About Bangali.Network
About Bangali.Network
মাসিক সংখ্যা
লেখক–লেখিকা
লেখা পাঠান
আমাদের কথা
উদ্যোগ
Web Magazine
Contests


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার অনিবার্যতা
দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

দায়স্বীকার

লেখা, মতামত, মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার বা অন্য যে কোনো প্রকাশিত লেখার সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সকল বক্তব্যের নৈতিক, তথ্যগত ও আইনগত দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁদের উপরই বর্তায়। কোনো লেখা প্রকাশিত হওয়া মাত্রেই তা Bangali Network-এর সম্পাদকীয় অবস্থান, নীতি, মতাদর্শ, সমর্থন, অনুমোদন বা সরকারি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি, অনুবাদ, পরিসংখ্যান, গবেষণা, শাস্ত্রীয় বা ঐতিহাসিক সূত্র, আইনগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত ও উপসংহারের যথার্থতা, নির্ভুলতা, পূর্ণতা, প্রাসঙ্গিকতা, বৈধতা ও হালনাগাদকরণের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকার। Bangali Network সম্পাদকীয় বিবেচনায় কোনো লেখা প্রকাশ, সম্পাদনা, সংক্ষিপ্তকরণ বা ভাষাগত সংশোধন করতে পারে; তবে এ ধরনের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকাশিত তথ্য, সূত্র, উদ্ধৃতি, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা মতামতের সত্যতা, নির্ভুলতা, বৈধতা বা নির্ভরযোগ্যতার প্রত্যয়ন বা নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো দায় Bangali Network গ্রহণ করে না।

লেখক পরিচিতিতে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণের ভিত্তিতে প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

কোনো প্রকাশিত বিষয়বস্তুর কারণে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা গোষ্ঠীর আপত্তি, দাবি বা আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, প্রযোজ্য আইন অনুসারে তার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা বা সাক্ষাৎকারদাতার উপর বর্তাবে, যদি না আইন ভিন্নভাবে নির্ধারণ করে।

কোনো প্রকাশিত তথ্য বা দাবির যথার্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ আপত্তি উত্থাপিত হলে Bangali Network বিষয়টি সম্পাদকীয়ভাবে পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হলে, Bangali Network নিজস্ব সম্পাদকীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় নোট সংযোজন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার অনিবার্যতা

ভূমিকা: পশ্চিমবঙ্গ কি তার রাজনৈতিক আত্মপরিচয় হারাচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস কেবল একটি রাজ্যের ইতিহাস নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক রাজনীতি, বামপন্থী চিন্তাধারা এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ব — এই সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতির বাইরে নিজেকে স্থাপন করতে পেরেছিল। দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যে যেখানে ধর্ম রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ তুলনামূলকভাবে ছিল সংযত ও সহাবস্থানমূলক।

কিন্তু সাম্প্রতিক এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এমন কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এই ঐতিহ্যকে গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ধর্মীয় মেরুকরণ, সাম্প্রদায়িক ভাষার স্বাভাবিকীকরণ, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণাভাষার বিস্তার এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার — এই সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ কি ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে এগোচ্ছে?

এই প্রবন্ধে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের কারণ, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এবং কেন ধর্মনিরপেক্ষতাই এই সংকট মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর পথ — তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

সাম্প্রদায়িকতা: ধর্ম নয়, রাজনীতির একটি কৌশল

সাম্প্রদায়িকতাকে অনেক সময় ধর্মীয় আবেগের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বাস্তবে এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখানে ধর্ম বিশ্বাসের বিষয় থাকে না; থাকে "পরিচয় বনাম পরিচয়"-এর সংঘাত।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা বহুবার দেখিয়েছেন যে সাম্প্রদায়িকতা মূলত তখনই শক্তিশালী হয়, যখন —
🔸 অর্থনৈতিক সংকট বাড়ে
🔸 সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়
🔸 গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হতে থাকে

পশ্চিমবঙ্গেও এই উপাদানগুলো ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়েছে। শিল্পহ্রাস, কর্মসংস্থানের সংকট, গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বলতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা — এই বাস্তব সমস্যাগুলোর পরিবর্তে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে রাজনীতি সহজ সমাধানের মায়া তৈরি করছে।

