Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পদ্যপাতায় ছন্দ-শিশির – জানুয়ারি ২০২৬
এই পাতায় রয়েছে নানা স্বরের কবিতা — নরম, তীব্র, অকপট। এগুলো অনুভবের কথা বলে, অনুভূতির আশ্রয় হয়ে ওঠে। এই কবিতাগুলো ফিরে ফিরে পড়ার জন্য, মনে রাখার জন্য।
কোনো কবিতা মন ছুঁয়ে গেলে, সেই কবিতার শেষে থাকা আইকনে ক্লিক করে আপনি তা প্রকাশ করতে পারেন — নীরব এক উৎসাহ, যা কোনো শব্দ ছাড়াই কবির কাছে পৌঁছে যায়।
বিঃদ্রঃ কবিতাগুলি সম্পাদকীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নির্বাচিত ও প্রকাশিত, এবং জমা পড়ার সময় অনুসারে বিন্যস্ত। ক্রমিক সংখ্যা বা অবস্থান তাদের মান, গুরুত্ব বা সম্পাদকীয় অগ্রাধিকার নির্দেশ করে না।

কোনো নির্দিষ্ট কবিতায় সরাসরি পৌঁছতে কবির নামের ওপর ক্লিক করুন —


পাগল দার্শনিক
সুদীপ ঘোষাল
আদিত্য
মহিবুল জাজবত
কল্লোল বিশ্বাস
নন্দিনী ঘোষ
ড. বরুণ রায়
সন্দীপ গাঙ্গুলী
প্রিয়া বণিক
স্বপন চক্রবর্তী
তপন দেবনাথ
তপতী কর্মকার
সৌম্যজিৎ মুখার্জ্জী
কাজী সেরিনা
সামসুজ জামান


কবিতা ১


ঘর

পাগল দার্শনিক

ইট, কাঠ আর পাথরের স্তূপকে আমরা ঘর বলে ভুল করি।
আসলে ঘর তৈরি হয় নিঃশ্বাসের উষ্ণতায়,
অভিমান মেশানো নীরবতায়,
আর সেই ভালোবাসায় —
যে ভালোবাসা দেয়াল মানে না, ছাদ মানে না,
যার ঠিকানা কেবল হৃদয়ের ভেতর।

ভালোবাসা যখন দিগন্ত ছাড়িয়ে যায়,
তখন সে আর ব্যক্তিগত থাকে না —
সে ছুঁয়ে ফেলে অচেনা বহু মানুষের অনুভূতির প্রান্তর।
কারও চোখে জল হয়ে ঝরে,
কারও বুকের গভীরে নীরব দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে থাকে।

এমন ভালোবাসাও আছে,
যারা পূর্ণতার দাবি করে না।
যারা জানে —
সব গল্পের শেষ হয় না,
সব ঘরের ছাদ থাকে না।

ভালোবাসার সেই প্রবল ঝড়ে
কখন যে ‘ঘর’ নামের বস্তুটি উড়ে যায়,
তা কেউ টেরও পায় না।
দেয়াল ভাঙে না শব্দে,
ভাঙে নিঃশব্দে —
স্মৃতির চাপে, না বলা কথার ভারে।

ভালোবাসা তখন এক উন্মুক্ত বিহঙ্গ,
সে উড়ে চলে আকাশ জুড়ে,
ডানায় বেঁধে নিয়ে যায়
অগণিত আবেগপ্রবণ হৃদয়।
কারও আশ্রয় হয় সেই উড়ান,
কারও নিঃস্বতার কারণ।

ভালোবাসা এক উন্মাদনা —
যার যুক্তি নেই, পরিমাপ নেই।
ভালোবাসা এক মাদকতা —
যার নেশায় পড়ে হৃদয় বারবার,
জেনেও যে এই নেশা
ঘর ভেঙে দিতে পারে,
তবু সে আবার ফিরতে চায় সেই আগুনের কাছে।

আর শেষে পড়ে থাকে —
একটা উড়ে যাওয়া ঘর,
যার ইট-পাথর নেই,
কিন্তু স্মৃতি আছে,
ভালোবাসা আছে,
আর আছে
অসীম আকাশের দিকে চেয়ে থাকা
একটা হৃদয়...

