About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
রাণীবালা ও একটি ছাদের গল্প
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

রাণীবালা ও একটি ছাদের গল্প


ভাইঝির বিয়ের উপলক্ষে রাণীবালা আজ বাপের বাড়িতে পা দিলেন। সেই এসেছিলেন পনেরো বছর আগে দাদার কাজে। এরপর আর ইচ্ছাই যায়নি লাহিড়ী বাড়িতে পা দিতে। রাণীবালার ছেলে-মেয়ে এসেছে মামীর কাছে, বোন ইরা খবর এনে দিয়েছেন একমাত্র আদরের ভাইঝি দীপশিখার। দীপশিখা কৃষ্ণনগরে ছুটে গিয়ে বড় পিসির গলা জড়িয়ে অভিমান করেছে। কিন্তু রাণীবালা কিছুতেই পারেননি লাহিড়ী বাড়ির চৌকাঠ ডিঙাতে। খালি ভেবে গেছেন, ছোটবেলাটা, কিশোরীবেলাটা ওই দোতলা বাড়ির ছাদে বা বাড়ির আনাচেকানাচে কোথাও রাখা আছে। পা দিলেই হাওয়াতে মিশে যাবে বুঝি, দাদার মতো, অথবা মা-কাকিমার মতো ধুলো-মাটি হয়ে যাবে।

তবে এইবার আসতেই হলো, আদরের দীপশিখার মুখ চেয়ে। একমাত্র ভাইঝির আইবুড়ো ভাত আজ। দাদা যখন অসময়ে খেলাঘরটা ভেঙে দিয়ে চলে যায়, এই মেয়েটার বয়স ছিল মাত্র বারো। পিসতুতো দাদা-দিদিদের থেকে কত ছোট, কত আদরের! তবু মেয়েটার মুখ চেয়েও পারেননি এই লাহিড়ী বাড়িতে পা দিতে। এইজন্য অবশ্য রাণীবালার কোনো আফসোস নেই।


পৈতৃক বাড়িটি তৈরি হয়েছিল চল্লিশের দশকে। রাণীবালার ঠাকুরদাদা ঈশ্বর কেশব চন্দ্র লাহিড়ী মহাশয় একজন নামী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ছিলেন। তাঁর ওষুধ ডেকে কথা বলত। পসার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একটা নিজস্ব ভদ্রাসনের প্রয়োজন বোধ করেন এবং তৈরি হয় এই "লাহিড়ী নিবাস"। রাণীবালার মন্দির — এইভাবেই রাণীবালাকে ভাবতে শিখিয়েছিলেন তাঁর মা পূর্ণিমা দেবী।

অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন নিজের শ্বশুরবাড়ি এবং স্বামীকে। রেলের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন রাণীবালার বাবা দীপেন্দ্রনাথ লাহিড়ী, যার চাকরিজীবনের বেশির ভাগ সময়টাই বাইরেই কাটে। পূর্ণিমা দেবীকে নিতে হয়েছিল যাবতীয় দায়িত্ব — সংসার, ছেলে-মেয়ে, পরিবার। কিন্তু রাণীবালা দুইজনের মধ্যে কোনো মতভেদ দেখেননি। তাই কী মসৃণ, আনন্দময় ছিল তাঁদের ছেলেবেলা।

শাঁখের আওয়াজে হুঁশ আসে রাণীবালার। জাফরি-কাটা বারান্দায় একটা গোল সেগুন কাঠের টেবিল আছে, সেখানেই দীপশিখা বসেছে তার আইবুড়ো ভাত খেতে। বসন্তের রোদ এখনও সেই রকম চড়েনি। মেয়েটার গায়ে-মুখে এসে পড়েছে। বাড়ির সামনেই আমগাছটাতে ভর্তি মুকুল এসেছে।

ঝিম-ধরানো গন্ধে বুঁদ হয়ে থাকা রাণীবালা দেখেন, আজ তাদের দীপশিখাকে কেমন যেন পূর্ণিমা দেবীর মতো দেখতে লাগছে। মেয়েটাকে শাড়ি-গয়নায় দেখেননি প্রায়। পায়ে আবার আলতা পরেছে! খাবারের গ্রাস তোলার ভঙ্গিটাও মাকে মনে করাচ্ছে। বোন কি কিছু বুঝতে পারছে না? ভেতরে ভেতরে অস্থির লাগে। মনে মনে বলেন, "দ্যাখো, কেমন সবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ইয়ার্কি করছে!"

