ভাবছিলাম এবারে নির্বাচনটা জমে উঠবে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য নিয়ে দড়ি টানাটানির মাধ্যমে। কিন্তু ফস করে এসআইআর নিয়ে এমন হইহট্টগোল শুরু হয়ে গেল যে প্রথম বিষয়টা ধামাচাপা পড়ে গেল। সে যাই হোক যেটুকু বাঙালিয়ানা বেঁচে আছে তাই নিয়ে কলম ধরলাম। তাতে কেউ রাজনীতির গন্ধ পেলে সেটা তার নাকের ব্যাপার।
বাংলা ও বাঙালির কৃষ্টি বর্ণনায় কেউ কেউ নেমে পড়েছেন রাস্তায়, তারা আবার এ কথাও বলছেন যারা উড়ে এসে এই বাংলায় জুড়ে বসতে চাইছেন, তাঁরা নাকি বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধটা মাস্ক পড়ে নিতে চেয়েছেন। এদিকে আবার তারা এও বলছেন রাম রাজ্যে রাম তো ফেরার, রামের জুতো সিংহাসনে, কিন্তু তার মর্যাদা ভরত ভায়েরা রাখছে কী? আচ্ছা সে কথাও বাদ দিলাম, ঠাকুর দেবতাকে মাঝে না আনাই ভালো, বরং বাংলার মনীষীদের নিয়ে কথা বলি, ইসস এখানেও তো সমস্যা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার রোগেও আক্রান্ত এরা, অভিযোগ তো তেমনটাই। সেই যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি, আর কি তা জোড়া লাগে? বাংলার নদী, নালা, খালবিল, ভাষা, সাহিত্য কোনটা নিয়ে তেনারা সাবলীল? প্রশ্ন উঠছে। বাংলা ও বাঙালিকে প্রচন্ড ভালোবেসে যারা বিহার বা উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে এখানে করে কম্মে খাচ্ছেন তাদের ওপর কোনও রাগ নেই, কিন্তু পিচিক পিচিক করে লালাভ থুথু ফেলাটা বন্ধ করুন তাহলেই বাঙালি খুশি। আরে মশাই লালাভ বলেছি, লাল নয়। যাদবপুর ছাড়া লাল আর কোথাও নেই, চেপে যান। কিন্তু যারা বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে চাইছেন , তারা আবার বাঙালিকে এত ভালোবাসেন যে পাশের দেশ থেকে বাংলা বলতে পারলেই নাকি তাকে রাজ্যে ঠাঁই দিচ্ছেন। কি যে হচ্ছে, কোনটা যে সত্যি, বোঝা দায়।
কিন্তু এওতো ঠিক, রাজনীতিটা সবকিছু নিয়ে চলে না বস। মাতৃভাষার স্বীকৃতি আদায়ে যখন একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে আবুল-রফিক-বরকতের লাশ, তখন কী ধর্ম জানতে চেয়েছিল কেউ।
বাংলার একটা উষ্ণতা আছে, সেই উষ্ণতা ভাষা, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি সবটাকে জুড়ে রেখেছে, আমাদের আবাহন যেমন আছে, আছে বিসর্জনও, ঠিক ভুল বাঙালি বুঝে নেবে।
অতএব সাধু সাবধান।
ডিসক্লেইমার : এখানে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। লেখাটি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, যার উদ্দেশ্য কেবল গঠনমূলক আলোচনার প্রয়াস। Bangali Network নিরপেক্ষ একটি সংস্থা এবং কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত নয়।
লেখিকার জন্ম ইস্পাত নগরী কুলটিতে, কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিবেশের জন্য মনটা নরম। কুলটি গার্লস স্কুল ও আসানসোল বি.বি কলেজে পড়াশোনা শেষে খবর পড়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে ইটিভি বাংলা হায়দরাবাদে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজ টাইমে কাজ করে বর্তমানে ক্যালকাটা টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (CN)-এ সংবাদ সঞ্চালক। আবৃত্তি ও নাটকে ছোটবেলা থেকেই আগ্রহী হলেও লেখালিখিতে তাঁর প্রবেশ একেবারে হঠাৎ। নিজের পেজে তাঁর লেখার বিষয়বস্তু প্রতিশোধ, নীরবতা, বিরহ, অভ্যাস থেকে কখনও রসগোল্লাও হতে পারে! বাবা — কবি কল্যাণ দাশগুপ্ত — তাঁর সাংস্কৃতিক মননের প্রধান প্রেরণা; যাঁর কবিতা আজ অনেকেই পড়েন ও শোনেন, যদিও প্রচারবিমুখতার জন্য তিনি নিজের প্রতিভাকে সেভাবে সামনে আনেননি।