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি পাগল দার্শনিক পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ২


শ্রীরামকৃষ্ণ আশীষ

সুদীপ ঘোষাল

অনন্ত প্রবাহে, শ্রীরামকৃষ্ণ-আশীষে
কূপমন্ডুক 'জীবন পান্ডুলিপির' উত্তরণ
ছাইভস্ম গঙ্গায় ভাসার আগে...,
মৃত্তিকা-হৃদয় জাগে আলোয়

"টাকা মাটি, মাটি টাকা", মনে রাখো
আনন্দে, বালক সময়
কর্পূর-প্রাণ, পদ্মপাতার জল,
অহঙ্কারী ফিতে-শরীর মাটিতে মেশে
বিস্তৃত আদিগন্ত গোলক গালিচায়।
এবার, মায়া-মাখা হয় আত্মা, চন্দন-আঘ্রাণে

জ্যোৎস্নার মোহময় কুমারী নিশি বরণে,
নাচে মনরাধা, মোহনবাঁশির সুরে রামকৃষ্ণ
সাধনার সংযম-শিকলে তৃপ্ততা জানে,
জীবনের অতৃপ্ত ছৌ...

এস প্রিয়,
আলোপথের আদরে, ঘেসোমাটির গালিচায়...
সকল-অজ্ঞতা শেষে, রামকৃষ্ণ গীতে,
মৃত শরীর হোক অমৃতময়...।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সুদীপ ঘোষাল পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৩


হৃদয় কুঠুরির নীল নকশা

আদিত্য

যদি প্রেমের কোনো কবিতা লিখি,
সে কি পাবে ঠাঁই তোমার মনের কুঠুরিতে?
যেখানে জমানো আছে সহস্র নীরবতা —
সেখানে কি পারবে আমার শব্দরা ঘর বাঁধতে?

হয়তো ছন্দগুলো খুব সাধারণ হবে,
হয়তো তাতে থাকবে না কোনো অলঙ্কার;
তবু প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে মিশে থাকবে
তোমাকে পাওয়ার এক ব্যাকুল হাহাকার।

আমি নীল কালিতে লিখব না বিরহ,
বরং স্নিগ্ধ ভোরে শিউলি ঝরার গল্প শোনাবো;
যদি তুমি অনুমতি দাও তবে —
তোমার ওই মনের এক কোণে একটুখানি জায়গা পাবো?

সে কুঠুরিতে অন্য কারো আনাগোনা নেই,
যেখানে শুধু আমি আর আমার অনুরাগের বাস;
আমার কবিতার প্রতিটি শব্দ যেন হয় —
তোমার ওই হাসির আড়ালে লুকানো এক দীর্ঘশ্বাস।

যদি কোনোদিন আমায় ভুলে যাও,
তবু এই কবিতাটি রেখো খুব যতনে;
জানি, এক টুকরো প্রেমের ছোঁয়া পেলে —
ফাগুন আসবেই তোমার ওই মনের গহীনে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি আদিত্য পেয়েছেন সর্বমোট ১৪ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৪


অসম্পূর্ণ ভালোবাসা

মহিবুল জাজবত

আমরা শুরু করেছিলাম
ধার করা সাহস আর ধার করা সময় নিয়ে,
দুটি হৃদয় ভান করেছিল — নিশ্চয়তাই যথেষ্ট।
কথারা সহজেই বয়ে গিয়েছিল,
এমন প্রতিশ্রুতির মতো
যেগুলোর নিচে আমরা কখনো সই করিনি,
আর নীরবতা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিল —
ধীরে ধীরে আমাদের নাম শিখে নিতে নিতে।

ভালোবাসা ছিল,
কিন্তু প্রতিশ্রুতি দরজার কাছেই থমকে গিয়েছিল,
যেন ‘চিরকাল’ বলার জন্য আমাদের চেয়ে বেশি সাহস দরকার ছিল।
তুমি আমার হাত ধরেছিলে, আমার ভবিষ্যৎ নয়,
আর আমি দিকনির্দেশের বদলে
কিছু মুহূর্তকেই মেনে নিয়েছিলাম।

প্রতিদিন কথা হতো,
তবু কোনো পরিকল্পনা ছিল না,
হেসেছি এমনভাবে — যেন শেষ বলে কিছু অন্যদের জন্য।
আমি শিখে নিয়েছিলাম
তোমার মেজাজ, থেমে যাওয়া, পালিয়ে যাওয়ার কৌশল,
আর তুমি শিখেছিলে —
থেকে থেকেও কীভাবে না থাকতে হয়।

