সেদিন অফিস থেকে বেরিয়ে, বাসে বসে ফেসবুক খুলতেই এক নতুন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টে চোখ আটকে গেল। মণীশ ঘোষাল। কোনো ছবি নেই প্রোফাইলে। নদীর ধারে একটা স্টিমার বাঁধা — সেটাই ঝুলছে। নামটা খুব চেনা চেনা, পেটে আসছে, মুখে আসছে না — সেই রকমই অবস্থা।
দুই দিন পরে ভুলেই গিয়েছিলাম, কত ওই রকম উঠলো রিকোয়েস্ট আসে মাঝেমধ্যেই। পিসতুতো ভাইয়ের শালী, খুড়তুতো বোনের দেওর, অফিস কলিগের শ্বশুরমশাই — এই সব হাবিজাবি। হঠাৎই একটা নাম খেলে গেল, "কালিয়া" নয় তো? ওর নামই তো মণীশ ছিল না! পদবী মনে পড়ল না। সে তো কলেজের নেভাল আর্কিটেকচারের ছাত্র ছিল। আমাদের হস্টেল মেট।
সঙ্গে সঙ্গে "হেবো"কে ফোন করলাম। ও কালিয়ার ক্লাসমেট। নিশ্চিত জানবে কালিয়ার আসল পুরো নামখানি। হেবো মানে অরুণাংশু সেন। বারো ক্লাস পাশ করে হস্টেলে আসার পরে তার ওই বাপ-মায়ের দেওয়া নামটি খালি বই-খাতার মধ্যেই ছিল। কথায় কথায় "হেভি" বলার অভ্যাস; তাই নাম তার হেবো। এমনই অবস্থা যে ওর বৌ, দু ক্লাস নিচের সুনীতাও তার বরকে হেবো বলেই ডাকে।
একথা ওকথা এবং কুকথার পর যখন হেবোকে বললাম মণীশ ঘোষালের কথা, সে একেবারেই লাফিয়ে উঠল, "কালিয়া, দেখা হয়েছে নাকি তোর সাথে?" জানালাম ওকে ফেসবুকের আহ্বান। হেবোর কাছেই জানলাম, সে অনেক বছর গ্লাসগোতে কাটিয়ে দেশে ফিরে এক জাহাজ কোম্পানির কেউকেটা হয়ে বসেছে। কেরালার কোচিনে এখন কালিয়ার বাসা! হেবোর কাছ থেকে ফোন নম্বরও পাওয়া গেল।
ফোন রাখার আগে হেবো বলল, "গুরু, কালিয়ার ফুটবল খেলা দেখার জন্য আরও দুবার জন্ম নিতে আমি রাজি।"
হেবো ফোন রেখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্মৃতির ঝাঁপি যেন হঠাৎ খুলে গেল, মনে পড়তে শুরু করল অনেক মজার কথা!
ফুটবলার কালিয়া
আমরা হস্টেলে ঢোকার পরপরই এক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন হল। প্রথম বছর আমাদের কেউ বিশেষ পাত্তাই দিল না। পরের বছর, আমরা তখন মাতব্বর, তাই ফুটবল টিমে আমাদের রমরমা। সাত জনের টিম করে টুর্নামেন্ট, তিনটে হস্টেল মিলে দল পাকিয়ে খেলা। একেবারে নক-আউট ফুটবল। যেখানে খেলা হবে, সেটিকে মাঠ না বলে বড় উঠোন বলাই ভালো। চার নম্বর বলে সেভেন-এ-সাইড টুর্নামেন্ট।
যাই হোক, আমাদের টিমের ডীপ ডিফেন্ডার কালিয়া, আর গোলে নটরাজন পিল্লাই। এবং সেবার আমরাই চ্যাম্পিয়ন। একটাও গোল না খেয়ে ফাইনাল, আর তার পর পেনাল্টি শুটআউটে জেতা। হিরো কালিয়াই। ভারী তার শরীর — বিপক্ষের ফরওয়ার্ড বল নিয়ে এগোলেই কালিয়ার কাজ ছিল সোজা তার মুখোমুখি গিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে সামনে বসে পড়া। বেচারা ফরওয়ার্ড টাল সামলাতে না পেরে চিৎপটাং। এই অভাবনীয় ডিফেন্স সিস্টেমের নামই হয়ে গেল "কালিয়োনেচ্চিও"! কালিয়া তাকে একদম "টাচ" করত না। আর হতভম্ব রেফারিও ফাউল দিতে পারত না।
"বোবা" কালিয়া
কালিয়াকে নিয়ে যে ব্যাপারে সবথেকে হইচই হয়েছিল, সেটা আমাদের থার্ড ইয়ার চলাকালীন। রাত তখন এগারোটা, সাড়ে এগারোটা হবে। মশারি টানিয়ে শোওয়ার তোড়জোড় চলছে। মিশেল এসে খবর দিল, কালিয়া নাকি আর কথা বলতে পারছে না! মিশেলের কথা বিশ্বাসের বাইরে, কারণ ওর ওই নামটার অর্থই "মিথ্যা কথার হেঁশেল"! তার উপর ঘণ্টাখানেক আগেই কালিয়া প্রচুর ভাট বকে আমার ঘর থেকে গেছে!
