জানেন কি, শুধুমাত্র রান্না করতে পারে না বলেই শিম্পাঞ্জিদের কাঁচা খাবার খেতে হয়?
শুনতে অদ্ভুত লাগবে, তবে সুযোগ পেলে তারাও আমাদের মতোই রান্না করা খাবারই বেছে নেয় — এমনকি তার জন্য কাঁচা খাবার নিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষাও করতে রাজি থাকে — যদি সেটি ‘রান্না’ হয়ে ফিরে আসে।
২০১৫ সালে হার্ভার্ড এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা চালান। শিম্পাঞ্জিদের সামনে কাঁচা এবং রান্না করা মিষ্টি আলু রাখা হলে দেখা যায়, তারা প্রত্যেকবার রান্না করা খাবারটিই বেছে নিচ্ছে। তবে পরীক্ষার আসল চমক ছিল অন্য জায়গায়।
গবেষকরা তাদের সামনে একটি ছদ্ম ‘রান্নার যন্ত্র’ (একটি বিশেষ পাত্র) উপস্থাপন করেন। শিম্পাঞ্জিরা দ্রুতই শিখে নেয় যে, এই পাত্রে কাঁচা আলু রাখলে কিছুক্ষণ পর সেটি সুস্বাদু সেদ্ধ আলুতে রূপান্তরিত হয়। শুধু তাই নয়, তারা তাৎক্ষণিক ক্ষুধাকে দমন করে কাঁচা খাবার নিয়ে অপেক্ষা করত — ভবিষ্যতে আরও ভালো খাবারের আশায়।
অর্থাৎ, তারা শুধু পছন্দ করেনি — তারা প্রক্রিয়াটাও বুঝেছিল।
এর থেকে একটি মৌলিক প্রশ্ন জাগে: শিম্পাঞ্জিরা কি রান্না করতে অক্ষম, নাকি তারা কেবল আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না?
এই প্রশ্ন আমাদের নিয়ে যায় নৃতত্ত্ববিদ লেসলি আইয়েলো এবং পিটার হুইলারের প্রস্তাবিত Expensive Tissue Hypothesis-এ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, রান্না করা খাবারই মানুষের বিবর্তনের গতিপথ বদলে দেয়। কাঁচা খাবার হজম করা শরীরের জন্য অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। রান্না করা খাবার নরম এবং রাসায়নিকভাবে সরল হওয়ায় তা দ্রুত হজম হয়। এর ফলে বিবর্তনের ধারায় দুটি বড় পরিবর্তন ঘটে: মানবদেহে পরিপাকতন্ত্র ছোট হতে থাকে, আর সেই সাশ্রয় হওয়া শক্তি ধীরে ধীরে বিনিয়োগ হয় মস্তিষ্কের বিকাশে।
সহজ করে বললে, আমরা বুদ্ধিমান বলে রান্না শুরু করিনি — বরং রান্না করার কারণেই আমরা বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছি।
মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী আগুন ব্যবহার করে রান্না না করলেও, খাবারকে ‘প্রস্তুত’ করার প্রবণতা প্রকৃতিতে একেবারেই বিরল নয়।
জাপানের কোজিমা দ্বীপের ম্যাকাক বানররা মিষ্টি আলু সমুদ্রের জলে ধুয়ে খায় — শুধু পরিষ্কার করার জন্য নয়, লবণের স্বাদ যোগ করার জন্যও।
আবার, গ্রেট গ্রে শ্রাইক পাখি বিষাক্ত পতঙ্গকে কাঁটায় গেঁথে রেখে দেয় কয়েকদিন, যাতে বিষের তেজ কমে যায়। এটি এক ধরনের ‘রাসায়নিক প্রস্তুতি’।
অর্থাৎ, প্রাণীজগতে অনেকেই খাবারকে বদলাতে চায় — কিন্তু শেষ ধাপটা তারা পেরোতে পারেনি। মানুষই একমাত্র প্রজাতি যারা আগুনকে বশ করে খাবারের আণবিক গঠন বদলে দিয়েছে।
আমরা কেবল টিকে থাকার জন্য খাই না; আমরা আমাদের খাবারকে বদলাই। আর সেই বদলে যাওয়া খাবারই আমাদের চোয়ালের আকার কমিয়ে দিয়েছে, অন্ত্রকে ছোট করেছে, কিন্তু আমাদের বৌদ্ধিক শক্তিকে নিয়ে গেছে মহাকাশ পর্যন্ত।
রান্নাঘরই সম্ভবত মানব সভ্যতার প্রথম গবেষণাগার।
আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’
এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন
বিস্তারিত নিয়ম
প্রতিটি কলম প্রতিক্রিয়াই একবার করে দেওয়া যাবে, তবে প্রয়োজনে সেই প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করা সম্ভব। কোনো লেখায় একটি কলম প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পর, একই মাসে অন্য কোনো লেখায় সেই একই কলম প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে আগের প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, রয়ে যাবে সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াটি। এই প্রতিক্রিয়াগুলির মাধ্যমেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।