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই — এ কথা বলা যাবে না। দেশভাগের সময় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এই অঞ্চলের স্মৃতিতে গভীর দাগ রেখে গেছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে এক ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে —
🔸 শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতি শক্তিশালী হয়
🔸 ভূমিসংস্কার ও কৃষক আন্দোলন ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে যুক্ত করে
🔸 বামপন্থী রাজনৈতিক ভাষা ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে শ্রেণি পরিচয়কে সামনে আনে

এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তারকে দীর্ঘদিন রুখে রেখেছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে পরিবর্তন শুরু হয়, তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে থাকে।

জাতীয় রাজনীতির প্রভাব ও রাজ্য রাজনীতির রূপান্তর

গত এক দশকে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উত্থান একটি বাস্তব সত্য। এই রাজনীতি কেবল কেন্দ্রীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাজ্য রাজনীতিতেও তার প্রভাব বিস্তার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে এই প্রভাব তিনটি পথে কাজ করেছে —
🔸 রাজনৈতিক ভাষার পরিবর্তন
🔸 নির্বাচনী কৌশলের রূপান্তর
🔸 সামাজিক মেরুকরণের স্বাভাবিকীকরণ

ধর্মীয় উৎসব, প্রতীক, স্লোগান — যা আগে রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে ছিল, এখন তা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির অংশ হয়ে উঠছে। এতে রাজনীতির চরিত্র বদলে যাচ্ছে।

ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও ধর্মীয় মেরুকরণ

ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি গণতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভাগ করার প্রবণতা বেড়েছে।

এই মেরুকরণ —
🔸 একদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে
🔸 অন্যদিকে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মধ্যে "বিপন্ন পরিচয়" — এর বোধ জাগিয়ে তুলছে

এর ফলে সমাজে স্থায়ী অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে দেয়।

সামাজিক মাধ্যম ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার

আজকের সময়ে সাম্প্রদায়িকতার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো সামাজিক মাধ্যম। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে —
🔸 ভুয়ো খবর
🔸 বিকৃত ইতিহাস
🔸 উস্কানিমূলক ভিডিও ও বার্তা

অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পেছনে এই ডিজিটাল প্রচারের বড় ভূমিকা রয়েছে।

এখানে যুক্তি বা তথ্য নয়, আবেগ ও ভয়ই প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে।

সাম্প্রদায়িকতার সামাজিক পরিণতি

🔸 সহাবস্থানের সংস্কৃতির ক্ষয়
পশ্চিমবঙ্গের সমাজ দীর্ঘদিন সহাবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি সেই ভিত্তিকে দুর্বল করছে।

🔸 গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন
ভিন্নমত প্রকাশকে ধর্মবিরোধিতা বা রাষ্ট্রবিরোধিতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।

🔸 প্রকৃত উন্নয়ন ইস্যুর অবলুপ্তি
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান — এই মৌলিক প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে যাচ্ছে।

ধর্মনিরপেক্ষতা: ভুল বোঝাবুঝি ও বাস্তবতা

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মের বিরোধিতা নয়। এটি রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থান। ভারতীয় সংবিধান সকল নাগরিককে ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার দেয়।

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অনেক সময় "তোষণ" বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া বহুধর্মীয় সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অসম্ভব।

ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক ভিত্তি: ভারতীয় সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারার আলোকে

ধর্মনিরপেক্ষতা ভারতের ক্ষেত্রে কোনো নৈতিক আহ্বান বা রাজনৈতিক স্লোগানমাত্র নয়; এটি সরাসরি সংবিধান-নির্ধারিত রাষ্ট্রচরিত্র। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble) — এ ভারতকে একটি "Sovereign, Socialist, Secular, Democratic Republic" হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে "Secular" শব্দটি সংযোজিত হওয়া রাষ্ট্রের এই মৌলিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।

ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ সকল নাগরিকের জন্য আইনের চোখে সমতার নিশ্চয়তা দেয়। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে আলাদা করে দেখলে তা এই অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হয়। একইভাবে অনুচ্ছেদ ১৫(১) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে রাষ্ট্র ধর্ম, জাত, বর্ণ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করতে পারবে না।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অনুচ্ছেদ ১৬ সরকারি চাকরি ও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোকে ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত রাখার সাংবিধানিক চেষ্টা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতাকেও সুরক্ষা দিয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৫ প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালন, প্রচার ও অনুসরণের অধিকার দেয়, তবে তা জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের অধীন। অর্থাৎ ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বা রাজনৈতিক সংঘাতের অস্ত্র নয়। অনুচ্ছেদ ২৬ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দিলেও তা সামাজিক ন্যায় ও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

