Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
নিম কাঠের বাসর
নিম কাঠের বাসর

সন্ধে ফুঁড়ে দানবের মতো জ্যান্ত চাঁদটা আমাকে দেখে যখন রসিকতায় নামে, তখন ভীষণ বুক ধড়ফড় করে। ক্ষমতায় কুলাবে না আমার কিছু করার। করতে পারলে তক্ষুনি সে কলঙ্ককে পাঠিয়ে আমার ধুকপুকানি নিঃস্ব করত অথবা আমার মাথাটারে নারকেল কুড়ার মতো ঝুরঝুরে বানাত। তাই দিনেই কাজ সেরে সন্ধে হতেই দোর দিই। এমনকি ভাঙা খিড়কির পাল্লার সামনে একটা চট ঝুলিয়েছি। তবু নিস্তার নেই। পেঁজা চট ভেদ করে উঁকি মারার কী দরকার বুঝি না। সমত্থ মেয়েছেলে আমি। আমার যৌবন একেই তুলকালাম ইছামতির মতো। তাই সাবধানেই থাকি। নইলে পুঁথিবিদরা আর ও-পাড়ার মোড়লবাড়ির বৌরা পুকুরঘাটে কি তেষ্টা মেটাতে দেবে? দেবে না। অত সৌভাগ্য করলে কি এমন গেরস্থে…

ওই যে শিবানী ডাকছে। ওকে স্বর্ণচাঁপা বলে ডাকি। ফুটফুটে মুখটা দেখলেই নিমেষে সব যন্ত্রণা হাওয়া হয়। কিন্তু তেনার মুখে একেবারে রা নেই, খিদে পেলেও না। সংস্কৃত শ্লোকের মতো তাকে কঠিন লাগে। কিছুই বুঝতে পারি না এই মোটা মাথায়। এ পানে সে কদিন আসতে পারছে না। পোয়াতি হয়েছে। ওর কিচ্ছুটির অভাব নেই, তবু আমাকে ওর চাই-ই। ভেবেছি ওর বাচ্চা হলে আমার পুরোনো কাঁথাখানা সেলাই করে খড়ের ওপর বাছাটারে শুতে দেব। ওর মাকেও কিছু একটা তো দিতে হবে। দেখি কী দিই। গাদা খড় জোগাড় করেছি স্বর্ণচাঁপা আর তার ছানার জন্য। ধানসেদ্ধর জল কোথায় পাই ভাবছি। সে গন্ধ খুঁজলেও তেমনটি আর পাই না। স্বর্ণকে খাওয়ালে শরীরে তাগদ আসত। বেচারা। সারাক্ষণ আজকাল গোয়ালেই থাকে। আমার পোয়াতির সময় মা সাবু-দুধ জোর করে খাওয়াত। খেলে নাকি বুকে দুধ আসে ভালো। এসেওছিল, কিন্তু কারে খাওয়াব তার আগেই সে জন্মের ফাঁকি দিয়ে…

বর ভিনদেশে গিয়ে আরেকটা ঘর বাঁধল। আর বুড়ো ভাসুর সেই সুযোগে আমার ঘরে ঢোকার জন্য ছুকছুক করত। ব্লাউজের হুকখানা ছিঁড়লে কুকুরের মতো লালা ঝরিয়েছে। মা শীতলার দিব্যি, এমন সর্বনাশী মেয়েছেলে নই গো। পেটেরটা মরতেই বুঝলাম দেবতাকে বাঁধতে পারিনি। মনটা কেমন হুঁ-হুঁ করে। মা খুব কেঁদেছিল সেদিন। আমি নাকি পাষণ্ড, শোক বুঝি না। দেওয়ালের ফাটল চুঁইয়ে কান্না নামে দিনেদুপুরে। কেউ বোঝে না। শিকড় ঝুলিয়ে লেপটে থাকে বটের বাসা। এখানে পাখিদের আনাগোনা নেই। ডানপিটেদের আঙুলমাপা কাঁচগুলি দে ছুট বলে লাফায় না। গাছগাছালিরা গুমড়ে থাকে।

