কোনো নির্দিষ্ট কবিতায় সরাসরি পৌঁছতে কবির নামের ওপর ক্লিক করুন —
রিক্ততার গান
প্রিয়া বণিক
পাওয়ার হিসেব মেলেনি বলে কি
জীবন থেমে থাকে?
অপ্রাপ্তিগুলো সাজিয়ে রেখেছি
ধুলোবালি মাখা তাকে।
যা পাইনি আমি সেটুকু হয়তো
ছিল না আমার তরে,
যা হারিয়েছি তার মায়া আজ
ঝরে যাক অকাতরে।
পুরনো পাতা না ঝরলে কি আর
নতুন কুঁড়ি আসে?
অন্ধকারটা কাটলে তবেই
আলোকশিখা হাসে।
বেঁচে থাকা কোনো অপরাধ নয়
নয় কোনো মিছে আশা,
শূন্য হাতই খুঁজে নেবে ফের
নতুন ভালোবাসা।
নতুন কিছুর অপেক্ষায় থাকা
সাহসের এক নাম,
অতীতের ক্ষত মুছে ফেলে দাও,
ললাটের মুছো ঘাম।
জেদ ধরে নয় আশার আলোয়
কাটুক তিমির রাত,
আবার তোমায় ডাকছে দেখো
আগামীর সুপ্রভাত।
আশীর্বাদ
সুব্রত মুন্সী
আমাদের বিদায়বেলা,
ক্রমশ আগুয়ান,
সন্তান-জীবনে ছাপ রেখে যাব,
ভেবেছিলাম
মাতৃরূপে অথবা পিতৃরূপে :
কিন্তু সেই মনোলিপ্সা,
ছাপ রাখেনি সন্তান-অন্তরে,
ক্রমশ ভাঙিছে আশা ॥
ক্রমাগত কটূবাক্যে,
দূর্বিনিত আচরণে,
হৃদয় বিদীর্ন হাহাকারে :
নিজ ভ্রান্তি থাকি খুঁজিতে ॥
জ্ঞানত করিনি কখনো অবহেলা,
করিনি কখনও সন্তানেরে
সজ্ঞানে হেলাফেলা,
প্রদীপ নিভিতে চাহে খেলাঘরে ॥
কতশত লাঞ্ছনা আসে ধেয়ে
কটূ গঞ্জনার রূপে,
তবুও যাই সহে,
সেদিনের শিশুটির মুখ চেয়ে ॥
সন্তাপ-কালে তবুও দিলাম
বুকভরা আশীর্বাদ,
যেন সন্তানেরে না করে গ্রাস,
কাহারো অভিশাপ ॥
কুপমণ্ডূক
করুণাকর প্রধান
কত কিছু জানার আছে এ ব্রহ্মাণ্ড ধরে,
আমরা বন্দি আছি ক্ষুদ্র গণ্ডি বেড়া জুড়ে।
চারদিকে তুলে রেখেছি উঁচু এক দৃঢ় প্রাচীর
মণ্ডূক একাকী বাস বদ্ধ অন্ধ কূপের ভিতর।
সে ভাবে “এই কারাগার সম্পত্তি আমার”,
গর্ব ও দর্প ভরে লাফ দেয় এপার ওপার।
ছোট ছোট পোকা মাকড় ঢোকায় অন্দরে,
নির্যাতন অত্যাচারে জর্জরিত করে সবারে।
শক্তির আষ্ফালন ও মদমত্তে জল কাঁপায়
মনে ভাবে অসীম ক্ষমতা তার গায়ে মাথায়।
তার মতো বলশালী প্রজ্ঞাবান নেই এ ধরায়,
জ্ঞান অভাবেই অন্ধ নেচে চলে বদ্ধ কারায়।
দর্পভরে ডাকতে পারে ফুলিয়ে নিজের গলা,
সময় এলে শেষ হবে তার সকল লীলা খেলা।।
লেখক ১৯৫০ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এগরার অদূরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক চাষি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হরিহর প্রধান এবং মাতা লীলাবতী প্রধান। তিনি কবিতা ও গল্প লেখেন। তাঁর প্রায় দশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখায় জীবনদর্শন, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, ঈশ্বরতত্ত্বের ব্যাখ্যা এবং সমাজের ভালো-মন্দ বিষয়গুলি গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে। তিনি ধ্রুপদী ছন্দে কবিতা লিখতে বিশেষভাবে অনুরাগী।
পরজীবী
কবিতা সামন্ত
আতঙ্কের শিহরণ দাগিয়ে দিয়ে যায়
আমাদের ভিটে মাটির রঙ।
অনায়াসেই
কেড়ে নিয়েছে আমাদের স্বাভাবিক জীবন।
যুগের হাওয়ায় দোদুল্যমান অস্তিত্ব...
