About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
আমার চোখে কলকাতার ২৪শে জুলাইয়ের ছাত্র মিছিল
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

আমার চোখে কলকাতার ২৪শে জুলাইয়ের ছাত্র মিছিল

কলকাতায় জন্ম হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই নানান ইস্যুতে প্রতিবাদ আন্দোলন বিক্ষোভ কর্মসূচি সবটাই দেখার সুযোগ হয়ছে, ২০১১ সাল সবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে কলেজের পথে, সেই সময় দেখেছি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তন। আর ২০২৬ সালেও সাক্ষী রইলাম আরও এক পালা বদলের।

২০১১ সালের পর ছাত্র বিক্ষোভ বলতে প্রথমেই মনে পড়ে ২০১৩ এর ২রা আগষ্ট পুলিশের লাঠির আঘাতে খুন হয়ে যাওয়া শহীদ সুদীপ্ত গুপ্তর নাম। দেখেছিলাম পরিবর্তনের পরে সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজপথ উত্তাল হতে। প্রতিবাদী ছাত্র আনিস খানের হত্যার পরেও দেখেছিলাম ধর্মতলার বুকে ইনসাফ সভা — কি বিশাল জনসমাবেশ এখনও মনে আছে! আর ২০২৪ সালের অভয়া কাণ্ডের পর ১৪ আগস্ট রাত্রিবেলা সাক্ষী থেকে ছিলাম এক অন্য কলকাতার — দেখেছিলাম স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল।

আর তারপর দেখলাম গোটা দেশজুড়ে নতুন জেনারেশন এর নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচানোর লড়াই — একের পর এক পেপার লিকের বিরুদ্ধে দেশজোড়া আন্দোলন; আর সেই আন্দোলনের সমর্থনে ২৪শে জুলাই ২০২৬ কলকাতা শহরের ঐতিহাসিক অভিনব মিছিল।

আমি আমার এই ৩৪ বছরের জীবনে এরকম মিছিল সত্যিই কখনো দেখিনি! একবার ভেবে দেখুন তো, গোটা দেশ জুড়ে যারা শাসন ক্ষমতায় রয়েছে, এক প্রকার তারা নিজেদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছিল! হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে শুধুমাত্র সরকারের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য। একদিকে দৈত্যাকার একটা শক্তি যাদের হাতে রয়েছে সরকারি সমস্ত ক্ষমতা, যাদের হাতে রয়েছে তথাকথিত সংবাদ মাধ্যম, যাদের হাতে রয়েছে সংগঠিত প্রফেশনাল আইটি টিম। এই সব কিছুকে ভেঙে দিয়ে একটা আন্দোলনকে কিভাবে সফলভাবে পরিচালনা করতে হয় তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বর্তমান প্রজন্ম।

কি ছিল এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনে? যে প্রজন্মকে আমরা অলস বলে দাগিয়ে দিয়েছি, আমরা ভেবেছি এই প্রজন্ম বোধহয় কিছুই করতে পারে না, নিজের ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না, তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল — আসলে দেশ মানে শুধু দেশের মানচিত্র নয়, দেশ মানে ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের আপামর জনগণ।

এই আন্দোলন যখন আস্তে আস্তে দানা বাঁধতে শুরু করে, আমরা দেখেছি যারা শাসন ক্ষমতায় বসে আছে তারা কিভাবে তাদেরকে কখনো দেশদ্রোহী, কোন পাকিস্তানি দালাল, কখনো আতঙ্কবাদী, কখনো জিহাদী, কখনো বাংলাদেশী, কখনো "শ্রীলংকা, নেপাল করে দেওয়া"র চক্রান্তকারী — যখন যেটা মনে হয়েছে সেই বলে দাগিয়ে দিয়েছে। তারপরেও আমরা দেখেছি লক্ষ লক্ষ নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়ে রাস্তায় নেমেছে, রাস্তায় নেমে লড়াই করেছে, নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করেছে।

আসলে প্রতিবাদ বলতে আমরা এতদিন যা বুঝতাম তার সকল পুরনো ধ্যানধারনা কে ভেঙে দিয়েছে নতুন প্রজন্ম। আমরা দেখেছি মার্বেল থেকে শুরু করে ডিসি, বিভিন্ন অ্যানিমি ক্যারেক্টার সেজে তারা মিছিল এসেছে, হাতে রয়েছে অভিনব সব পোস্টার যার মধ্যে প্রতিবাদ যেমন রয়েছে তার সাথে রয়েছে হাস্যরস যা খুব সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশের লাঠির ঘা খেয়েও দেখেছি নতুন প্রজন্মকে আবার আন্দোলন স্থলে ফিরে আসতে।