কোনো বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না, নাটকীয় বিদায়ও নয়,
শুধু উত্তরের ফাঁকে ফাঁকে
নীরবে বেড়ে ওঠা এক দূরত্ব।
অনুভূতিগুলো সত্য ছিল, উদ্দেশ্যগুলো ছিল না,
আর সত্যটা এলো —
এত দেরিতে যে আর কোনো মূল্য রইল না।

এখন রাগ নেই, আছে শুধু বোঝাপড়া —
ভালোবাসা একাই কোনো গল্প সম্পূর্ণ করে না।
কিছু সংযোগ থাকে কেবল অনুভব করার জন্য,
শেষ করার জন্য নয়,
আর কিছু হৃদয়ের দেখা হয় শুধু ছেড়ে দেওয়ার জন্যই।

যা রয়ে গেছে তা আফসোস নয়, স্পষ্টতা —
অসম্পূর্ণ ভালোবাসাও শেখায় পূর্ণতার মানে।
আমরা ব্যর্থ হইনি; আমরা কেবল থেমে গেছি,
কোথাও ‘হ্যালো’ আর ‘গুডবাই’-এর মধ্যে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি মহিবুল জাজবত পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৫


ভালোবাসতে মন চাই

কল্লোল বিশ্বাস

"বাড়ি থেকে মানছে না আমাদের সম্পর্ক
আমি নিরুপায়,
আমি বাধ্য হয়ে বিয়ে করছি।"
নিজের দোষ এড়িয়ে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকার
অতি পরিচিত কথা এগুলো।
যা শোনার পর
চোখের কোনে শুকিয়ে যাওয়া কান্নার দাগ
আলপনা কাটতে পারেনি।
বেকারত্বের প্রেম স্বপ্ন দেখাবে,
কিন্তু পরিণতির মিলন মালা ধুলোয় গড়াবে।
সবটাই জানি, তবুও ভালোবাসতে মন চাই।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি কল্লোল বিশ্বাস পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৬


চাওয়া আর দেওয়া

নন্দিনী ঘোষ

তোমায় চেয়ে শুধু পেয়েছি চোখের জল,
অভিমানী মন ভরে অভিমান।
অপেক্ষার তীব্র যন্ত্রণা ভরা রাত,
আর দিনে কর্ম-বাস্তবতার মাঝে দীর্ঘশ্বাস।
তোমায় ভালোবেসে পেয়েছি
নানান শব্দে বর্ণিত প্রত্যাখ্যান,
নিস্তব্ধতায় চুপ করে থাকা দূরত্ব।
ফিরে আসবে — এই আশায় বসে থাকা চোখ,
আর সব জেনেও না-বোঝা এক মন।
দিয়েছি যা, সে তো বড়ই কম —
দিয়েছি আমার হাসিমাখা দিনগুলো,
প্রত্যাশাভরা ভবিষ্যতের আশ্বাস,
মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠা মন,
আর রক্ত-মাংসে গড়া পুরো অমিটাকে।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি নন্দিনী ঘোষ পেয়েছেন সর্বমোট ১১ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৭


শূন্যতার গর্জন

ড. বরুণ রায়

স্তব্ধ নগরে আজ হাহাকার মেশে,
শব্দরা সব হারিয়েছে এক অজানার দেশে।
বুকের পাজরে বাজে কান্নার সুর —
চেনা গলিগুলো সব হয়ে গেছে বহুদূর।
বাতাসে বিষাদ মাখা, স্থবির সময়,
অন্ধকারে জেগে থাকে এক বিমূর্ত ভয়।
চারিদিকে কোলাহল, তবু সব নিঝুম,
চোখের পাতায় আর নেই কোনো ঘুম।
হৃদয়ের গহীনে এক গভীর ক্ষত,
শূন্যতা গর্জে ওঠে অবাধ্য পশুর মতো।
আর্তনাদ ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে,
নিঃশব্দ হাহাকার চলে বুক বয়ে।
আকাশের নীল আজ ফ্যাকাশে আর কালো,
আঁধার গিলেছে সব পৃথিবীর আলো।
রিক্ত এই মরুভূমিতে স্বপ্নরা ম্লান —
শূন্যতার গর্জনে স্তব্ধ হয় প্রাণ।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি ড. বরুণ রায় পেয়েছেন সর্বমোট ৪৭ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৮


