১৮৪০ সালের ৩রা জানুয়ারির সন্ধ্যা, এক্সিটার ইংল্যান্ড নিবাসী মিসেস সাবিন বারিং-গৌল্ড ডাইনিং রুমে বসে বাইবেল পড়ছিলেন। এই সময় তার রয়্যাল নেভিতে কর্মরত ভাই হেনরি তার সামনে উপস্থিত হয়। যার ওই সময় দক্ষিন আটলান্টিকের এলাকায় থাকার কথা। কয়েক মিনিট পরে, তার চোখের সামনে থেকে ধীরে ধীরে মিলিয়েও যায় সেই অবয়ব। মিসেস বারিং-গৌল্ড সময় এবং তারিখ লিখে রাখেন। এক মাস পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে, তার ভাই ঠিক ওই সময়েই মারা গিয়েছিলেন।
৩রা জানুয়ারি, ১৮৫৬, নিউ জার্সির ক্যামডেনের মিসেস অ্যান কলিয়ারের ঘুম ভেঙে যায়। দেখেন তার ছেলে জোসেফ বেডরুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলের মুখ ক্ষতবিক্ষত এবং ব্যান্ডেজ করা। উনি খুবই অবাক হয়ে যান। কারণ ওই মুহূর্তে অন্তত হাজার মাইল দূরে, মিসিসিপি নদীতে একটা স্টিমবোটে জোসেফের থাকার কথা। যেটার সে ক্যাপ্টেন। একটু বাদেই অবয়ব অদৃশ্য হয়ে যায়। দু সপ্তাহ পড়ে উনি জানতে পেরেছিলেন ঠিক ওই মুহূর্তে এক দুর্ঘটনায় তার ছেলে মারা গিয়েছিল।
দ্বাদশ অধ্যায় উপভোগ করেছেন? ত্রয়োদশ অধ্যায় পড়তে নজর রাখুন।
লেখক বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ নিবাসী। পেশা ও নেশায় তিনি চিত্রশিল্পী। ২০১০ সাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের সমস্ত পাখি আঁকার কাজে নিজেকে নিবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর তুলিতে ফুটে উঠেছে ১২০০-রও বেশি প্রজাতির পাখি। চিত্রকলার পাশাপাশি অনুবাদের প্রতিও তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনূদিত প্রায় চল্লিশটি গ্রন্থ।
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।