অস্বীকার করাই যায় আমাদের জন্মের দাগ।
দাগিয়ে দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেটে ছবি এডিটের
কায়দায় জন্ম দাগ এডিট করে জাতে উঠে যাওয়াটা
যেন ছোঁয়াছে কোন মহামারি।
গর্ভপাতের পর গর্ভপাত করিয়েও
বুক উঁচিয়ে বলতে পারি আমারা স্বাধীন!
আসলেই পরজীবীর মতো পরাধীন
এদেশের নানান
রাজনৈতিক চক্রান্তে সেকথা কজন বোঝে!
লেখিকা ১৯৮৭ সালে হাওড়া জেলার দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাঞ্চন সামন্ত এবং মাতা শান্তিবালা সামন্ত। স্কুলের ম্যাগাজিনের হাত ধরেই তাঁর লেখালেখির সূচনা। বৈবাহিক সূত্রে তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার অন্তর্গত শালুকা গ্রামের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে স্বামীর কর্মসূত্রে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য — বিশেষত ছড়া ও কবিতা — লেখায় তাঁর সমান স্বাচ্ছন্দ্য। বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরেজিতেও তাঁর কবিতা পত্রিকায় স্থান পেয়েছে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “অবগাহনে ঈশ্বরী” প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “দুই লাইনে দুরন্ত” প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালে। অবসর সময়ে ছবি আঁকাও তাঁর নেশা।
প্রত্যয়ী মনের শপথ
অলকানন্দা পাল
প্রবল তুফানে বিধ্বস্ত মনের নির্মম
ফাটল জুড়ে দেয় মন শক্তির
গহীন শিকড়।
প্রতিটা অশ্রুবিন্দু ঝলসে ওঠে
নিষ্ঠুরতম আঘাতে।
বর্বরতায় উন্মোচনে প্রত্যয়ী মনের উত্তাপ
জেগে ওঠে উত্তাল সমুদ্রে জেগে থাকা
এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো।
মনের চিরস্থায়ী একক অভিযানে
দ্বীপের নির্জন বালুকা ভূমি
ধীরে ধীরে পরিনত হয়
সবুজ প্রান্তরে।
নতুন আশার আলো গড়ে তোলে
নতুন শপথ অফুরন্ত চেষ্টায়।
দৃঢ় পদক্ষেপ জানায় আগামীর
ইশারা সৃষ্টির রসায়নে।
বিবেক, মনুষ্যত্ব গড়ে তোলে সখ্যতা
দক্ষতার মেলবন্ধনে।
সর্ম্পকের টানাপড়েনে ছিন্নভিন্ন মনোভূমি
অন্ধকার হতে এগিয়ে চলে
আলোর উত্তরণের পথে।
ঘোর অমানিশার অন্ধকার পেরিয়ে
এ যেন প্রভাতী সূর্যের রক্তিম
আলোকস্নাত নব জাগরণের ইঙ্গিত।
অক্লান্ত ঝড়েও বিজয়ী হবার লড়াইকে
অভিনন্দন জানাবার কুর্নিশ।
রাস্তা হাঁটো আন্দোলনের
প্রেমানন্দ
ঈশ্বর তোমায় জীবন দিয়েছে একটা -
পুস্তক দিয়েছে শিক্ষা, এবং গুরু দিয়েছে দীক্ষা।
পৃথিবীতে যা কিছু সুখখ্যাতির উপভোক্তা হতে চাও!
নিজের যোগ্যতায় অর্জন করে নাও।
পদাধিকার চেয়ার যদি! ইচ্ছাকৃত আটকে রাখে!
প্রতিবাদের ঝড় তুলে দাও মানবিক রক্তে।
আন্দোলনের পথে নেমে, রাস্তা হাঁটো...
আর কন্ঠ কাঁপিয়ে ন্যায়ের দাবি চিৎকার করো।
কিন্তু কখনো হেরে যেও না।
কিন্তু কখনো মরে যেও না।
কিন্তু কখনো জোর খাটিও না।
কিন্তু কখনো ঘুষ দিও না।
কিন্তু কখনো ইজ্জত দিও না।
কিন্তু কখনো রাজনীতির - সুবিধা নিও না।
তাহলে তা কাপুরুষ কয়। আর -
সাময়িক পাওয়া সম্মান, শোক, শক্তি, শরীর...
