About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
অতিপ্রাকৃত — যেখানে যুক্তি থেমে যায়
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

অতিপ্রাকৃত — যেখানে যুক্তি থেমে যায়

মানুষ চিরকালই অজানার প্রতি কৌতূহলী। দৃশ্যের সীমা ছাড়িয়ে অদৃশ্য জগৎ সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ যেন সহজাত। তাই বহুকাল ধরে অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে গল্প, আলোচনা, সমালোচনা চলেছে অবিরাম। কেউ এই অলৌকিক সত্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখেন, আবার কেউ সম্পূর্ণ গালগল্প বলে উড়িয়ে দেন।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অতিপ্রাকৃত মানে ভৌতিক ক্রিয়াকলাপ — তা সে হানাবাড়ি থেকে শ্যাওড়াতলা, ভূষণ্ডির মাঠ কিংবা গ্রামবাংলার বাঁশবাগান পর্যন্ত বিস্তৃত। কোথাও শাঁকচুন্নির পুকুরে কাপড় কাঁচা, কোথাও বটগাছের ব্রহ্মদৈত্য, আবার কোথাও শ্মশানঘাটের মামদো ভূত, মেছো ভূত বা গেছো ভূত — লোককথা আর লোকবিশ্বাসে এই ভৌতিক চরিত্রগুলির উপস্থিতি যেন এক চিরন্তন ছায়ার মতো মিশে আছে।

কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায় — ভূত কি সত্যিই মৃত মানুষের আত্মা, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো সত্তা? দর্শন, ধর্ম ও বিজ্ঞান — প্রতিটি ক্ষেত্র থেকেই এই প্রশ্নের আলাদা ব্যাখ্যা মেলে।

দার্শনিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি
কিছু দার্শনিক ও ধর্মীয় মতানুসারে, মৃতের আত্মা জীবিতের জগতে ফিরে আসা বা ভূত হিসাবে ঘুরে বেড়ানোর ধারণাটি গৃহীত নয়। এই মতে, ভূত বা ভৌতিক সত্তা সম্পূর্ণ আলাদা এক স্বতন্ত্র সৃষ্টি। তারা মূলত মানুষের কাছাকাছি, সমান্তরালভাবে অদৃশ্য রূপে এই পৃথিবীতেই বাস করে। তারা সূক্ষ্ম দেহের অধিকারী এবং যেকোনো সময় যেকোনো রূপ বা দেহ ধারণ করতে পারে।

কিছু ধর্মীয় দর্শনে মৃতদের ডাকা বা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি এতে সেই ব্যক্তির বড়সড় ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ আছে। মূলকথা, এই দর্শনে মৃত ব্যক্তির পৃথিবীতে ফিরে আসা বা যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাকেই নস্যাৎ করা হয়েছে। মৃত্যুর পর আত্মা সম্পূর্ণ অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে যায় এবং সেই জগৎ থেকে ইহজগতে যোগাযোগ একেবারেই অসম্ভব। সুতরাং এই মতে, বিদেহী আত্মা কখনোই ভূত হতে পারে না; ভূত বা অতিপ্রাকৃত সত্তা মানুষের মতোই ভিন্ন এক সৃষ্টি।

দ্বৈতবাদী দার্শনিকদের মতে, আত্মা একটি অবিনশ্বর ও স্বতন্ত্র সত্তা, যা দেহ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। মৃত্যুর পর আত্মা তার চিরন্তন রূপের জগতে ফিরে যায়। তবে আত্মা যেহেতু দেহ থেকে পৃথক থাকতে পারে, তাই সেই দেহবিহীন আত্মাকেই কেউ কেউ ভূত বলে মনে করেন। দ্বৈতবাদীরা দেহ ও আত্মাকে পৃথক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেন। আত্মা বস্তুজগত থেকে পৃথক হতে পারে এবং দেহের মৃত্যুর পরও বিদ্যমান থাকতে পারে — এমনকি দৃশ্যমান জগতে হস্তক্ষেপও করতে পারে।

কিছু দার্শনিকের মতে, আত্মা হল দেহের 'ফর্ম' বা সেই উপাদান যা দেহকে জীবন্ত করে তোলে। আত্মা যেহেতু দেহের কার্যকারিতা, তাই এটি দেহ থেকে পৃথক থাকতে পারে না। দেহ ধ্বংস হলে আত্মাও বিলুপ্ত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ভূত বা বিদেহী আত্মার কোনো অস্তিত্ব নেই।