প্রান্তিক

সন্দীপ গাঙ্গুলী

পাতা ঝরা হাওয়ার উদাসিন সুরে শব্দ সাজাই...
"ফিরে এসো"
যদিও কোনোদিন আসবেনা
তবুও তোমাকে পাঠাই
রোজ সকালের শুভেচ্ছা বার্তা
জানি তুমি পড় না
অনাদরে পরে থাকে রিসাইকেলবিনে
তাও নতুন কবিতাটা উৎসর্গ করি তোমাকেই।

মাঝে মাঝে রোদ মাখা বসন্তে
হারিয়ে যাই তোমার বারান্দায়,
শান্তনীল শরতের মেঘের হাত ধরে
ভেসে বেড়াই অপূর্ণ ইচ্ছার প্রান্তরে
চোখ বুজলেই পৌঁছে যাই
তোমার আসকারার ঠিকানায়;
হয়তো তুমি নেই
ঠিকানা পাল্টেছ নতুন শহরে
তবুও জলের তরঙ্গে শুনি
তোমার নূপুরের ঝংকার...
নিঃশব্দে ছবি আঁকি আকাশ জুড়ে
একলা মনের অভিলাসে,
জীবনের রোমাঞ্চ পথ আজ ছায়াহীন
দূরবীনে খুঁজি ভালবাসার পদক্ষেপ।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সন্দীপ গাঙ্গুলী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ৯


হারিয়ে যাওয়া রূপকথা

প্রিয়া বণিক

হঠাৎ করেই ফুরিয়ে গেল, ধুলোমাখা সেই দিন,
সময়ের স্রোতে জীবন জুড়ে এখন, ভীষণ রকম ঋণ।

হাসি-ঠাট্টার আঙিনা ছেড়ে, বাস্তবের এই ভিড়ে,
অদূর ভবিষ্যতের চিন্তারা সব, আমায় কামড়ে ধরে।

বর্তমানটা ঝাপসা আজ, ভাবনার জালে ঘেরা,
শৈশবটাই তো ছিল আসলে, সবচাইতে সেরা।

ছিল না কোনো চিন্তা সেদিন, ছিল না কোনো ভয়,
এক চিলতে রোদে খুঁজে পেতাম, জগৎ জয়ের জয়।

সেই যে বন্ধু, সেই যে আড্ডা, সেই যে খোলা মাঠ,
বুকের ভেতর বাড়ায় হাহাকার, আর আক্ষেপের পাঠ।

পিছু ফিরে তাকালে আজ, ঝাপসা হয়ে আসে চোখ,
স্মৃতিরা সব মেঘ হয়ে জমায়, পাহাড় সমান শোক।

মুঠো ভরা বালুর মতো,সময় গেছে চলে,
শৈশব আজ হারিয়ে গেছে, স্মৃতির অথৈ তলে।

ফিরে কি পাওয়া যাবে না আর, সেই হারানো সুর?
যান্ত্রিক এই জীবনে আজ, শৈশব বহু দূর।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি প্রিয়া বণিক পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১০


ভোলা

স্বপন চক্রবর্তী

থাকি আমি ক্ষুদ্র গেহে          পরম সুখেতে দোঁহে
ভেবোনাকো সাথী মোর জায়া,
অকৃতদার আমি          নহি পিতা, নহি স্বামী
সহকারী এক মোর ছায়া।

ব‍্যস্ত সতত কাজে          সকাল হইতে সাঁঝে
স্মিত হাসি মিলায় না মোটে ,
ওঠে রোজ ভোর ভোর          পরিস্কৃত ঘরদোর
বাজার সরকারও সে বটে।

অতঃপর পাকশালে          রান্নাবান্না হেলেদুলে
সমাপন হয় দ্বিপ্রহরে,
ভোজন পর্ব শেষে          বাসন মাজে সে হেসে
তারপর থাকে ঘুমঘোরে।

সাঁঝেও কাজের রাশি          তবুও ঠোঁটেতে হাসি
কাজ করে আপন মনে,
রান্না ও কুটনো কাটা          শিলেতে বাটনা বাটা
কোন কাজে বাধা নাহি মানে।

সহসা সেদিন ভোরে          হেরিনু সদর দ্বারে
অর্গলখানি হায় খোলা,
গেহ মোর শূন্য করি          ভৃত্য মোর সহকারী
ত‍্যজিয়াছে বুঝি মোরে ভোলা।

