About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
প্রাণ, মন এবং আত্মা — অস্তিত্ব, চেতনা ও পরিণতির দার্শনিক বিশ্লেষণ
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

প্রাণ, মন এবং আত্মা — অস্তিত্ব, চেতনা ও পরিণতির দার্শনিক বিশ্লেষণ

প্রাণ, মন ও আত্মা এইগুলি কি পৃথক পৃথক সত্তা না একই বিষয়ের পৃথক পৃথক নাম এগুলি? এরা যদি পৃথক হয় তাহলে মৃত্যুতে এদেরও কি পরিসমাপ্তি ঘটে না এ গুলি কি অবিনাশী? এরা অবিনাশী হলে অবিনাশী হওয়ার কারন কি? এদের কি প্রত্যক্ষ করা যায়?

প্রাণ, মন ও আত্মা সম্পর্কিত এরূপ বহু প্রশ্নই অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের তাড়া করে, আর সেই তাড়নায় আমরা উত্তর খোঁজা শুরু করি। বিষয়গুলো যেহেতু আমাদের মতো সাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন মানুষের নিকট দুর্বোধ্য বলে মনে হয়, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আলোচনাকে নিষ্প্রয়োজন ও অনর্থক বলে আলোচনায় ইতি টানি। এটা হওয়ার একটা কারন হলো — এই বিষয়গুলির অতীন্দ্রিয় হওয়া। যার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ সম্ভব নয় সেই সম্পর্কিত আলোচনা যে স্বাভাবিকের তুলনায় জটিল ও দুর্বোধ্য হবে, সে বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা যদি ভালো করে খেয়াল করি তাহলে দেখব আমরা এমন বহু বিষয় নিয়ে আগ্রহের সাথে আলোচনা করি যেগুলি ও অতীন্দ্রিয় যেমন — বিন্দু, পরমাণু, রেখা ইত্যাদি, এছাড়া এই সব ধারণা নিয়ে গঠিত আরো জটিল তত্ত্ব। বিন্দু বলতে আমরা বুঝি এমন কিছু যারা দৈর্ঘ নেই, প্রস্থ নেই, নেই কোনো উচ্চতা — আছে শুধু অবস্থান। কাজেই বিন্দুর সংজ্ঞাই বলে দেয় যে বিন্দুর বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্ভব নয়। আবার বিন্দু দিয়েই রেখা তৈরি হয়। বিন্দু কে যেহেতু দেখা যায় না তাই তা দিয়ে তৈরি রেখাকে ও দেখা যায় না। আবার আমরা সকলেই জানি পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কনাকে পরমাণু বলে, এও কিন্তু মানুষের ইন্দ্রিয়ের অতীত। কাজেই বিন্দু, রেখা ও পরমাণু অতীন্দ্রিয় অথচ এগুলির আলোচনা আমরা সচরাচর করে থাকি। কিন্তু প্রাণ, মন ও আত্মার ক্ষেত্রে আলোচনায় অতীন্দ্রিয় তকমা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

আসলে, আমার মনে হয় ব্যাপারটা ঠিক এই রকম না। এখানে সাধারণ মানুষের একপ্রকার অনীহা কাজ করে আর তা হলো নিজেকে না চেনার ইচ্ছে। এর পিছনে আছে আপাত প্রয়োজনহীনতা। আমরা আমাদের চারপাশের সব কিছুকে চিনতে চেষ্টা করি কেননা সেখানে আমাদের কোনো না কোনো প্রয়োজন কাজ করে। কিন্তু নিজেকে না চিনলে অন্য সব চেনা অর্থশুন্য হয়ে পড়ে। তাই নিজেকে চেনা বা জানা প্রয়োজন। আর নিজেকে চেনার অর্থই হলো প্রাণ, মন ও আত্মাকে চেনা।

বিজ্ঞান প্রাণ নিয়ে আলোচনা করে, মন নিয়েও আলোচনা করে, কিন্তু আত্মা সম্পর্কিত আলোচনায় বিজ্ঞান গররাজি। তাঁরা মনে করেন আত্মা ফিজিক্যাল কোনো অবজেক্ট নয়। হ্যাঁ একথা ঠিক যে আত্মা মেটা-ফিজিক্যাল অবজেক্ট — পরাজাগতিক বা অধিবিদ্যক বিষয়। তাই এর আলোচনা অধিবিদ্যক দৃষ্টিভঙ্গিতেই করা উচিত।