সমাজের কাছে সব উপহাস্যময়।
লেখক পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি একজন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক। জীবনের অতিরিক্ত সময়ে সাহিত্যচর্চা করতে ভালোবাসেন। গান লেখেন, পাশাপাশি থিয়েটার, যাত্রা ও শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তাঁর পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য — “রাত জোনাকির ঘুম”, “কাঁচ বাক্সের কারিগর”, “কলকাতার রাস্তায় আমি একা”, “বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু” এবং “প্রেমানন্দের দু চোখে প্রেম”।
জীবন একটাই
সুবীর চট্টোপাধ্যায়
জানেন তো,
একটাই তো জীবন —
কখন যে বয়সটা পেরিয়ে গেল
বুঝতেই পারলাম না।
হঠাৎ একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
চমকে উঠলাম নিজেকেই দেখে —
চুলে পাক ধরেছে,
চামড়ায় ভাঁজ,
সময় যেন নীরবে স্বাক্ষর রেখে গেছে।
জানলার ধারে দাঁড়িয়ে দেখি,
আমার হাতে লাগানো ছোট্ট গাছটা
কখন যে গুটিগুটি পায়ে হেঁটে
আজ মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে —
আমি টেরই পাইনি।
জানেন তো, একটাই জীবন —
নদীর স্রোতের মতো
কৈশোর ছুঁয়ে কখন যে যৌবন পেরিয়ে
অন্য পারে পৌঁছে গেছি,
সময়টা থামিয়ে জিজ্ঞেস করার সুযোগও দিল না।
কত স্বপ্ন ছিল,
কত না বলা ইচ্ছে,
কত কিছু হয়ে ওঠার সাধ —
সময়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে
একদিন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম,
তা নিজেও জানলাম না।
ভেবেছিলাম,
একদিন সব দায় সেরে
নিজের স্বপ্নগুলোকে সময় দেবো,
নিজের জন্য বাঁচবো একটু।
কিন্তু আজ নিজের দিকেই তাকাতে গিয়ে
সে সাহসটুকুও আর খুঁজে পাই না।
জানেন তো, একটাই জীবন —
না রিহার্সাল আছে,
না ফিরে যাওয়ার রাস্তা।
যা বাকি আছে, সেটুকুই সম্বল।
আর যা হারিয়ে গেছে,
তাই আজ কবিতা হয়ে ফিরে আসে।
তবু বলি —
এই একটাই জীবনের জন্যই
হয়তো এত স্মৃতি, এত আফসোস,
এত ভালোবাসা।
একটাই জীবন বলেই
আজও বুকের ভেতর
বেঁচে থাকার একরাশ আলো জ্বলে ওঠে।
স্বপ্ন দেখা ভালো, দুঃস্বপ্ন নয়
রথীন পার্থ মণ্ডল
স্বপ্ন দেখা ভালো, দুঃস্বপ্ন নয়।
কারণ, আজকাল দুঃস্বপ্ন দেখতে দেখতে
সুখস্বপ্নগুলো ছেড়ে গেছে আমায়।
ছেড়ে যেতে যেতে বলে গেছে —
“সুখ নয়,
তুমি আমার এক গোপন অসুখ।”
যে অসুখে চলে না কোনো জোরাজুরি,
চলে শুধুই চুপ থাকার পালা।
আসলে আকাশের সীমানা ছুঁলেও
মাটির সীমানা ছুঁতে না পারার দুঃস্বপ্ন
বড্ড বেশি পরিমাণে ভাবিয়ে তোলে।
কারণ, দুঃস্বপ্ন বোঝানোর চেয়ে নীরবতাই শ্রেয়।
কেননা, আর যাই হোক,
যার স্বপ্নের মানে বোঝার ইচ্ছে নেই,
তাকে জোর করে বোঝানো যায় না।
তখন চুপ করে অপেক্ষায় থাকতে হয়
পথের আড়াল খোঁজার জন্য,
যেখানে তুমি-আমি
মুখোমুখি বসে শুনে যাবো