বিরক্তি এসে যায় রাণীবালার, ইরার ওপর। সত্তর ছুঁতে চলল। একটা স্কুলের দিদিমণি ছিল, ছেলেমানুষিটা রয়েই গেছে। তাই হয়তো এখনও এত হাসতে পারে। রাণীবালা তো সময়ের আগেই বৃদ্ধ হয়ে গেলেন।

নাঃ, এই হৈ-হট্টগোল ভালো লাগছে না। পায়ে পায়ে ছাদের সিঁড়ির দিকে এগোলেন। ওখানেই খুঁজবেন তাঁর কিশোরীবেলাকে।


ছাদের চৌকাঠটা ডিঙিয়ে প্রায় ছুটে যান রেলিংয়ের কাছে। ওই তো গঙ্গাটা দেখা যাচ্ছে। নদীর হাত ধরেই খুঁজবেন রাণীবালা আজ তাঁর হারানো সম্পদগুলোকে। সেটাই সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। মনে মনে ভারী মজা পেলেন রাণীবালা।

সবার আগে কী দেখবেন? ছাদের দেওয়ালের গায়ে লিখে রেখেছিলেন যশোয়ান্ত, "কোয়েলের কাছে" উপন্যাসের নায়কের নাম। খিলখিল করে কিশোরীর মতো হাসেন রাণীবালা। না, ভুল হল। তাঁর স্বপ্নের নায়কের নাম। কোথায় যেন ছিল বেশ। না, খুঁজে পেলেন না।

"থাকে নাকি এতদিনে! কত বার রং হলো বাড়ি। তার চেয়ে ছাদের ঘরটাই ভালো।"

বিড়বিড় করতে করতে চললেন রাণী ছাদের ঘরটার কাছে। দুরুদুরু বুকে কত দিন পর রাণীবালা হাত রাখলেন সেই ছাদের ঘরের দরজায়...


দীপশিখা রেজিস্ট্রি করবে বলেছে, তাও এই বাড়িতে। লোক খাওয়ানো হবে এক রবিবার দেখে। দুই বাড়ির আত্মীয়দের একসঙ্গে নেমতন্ন করে বাইরে কোথাও খাওয়ানোর কথা ভাবা হয়েছে। এত সংক্ষেপে, জৌলুসহীন বিয়ে শ্রী দীপেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর নাতনির! সত্যি ভাবা যায়নি। কিন্তু যে মেয়ে বারো বছর বয়সে বাবাকে হারায়, তার বোধহয় শখ-আহ্লাদ সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় এই রকম।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরের দরজাটা খুললেন রাণীবালা। বৌদি দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে সারি সারি পিঁড়িগুলো রেখে দিয়েছে। তার কতগুলোতে হালকা আলপনার দাগ। বিয়ের পিঁড়ি সব। খাবার টেবিল এই বাড়িতে আসার আগে বিশেষ সময়ে এগুলোকে পংক্তিভোজনের কাজে লাগানো হতো।

গ্রামোফোনটা? এটা কি কাকা কিনেছিলেন? মা, কাকিমার বড় শখ ছিল গান শোনার। দুপুরে ঘুমানো বাড়ির বৌদের সে বড় নিন্দের কাজ। কিছু না কিছু করতে হবে — হয় সেলাই করো, না হলে বড়ি, আচার বানাও। নভেল পড়লে রাণীবালার ঠাকুমা ভুবনমোহিনী দেবী বড় রাগ করতেন। তাই এল এই গ্রামোফোনটা। দুই বৌ দুপুরে কুরুশ কাঠি নিয়ে বসেছে, আর সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে "দীপ নিভে গেছে মম"। খাটের এক কোণে মায়ের আঁচলের একটা অংশ হাতে নিয়ে চোখ বুজে আসছে ছোট্ট রাণীর। আহ! কী আরাম, কী শান্তি।

না, এটা তো সেই গ্রামোফোনটা নয়। এটা তো দাদা কিনেছিল মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে। তখন শুধুমাত্র রাণীবালার বিয়ে হয়ে গেছে। দাদা খুব কিশোর কুমারের ভক্ত ছিল। কৃষ্ণনগরে গিয়ে গান শোনাত। গ্রামোফোনটার গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে ভাবেন, "দাদা কত দূরে! কেন যে তুই খেলার গুটি কাঁচিয়ে দিয়ে চলে গেলি!"