স্নানজল নাই তোলা          আখোলাই পাকশালা
রান্নার নাই বন্দোবস্ত,
ঠিকানাটি নাই তার          হৃদে মোর হাহাকার
ভোলার বিহনে আমি ধ্বস্ত।

ধৌত বস্ত্র মোর করে          কে দেবে স্নানের পরে
ভেবে ভেবে আমি অসহায়,
ঘরদোর ছারখার          কে করে পরিষ্কার
বেঁচে থাকা বুঝি মোর দায়।

ঘড়ি চলে টিক টিক          কিছুই তো নেই ঠিক
যারপরনাই মোর কষ্ট,
কি করে যে চলে মোর          জানেন শ্রীগদাধর
সাজা মোরে দিয়ে গেছে দুষ্ট।

সপ্তাহ হয় বীত          চিত্ত মোর শঙ্কিত
আর কি ফিরবে না হায় ভোলা!
হোটেলের ভোজ খেয়ে          অর্থে সামর্থ্যে ক্ষয়ে
তনুমনে ধরে গেল জ্বালা।

এমনি সময়ে সে          ফিরে আসে অবশেষে
করজোড়ে করে নমস্কার,
জ্ঞানশূন‍্য দিকবিদিক          কহিলেম তাকে “ধিক,
তোকে আর নাহি দরকার।

দূর হ রে ঘর থেকে          কি করে যে আছি টিঁকে
ঈশ্বরই জানেন একমাত্র,
নেই বলা নেই কওয়া          সহসাই চলে যাওয়া
ভোলা তুই এ কেমন ভৃত‍্য !”

তবু ভোলা করজোড়ে          দাঁড়ায়ে রহে সে ঘরে
আঁখি দুটি তার ছলোছলো,
বলে - “বাবু, যাব কোথা          আমার মনের ব‍্যাথা
তুমি বিনা কে বুঝবে বলো!

সেদিন কাকভোরে          তখনও ঘুমঘোরে
দেখিনু স্বপন ভারী মন্দ,
গ্রাম মোর বাণভাসি          জলস্রোত রাশিরাশি
জায়া কন‍্যা বাঁচে কিনা সন্দ।

কাণ্ডজ্ঞানহারা আমি          ক্ষমো মোরে গৃহস্বামী
দিতে নারি কোন সন্দেশ,
ছুটে গেছি মোর গ্রামে          খাসিমারা চর ধামে
দেখি হায় সব কিছু শেষ!

ভোরের স্বপন হায়          সত‍্যই মিলে যায়
ঘরদোর পেলেম না খুঁজে,
রাতের ভয়াল বন্যা          ভেসে গেল জায়া কন‍্যা
কষ্ট সব সহি মুখ বুজে।

অপেক্ষার অবসানে          ফিরিনু তোমার টানে
মোর সনে হয়োনাকো রুষ্ট,
আশয় না দিলে মোরে          যাব কোথা সংসারে
সহিতে পারি না আর কষ্ট।”

সব শুনি’ বাকরুদ্ধ          শোকানলে আমি দগ্ধ
বিনা মেঘে নিদারুণ বাজ !
কহিলেম আমি তারে          “যারে ভোলা নিজ ঘরে
কাজকর্ম তোলা থাক আজ।”

অবাক করে সে মোরে          তার দৃপ্ত কন্ঠস্বরে
বলে - “বাবু, কাজে নয় ফাঁকি,”
যায় ফিরে নিত‍্যকর্মে          তৃপ্ত সে স্বধর্মে
কোন কাজ নাহি পড়ে বাকি।

আমি তারে দেখি রোজ          দুখের মাঝেও খোঁজ
পেয়েছে সে সুখের ঠিকানা,
সে মোর ভৃত‍্য নহে          মিত্রই তারে কহে
ভোলাকে নতুন করে চেনা।

জীবনে চলার পথে          বিষাদসিন্ধু রথে
যে কিনা নিত‍্য আরোহী,
সে যদি শতেক ক্লেশে          জীবন কাটায় হেসে
সর্বশ্রেষ্ঠ মানব তারে কহি।

তেমনই মানুষ ভোলা          ঈর্ষা, দ্বেষ, দুঃখ, জ্বালা
চিত্তমাঝে নাহি কভু স্থিতি,
কর্মই ধর্ম তার          জীবনের সত‍্যসার
মিত্রে মোর জানাই প্রণতি॥