নীরবতা পালনের গান।
লেখক ২১শে জুলাই, ১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান শহরের রাধানগর পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের অনুপ্রেরণায় সাহিত্যজগতে তাঁর পদার্পণ। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় বর্ধমান জাগরণী পত্রিকায়। এরপর থেকে তাঁর লেখালেখির যাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে বহমান। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— “প্রেমসুধা” (২০২০), “এক ডজন অণুগল্প” (২০২৪), “অভিমানী চিরকুটের খোঁজে” (২০২৫) এবং “স্মরণপাখির আঁচলডানা” (২০২৬)।
ঘর
পাগল দার্শনিক
তোমার কণ্ঠের ভেতরেই ছিল
আমার ঘর —
রাগ-অনুরাগ, ক্ষুধা-ঘুম
একসঙ্গে কুঁকড়ে থাকত।
অভ্যাসের ছেলে-মেয়েরা
দৌড়ঝাঁপ করত সারাদিন,
আর আমি নিশ্চিন্তে
তোমার শ্বাসের ভরে
ভুলে যেতাম পৃথিবী।
ভুল করেছি বহুবার —
অসাবধানতার কথায়
পুড়িয়েছি সেই ঘর,
অযথা নীরবতায়
খসিয়েছি দেওয়াল।
হাঁটার তাড়ায়,
আর ফেরার গরজে
ছিঁড়ে গেছে অনেক জানালা —
জেনেও জানিনা, অথবা না জেনেই।
তবু ঝড় এলে
আমি দৌড়ে ফিরেছি
তোমার কাছে —
বৃষ্টির উন্মাদনায়,
রোদের তীক্ষ্ণতায়
আবার আশ্রয় পেয়েছি
তোমার পাশে।
কখন যে আকাশ ছুঁতে গিয়ে
ঘরটাই উড়িয়ে দিলাম,
নিজেই টের পাইনি।
শূন্য হাতে ডুবতে ডুবতে
হঠাৎ ধরেছি
তোমার চোখের প্রান্ত —
সেই একফোঁটা বিশ্বাস।
তারপর সব শান্ত —
শব্দ শুয়ে পড়ে,
অভিমান ঘুমোয়।
কেবল রাতের শেষে
স্বপ্ন কড়া নাড়ে —
ডেকে ওঠে আমাকে,
জিজ্ঞেস করে নীরবে:
“কেমন আছো?
ফিরবে তো আবার ঘরে?”
লেখক সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় তিনি নির্মাণ করে চলেছেন নিজস্ব অনুভূতির ভুবন, যেখানে জীবনদর্শন, প্রেম, প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবনা এক অনন্য মেলবন্ধনে ধরা দেয়। পেশায় একজন সরকারি কর্মচারী হলেও অন্তর্লোকে তিনি নিরন্তর এক সাধক-লেখক। তাঁর ছদ্মনাম “পাগল দার্শনিক”— যা তাঁর সাহিত্যচিন্তারই প্রতিফলন: প্রশ্নমুখর, অনুভবনির্ভর এবং অস্তিত্বসন্ধানী।
সংখ্যা লঘুর বিচার
বাবলু পাঁজা
সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু
শুনছি আমি জগৎ ময়!
কোন সংখ্যাটি এত লঘু?
জানতে বড়ো ইচ্ছে হয়।
এমন কোনো সংখ্যা আছে?
লঘু লেখা দেহ ভাই;
সংখ্যা দিয়ে লহুর বিচার
আমরা কভু মানি নাই!
আমার মায়ের নাম আমিনা,
বিষ্ণু আমার পিতা হয়;
গডউইন মোর ভাইয়ের মতো,
টেরিজা- মা, জগত ময়!
চৈতন্য দেব সবার মনে
এনে ছিলেন প্রেমের লয়;
অ্যানির লেখায় সকল জনের
অনুভূতি সমান হয়!
ব্রহ্মাণ্ডেতে এক পৃথিবী
তাতেই শুধু জীবটি রয়,
সংখ্যা লঘুর বিচার তবে
তাকে লঘু করতে হয়!
ব্রহ্ম সমান মনের ভিতর
জ্যোৎস্না রাতের আলো বয়,
হৃদয় সবার সোনার মতন
ঐক্যের যতো কথা কয়!
