About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – শ্রাবণ ১৪৩৩
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – শ্রাবণ ১৪৩৩
এই পাতায় রয়েছে নানা স্বরের কবিতা — নরম, তীব্র, অকপট। এগুলো অনুভবের কথা বলে, অনুভূতির আশ্রয় হয়ে ওঠে। এই কবিতাগুলো ফিরে ফিরে পড়ার জন্য, মনে রাখার জন্য।
কোনো কবিতা মন ছুঁয়ে গেলে, সেই কবিতার শেষে থাকা আইকনে ক্লিক করে আপনি তা প্রকাশ করতে পারেন — নীরব এক উৎসাহ, যা কোনো শব্দ ছাড়াই কবির কাছে পৌঁছে যায়।
বিঃদ্রঃ কবিতাগুলি সম্পাদকীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নির্বাচিত ও প্রকাশিত, এবং জমা পড়ার সময় অনুসারে বিন্যস্ত। ক্রমিক সংখ্যা বা অবস্থান তাদের মান, গুরুত্ব বা সম্পাদকীয় অগ্রাধিকার নির্দেশ করে না।

কোনো নির্দিষ্ট কবিতায় সরাসরি পৌঁছতে কবির নামের ওপর ক্লিক করুন —


অরবিন্দ নাহা
সম্রাট পুরকাইত
পৌলমী ভট্টাচার্য
ওয়াহেদ কাজী
তারক পাল
শুভদীপ ঘোষ
দীপান্বিতা নস্কর
কালপুরুষ
বিশ্বনাথ বসাক
তীর্থ মুখার্জী
কালাপ্রিয়া
মানস করমহাপাত্র
মিলন হাঁড়া
হাবিবা খাতুন
অশোক নন্দন


কবিতা ১


পথহারা পথিক

অরবিন্দ নাহা

কতদিন আগে
কার হাত ধরে কোন মিছিলের সাথে
শহীদ মিনারে এসেছিল,
আজ আর মনে নেই মেয়েটির।
ভিড়ের চাপে সঙ্গীরা ছিটকে গেছে।
গ্রামের নাম, বাড়ি-ঘর
কিছুই মনে নেই।
শুধু অস্পষ্ট মনে পড়ে মায়ের মুখটা।

সেদিন থেকেই খুঁজছে বাড়ি ফেরার পথ
খুঁজছে... খুঁজেই চলেছে...
কত লোকের কাছে জানতে চেয়েছে
বাড়ি ফেরার রাস্তা।
কেউ খুঁজে দেয়নি আলোর পথ;
বরং উল্টোদিকের অন্ধকার গলিতে
হাত ধরে দিয়েছে টান।
ফলে আশ্রয় হলো — শহরের ফুটপাথ।

ক্রমে বড় হতে লাগলো,
তারি মাঝে খুঁজে চলে সে
বাড়ি ফেরার পথ।

ডাগর হয়েছে মেয়েটি,
ফলে এখন সব বোঝে সে।
রাস্তায় তার গা ঘেঁষে গাড়ি দাঁড়ায়,
আর উঠে পড়ে সে
এক-একদিন, এক-একটা গাড়িতে।
এখন তার খাবারের অভাব হয় না।
ফেরার পথে পা টলে প্রায়ই
তবু তারই মাঝে মায়ের মুখটা মনে পড়ে
ঘষা কাচের মত ঝাপসা।

একদিন প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির রাতে
কোন গাড়ি এলোনা।
নিজেকে বাঁচাতে দৌড় লাগালো;
চওড়া রাস্তার বুক চিড়ে আশ্রয় নিলো
পাঁচ মাথার মোড়ে এক পাথরের মূর্তির আড়ালে।
মূর্তির পায়ে মাথা ঠুকে মেয়েটি বলল,
"আমাকে বাড়ির পথ দেখাও, হে মহামানব।"

বিকট আওয়াজে বাজ পড়তেই
তার আলোয় মেয়েটি দেখলো —
পাথুরে মূর্তির চোখে জলের ধারা।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মূর্তিটি বলে উঠলো,
"আজ আমি নিজেই যে পথ হারিয়েছি মা,
জানিনা আমাকে পথ দেখাবে কে!"