যাই হোক, মিশেল এক্ষেত্রে একদম ভুল বলেনি! গিয়ে দেখি ক্যাম্প খাটের উপর কালিয়া বসে, খালি গায়ে বারমুডা পরে পা ঝুলিয়ে বসে আছে। ওদের ঘরে চারজন থাকত — বেশ বড় ঘর! সেই ঘরে ভর্তি লোকজন!
অন্তত চার-পাঁচ জন কালিয়াকে প্রশ্ন করে চলেছে। জিজ্ঞাসা করছে "তোর নাম কী?", "তোর বাড়ি কোথায়?", "প্রিয় খেলা কী?" — এইসব! উত্তর আসছে না! তবে ঠোঁটের নাড়াচাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে, জবাব সে ঠিকঠাক দিচ্ছে!
ভুতুম (এই নামের কারণ, হোস্টেলে আসার দুদিনের মাথায় তার ব্যাগ থেকে "ঠাকুরমার ঝুলি" বইটি বেরিয়েছিল) দেখলাম প্রায় মুখের কাছে কান নিয়ে গিয়ে শোনার চেষ্টা করছে, এবং প্রতিবার চূড়ান্তভাবে হতাশ হচ্ছে। তবে কখনো কখনো একটা গোঙানির মতো আওয়াজ খুব হালকা ভাবে বেরোচ্ছে!
এরই মধ্যেই মিশেল কোথা থেকে এক গ্লাস জল জোগাড় করে পুরো জলটা দিয়ে কালিয়ার মুখে ঝাপটা মারল! কালিয়া তাকে এই মারে কি সেই মারে! মিশেল সবাইকে বোঝাতে লাগল যে এই বোবা হয়ে যাওয়ার কারণ কোনো একটা শক, আর শক দিয়েই শক কাটানো যায়! যাই হোক, ওই টোটকা কোনো কাজে এল না।
ইতিমধ্যে এক ঘর তাজা ছেলেপুলে কিছু না কিছু করতে ব্যস্ত! কেউ নাড়ি মাপছে, কেউ বলছে জিভ বার করে দেখা! কেউ আবার চোখের উপর টর্চ মারতে লাগল — চোখের মণি ঠিকঠাক চলছে কিনা! বেচারা কালিয়া! হতভম্ব হয়ে ফ্যালফ্যাল করে একবার এদিক, একবার ওদিকে দেখছে।
আমাদের হোস্টেলের অনীশদা, এমটেক পড়ত, বিড়ি খেতে খেতে গম্ভীর মুখে বলল, "a case of vocal cord malfunction due to hypertension"।
ওথেলো, যার আসল নাম অসীম, এবং দেখতে অনেকটা "সপ্তপদী"র ওথেলো-বেশী উত্তমকুমারের মতো, সে এক নতুন ফান্ডা বার করল! বলে কিনা, এইসব হচ্ছে হার্ট ফেলের পূর্বলক্ষণ। সুতরাং আর দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে চলো!
সেটাই হল! এইরকম গোলমালের মধ্যে সুপার বিমানবাবু (এঁরও একটি নাম ছিল, সেটি বললাম না এখানে) হাজির হলেন! প্রথমেই চোটপাট করে সবাইকে ঘর থেকে প্রায় তাড়িয়ে দিলেন। তারপর কালিয়াকে নিজের বাইক চাপিয়ে হাসপাতালে চললেন। আর আমাদের মধ্যে তিন জনকে বললেন পিছন পিছন আসতে! কিন্তু নানা রকম টেস্ট করে কিছুই পাওয়া গেল না! সব কিছু বেশ স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই।
ঠিক তার পরের দিন দুপুরে কালিয়ার কণ্ঠ ফিরে আসে নাটকীয়ভাবে! হেবো তখন ওর পাশে ছিল! দুপুরে খানিক খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল! তখনও ওর বাড়ি থেকে কেউ এসে পড়েনি! ঘুমিয়ে উঠে প্রথমে খানিক থম মেরে বসে ছিল! তারপর হেবোর কাছে জল চাইতে গিয়ে হঠাৎ নাকি কিছুটা কর্কশ গলায় বলে ওঠে, "অ্যাই হেবো, জলের বোতলটা দে তো!" — বলে নিজেই নাকি চমকে ওঠে!