লেখক কোলাঘাটের কাঁচারোলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ইষ্ট তাঁর মা প্রমীলা। পিতা-মাতা উভয়েই চাষি ছিলেন; ফলে নিজের হাতে চাষের বাস্তব অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে, তেমনি জীবনের পথে সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে মিশে তিনি জীবনকে বহুবর্ণ ও বৈচিত্র্যময়ভাবে চিনেছেন। কর্মজীবনে তিনি কর্পোরেট জগতের এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী। ডিজিটাল ও সাইবার প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম নকশা ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। নিজেকে তিনি একজন দার্শনিক মননের মানুষ বলে মনে করেন — এই শরীরে তিনি এক শক্তিমাত্র। সব ধর্মের মানবিক দিককে তিনি শ্রদ্ধা ও গ্রহণ করেন।
হৃদয়ের গভীরে
সৈকত প্রসাদ রায়
পাতা ঝরার শান্ত ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে,
দশটি বছর কেটেছে একা স্মৃতির দীর্ঘশ্বাসে।
আকাশের মত শান্ত আমি বৃষ্টির মতো তুমি,
স্মৃতির পাতায় আজও সজীব আমাদের প্রেমের ভূমি।
কোপাই নদীর শান্ত জল আর শান্তিনিকেতন,
তোমাকেই আজও খুঁজে ফেরে আমার বিবাগী মন।
হয়তো জীবন বদলে গেছে বদলেছে চেনা পথ,
তবু ভুলিনি সেই পুরনো দিনের অঙ্গীকারের শপথ।
দূরত্বের ওই দেওয়াল তুলে প্রেম হারিয়ে যায়নি,
হৃদয়ের গভীরে তুমি ছাড়া অন্য কারো জায়গা হয়নি।
দশ বছর পর আবার যখন চোখ পড়ল চোখে,
সবটুকু পাওয়া পূর্ণ হলো এক নিমেষেরই সুখে।
তুমি আছো আমার হৃদয়ের সিংহাসনে থাকবেও চিরকাল,
আমার একলা পথের আঁধার ঘুচিয়ে ধরবে তুমি হাল।
লেখক একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, যিনি মূলত আধ্যাত্মিক ও জীবনমুখী বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখালেখি করেন। সারদা মা (মমতাময়ী মা) এবং মাদার টেরেসার জীবন ও দর্শন নিয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন। “সাতরঙা প্রেম” সহ তাঁর একাধিক সাহিত্যকর্ম পাঠকমহলে পরিচিত। তাঁর লেখা আনন্দবাজার ও বর্তমান পত্রিকার মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দিশাহীন কম্পাস
মানস করমহাপাত্র
আমাদের হাতে এখন কম্পাস নেই,
আছে শুধু ভাঙা আয়না।
সেখানে ভবিষ্যৎ নয়,
দেখি কেবল ধূসর প্রতিচ্ছবি।
তোমরা দিলে উপাধি: ভবিষ্যতের কান্ডারি।
কিন্তু আমাদের পাল ছেঁড়া,
মাঝদরিয়ায় নিষ্ক্রিয় নোঙর।
কোথায় আমাদের সেই শিল্পের মাঠ?
কোথায় নতুন সৃষ্টির কারখানা?
আছে শুধু পুরোনো পাথরে খোদাই করা
নিঃশব্দ হাহাকার।
আমরা পড়ি, শিখি, জাগি — কিন্তু এই ডিগ্রি?
এ তো কোনো মুক্তির সনদ নয়;
এ এক ভারী প্রতীক্ষার দলিল,
যা কোনোদিন হয়তো স্বাক্ষরিত হবে না।
চারিদিকে শুনি শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কোরাস।
শব্দগুলো রঙিন, কিন্তু সব ফাঁকা আওয়াজ।
আলো জ্বলে, কিন্তু সে আলো মরীচিকা,
জল নয়, কেবলই দুর্নীতির কাদা।
আমাদের রক্তে এখন বিদ্রোহের আঁচ নেই,
আছে কেবল এক গভীর ক্লান্তি।
আমরা উড়তে চাই না,আমরা শুধু চাই স্থির মাটি,
যেখানে ঘাম ঝরলে ফসল ওঠে,
মিথ্যা আশ্বাস নয়।
এই প্রজন্ম, আমরা তোমাদের চোখে দেখা স্বপ্ন নই,
আমরা এক জীবন্ত জিজ্ঞাসা:
আমাদের এই অন্ধকার পথ কখন শেষ হবে?
কখন মিলবে সেই প্রথম সূর্যের আলো?