মেয়েটি আরো দেখল —
তার ঈশ্বর ঠিক তারই মতো কাঁদছে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি অরবিন্দ নাহা পেয়েছেন সর্বমোট ১৪ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ২


আমার শহর

সম্রাট পুরকাইত


ছোটবেলায় শহরটা ছিল অন্যরকম,
দূরের যুদ্ধেও কেঁপে উঠত রাস্তা।
কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে উঠত স্লোগান —
“যুদ্ধ থামাও”, মানুষের সহজ ভাষা।

ভিয়েতনাম কোথায়, বেইরুট কোন দেশে —
সবাই জানত না ঠিকঠাক।
তবু মিছিল হতো, ধীরে ধীরে হাঁটত মানুষ,
বিবেকটা যেন থাকুক অটুট।

সেই স্লোগান জেনারেলের কানে পৌঁছাত না,
কোনো প্রেসিডেন্টও শুনত না তা।
তবু শহরটা বলতে পারত গর্ব করে —
অন্যায়ের পাশে নেই আমাদের নামটা।

আজ যুদ্ধ আসে মোবাইলের পর্দায়,
ধ্বংসের ভিডিও স্ক্রল হয় চুপচাপ।
কোথাও বোমা, কোথাও শিশুর কান্না —
আর ইমোজিতে ভরে ওঠে প্রতিটা চাপ।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেউ হুঙ্কার দেয়,
একটা দেশ উড়িয়ে দেওয়ার গল্প।
কেউ জিজ্ঞেস করে না, সেই আগুনে
কত প্রজন্ম হয় বিকল শরীর।

তবু মনে হয়, সেই ছোট মিছিলগুলো
শহরের শেষ বিবেক ছিল হয়তো।
ধুলো জমা ব্যানারে লেখা আজও —
“যুদ্ধ থামাও”, মানুষ বাঁচুক যত।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সম্রাট পুরকাইত পেয়েছেন সর্বমোট ১০ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৩


দেশ তত্ত্ব

পৌলমী ভট্টাচার্য

পুরোনো পুরোহিত এবং অসূয়া বাতাস
আমার খাম ভর্তি বিপ্লব...
কাটাবো কলমি ঘেষা খাতায়।
এভাবেই ঘুমিয়ে যাব আকাল নান্দীপটে,
অকাল মরশুমে।

ধান বুড়ো হয়, জ্বর আসে ভাতে;
কেবল দেশ কেমন করে চেয়ে থাকে
একলা অসুখে।
আমার অভিজ্ঞতার বন্দিশ মায়ের মুখস্থ হয় নি,
চেনে নি ভেতরকার বিসুখ দিন নামচা।
নেহাত স্বপ্ন দেখি অরক্তিম ভোরে,
নেহাত কাঁটাতার ধুলো ব'লে
ছন্দদালান ভিজিয়েছে নাবিক।
নেহাত জড়তা ভাঙবে বলে
শপিণ্ডীকরণ করবে ভেবেছিল পুরোনো পুরোহিত,
তাই সূর্য গলে জল।

মাটি সাপটে আছে নিটোল হাহাকার,
ব্যাধি খাচ্ছে অসূয়া বাতাস;
ঘ্যানঘ্যান করি ভবিষ্যতের কাছে
আর চোখ খুলে আসে প্রবল অভিশাপে।
পৃথিবীর ওপারে কে বসে আছে ও!
কেই বা জপে জপমন্ত্র!
বুঝি না, চাই না।