প্রাচ্যের দর্শন অনুযায়ী, আত্মা অমর। মৃত্যুর পর আত্মা কর্মফল অনুযায়ী পরবর্তী যাত্রা শুরু করে। কিন্তু যে আত্মা শান্তি পায়নি বা অতৃপ্ত, তারা প্রেতলোকে আটকে পড়ে। সেই আটকে থাকা আত্মাকেই ভূত বলা হয়। এখানে ভূত মানবজাতি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কোনো সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয় না।

কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসে বলা হয়, এমন কিছু অতৃপ্ত আত্মা (মৃত ব্যক্তিরা) পূর্বজন্মের লোভ বা হিংসার ফলস্বরূপ এই জগতে আটকে পড়ে। এদেরকেই লোককথায় ভূত বলে ধরা হয়।

কিছু দর্শনে আবার ভূত ধারণাটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে — আত্মা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। মৃত্যুর পর একটি অংশ পরজগতে চলে যায়, আর অন্যটি ইহজগতে বা সমাধিতে থেকে যায়। কিন্তু অস্বাভাবিক বা আত্মঘাতী মৃত্যু হলে আত্মার এই বিভাজন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। তখন সেই অশান্ত ও ভারসাম্যহীন আত্মাই ভূত হিসেবে পরিগণিত হয় এবং জীবিতদের ক্ষতি করার জন্য ফিরে আসে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভূত
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'ভূত' বা 'অতিপ্রাকৃত সত্তা' বলে আলাদা কোনো অস্তিত্বের প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ। যে কোনো ঘটনার বাস্তবতা প্রমাণিত হয় কেবল তখনই, যখন সেটি নির্দিষ্ট অবস্থায় পুনরায় ঘটানো সম্ভব হয়। ভূত-সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা কখনোই এভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে পুনরায় ঘটানো যায়নি। তাই বিজ্ঞানীরা একে মানব মস্তিষ্কের বিভ্রম, মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া বা পরিবেশগত প্রভাবের ফল বলে মনে করেন।

বিজ্ঞান ভূত বা ভৌতিক ধারণাকে বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন বলে উড়িয়ে দেয়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ঘুমের মধ্যে আধো-জাগ্রত অবস্থা, ভয়, দুশ্চিন্তা, বা মানসিক চাপের ফলে মস্তিষ্ক এমন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে, যা বাস্তব মনে হয়। ফলে 'অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা' আসলে অনেক ক্ষেত্রেই মনেরই খেলা।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা — বাস্তবতার মুখোমুখি
তত্ত্ব ও দর্শনের আলোচনা যতই হোক না কেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কখনো কখনো আমাদের বিশ্বাসকে নাড়া দেয়। এবার আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা বলি — কোনো গল্প বা কারও কাছ থেকে শোনা কাহিনী নয়, বরং খুব সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা।

কয়েকদিন আগে আমি একা বাড়িতে ছিলাম। রাতে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ এক প্রবল কটু দুর্গন্ধে ঘুম ভেঙে গেল। আলো জ্বালিয়ে দেখি, ধীরে ধীরে গন্ধটা মিলিয়ে গেল। ভাবলাম, আশেপাশে হয়তো কিছু মরেছে, বা বিড়াল কোনো মরা জিনিস নিয়ে এসেছে, তারপর চলে গেছে। আবার আলো বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম।

কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানি না, হঠাৎ আবার এক তীব্র গন্ধে ঘুম ভেঙে গেল — এবার গন্ধটা সুগন্ধ। তাড়াতাড়ি আলো জ্বালালাম, দেখি গন্ধটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। ভাবলাম, কী হচ্ছে আমার সঙ্গে? অগত্যা সারারাত আলো জ্বালিয়ে ঘুমালাম। সারারাত আর কোনো উপদ্রব হয়নি।

আরেকটি ঘটনা প্রায়ই ঘটে — বিশেষত যেদিন আমি ঘরে একা ঘুমাই। রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হয় মা আমার নাম ধরে ডাকছেন। (বলে রাখি, আমার মা জীবিত।) আমি ধড়মড় করে উঠে বসি, আলো জ্বালাই — কই, কেউ তো ডাকছে না! আবার আলো বন্ধ করে শুয়ে পড়ি। সবে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছি, আবার কেউ আমাকে ডাকে — এবার অন্য গলা। আবার উঠে দেখি, কেউ নেই। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে, আর আমি জানি এর ঔষধ কী — আলো জ্বালিয়ে ঘুমানো। তারপর আর কোনো উপদ্রব হয় না। এখনো এমন ঘটে, আর সমাধানও সেই একই। জানি না, এখানে বিজ্ঞানের হ্যালুসিনেশনের যুক্তি খাটে কি না!