রাষ্ট্রের আর্থিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অনুচ্ছেদ ২৭ ঘোষণা করে যে কোনো নাগরিককে এমন কর দিতে বাধ্য করা যাবে না, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রসারে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ২৮ রাষ্ট্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ধর্মশিক্ষা নিষিদ্ধ করে, যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মীয় মেরুকরণ রোধ করা যায়।

এই সব ধারার উপর ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্ট Kesavananda Bharati বনাম কেরালা রাজ্য (১৯৭৩) মামলায় ঘোষণা করে যে ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের "মৌলিক কাঠামো" (Basic Structure) — এর অংশ। ফলে কোনো সরকার বা সংসদও এই নীতিকে বাতিল বা দুর্বল করতে পারে না।

কেন ধর্মনিরপেক্ষতাই অনিবার্য?

🔸 সাংবিধানিক ভিত্তি
ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার উপর প্রতিষ্ঠিত — এটি কেবল প্রস্তাবনার ঘোষণা নয়, বরং অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ১৬, ২৫ থেকে ২৮ পর্যন্ত একাধিক ধারার মাধ্যমে কার্যকরভাবে রূপায়িত। উপরন্তু, সুপ্রিম কোর্ট ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো রাজনৈতিক বিকল্প নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

🔸 বহুত্ববাদী সমাজের বাস্তবতা
পশ্চিমবঙ্গ বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র।

🔸 সামাজিক স্থিতিশীলতা
সাম্প্রদায়িক রাজনীতি স্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করে; ধর্মনিরপেক্ষতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি।

🔸 গণতন্ত্রের সুরক্ষা
গণতন্ত্রের মূল শক্তি সহনশীলতা — যা ধর্মনিরপেক্ষতার মাধ্যমেই সম্ভব।

উপসংহার: কোন পথে পশ্চিমবঙ্গ?

পশ্চিমবঙ্গ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রদায়িকতার পথ সহজ, কিন্তু বিপজ্জনক। ধর্মনিরপেক্ষতার পথ কঠিন, কিন্তু মানবিক ও টেকসই।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে — বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে শক্তিশালী করে না, বরং ভেঙে দেয়। পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিরাপদ একমাত্র তখনই হবে, যখন রাজনীতি ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবন, অধিকার ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।

ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো বিলাসিতা নয় — এটাই পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার অনিবার্য শর্ত। এই প্রেক্ষাপটে ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল একটি আদর্শিক অবস্থান নয়, বরং ভারতীয় সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত রাষ্ট্রচরিত্র। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তাই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে নয়, সংবিধান-নির্ধারিত ধর্মনিরপেক্ষ পথেই নিরাপদ।




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

এই সংখ্যায় প্রযোজ্য নিয়ম

একজন পাঠক এই সংখ্যায় সর্বোচ্চ ৫টি ভিন্ন কলম প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন — অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিক্রিয়া একবার করে দেওয়া যাবে। একই প্রতিক্রিয়া এই সংখ্যার অন্য কোনো লেখায় নতুন করে নির্বাচন করলে, আগেরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াটিই গণ্য হবে। অর্থাৎ, পাঠক প্রতিটি প্রতিক্রিয়া বিভাগে একটি করে লেখা নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা। দ্রষ্টব্য: আষাঢ় ১৪৩৩ সংখ্যা থেকে এই নিয়ম আরও সহজ ও উদার করা হয়েছে।

আগামী সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান

❛উদ্যোগ❜ ওয়েব ম্যাগাজিনের শারদ ১৪৩৩ সংখ্যাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ (১৭ই আশ্বিন) প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত লেখার বিভাগ ও বিষয় থেকে আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নিয়ে লেখা পাঠান ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠানোর ফর্ম এবং অন্যান্য সকল তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে মেনুতে ‘লেখা পাঠান’ বিভাগটি দেখুন।

পৃষ্ঠা
ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
3 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top

    ‘উদ্যোগ’ ফোনে রাখুন

    ‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিন ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পর অ্যাপ তালিকা থেকে আইকনটি হোমস্ক্রিনে যোগ করে নিতে পারেন। এরপর সহজেই পড়ুন আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন। ভালো না লাগলে যেকোনো সময় এক ক্লিকে আনইনস্টল করতে পারবেন।