অধিবিদ্যক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রাণ, মন ও আত্মা হলো তিনটি পৃথক সত্তা। জৈবিক পক্রিয়ার মাধ্যমে যে জীব দেহ গঠিত হয় তা মূলত পঞ্চ মহাভূত বা পাঁচটি ভূত দ্রব্য বা জড় উপাদানের (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম) দ্বারা গঠিত। এই পাঁচটি ভূত দ্রব্যের দ্বারা জীব দেহের প্রতিটি অঙ্গ (বাহ্য ও আন্তঃ) তৈরি। এই অঙ্গ সমূহ একটি বিশেষ তন্ত্র বা সিস্টেমের মাধ্যমে দেহ নামক একক রূপে কাজ করে। আর এই সিস্টেমের কার্যকারিতার দ্বারাই একপ্রকার দেহ চালিকা শক্তির উন্মেষ ঘটে। এই শক্তিই হলো প্রাণ। বলা যেতেই পারে প্রাণ হলো দেহের উপবস্তু। অর্থাৎ দেহের সৃষ্টিতে প্রাণের সৃষ্টি। যেমন ঘি এর সৃষ্টিতে ঘোল এর সৃষ্টি হয়। এই প্রাণের প্রভাব শুধুমাত্র দেহের উপরেই। এর সবকিছু দেহকেই কেন্দ্র করে এবং শরীর বা দেহরুপ mechanism এর উপর নির্ভরশীল। দেহ যখন তার অঙ্গ সমূহের সম্পূর্ণ একক রূপ তন্ত্রের কার্যক্ষমতা হারায় তখনই প্রাণের পরিসমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ মৃত্যুতেই প্রাণের পরিসমাপ্তি। বলাবাহুল্য ওই শক্তি তখন অন্য রূপে জগতে বিলীন হয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো প্রাণ কে কি দেখা যায়? — হ্যাঁ, প্রাণ দেখা যায় তবে সেই দেখা সাধারণ দেখা থেকে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। আংশিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রাণ দর্শন সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে সামগ্রিকীকরণ এর প্রয়োজন। বিষয়টিকে একটু সরলীকরণ করা যাক।

প্রাণ
ধরা যাক কোনো একজন ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয় দেখার বাসনা হলো এবং তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে গেলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট দেখলেন, দেখলেন বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ, বিভিন্ন পদাধিকারীর অফিস, ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক - অধ্যাপিকা ইত্যাদি সবকিছু ।এরপর উনি যদি বলেন আমাকে তো সবই দেখালি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তো দেখলাম না। হ্যাঁ ঠিক, উনি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে পান নি কারন উনার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় হলো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট, তার লাইব্রেরী, খেলার মাঠ, বিভিন্ন গবেষণাগার, ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা বহির্ভূত কোনো সত্তা। কিন্তু বাস্তবে ঐ সব কিছুর সমষ্টিই হলো বিশ্ববিদ্যালয়, এর অতিরিক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বলে তো কিছু নেই। উনি সামগ্রিকীকরণ করতে পারেনি তাই তার বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন আর হয়ে ওঠেনি। প্রাণের দর্শনেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। দেহের সামগ্রিক কার্যপ্রণালীর সমষ্টিগত রূপই হলো প্রাণ, এর অতিরিক্ত কিছু নয়।