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি স্বপন চক্রবর্তী পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১১


একটু সময় চাই

তপন কুমার দেবনাথ

জীবনের ঘুঁটিগুলো সাজাতেই
সময় চলে গেলো অনেকটাই —
ওপাশে বসে আছে মহাকাল
যে কোনো সময়েই নিয়ে যেতে
পারে আমাকে, ওপারে...
কতো অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাঁচার
স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হয়
সযত্নে, অত্যন্ত সতর্কতায়!
জীবনের ঘুঁটিগুলো ঠিক মতো
সাজাতে না পারলেই ঘেঁটে
যাবে জীবনের পর্ব, যে কোনো সময়েই,
কাল পেরিয়ে যাবে আরও
কালের অন্ধকার গুহায়, দিশেহারা
জীবনের সময়গুলো এলোমেলো
হবে যদি জীবনের ঘুঁটিগুলো
ঠিক মতো সাজানো না হয়!
মহাকাল, দোহাই তোমার
একটু সময় দিও বেঁচে থাকার...

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি তপন দেবনাথ পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১২


প্রিয় সখি

তপতী বিশ্বাস কর্মকার

আরেকটিবার ওঠ না সখি
                তাকা মেলে চোখ,
নতুন করে তোর সঙ্গে
                আবার দেখা হোক।

আকাশ পানে উড়বো আবার
                আমরা দুজন মিলে,
ক্লান্ত হলে খুব বসবো গিয়ে
                বট বৃক্ষের ডালে।

একটুখানি ডাক না সখি
                প্রিয় নামটি ধরে,
জড়িয়ে নিয়ে কর না আদর
                বড্ড ইচ্ছে করে।

কোন ঠিকানায় গেলি রে তুই
                আমায় একলা ফেলে,
বুকের ভিতর করছে জ্বালা
                বলবো কাকে খুলে।

তোকে ছাড়া বৃথাই জীবন
                শূন্য হলো যে সব,
চোখের জল সঙ্গী এখন
                বন্ধ আমার কলরব।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি তপতী কর্মকার পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৩


ছায়াপথ

সৌম্যজিৎ মুখার্জ্জী

সন্ধা ঘনিয়ে এসেছে,
তখনো গাঢ় অন্ধকার নামেনি,
আকাশের গায়ে লেগে আছে
দিনের শেষ রক্তিম আভা,
চিক্ চিক্ করে জ্বলছে-নিভছে আলো,
না নাহ, জোনাকি নয়,
কোনো গ্রাম বা শহরের
নিশিযাপনের প্রস্তুতি...!!

অবশেষে সম্মুখীন হল
নিকষ কালো আঁধার,
যার কালিমায় হার মানে
অমাবস্যার আকাশ,
মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে
ধোঁয়াশার ঘেরাটোপ,
আকাশের লক্ষ তারার মত
মনের সহস্র ইচ্ছা প্রদীপও
আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে,
ভয়ানক স্বপ্নের মতো আঁধার
ভরেছে দু'চোখের পাতা,
ছড়িয়েছে শিহরণ
ধমনী-শিরায়,
নিদ্রা গেছে জড়িয়ে
কোনো এক অজানা মায়াজালে,
ফেরবার পথ সব রুদ্ধ...!!

ঠিক সেভাবেই নিভছে জ্যোতি
অমলিন মানবিকতার,
তলিয়ে যাচ্ছে গাঢ় অন্ধকারে,
যার শুরু থাকলেও শেষ নেই,
মিশে যাচ্ছে মলিনতার
নিখাদ পঙ্কিল ছায়াপথে...!!!!