কয়েকদিন খসখসে গলায় কথা বলার পর কালিয়ার গলা আস্তে আস্তে পুরোনো স্বরে ফিরে আসে!
ভবদুলাল কাণ্ড
আরও একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে যায় মাঝেমাঝেই।
সেকেন্ড ইয়ার তখন আমাদের! ভবদুলাল বাবু এলেন ক্লাস নিতে! ভবদুলাল নামটি ছাত্রদের মস্তিষ্কপ্রসূত! সম্ভবত বিখ্যাত ঘোষক ও আবৃত্তিকার দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে রেখে! এই নাম অবশ্য আমাদের আগের কোনো বছরের দাদাদের দেওয়া! আসল নামটি ইচ্ছা করেই বললাম না — উনি আজ আমাদের মধ্যে নেই।
ভবদুলাল বাবুর ক্লাস থাকত লাঞ্চের পরে, সেকেন্ড সেশনে। তার আগেই দিলীপ বিশ্বাসের ক্লাস, যেটা আমরা সচরাচর মিস করতাম না! অতি বদমায়েশ ছেলেও দিলীপ বাবুর ক্লাসে চুপ করে বসে পড়া শুনত!
আমরা প্রথম তিনটে ক্লাসের পরেই বুঝে গেলাম ভবদুলাল মোটামুটি আমাদের দেড় ঘণ্টা বরবাদ করবেন! ওনার বিষয়টি ছিল বেশ সোজা, অনেকটা মুখস্থ করার জিনিস! প্রথম তিনটি ক্লাসে তিনি একই কথা বারবার বলে কানের পোকা বার করে দিলেন!
আসলে ওনার পেপারটা electives-এর মধ্যে পড়ত, এবং নম্বর দেওয়ার ব্যাপারে উনি বেশ দরাজ ছিলেন — সে আমরা ওর সাথে যাই করি না কেন! কিছুটা খুশি রাখতে দুই-চারজন ভালো ছাত্রদের আমরা ওর ক্লাসে পাঠানোর বন্দোবস্ত হতো, তাও কখনো কখনো এক কাপ চা বা একটি সিগারেটের বিনিময়ে! মন্দের ভালো যে একটি মাত্র ক্লাস সপ্তাহে, আর শোনা গেল ওই সাবজেক্টে কেউ ফেল করে না!
অনেকদিন দেখা যেত তিনি ক্লাসে কাউকে দেখতে না পেয়ে খাতা হাতে ফিরে আসছেন! আরও বিপদ অনেক সময় আসত, যদি দিলীপ বাবু একটু বেশি পড়িয়ে ফেলতেন! তখন দেখতে পেতাম দরজায় হাসিমুখে ভবদুলাল! তার পরের দেড় ঘণ্টা কী যন্ত্রণাদায়ক — তার পরিমাপ করার সাধ্য নেই!
এমনি এক দিনে, লাঞ্চের পর এসে শোনা গেল, দিলীপ বাবু আজ ক্লাস নেবেন না! আমরা সবাই যে যার মতো এদিকে ওদিকে চলে গেলাম! কেউ সিনেমা দেখতে চলে গেল, কেউ ক্যান্টিনে গিয়ে সময় কাটাল! কালিয়ার সেদিন শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছিল, তাই সে বলল ক্লাসরুমে থাকবে, একটু বিশ্রাম নিয়ে পরে আসবে!
এর পরের কথা কালিয়ার বর্ণনা অনুসারেই বলছি!