— কাট, প্যাক-আপ।

প্রদ্যুৎ মাথা থেকে সানগ্লাস নামিয়ে কুট্টিকে ইশারা করে হোটেলের দিকে যেতে বলে।

— এখন কিন্তু কোনও কাজ রেখো না, প্রদ্যুৎদা। দয়া করে।
— তুই খেলিসনি এর আগে? আগেরবারও তো তোকেই…

কুট্টির গাল টিপে এগিয়ে যায় তারা।

সবে হাসনাবাদ–শিয়ালদহ লোকাল টাকি ছাড়ল। সূর্যের কমলা আভায় ইছামতি নতুন কনের মতো সিঁটিয়ে গেছে। মেঘেরা ঝুঁকে পড়ে দেখছে অমন গাভীন হৃদয়। ওদিকে নবরূপা ঢলেছে ক্যামেরাম্যানের কথায়। নবরূপার তেলমাখানো কালো পেট, বুক এই ছবির চক্করে বেশ ডাগর হয়েছে। প্রদ্যুৎ-এর নায়িকা এই ছবিতে আঁটোসাঁটো উন্নত শীতকাল নয়, বরং বর্ষার জল খাওয়া উন্মাদ কালো দীঘি।

— এত জায়গা থাকতে এই লোকেশনটা বাছলে যে, মেয়ে ধরতে সুবিধে হবে?
— আবার প্রলাপ শুরু করেছ? এবার সত্যিই কিন্তু পাগলাগারদে দিয়ে আসব। টের পাবে।
— বেশ তো। প্রবণতার কাছে সবসময়ই নত হয়েছি, আজও হব। আমার ধারণা, চিন্তাভাবনা তোমার কথার জন্য বদলাতে পারব না। নাটকের সংলাপ লিখলেও তোমার মতো অন্তত বাস্তবে নাটক নামাই না। তাই চেঁচিও না। কূহেলি সেন ফাঁকা আওয়াজ দেয় না।

প্রদ্যুৎ আর কূহেলির ছ’বছরের সম্পর্ক। কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই প্রদ্যুৎ এড়িয়ে যায়। একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা এখন বিড়ম্বনায় ঠেকেছে। অথচ অনেক দিন মাঝরাতে প্রদ্যুৎ টলতে টলতে কূহেলির ফ্ল্যাটে ঢোকার পরও মাতাল লোকটার জুতো, চশমা খুলে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিয়ে নিজে সোফায় শুয়ে মশার কামড় খেয়েছে সে।

প্রদ্যুৎ-এর শরীরে অন্য গন্ধ সে ভাবতে পারে না। ছ’বছরের পলেস্তারা এত তাড়াতাড়ি খসবে কূহেলি বুঝতে পারেনি। একটা সময় টাকা ধার করে প্রদ্যুৎ-এর স্বপ্ন সাজানোয় পাশে থেকেছে। আর এখন সে নিজেই একা একা খেলনাবাটি খেলে। বর্ষার কান্নাকে কেউ পাত্তা দেয় কি! আদৌ কারোর মাথায় আসে যে, একটা ঋতু কত প্রহসনের মধ্যে দিয়ে শুধুই আজীবন ভিজে গেল। সিগারেট ধরায় কূহেলি। লম্বা ধোঁয়া ছুঁড়ে দেয়। দেখে কুণ্ডলীকৃত বলয়ে নিজের যাপন কেমন ধূসর হল অজান্তে। চকচকে জ্যোৎস্নায় একসময় কূহেলিকে যে অধিকার দিত প্রদ্যুৎ, সেই মুহূর্তরা স্বপ্নের মাঝে বারবার এসে ওকে খেপিয়ে তোলে। চিৎকারে লণ্ডভণ্ড হতে থাকে ভবিষ্যৎ। আগামীকাল শ্যুটের আগে ভেবেছে নবরূপার ডান বুকের জরুলটা আঁচলের মধ্যে রাখতে বলবে। কোনও দরকার নেই দেখানোর। আজ অযথা প্রদ্যুৎ জরুলে হাত দিয়ে অসতর্ক মুহূর্ত তৈরি করেছে।

— ইস! কুট্টিও কেমন একটা অদ্ভুত আচরণ করল!