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সৌম্যজিৎ মুখার্জ্জী পেয়েছেন সর্বমোট ৩১ জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৪


অগ্রদুতের আকাঙ্খায়

কাজী সেরিনা খাতুন

বিশ্ব আজ কলুষিত ।
মানবতা অশুচিত ।
কোথায় সেই সত্যবান ।
করি তার আহ্বান ।
মন্দিরে মসজিদে ঘর্ষণ ।
শিক্ষার আলো বিসর্জন ।
আয়রে অগ্রদুৎ চক্রবান ।
চাই অমঙ্গলের অবসান ।
নারী শরীরের লালসা ।
আঁধারে লোভাতুর পিপাসা ।
আয়রে গেয়ে প্রলয়ের গান ।
ছুঁড়ে দে তোর বিধ্বংসী বান ।
ষড়যন্ত্রের ক্ষুধার্ত দাঁত ।
রক্তের গন্ধে মাতাল ফাঁদ ।
তোর আগমনের আমরা প্রতীক্ষমান ।
স্তব্ধ হোক মানবতার অপমান ।
স্বজনপোষণের এই ঘোরে ।
প্রকৃত প্রতিভা গুমরে মরে ।
চলরে মোরা গড়ব মহান ।
মানবহিতৈষী নিদান ।।

কে আছিস বীর ভয়াল ।
কে ধরবি আলোর মশাল ।
আয় রে তোরা নির্ভীক প্রাণ ।
মঙ্গলের করি জয়গান ।
বন্ধ হবে অস্ত্র-নিনাদ ।
আঁধারে গড়ব আলোর প্রাসাদ ।
মিলনের স্রোতে হবো বহমান ।
বাজাবো প্রলয়বিশান ।।

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি কাজী সেরিনা খাতুন পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



কবিতা ১৫


বাংলা আমার জীবন মরণ

সামসুজ জামান

বাংলা আমার জীবন মরণ বাংলা আমার প্রাণ।
বাংলা আমার ভালবাসা বাংলা আমার মান।
বাংলা আমার ধুলোর কনা ভরা নদীর জল
বাংলা আমার পদ্ম পাতায় শিশির টলমল।
বাংলা আমার কাঠফাটা রোদ মিষ্টি বাঁকা চাঁদ।
বাংলা আমার মিছিল স্লোগান অত্যাচারীর ফাঁদ।
বাংলা আমার ভাবের জগত কল্পনা চিন্তন।
বাংলা রে তুই আছিস জুড়ে আমার হৃদয় মন।

বাংলা তোকে বিদেশীরা করলো রে নিঃস্ব।
বাংলা তোকে তবুও তো আর ভোলেনি বিশ্ব।
বাংলা তোকে টুকরো করে করলো যে খান খান।
বাংলা রে তোর হয়নি ক্ষতি, বাড়লো রে তোর টান।

বাংলা আমার নিশার স্বপন,বাংলা রাতের ঘুম।
বাংলা আমার গোপন প্রিয়া কপালে দেয় চুম।
বাংলা আমার মাথার মণি বুক ভরি নিশ্বাস।
বাংলা আমার বুকের রক্ত আবেগ আর উচ্ছাস।
বাংলা আমার দুঃখিনী মা, অথবা স্নেহ
বাংলা আমার বাড়ির উঠোন, শান্তি ভরা গেহ।
বাংলা আমার মন্দির মসজিদ গির্জা পীরস্থান।
বাংলা রে তোর পরশ পেতে হৃদয়ে আনচান।

বাংলা তোকে মাথার দিব্যি মানবোনা আর হার।
বাংলা তোকে রক্ত দিয়ে আনবো রে জোয়ার।
বাংলা তোকে করতে আদর হয়েছি খবর।
বাংলা রে তোর অশ্রু জলে ভিজল ভাই-এর কবর।

বাংলা আমার গাছগাছালি বাংলা দিঘির ফুল।
বাংলা আমার দিগন্ত মাঠ বাংলা নদীর কূল।
বাংলা আমার বাউল বাতাস রাখালিয়া সুরে।
বাংলা আমার পুবের সূর্য উদাসী দুপুর।
বাংলা আমার পানের বরজ পাখির মিষ্টি গান।
বাংলা আমার শ্যামল মাটি আউশ আমন ধান।
বাংলা আমার কৃষ্ণ হরি আল্লাহু আকবর।
বাংলা রে তুই ঘুঁচিয়ে দিলি বিভেদ আপন পর।

বাংলা তোকে কাড়তে এলে করব এবার পণ।
বাংলা তোকে বলছি আমার হৃদয় রণাঙ্গন।
বাংলা তোকে জান দিয়েছি একুশে ফেব্রুয়ারি।
বাংলা রে তোর সোনার ও মুখ ভুলতে কি আর পারি!

ভালো লাগলে উৎসাহ দিন
কবি সামসুজ জামান পেয়েছেন সর্বমোট জন পাঠক / পাঠিকার উৎসাহ



আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
1 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Bengali Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top