শুধু কি লাঠির আঘাত! দিল্লিতে ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের দিন আমরা সাক্ষী থেকেছি তো পুলিশের নির্মম আক্রমণের। প্যালেট গান থেকে শুরু করে এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া কাঁদানে গ্যাস — সবই প্রয়োগ করা হয়েছিল ছাত্রদের ওপর। তারপরেও তারা আন্দোলন করেছে। আমরা দেখেছি অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা হাসতে হাসতে রিল বানাচ্ছে। তাদের প্রতিবাদের ভাষাকে তাদের মত করে রূপ দিয়েছে তারা। মেয়েদের দেখেছি আন্দোলনে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করতে। এরকম অসংখ্য টুকরো টুকরো ছোট ছোট উদাহরণ দেওয়া যায়, প্রতিবাদও যে এত মিষ্টি করে, এত অভিনবভাবে করা যায় — এটা নতুন প্রজন্মের আন্দোলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

২৪ তারিখ কলকাতায় যে মিছিল ডাকা হয়েছিল তার সম্পূর্ণ প্রচার ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক একটা পোস্টে হাজার হাজার লাইক শেয়ার! জানি না পুলিশের কাছে কি ইনফরমেশন ছিল, সেদিনকে পুলিশকে দেখে মনে হচ্ছিল তাদের সমস্ত হিসাব উল্টে গেছে। আসলে পুলিশ প্রশাসন ভাবতেই পারিনি এত হাজার হাজার অল্পবয়সী ছেলে-মেয়ে ছাত্র-ছাত্রী, যুবসমাজ রাস্তায় নেমে আসবে! যখন শিয়ালদা স্টেশনে জমায়েতটা দাঁড়িয়ে রয়েছে মিছিল শুরুর অপেক্ষায়, শিয়ালদা পুলিশ কোর্টের বারান্দা থেকে দেখা গেছে গোটা শিয়ালদা চত্বর কার্যত ভিড়ে থিক থিক করছে। কেউ জাতীয় পতাকা নিয়ে, কেউ তাদের মত করে পোস্টার লিখে এনেছে বাড়ি থেকে। কেউ এসেছে তাদের ছাত্র সংগঠনের পতাকা নিয়ে। কারোর মুখে গান, আবার কারোর মুখে স্লোগান — এই ছিল সেদিনের মিছিলের টেম্পো।

তিনটে বেজে দশ মিনিট, আমি তখন এনআরএস এর সামনে ফুট ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে। একটা জনস্রোতের সাক্ষী হলাম সেদিন! তিনটে দশ নাগাদ মিছিল শুরু হয়, একটা জনস্রোত প্রবাহিত হয় ধর্মতলার দিকে, কার্যত গোটা এপিসি রোডের দুটো মেইন যে রাস্তা সেটা বন্ধ হয়ে যায় ভিড়ের স্রোতে। এই স্রোত অনবরত চলতে থাকে এক ঘন্টা দশ মিনিট মতো। আমি যখন মিছিল শেষে ফুট ওভার ব্রিজ থেকে নেমে আসি, তখন সময় ওই চারটে কুড়ি হবে, তখনো লোক যাচ্ছে মিছিলে! আসলে সেদিনের সেই জনস্রোতের মুখ যখন ধর্মতলায়, মিছিলের শেষ তখনও শিয়ালদার কাছে!

সেদিনের মিছিলকেও বিভিন্নভাবে বদনাম করার চেষ্টা চলেছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি, আমার মত যারা মিছিলের শেষে সেদিন ছিলেন তারা প্রত্যেকেই দেখেছে, বাইকে করে শাসকদলের পতাকা নিয়ে বেশ কিছু ছেলে মেয়ে মিছিলকে বিভিন্নভাবে উত্তপ্ত করতে থাকে। মিছিল যখন মৌলালী যুব কেন্দ্রের সামনে দিয়ে যাচ্ছে সেই সময় যুবকেন্দ্রের ভেতর দিয়ে বিভিন্নভাবে স্লোগান দেওয়া, মিছিলে আসা ছেলে-মেয়েদের উত্তপ্ত করার অনেক রকম চেষ্টা চলেছে।