ইছামতির পাড় সংলগ্ন একটা ছোট শ্মশান আছে। স্থানীয় মৃতগুলো এখানেই উবে যায়। আলো-আঁধারি মেখে কূহেলি এগোয়। দিনে দেখা রঙিন ফুলগুলোকে অচেনা লাগে। প্রজাপতিগুলোও ডানা গুটিয়ে নিস্তার পেয়েছে। পৃথিবীটা নিষ্পাপ হলেও মানুষেরাই নরখাদক। ডোমেদের কাপড়গুলো শুকোচ্ছে। পুরুষগুলোর চোখ আগুনে মেতে আছে। বাতাসে মরা চামড়ার গন্ধ মিশেছে। হোঁচট খেয়ে কোনও মতে টাল সামলায়। মদ না খেয়েও তাহলে মাতাল হয় নারী! এই নেশা প্রদ্যূৎরা যদি একটু বুঝত! কূহেলির গলা জড়ানো আবেগ পিষতে দু’বার সময় নেয়নি দুশ্চরিত্র লোকটা। একটা সাজানো সংসার চেয়েছিল। বদলে দিল নিমকাঠের বাসর। হোটেলের ঘর থেকে প্রদ্যুৎ রেগে বেরিয়ে যাওয়ার পর কূহেলি কুট্টিকে কয়েকবার ফোন করে। সুইচ অফ। বড্ড সাহস হয়েছে কুট্টির। সব ওই লোকটার জন্য। দূরে আগুনের ফুলকিটা মাঝে মাঝে জোরালো হয়ে ঝিমিয়ে যাচ্ছে। কুকুরগুলো তোয়াক্কা না করেই ঢুকল ডোমেদের এলাকায়। সেখানে রাতবিরেতে খাবার পাওয়া যায়। গতি শ্লথ হয়েছে ওর। পুরুষের কাছে নারীদেহ সর্বস্ব, মনের দাম নেই।

— শালা…

থুতু ফেলে কূহেলি ফেরার পথ ধরে। নবরূপা মোটামুটি ভালোই শট দিল। পিঠের খালি অংশে জোরে ঘষায় লাল লাগছে। লাল রং খুব যন্ত্রণাদায়ক। কূহেলি হাড়ে-মজ্জায় তা অনুভব করে।

— নবরূপা, শোনো। প্রদ্যুৎ কোথায় জানো?

খানিক আলতার মাত্রা বাড়ে নবরূপার চোখে। কটমটও করে। আচমকা কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়। কূহেলির জিভ আড়ষ্ট হয়। বেশি প্রসঙ্গ টানলে নিজের মুখেই থুতু পড়বে। আজ সবার কলকাতা ফেরার কথা। সকালে রোদের তেজ না থাকলে ঘোরার জন্য এই স্পটটা বেশ। কয়েকজন হাঁটতে গেছে নদীর সঙ্গে। মনে হয় নবরূপাও। মানসিক ধকল কাটাতে কূহেলি হোটেলের লাউঞ্জে আসে।

রিসেপশনে দুটি যুবক নিজেদের মধ্যে কথা বলছে আর একটি মহিলা রেজিস্টার সামলাচ্ছে। লাউঞ্জে ঝোলানো আছে কত প্রাচীন স্মৃতির ফ্রেম। কূহেলি গল্প জমায়। শোনে রাজবাড়ির ইতিহাস। আজও সাড়ে তিনশো বছরের টাকির পূর্বের রাজবাড়ির দেবী উমা কচুশাক ও পান্তা খেয়ে চব্বিশ জন বেয়ারার কাঁধে চেপে ইছামতির ঘোষবাবুর ঘাট বেয়ে সোজা কৈলাসে পাড়ি দেন। এছাড়াও শোনা যায়, জাহাঙ্গীর তাঁর সেনাদের সুবিধের জন্য যমুনার সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে ইশা খাঁকে দিয়ে একটা খাল খনন করিয়েছিলেন। সেই খালই আজকের ইছামতি।