পুরোনো বাড়ির জানলাগুলোতে খড়খড়ি লাগানো। ফাঁকফোকরের রোদ মায়াজালের সৃষ্টি করেছে। সেই মায়াজাল রাণীবালাকে দেখাচ্ছে, রেডিওতে অনুরোধের আসর শুরু হচ্ছে। লতা মঙ্গেশকর গাইছেন, "অন্তবিহীন কাটে না আর যেন বিরহেরই দিন..." খেয়াল নেই, কিশোরী রাণী খোলা চুলে চোখ বুজে গাইছেন। আচমকা রেডিওটা বন্ধ করে দিয়ে মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। হতবাক রাণীবালা।

আচ্ছা, মা তো প্রতি বৃহস্পতিবার আলতা পরত, তাই না? তারপর লক্ষ্মীর পাঁচালীটাও তো মা-ই পড়ত। কিন্তু কানে আসছে শুধুমাত্র কাকিমার গলাটাই... "দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ..." কী সুন্দর চন্দনের গন্ধ কাকিমার গায়ে ছিল। বড়দের যে কী হয়! কেন যে বাড়িটা আলাদা করে নিল কাকা! এখনও এই বাহাত্তর হতে চলা বয়সেও বুঝতে পারেননি। উত্তরটা ঠিক নিয়ে নেবেন রাণীবালা। হয়তো আরও কিছু বছর অপেক্ষা করতে হবে। চোখটা মোছেন রাণীবালা।


"মা, ছাদে কী করছ? খাবে তো? সবাই অপেক্ষা করছে। দ্যাখো, টুটু চলে এসেছে তোমাকে নিতে।"

"বড় পিসি, কিছু খুঁজছ?"

মেয়েটাকে অবিকল রাণীবালার মা পূর্ণিমার মতো দেখতে লাগছে। জিনের ভেতর দিয়ে এইভাবেই হয়তো মানুষ ফিরে ফিরে আসে তাঁর আপনজনদের কাছে। কে জানে! একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন তার ভাইঝির দিকে রাণীবালা।

"কী দ্যাখো বড় পিসি? দ্যাখো, ঠাম্মার চুলের কাঁটা খোঁপায় দিয়েছি। কেমন লাগছে আমায়?"

রাণীবালা বলে চলেন, "টুটু, তোর চুলের গোছ ঠিক মায়ের মতো। অন্য সময় যেমন তেমন, কিন্তু পুজো কি অনুষ্ঠানে চিন্তা মাসি আসত জানিস। মা-কাকিমার পায়ে ঝামা ঘষে আলতা পরিয়ে দিত। তোদের মতো তো আর বিউটি পার্লার ছিল না তখন। আমার এক পিসি হুগলিতে থাকত। কত রকমের খোঁপা বাঁধতে জানত জানিস! খোঁপায় রুপোর কাঁটা ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াত, আর আমি পিসির সেই খোঁপা দেখার জন্য পেছন পেছন ঘুরতাম।"


পুরোনো গন্ধ মাখানো ঘরটাকে ধীরে ধীরে বন্ধ করেন রাণীবালা। এই এতক্ষণ তিনজনের হাসি-ঠাট্টার আওয়াজটা নিয়ে আপাতত ঘুমিয়ে পড়ুক ঘরটা। রাণীবালা আর খুঁজলেন না তাঁর পুতুলের আলমারি, মেম পুতুল, মায়ের সিঁদুরের কৌটো। লক্ষ্মীপুজোর সেই বড়সড় ধানের কুনকেটা কি কাকিমা নিয়ে চলে গিয়েছিলেন আলাদা হওয়ার সময়? মনে করতে পারেন না রাণীবালা।

যে নানা বুনোটের নকশাটা আজ রোদের মায়াজাল রাণীবালাকে দেখাল, আর যা তিনি নিজে নাড়াচাড়া করলেন, এটাকে কী বলে? উত্তরাধিকার? কে জানে, হয়তো তাই।

দরজাটার গায়ে আরও একবার হাত বোলালেন রাণীবালা। মনে মনে ভাবলেন, "তিতিরকে বলব এই বাড়িটার, ছাদের চূড়োর কলসটার, ছাদ থেকে দেখা গঙ্গা নদীটা, ছাদের এই ঘরটা — যার কাছে রেখে গেল আজকের এই হাসির মুহূর্তকে — আর দেওয়ালের গায়ে লাহিড়ী বাড়ির নামফলকের সবেরই একটা একটা ছবি তুলে রাখতে। আবার কবে আসা হয়!"

কিন্তু ছবিগুলো রেখে দেবেন একেবারে তাঁর নিজের কাছে। কোনো একসময় পাতা খসে যাওয়ার আগে কাঁপা কাঁপা হাতে কাউকে বলবেন, "এই নে, তোর জন্যই তুলে রেখেছিলাম... তুই সামলা এগুলো এখন।"

দূরে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে রইলেন রাণীবালা।




আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম

আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
3 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।