মন
মন হলো দেহ ও প্রাণ থেকে ভিন্ন সম্পূর্ণ এক পৃথক সত্তা। দেহে মনের অবস্থান একটি ক্ষেত্র (প্লাটফর্ম) বিশেষ। একজন শিল্পীর কাছে তার ক্যানভাস যেমন। প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক যথার্থই বলেছেন — "জন্মের সময় একজন মানব শিশুর মন থাকে অলিখিত সাদা কাগজের মতো"। অর্থাৎ — এই মন রূপ ক্যানভাসে তখন কিছুই থাকে না। পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের চারপাশের পরিবেশ থেকে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত ই প্রথম ওই মনে রেখাংকিত করে। বার বার এই উপাত্তগুলি মনের ক্ষেত্রে প্রবেশ করায় মনে বিশেষ বিশেষ বেদনা (অনুভূতি) সৃষ্টি হয়। যেমন শিশু যখন হ্যারিকেনের গরম কাঁচে হাত দিয়ে ফেলে তখন সে ব্যাথা অনুভব করে আবার কোনো খেলনা পেলে তার একপ্রকার আনন্দকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই ভাবে চলতে চলতে একসময় মন বর্জন ও গ্রহণের খেলায় মত্ত হয়। আর তার পরেই মনে শুরু তৃষ্ণা বা আসক্তি অর্থাৎ জাগতিক বিষয়ের প্রত্যাশা। এই মনের একটি মৌলিক গুন বা মৌলিক মানস বৃত্তি হলো 'বুদ্ধি'। মনে রাখতে হবে বুদ্ধি মন থেকে পৃথক কোনো সত্তা নয়, এটি মনের গুন। বুদ্ধি তৃষ্ণা বা আসক্তির প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকে এবং তা শুরু হওয়ার পর থেকেই বুদ্ধি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পর্যায় থেকে মন ধীরে ধীরে বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটায় এবং সারা জীবন জুড়ে তা চলতে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটে যে বুদ্ধি মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হয়, বলা যেতে পারে মনের উপর বুদ্ধির প্রভাব কমতে থাকে আর তখনই 'আমিত্ব'-র জন্ম হয়। তখন মন রূপ ক্যানভাসে শুধু 'আমিত্ব'-র ছবি। আর এই আমিত্ব সৃষ্টির পর মুহূর্তে থেকে মন ঢাকা পড়ে আমিত্বে। শুরু হয় জাগতিক বন্ধনের খেলা। তখনই আমরা যা কিছু অপ্রিয় তার সংযোগে দুঃখিত ও যা কিছু প্রিয় তার বিচ্ছেদে দুঃখিত হই। আমরা আমিত্বের সাগরে ডুব দিই। ভুলে যায় 'মন' কে। মন তখন কলুষিত, হারায় তার প্রকৃত রূপ। জলের সংযোগে যেমন লোহা মরিচা তে আক্রান্ত হয় ঠিক তেমনি মন আমিত্বের সংস্পর্শে নিজের রূপ হারায়। আর এই 'আমিত্ব'কেই আমরা মন বলে ভুল করি।

এই আমিত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারলে তবেই মন কে জানা যায় অন্তরদর্শন দ্বারা। অন্তরদর্শন হলো মন দ্বারা মনকে জানার প্রক্রিয়া। এর দ্বারা আমরা বিভিন্ন মানসিক অনুভূতির আধার রূপ যে মন তাকে জানতে পারি — এবং যা পুরোপুরি উপলব্ধির বিষয়।

এখন প্রশ্ন হলো — মৃত্যুতে 'মন'-এর কি ঘটে?

মৃত্যুতে বিশুদ্ধ মন, যে মন কোনো সংস্কার দ্বারা আবদ্ধ হয় নি অর্থাৎ যে মন বুদ্ধি কে কাজে লাগিয়ে আমিত্ব কে এড়িয়ে গেছে বা জগতের মোহ দ্বারা বন্ধনকৃত হয় নি। তা তার উৎস রূপ আত্মায় মিলিত হয়ে যায়। আর যে মন আমিত্বে পর্যবসিত হয় তার মৃত্যুতে ও নিস্তার নেই। এই সংস্কার বদ্ধ মন বা আমিত্ব কেই তার কৃতকর্মের ফল ভোগ পূর্বক বিচারের দিনের অপেক্ষায় একক সত্তা রূপে মহা ব্রম্ভান্ডের মধ্যেই বিরাজ করতে হয়।