একটা সুন্দর মানচিত্র জুড়ে সুন্দরী ইছামতির বাস। সারাদিন লঞ্চগুলো লোকদের নিয়ে নদীজন্ম দেখায়। ওপার বাংলাদেশের দখলে। বাংলাদেশ পুলিশ দিনে-রাতে টহল দেয় লঞ্চে করে আর হুইসেল বাজায়। সাবধান, হুঁশিয়ার। সবাই কি এর অর্থ বোঝে! কুট্টির ক্যাজুয়াল সুরে কূহেলির ঘোর ভাঙল। মহা ধরিবাজ লোকটা। পেটের কথা মনকে জানতে দেয় না। হিসেব না মেলায় কূহেলির অস্বস্তি হচ্ছে। এ কদিনের ধকলে সবাই গাড়িতে ঘুমাচ্ছে। ড্রাইভারের পাশে কুট্টি ঘনঘন ফোন ঘাটছে। বেলা শুকিয়েছে। ওদের মালতিপুর রেলগেটে দাঁড়াতে হল অনেকক্ষণ। মালগাড়ির বিরক্তিকর যাওয়া অসহ্য লাগে। হঠাৎই কূহেলি গাড়ি থামাতে বলে।

— দাঁড়াও, সাইড করে। কুট্টি, আমার শরীর খারাপ লাগছে। এখানে বন্ধুর বাড়িতে থাকব। তোমরা চলে যাও।

— ওহ! আমরা অপেক্ষা…

— না, তোমরা চলে যাও।

ট্রেন মালতিপুর ছাড়ে। প্রত্যেক মানুষের জীবনে নুড়িজীবন আছে কিনা অজানা। নুড়ির অভদ্র ঘর্ষণ নিত্যদিনের যাপনে বড় গর্ত তৈরি করে। আর সেই গর্তে চতুর হয়ে সিঁধ কাটে ধূর্ত শেয়াল। আধঘন্টার মধ্যেই কুট্টি অনেকবার কূহেলিকে ফোন করেছে। একবারও ম্যাডাম ধরেনি। এরপর কেটেছে কত সময়…

— আপ জিস ব্যক্তি কো কল কররহে হ্যায় ওহ্ উপলব্ধ নহী হ্যায়।

প্রদ্যুৎ-এরও ফোন বন্ধ। কুট্টি একটা কষ্ট অনুভব করে। খোলা শার্টের থেকে উঁকি দিচ্ছে কয়েক যুগের অস্থির রোমকূপ। ও বুঝতে পারে কিছু মুহূর্ত চোখ আর ঠোঁটের অপরাধী হতে চাইছে। কিন্তু প্রদ্যুৎ-এর ফোন না পেলে শান্তি হচ্ছে না। রাত গাঢ় হয়েছে। চারদিক ঝিঁঝিরা যেন ইছামতির সাম্রাজ্য পাহারা দিচ্ছে। জনহীন পথে একটা সাইকেল অত্যন্ত সন্তর্পণে এগোচ্ছে মানসিংহ রোডের দিকে।

সেদিন দুর্যোগের ঘোষণা থাকায় অনেকেই ঘরমুখো হয়েছিল। কূলেশ্বরী কালিমন্দির থেকে সাইকেল আরোহীর পেছনে বসেছে আরেকটি ছায়ামূর্তি। কালিমন্দির থেকে এই পথেই পড়বে শ্মশান। মাঝে মাঝে প্রবল লড়াই করছে গাছগুলো। কুকুরটা এক নিঃশ্বাসে ছুটে পালাল ওদের ডেরায়। পেছনে ধীর গতিতে সাইকেল। আর একটু গতি কমালে পেছনের আরোহী নিঃশব্দে নামে। তারপর দুজনে দুই পথে।