আমারও প্রেম আছে,
ভাষা ভরা গোলা আছে,
পান বাটায় দেশ তত্ত্ব সাজানো থরে থরে,
শুধু নতুন হয় না অন্তর অক্ষর...
গলকাপড়ে সাস্টাঙ্গে আছে মা,
চোখে একান্নবর্তী লালনের খিদে।
আঁচলের খোটে গিঁট রেখে বয়ে যায় জল,
কথা ভাসে — আমরা মাকে নিয়ে লেগে বেঁধে বাঁচব
আর মোহনা হবে স্বীকৃতি যাপনের আতুঁড়ঘর।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি পৌলমী ভট্টাচার্য পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৪


বেতননামা

ওয়াহেদ কাজী

পঞ্জিকার ওই লাল দাগটাতে
আটকে থাকে শ্বাস,
'বেতন' মানেই এক চিলতে সুখ,
বাকিটা বারো মাস।
একাউন্টে ওই মেসেজটা এলে
বুকটা হালকা হয়,
পরক্ষণেই হিসাবের খাতা
গ্রাস করে সব জয়।

বাড়িভাড়া আর মুদির দোকান,
মায়ের সুগার টেস্ট,
পকেটের ওই অল্প টাকায়
করতে হবে বেস্ট।
চেনা কোনো এক সুরের মতন
একলা ব্যালকনিতে,
ভাবি, মধ্যবিত্তের জীবনটাই
কেটে গেল কিস্তিতে!

ছোটখাটো সব স্বপ্নগুলো
ড্রয়ারে তোলা থাক,
ছেঁড়া জুতোটার সুকতলা আজ
লুকিয়েই হাঁটা যাক।
নতুন জামার ইচ্ছেগুলোকে
ইস্ত্রি করে তুলি,
'বেতন' নামের ওষুধে আমরা
রোজকার ক্ষত ভুলি।

শহর জুড়ে ট্রাফিক জ্যাম আর
ট্রামের চেনা শব্দ,
মাসকাবাড়ির ফর্দ দেখে
আমার জেদও জব্দ।
তবু একটা ডায়েরি কাঁধে,
মনখারাপের রাতে,
ভাবি, বাঁচা তো যায় মধ্যবিত্ত
এই রূপকথাতেই!

তবু মাস শেষে এই 'বেতন' শব্দে
এক চিলতে আলো হাসে,
ঠিক যেন ওই বৃষ্টির ফোঁটা
তপ্ত পিচের ঘাসে।
খুব বেশি নয়, অল্পতেই যে
আমাদের সংসার,
বেতন মানেই বেঁচে থাকার
আরও একটা মাস উপহার।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি ওয়াহেদ কাজী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৫


স্বাধীনতা

তারক নাথ পাল

স্বাধীনতা কাল্পনিক
যার কাছে পৌঁছানো যায় না।
যা বন্দী শাসকের ক্ষমতার লোহার খাঁচায়।
শাসক আবির্ভূত হোন বা নাগরিক তৈরি করুক।
সমান দাম্ভিকতায় প্রতীয়মান সিংহাসনে।

রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা,
তবু তা অধরা
অভিনয় করে নাগরিক, গায় মুক্তির গান।
না পাওয়ার গল্প গাথা, দিন যাপনের বেদনা
আছড়ে পড়ে একনায়কের ঔদ্ধত্যের প্রাসাদে।
অবিরাম চলমান পরাধীনতা
চরাই উতরায় পথে কাজ ফেলে চলে
আন্দোলন, বাঁচার লড়াই।

মনে পড়ে এ তো স্বাধীন দেশ,
তবে কেন রক্ত ঝরে!
ইচ্ছেগুলো জমাট বাঁধে,
হারিয়ে যায় স্বপ্নগুলো।
ভবিষ্যতের কান্ডারী ছাত্রদল,
দিন কাটে রাজপথে বিবর্ণ স্বপ্ন রঙিন,
লাঞ্ছিত যারা হয়নি তাদের সারা।

হে রাজাধিরাজ
একদিন ধূলোময় রাস্তায় হেঁটেছিলে —
আজ ধুলোহীন কার্পেটে
ক্ষমতার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে।
নিপীড়িত নাগরিকের আশা আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত,
বিক্ষোভ ধ্বনি অনুরণিত হয় গণতন্ত্রের ইমারতে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি তারক পাল পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৬