আত্মা
এবার আসি আত্মা কি সেই বিষয়ে। আত্মা মূলত দুই প্রকার — জীবাত্মা ও পরমাত্মা। জীবাত্মা সংখ্যায় বহু আর পরমাত্মা এক তিনি হলেন ঈশ্বর (The Almighty) যিনি এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের রূপকার, পরিচালক, নিয়ন্ত্রক একথায় জগতের সমস্তই তার অধীন। আর জীবাত্মা হলো পরমাত্মার অংশ বিশেষ। এই বিশেষ অংশ হিসাবেই ঈশ্বর প্রতিটি ব্যক্তিসত্তায় উপস্থিত থাকেন। অর্থাৎ জীবাত্মা রূপে পরমাত্মা জীব দেহে উপস্থিত থাকেন। এই আত্মা যেহেতু পরমাত্মার অংশ কাজেই তা সর্বদায় পুত-পবিত্র। জীবের কোনো অসৎ কর্মের প্রভাব আত্মাকে কলুষিত করতে পারেনা। এই আত্মা না দেহ না প্রাণ না মন কোনো কিছুর দ্বারায় প্রভাবিত হয় না। পরমাত্মা তার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার কারনে জীবাত্মা রূপে জীবে অবস্থান করে, জীবকে তার মন্দ প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করে উত্তম প্রবৃত্তিতে নিযুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। ফলত ক্রমান্বয়ে মানুষ পাশবিক প্রবৃত্তি কে অতিক্রম করে মানবিক প্রবৃত্তি ধারন পূর্বক দেবত্বে উত্তীর্ণ হয়। তবে তা তখনই সম্ভব যখন জীব এই আত্মার স্বরূপ অনুধাবন করতে সচেষ্ট হয় বা তার নিজের মধ্যে অবস্থিত আত্মা কে চিনতে চায়। এই প্রক্রিয়া তখনই শুরু হয় যখন জীব তার আমিত্ব কে বর্জন করতে সচেষ্ট হয়। এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় রীতির অনুশীলন প্রথম ধাপ রূপে কাজ করে। নিয়মিত এই রীতির অনুশীলন মানুষ কে অসৎ কর্ম সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে ঠিকই তবে পূর্ব সংস্কার তথা অতীত কর্মের অভ্যাস তার পিছু ছাড়ে না। মানুষ তাই পরিপূর্ণ রূপে তার আমিত্বের বিসর্জন দিতে পারে না। আর এখানেই প্রয়োজন হয় নিজেকে দেখার বা অন্তর্দর্শনের।

অন্তর্দর্শনের দ্বারা মন জানতে সচেষ্ট হলেই মনের উপর বুদ্ধির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় আর মন ধীরে ধীরে সংস্কার মুক্ত হতে থাকে। এই ভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে মানুষ মনে 'শূন্যতা' অনুভব করে আর এই শূন্য মনই হলো বিশুদ্ধ মন। এই অবস্থায় বুদ্ধি শিশুর জন্ম অবস্থায় যেমন নিষ্ক্রিয় থাকে সেই রূপ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় আর মন শুধু মনকে দেখে। আর তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠে স্বজ্ঞা বা ইনটিউশন। এই স্বজ্ঞার দ্বারাই আমাদের আত্মাদর্শন হয়। স্বজ্ঞা ব্যতীত আর কোনো উপায়ে আত্মার উপলব্ধি সম্ভব নয়। স্বজ্ঞা হলো সেই শক্তি যার দ্বারা যোগীগণ ত্রিকালদর্শী হন। স্বজ্ঞা দ্বারা আত্মার উপলব্ধি হলে জীবের সমস্ত কামনা বাসনা আত্যন্তিক বিনাশ ঘটে অর্থাৎ কামনা বাসনা আর ফিরে আসে না, জীব চির দুঃখ-যন্ত্রণা মুক্ত হয়।

পার্থিব প্রয়োজন শেষ হওয়ায় এই অবস্থায় জীবাত্মা তার উৎস পরমাত্মার সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় ,একই বলে জিবন্মুক্তি। আত্মা অবিনশ্বর — তাই যে জীবাত্মার উক্ত উত্তরণ ঘটে না সেই জীবের মৃত্যুতেও আত্মা উৎসে ফিরে যায় আর একেই বলে বিদেহমুক্তি। আত্মা কখনো মৃত্যুর স্বাদ নেয় না, কারন আত্মার মৃত্যু বলে কিছু নেই। মৃত্যু হয় দেহের, মৃত্যু হয় আমিত্বের। আর কর্মফল ভোগও হয় এই 'আমিত্বের' — আত্মার নয়। কাজেই আমিত্বকে পরাজিত করে বিশুদ্ধ মন প্রত্যক্ষ পূর্বক আত্মা দর্শনই জীবনের চরম বা পরম লক্ষ্য।




আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
4.5 2 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।