এসব এলাকায় রাতের নির্জনতা বখাটে হয়ে বেড়েপাকামি করে। দূরের শ্মশান আজ আগুনহারা। রাস্তার মৃতপ্রায় আলোরা ধুঁকছে। বেতের দরজার পাশে জুতোটা ভীষণ চেনা কূহেলির। কালু ডোমের ঘরটা চিনিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল সাইকেল চালক। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতেই বমি উঠে আসে কূহেলির। হেলে সাপের মতো দুটো পুরুষ জড়াজড়ি করে নিজেদের সঁপছে। কূহেলি শুনেছিল সাপ মারলে পোড়াতে হয়। কিন্তু এমন পেশা যে তার নয়! তবুও সাপ দুটোর বিষদাঁত ভাঙা কি পাপের? এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কূহেলি হ্যারিকেনের মৃদু আলোয় প্রমাণ রাখে মোবাইলে। কালু ডোমের কোনও হুঁশ নেই।

প্রদ্যুৎ তখনও কালুর বুকে আঙুল চালাচ্ছে। বৃষ্টির ছাঁটে কূহেলির যেন পাঁজর ভাঙছে। এখানে থাকা আর ঠিক নয়। কেউ দেখে ফেললে পাখিরা ফুড়ুৎ। ভয়ে ভয়ে এগোয়। কাদামাখা পায়ে বেশি জোরে হাঁটলে পড়ে যেতে পারে। এবার নিশ্চয়ই সবাই জানবে প্রদ্যুৎ-এর চরিত্র।

অদ্ভুত তো! সাইকেলটা তো ওর জন্য এখানেই দাঁড়ানোর কথা ছিল! ওকে না নিয়েই পালাল? যার সবকিছু নিজে চোখে দেখার দরকার ছিল, সে পালিয়ে গেল? — বেইমান। তুই ওদের নোংরামোটা জেনেও আমায় একা রেখে পালালি! আমি তোকে বিশ্বাস করে এত বড় ঝুঁকি নিলাম!

কূহেলি জানত যে সাপ খোলস ছাড়ে আর মানুষ মুখোশ পরে। আরেকবার প্রমাণ পেল। শ্যুটিং আপাতত বন্ধ। কয়েক ঘণ্টা আগে হাসনাবাদ–শিয়ালদহগামী লোকাল টাকির রেলগেট ছাড়ার পর থেকে হইচই আরম্ভ হয়েছে। একজন ট্রেনে কাটা পড়েছে। মুখ থুবড়ে পড়ায় বোঝা যাচ্ছে না। কোমর থেকে দুটো পা আলাদা হয়ে গেছে। এই রুটের ট্রেনগুলো আগের স্টেশনে এসে আটকে পড়েছে। এখন বৃষ্টির ধমক কমলেও পিছল পথে হাঁটা খুব বিপজ্জনক। কুট্টির দেহ সরানো হয়েছে রেললাইন থেকে। এখন যে বর্তমান হঠাৎই অতীত হলে কেমন একটা লাগে। লোকটা খারাপ হিসেবে বেঁচেছিল। কিন্তু মরে প্রমাণ করল, অন্যের টুঁটি ধরতে শেখেনি। প্রদ্যুৎ-এর সামনে টলমলে জীবন। ডিফেন্সের উকিলের তথ্য অনুযায়ী প্রদ্যুৎ একজন সমকামী। পারিপার্শ্বিক প্রমাণ প্রদ্যুৎ-এর বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তিশালী। কালুকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলার পাশাপাশি কুট্টির আত্মহত্যার জন্য ওর জামিন খারিজ হয়েছে।

— সাহেব, বাবু সেদিন পাঁচ হাজার দিয়ে বলল যে, রোজ আমার ডেরায় আসবে টাকা নিয়ে। বদলে আমার শরীরটা ওর লাগবে। লোভ লাগল বটে।

কূহেলির মুখ অপমানে লাল হয়েছে। তাহলে সেদিন নবরূপার জরুলে হাত দেওয়াটা ছিল আড়াল? দমবন্ধ লাগে কূহেলির। কুট্টি তার মানে পরিকল্পনা করেই ঝড়ের রাতে অমন পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

একজন পাঠক একটি সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই মাসে একই প্রতিক্রিয়া ভিন্ন কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top