তার কথা থাক

শুভদীপ ঘোষ

তার কথা থাক,
বরং বলি ভোরের শিশিরের কথা,
ঘাসের ডগায় ঝুলে থাকা
স্বচ্ছ জলের কথা।

না, তার কথা থাক —
শিশির তো সূর্য উঠলেই হারিয়ে যায়,
সে তার চেয়েও সুন্দর।
বলি কাশফুলের কথা,
শরতের নীল আকাশের কথা,
কিংবা নদীর বুকে পড়ে থাকা
সোনালি বিকেলের আলো।

না, তার কথা থাক —
এসব সৌন্দর্য তো ঋতু বদলালে ফুরিয়ে যায়,
সে তার চেয়েও সুন্দর।
বলি পূর্ণিমার চাঁদের কথা,
তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা
রুপালি আলোর কথা।

না, তার কথা থাক —
চাঁদেরও কলঙ্ক আছে,
সে তার চেয়েও সুন্দর।
বলি গোলাপের কথা,
সদ্য ফোটা জুঁইয়ের কথা,
বৃষ্টিভেজা মাটির গন্ধের কথা।

না, তার কথা থাক —
ফুল ঝরে যায়, গন্ধ মিলিয়ে যায়,
সে তার চেয়েও সুন্দর।
বলি রবীন্দ্রনাথের গানের কথা,
কিংবা জীবনানন্দের অমর কবিতার কথা।

না, তার কথা থাক —
কিছু সৌন্দর্য ভাষায় ধরা যায় না,
সে তেমনই এক অনন্ত বিস্ময়।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি শুভদীপ ঘোষ পেয়েছেন সর্বমোট ১১ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৭


ভোর

দীপান্বিতা নস্কর

রাত শেষে ভোরের আলো ফুটলো
কিছু অভুক্তদের মনের আশা জাগলো।
কিছু দুঃখীদের হয়তো এবার দরিদ্রতা মুছবে,
এই নবনির্মিত ভোরের আলোয়।

সময়ের কালো স্রোতের
একটা অবসান হলো হয়তো।
ওই যে ছুটে চলা ক্লান্ত পথিকেরা
এবার পথ খুঁজে পাবে,
নতুন করে বাঁচার।

কোনো মা হয়তো
আর তার ক্ষুধার্ত শিশুকে ভোলাবে না —
"রাত হয়েছে, শুয়ে পড়!" বলে;
এই ভোর যে নতুন ভোর,
আগামীর পথ চলার।
নতুন ভাবে নতুন রূপে
এগিয়ে যাবার ভোর।
এ যে অন্ধকার রাতের
শেষ হওয়ার ভোর।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি দীপান্বিতা নস্কর পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৮


নিঃশেষিত

কালপুরুষ

মনের দরজাটা এখন খোলাই থাকে।
সময়ের নিরন্তর অভিঘাতে, চোখ দুটো পাথর।
দৃষ্টিহীন চোখ দুটো এখন অপেক্ষার শক্তি হারিয়েছে।
নিয়তিকে বলি, “তুমি ছুটি নাও।”
মনের ডাকবাক্সে আমার ঠিকানার গরমিল।
তাই, তোমার পাঠানো সুখ
আজ আবদ্ধ থাক আমার বিবর্ণ খামে।
অসুখের আলিঙ্গনে, দগ্ধ মানসে —
আজ আমি নিঃশেষিত।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি কালপুরুষ পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৯