প্রেম
সুদীপ ঘোষাল
তোকে বলতে পারি নি, ভালোবাসি
কারণ বিশ্বাস ছিল তুই বুঝবি
রায়পুকুর,বকুলতলা পেরিয়ে তোর বাড়ি
যেন এক দূরতম দ্বীপ
তোর দাঁড়িয়ে থাকা ভঙ্গি
আমার স্কুলপোশাকের গন্ডি ছাপিয়ে
প্রেমিকার মূর্তি গড়েছিল মনে
দুদিকে গেটের মত দেবদারু গাছ
কেটে দিয়েছে বাবুদের দারোয়ান
এখন আর তোকে দেখিনা
অপেক্ষায় আনমনা, গাই বিরহ গান
মনে পড়ে
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে কলেজে 'মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর'
গেয়েছিলাম সমবেত কন্ঠে
মনে পড়ে
কলেজ স্কোয়ারে তুই আর আমি মেখেছি জলের আদর
আজ বুঝি সবুজ বকুল, দেবদারু যত
চিরকাল সবুজ থাকে না
শুকিয়ে যায় কিংবা দূরে সরে যায়
ঠিক তোর আর আমার প্রেমের মত।
লেখক কাটোয়া শহরের বাসিন্দা — কবিতা,গল্প, উপন্যাস লিখতে ভালোবাসেন। ছোটবেলায় স্কুলে পড়তে গল্প দিয়ে লেখা শুরু — বর্তমানে আরও আনন্দ, সানন্দা ব্লগ কবি সম্মেলন, কবিতাপাক্ষিক, আরম্ভ, ধুলামন্দির, অক্ষর ওয়েব, দৈনিক বজ্রকন্ঠ, দৈনিক সংবাদ, তথ্যকেন্দ্র, যুগশঙ্খ, আবহমান, অপরজন, কৃত্তিবাসী ওয়েব, ম্যাজিক ল্যাম্প, জয়ঢাক, অংশুমালী, প্রভাতফেরী, দৈনিক গতি প্রভৃতি পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন। বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে অন্তরে আলো জ্বলে, শিশিরের ছৌ (কবিতা সংকলন), তিন-এ নেত্র সহ আরও অনেকগুলি বই প্রকাশিত হয়েছে।
ফেরা
রমা মিস্ত্রী
আর কি ফেরা হবে কোনো দিন
এ ধরনীর বুকে?
মৃত্যু এসে কড়া নাড়ে
জীবন দুয়ারে,
কখন কে যায়!
কারো বা ঘটে আগমন,
জন্ম,মৃত্যুর মাঝে শুধু
অভিনয়ের সমাপন।
চাইলেও মৃত্যু নেই
না চাইতেই অঘটন,
তোমার হাতে কিছু নেই,
মৃত্যু মৃত্যুর মতন।
রাজার জীবন শেষ হলো
ফকির বসে হাসে।
ফেরা যদি না হয় কভু
না ফেরার পথে।
গভীর চিহ্ন রেখে যেও
জীবন যেতে যেতে।
আর তো ফেরা হবে না
সোনার এ সংসারে,
ভালোবাসা রেখে যেও
বিশ্ব হৃদ মাঝারে।
মানব ধর্ম
টিডি
প্রশ্ন অনেক, উত্তর খুঁজি, প্রশ্ন জাগে এই মনে।
আমরা মানুষ বুদ্ধিমান জীব,পশুরা থাকে বনে।
জাতি, ধর্মে, নিত্য কর্মে পশুদের মিলন বাস।
মানুষ কেবল, ধর্মের ই ছল,হানাহানি তে চাষ।
ধর্ম বিভেদ রাজনীতি খেদ, মানব ধর্মে লুপ্ত।
পশুর বুকে কিসের সুখে, ধর্মের বসত সুপ্ত।
যে ভগবান, পাহাড় কাঁধে উড়তে ভীষণ দক্ষ।
কিসের ছলে মসজিদ তলে, চাপা থাকেন রুক্ষ।
আল্লাহর কেন মন্দির নেইকো, ব্রহ্মাবিষ্ণুর দরগা।
সব নদীর জল একই স্বাদের, গঙ্গা থেকে ভলগা।
প্রশ্ন অনেক ধর্মের ই ভেক সাধুরাই শুধু পরে।
কর্মের খাঁচা জীবন বাঁচা মানুষ হেঁদিয়ে মরে।
সেই তো জীবন ব্যস কিছুক্ষন, স্বর্গের পথে পাড়ি।
পেটের জ্বালা হাতের ছালা ডাক্তার ধরা নাড়ী।
প্রশ্ন অনেক, উত্তর হরেক, প্রশ্ন থাকুক মনে।
মানব মানবী বুদ্ধিমান জীবি, পশুপ্রান থাক প্রানে।