যেটা হয়, ফাঁকা ক্লাসের মধ্যে, ফ্যানের হাওয়ায়, কালিয়ার ভাত-ঘুম একটু বেশিই হয়ে যায়! অনেকক্ষণ পরে সে আধো ঘুমের মধ্যেই অনুভব করে কে যেন তার কাঁধের উপরে মৃদু টোকা মারছে! চোখ খুলে সে প্রায় ভূত দেখে — ভবদুলালের হাসিমুখ! সে মুখ যেন বলছে, এবার তোকে বাগে পেয়েছি।
মুহূর্তের মধ্যে কালিয়ার সমস্ত ঘুম উধাও! পরিত্রাণের কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না সে! শুরু হয় ভবদুলাল বাবুর torture। ফাঁকা ক্লাসে একা কালিয়া, আর সঙ্গে ভবদুলালীয় লেকচার! কালিয়া বুঝতে পারে তার মধ্যেও যে উনি প্রথম তিন-চার দিন যা পড়িয়েছিলেন, সেগুলোই আবার বলছেন! আর বোর্ডে গোল গোল কিছু এঁকে চলেছেন — সেগুলো যে কী, তা বোঝা কার সাধ্য!
কালিয়া মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা করল! মিনিট দশেক চোখের সামনে ওই গোল গোল বল দেখার পর, সে অতি সুবোধ বালকের মতো ভবদুলাল বাবুকে বলল, "স্যার, অনেক ছেলে-পিলে ক্লাসের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ওদের ডেকে নিয়ে আসি!"
ভবদুলাল হাঁ হাঁ করে উঠলেন, মিষ্টি হেসে তারপর বললেন, "তুমি একবার এই ক্লাসের বাইরে গেলে আর ফিরে তো আসবে না, বাবা।"
সেই রাতে কালিয়ার ধুম জ্বর এসেছিল — তা আজও মনে আছে!
কালিয়ার ব্যুৎপত্তি
আসা যাক "মণীশ" কী করে "কালিয়া"তে রূপান্তরিত হল। ফার্স্ট ইয়ার তখন। সবাই একটু একটু করে মানিয়ে নিতে শুরু করেছি হস্টেল জীবনে। পুজোর ঠিক আগের ঘটনা। আমরা গুলতানি মারছি গেটের সামনে। আমাদের হস্টেলের গেট মূল রাস্তা থেকে অনেকটাই ভিতরে। বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে।
সহসা দেখি সামনের রাস্তার উপর দিয়ে ছুটে আসছে আমাদের তখন পর্যন্ত "মণীশ"। পিছনে এক নেড়ি কুকুর। ব্যাস — একেবারেই এক সুপারহিট হিন্দি সিনেমার বিখ্যাত দৃশ্য। এবং আমাদের কালিয়ার "জন্ম", সেই সিনেমার নাম স্মরণ রেখে।
ফোর্থ ইয়ারে, শেষ সেমিস্টার। চাকরি সবাই মোটামুটি জুটিয়ে ফেললেও থিসিসের বিপদ তখনও কাটেনি। ল্যাবের মধ্যেই দিন-রাত এক হয়ে যাচ্ছে। এসব কিছুই অবশ্য কালিয়াকে স্পর্শ করেনি। সে কলেজ স্ট্রিট থেকে এক "Complete Volume of Shakespeare" কিনে নিয়ে এল। বলে কি, এখন না পড়লে আর এ জীবনে পড়া হবে না — চাকরি আর সংসারের মায়াজালে। দশ লাইন পড়ে, আর ছয় বার ডিকশনারি দেখে। আমাদের জ্ঞান দিতে শুরু করল, "শেকসপিয়ারের পাঁচটা নাটক পড়লে, কোনো management বই, career guide-এর দরকার হয় না!" তার একটি নাটক অবশ্যই রোমিও — জুলিয়েট; আর একটির নাম খুব করত "Merchant of Venice"।
আর থিসিস! খাবার টেবিলে হঠাৎই তার ঘোষণা — আগামী দশ দিনের মধ্যেই থিসিস খতম। যদি আমার মডেল চলে, তাহলে থিসিসের নাম হবে "Design of a Fourth Generation Destroyer Ship"। যদি ফেল মারে তো, খালি নামটা পাল্টে দিতে হবে, "Design of a Third Generation Submarine"।
এর পর আমরা চাকরি জীবনে যে যার পথে। যোগাযোগহীন বিশ বছর।
তার পরেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট!
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
প্রতিটি কলম প্রতিক্রিয়াই একবার করে দেওয়া যাবে, তবে প্রয়োজনে সেই প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করা সম্ভব। কোনো লেখায় একটি কলম প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পর, একই মাসে অন্য কোনো লেখায় সেই একই কলম প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে আগের প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, রয়ে যাবে সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াটি। এই প্রতিক্রিয়াগুলির মাধ্যমেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।