ইচ্ছে নৌকা

বিশ্বনাথ বসাক

নির্ণয়ের শেষে এক ইচ্ছে মাত্রা
বৃষ্টির রেখায় হোক সাগরস্নান
তবু উঠোন কালো জলেই বন্দী
বঞ্চিত, সে তো কারোর কল্পনার অভিমান।
কোনো রূপকথার চোখেই তার দৃষ্টি
নির্ভরতার চাবিতে তার দ্বার খোলে
একসময় নিঃশাসের শেষ বিন্দু ছোঁবে
সে মিশবে স্বপ্নের অশ্রুজলে।
অবলুপ্তের মহিমায় ফুরোবে তার স্মৃতি
বিড়ম্বনার পাতায় তার অযাচিত ঘ্রাণ
জানে, তাসের ঘরে জন্ম হয়েছে
তবু হৃদয়ে ছিল তার জাহাজ প্রাণ।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি বিশ্বনাথ বসাক পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১০


নামের সোপান

তীর্থ মুখার্জী

কোন সোপানে রয়েছে লেখা —
নামের মানে জানতে শেখা।
জীবন মানে ক্ষণিক বাঁচা,
মরণ তো শেষের যে ঘুম।

পথের দাবী মানতে বলা —
অনন্ত এক আদিম চলা।
কোন ঠিকানায় বেঁচে থাকা?
কোন মানুষের মন বোঝা?
শুধু শুধু মন খারাপের
ভাঙা কাঁচ কুড়িয়ে রাখা।
গুলিয়ে ফেলি সময় আমি,
সময় মানে ভাঙা গড়া।

জোয়ার আসে ভাটির টানে,
নৌকা ভাসাই উজান স্রোতে।
হারিয়ে গিয়েই খুঁজে পাই —
নামের ভিতর লেখা সোপান।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি তীর্থ মুখার্জী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১১


হারিয়ে যাওয়ার গান

কালাপ্রিয়া

জানো, আমি হারিয়ে যেতে চাই,
চেনা শহর থেকে বহু দূরে —
যেখানে অচেনার মাঝে শুধু শান্তি পাই;
নাহয় হবো ক্ষ্যাপা, ভবঘুরে।

তবুও আমি হারিয়ে যেতে চাই,
যেখানে আমাকে হারাবার ভয় নেই,
যেখানে দায়িত্ব, কর্তব্য, ভালোবাসা নেই,
যেখানে আমাকে বাঁচাবার
বা মারবার লোকের অভাব,
সেখানেই ঠিক সেখানেই আমি থাকবো
সঙ্গে আমার স্বভাব।

জানো, আমি হারিয়ে যেতে চাই বহু দূরে —
অচেনা শহরে...
অজানা মানুষের ভীড়ে...

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি কালাপ্রিয়া পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১২


পাথরের জীবন

মানস করমহাপাত্র

চায়ের কাপে ডুবছে
দুপুরের তীব্র রোদ্দুর।
টেবিলে জমাট বাঁধা
অমীমাংসিত হিসেবের খাতা।
রান্নাঘরের পেঁয়াজের ঝাঁঝ
আর অফিসের ডেডলাইন,
এদের মাঝখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরে
আমাদের রূপকথা।

স্মৃতিগুলো আলমারির কোণে
জমে থাকা মৃত ধুলো,
বর্তমান শুধুই এক লাফে পার হওয়ার
ট্রাফিক সিগন্যাল।
আমরা কেবল বেঁচে থাকার
অভিনয়টুকুই নিখুঁত করেছি,
অথচ পাঁজরের নিচে জমাট বাঁধে
অনন্ত হাহাকার।

জীবন কোনো রূপক নয়,
এক টুকরো নিষ্ঠুর পাথর,
যা প্রতিদিন আমাদের রক্ত মেখে
ক্ষয়ে যায়, অলক্ষ্যে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি মানস করমহাপাত্র পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৩


সময় সব ফিরিয়ে দেয়

মিলন হাঁড়া

আমি বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে দেখেছি
আমার নিয়তির মৃত্যু নেই।
বৈধতার কয়েকটা হাড়গোড় ভেঙেছে মাত্র
আর সামান্য রক্ত পাত।
আমি বেঁচে ফিরছি বারেবার
কালো রক্ত পায়েই হেঁটে ফিরেছি।