তবে এই দিক থেকে কলকাতা পুলিশের কিছু প্রশংসা অবশ্যই করতে হয়। আমরা দেখেছি পুলিশ কিন্তু চেষ্টা করছিল যারা শাসক দলের পতাকা নিয়ে মিছিলকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছিল, তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার। এবং পুলিশ সেই চেষ্টাটা বারবার করেছে এটা অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই।

কিন্তু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, সেদিন ফ্ল্যাগ ছাড়া শাসকদলের আশ্রিত কিছু ছেলেপুলে মিছিলে ছিল এবং তারাই অনবরত মিছিল টাকে বিভিন্নভাবে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছিল।

এবার আসি সংবাদমাধ্যমের কথায়। মিছিলের ঘোষণা থাকলেও সকাল থেকে কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যম প্রচার করতে শুরু করে এই মিছিল নাকি বাতিল হয়ে গেছে! এছাড়া বিভিন্ন রকম কথাবার্তা যা গোটা দেশজুড়ে ওরা প্রচার করেছে, কলকাতার মিডিয়া ও তার বাইরে ছিল না। কখনো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ খুঁজে পাচ্ছে তারা, কখনো বিদেশের ফান্ডিং খুঁজে পাচ্ছে, কখনো চীনের সাথে যোগ খুঁজে পাচ্ছে, কখনো আমেরিকার সাথে যোগ খুঁজে পাচ্ছে! মিডিয়া এই ন্যারেটিভটা প্রচার করে গেছে — তারপরেও আপনি বলতে পারেন বুকে হাত রেখে কেন এই সংবাদ মাধ্যমকে গোদি মিডিয়া বলা হবে না? সেদিন যারা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের গায়ে হাত দিয়েছিল, তাদের শাস্তি অবশ্যই হোক, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও ভাবতে হবে কোথাও গিয়ে তারা শুধুমাত্র সরকারের তাবেদারি করছে কিনা!

তবে সেদিনের এই মিছিল শুধু কলকাতার নয়, গোটা দেশের ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন। ওই নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে থাকা যারা ঘোষণা করেছিল "এই সরকারের আমলে ইস্তফা হয় না", তাদেরকেও আসলে যে নত করা সম্ভব — এটা দেখিয়ে দিল এই প্রজন্ম। কোটি কোটি টাকা দিয়ে তৈরি করা ব্র্যান্ড; তাকে শুধুমাত্র মিম দিয়ে, জোকস দিয়ে, রিলস দিয়ে, হাসিমুখে কি ভাবে ভেঙে ফেলা যায় — এটা দেখিয়ে দিলে নতুন প্রজন্ম। দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে গোটা দেশে কিভাবে ছড়িয়ে দিতে হয়, কিভাবে মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে হয় — সেটাও দেখিয়ে দিল নতুন প্রজন্ম।

এবার আসি বাকিদের কথায়। আমার মত যারা একটু আগের প্রজন্মের মানুষ — তাদের কথায়।

সেই দিনের মিছিলে কি শুধুমাত্র জেন-জি ছিল?
উত্তর: না।
যারা এসেছিল সবাই কি নিট পরীক্ষা দিয়েছিল?
সেটার উত্তরও 'না'।

আসলে সেদিন প্রত্যেকে এসেছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচানোর স্বার্থে। নিজের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। কেউ এসেছিল শুধুমাত্র এই ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, কেউ এসেছিলেন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য।

একটার পর একটা ইস্যু, প্রশ্ন করার অধিকার যখন ক্রমশ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন করলেই যখন মিডিয়া, শাসক কোথাও এক হয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আসলে মানুষ কোথাও কি একটা মঞ্চ খুঁজছিল? যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষ তার সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকারকে নতুন করে চিনতে শিখেছে। আর এই প্রতিবাদ আন্দোলনের মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছে দেশের নতুন প্রজন্ম। আসলে মানুষ এসেছিল শাসককে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে গণতন্ত্রে আসল মালিকের নাম হল জনতা।

তবে লড়াইয়ের প্রথম জয় ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা হলেও এখনো বহু পথ পাড়ি দেওয়া বাকি নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের। তোমাদের এই লড়াইকে জানাই কোটি কোটি সেলাম।




আপনার প্রতিক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নিয়ম

আপনি এই সংখ্যায় আপনার পছন্দের সব লেখাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। তবে একটি লেখায় সর্বোচ্চ ২টি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে। একই লেখায় তৃতীয় প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে, প্রথমে নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন প্রতিক্রিয়াটি গণ্য হবে। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আপনার সমর্থনকে তুলে ধরে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
1 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।