আরও একটি ঘটনা বলি। তখন আমি কলকাতায় কাজ করতাম, সপ্তাহে একবার বাড়ি ফিরতাম। বাড়িটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় ফিরতে প্রায়ই রাত হয়ে যেত। একদিন বাড়ি ফেরার পথে দেখি, আমাদের এখানে তাতালখাঁ নামে এক দুর্ভেদ্য বাঁশবাগান আছে — ঝোপঝাড়ে ভরা। সেখান থেকে দেখলাম, একটা আলো প্রায় বিশ ফুট ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে পাশের এক মাঠ পেরিয়ে উড়ে যাচ্ছে।

আমি থেমে গেলাম, দেখতে থাকলাম আলোটা কোথায় যায়। আলোটা ঠিক শুকতারার মতো, কিন্তু অনেক বড় ও উজ্জ্বল। দেখলাম, আলোটা ধীরে ধীরে কিছু দূরে গিয়ে মালিদের তালবাগানে মিলিয়ে গেল। এটাও কি হ্যালুসিনেশন? ছোটবেলায়, যখন আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসেনি, তখন প্রায়ই এমন আলো দেখা যেত। আমি একা নই — অনেকেই দেখেছে, গল্প করেছে।

ভূত সম্পর্কে নানা ধারণা ও যুক্তি থেকে আমার আত্মোপলব্ধি এই যে — মানুষ মরে ভূত হয়, এটা বোধহয় ঠিক নয়। বরং ভূত আমাদের মতোই এক ভিন্ন সত্তার সৃষ্টি। তাদের মধ্যেও মানুষের মতো ভালো-মন্দ উভয় প্রকৃতির সত্তা আছে। এই জগতে মানুষের পাশাপাশি তাদেরও বিচরণ রয়েছে।

অনেক সময় তারা আমাদের সামনে প্রকাশ পেলেও আমরা হয়তো তাদের স্বরূপ বুঝতে পারি না, কারণ তারা সূক্ষ্ম দেহের অধিকারী। তারা যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে — তা সে প্রাণী হোক, আলো হোক, বা অন্য কিছু। আমরা পুরোপুরি তাদের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করতে পারি না।

হয়তো এজন্যই বিষয়টি রহস্যময়তার মোড়কে চিরকাল থেকে যাবে — এক অজানা সত্তা হিসেবে। বিজ্ঞান যতই হ্যালুসিনেশনের কথা বলুক, দর্শন যতই তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সামনে কখনো কখনো সব যুক্তি অসহায় হয়ে পড়ে।

উপসংহার
অতিপ্রাকৃত অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক চিরকালীন। বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে দোদুল্যমান মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়। যারা দেখেননি তারা অস্বীকার করেন, যারা দেখেছেন তারা নিশ্চিত। কিন্তু এই বিশাল মহাবিশ্বে আমরা মানুষই একমাত্র সত্তা — এটা বিশ্বাস করা কঠিন।

হয়তো আমাদের পাশাপাশি কোনো সমান্তরাল সত্তা আছে — যারা দৃশ্য ও অদৃশ্যের মাঝের সূক্ষ্ম রেখায় বিচরণ করে। বিজ্ঞান যতই যুক্তি দিক, দর্শন যতই ব্যাখ্যা দিক — অতিপ্রাকৃতের রহস্য সেই অনির্ধারিত সীমান্তেই আটকে থাকবে।

অতএব, অতিপ্রাকৃত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো কখনোই আসবে না। এটি থেকে যাবে মানব চেতনার এক অনন্ত রহস্য হিসেবে — যা আমাদের জানার আগ্রহকে চিরকাল জাগিয়ে রাখবে। হয়তো সেখানেই এর সৌন্দর্য — যেখানে যুক্তি থেমে যায়, আর রহস্য শুরু হয়।




আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের কার্তিক ১৪৩৩ সংখ্যাটি ১ নভেম্বর ২০২৬ (১৪ই কার্তিক) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২০ অক্টোবরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
গঠনমূলক পরামর্শ দিন
মন্তব্যে আপনার মতামত জানান
4.3 7 ভোট
স্টার
guest
2 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
Scroll to Top

‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।