কিন্তু এরকম অনেক মৃত্যু আমি দেখেছি
যাদের ঠুনকো অহমিকার মিথ্যে বড়াই ছিল
প্রতি পদে পদে ছিল অবৈধতা
মুখোশের প্রতিটি দাগে ছিল
সুশৃঙ্খল অভিনয়।

আত্মসম্মান বিক্রি করে সম্ভ্রম কিনে খায়।
তারা ভাবে,
সময় থমকে এগিয়ে যাবে।
অথচ,
অবৈধ লম্বা লম্বা মাথা গুলো
নুইয়ে মাটিতে পড়ছে বহুতল থেকে
কি দারুণ রক্তপাত
নিমেষেই ভেঙে খান খান সব শাখা-প্রশাখা।

দুটো সময়ের ফারাকে
কোনো সময় থেমে থাকে না
সেখানে এক বিশাল ঘূর্ণবাত তৈরি হয়।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি মিলন হাঁড়া পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৪


নারী

হাবিবা খাতুন

ভোরের শিশির, সন্ধ্যাতারা —
দুই-ই তোমার রূপ,
অগ্নিপথে হেঁটেও রাখো
হাসির নীরব ধূপ।
মায়ের কোলে পৃথিবী শেখে
প্রথম ভালোবাসা,
তোমার চোখে জেগে থাকে
অনন্ত আশার ভাষা।
ঝড়ের কাছে মাথা নোয়াও না,
বুকেই রাখো ঢাল,
অশ্রু দিয়ে সিঞ্চন করো
আগামী দিনের কাল।
কলম হাতে, কর্মপথে,
জ্ঞানের দীপ্তি ছড়াও,
অন্ধকারের প্রতিটি দ্বারে
নতুন সূর্য গড়াও।
অবহেলার ইতিহাস আজ
মুছে যাক একদিন,
সম্মান হোক প্রতিটি ঘরে,
প্রতিটি মানুষের ঋণ।
নারী মানে আমার চোখে
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বিস্ময়,
তোমার হাতেই জেগে থাকে
আগামী দিনের বিজয়।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি হাবিবা খাতুন পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৫


নৈবেদ্যের অনুরাগে

অশোক নন্দন

মোর চেতনার গহন বনে
তোমারই পদধ্বনি,
মর্মর রবে বেজে ওঠে আজ
স্মৃতির নূপুরমণি।
হৃদয়-সরসী শান্ত শীতল,
ফুটেছে রক্তিম শতদল,
তোমার আঁখির অতল গভীরে
প্রেমের কাজল টলমল।

অস্তরাগের স্বর্ণাভ ছটায়
জ্বেলেছি বিরহী বাতি,
নিভৃত লগনে তোমারে ভেবেই
কেটে যায় বিভাবরী রাতি।
ক্লান্ত চাতক তৃষ্ণা হারায়
তোমার করুণার ধারায়,
সহস্র জনম ধন্য আমার,
যদি এই মন তোমায় হারায়।

পলাশ রাঙানো ফাগুন বেলায়
তুমিই চৈত্রালি হাওয়া,
জীবন-খাতার পাতায় পাতায়
তোমারই আসা-যাওয়া।
তুমি শ্রাবণের মেঘমল্লার,
তুমিই হেমন্তের কুয়াশা,
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বোনা আছে মোর
অনন্ত ভালোবাসা।

শব্দের মাঝে খুঁজি নিশিদিন
তোমার অলৌকিক ছবি,
মোর কাব্যের প্রতিটি চরণে
তুমিই উদিত রবি।
নিঃশব্দ এই সমর্পণে
নাহি কোনো চাওয়া-পাওয়া,
তোমারই ছন্দে মেলালাম আজ
মোর তরীখানি বাওয়া।

মলিন ধুলোয় অমর হোক এই
মনের গোপন টান,
মোর অক্ষয় প্রেমে রচিত হোক
আগামীর আখ্যান।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি অশোক নন্দন পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ


আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
1 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।