Go to Bangali.Network
Go to Bangali.Network



লেখা পাঠান


আমাদের কথা
Contests

উদ্যোগ
Web Magazine


উদ্যোগ Web Magazine
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
Glocal বাঙালি | Vocal বাঙালি
অনুরাগের উষ্ণতা
অনুরাগের উষ্ণতা

অনন্যা কাজ থেকে ফিরে ফ্ল্যাটের দরজায় চাবি খুলে ভেতরে ড্রয়িংরুমে সোফায় হেলান দিয়ে বসে পড়ল। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কিন্তু তাঁর চোখের জল মোছানোর কেউ নেই। থাকবেই বা কী করে? টু-বি-এইচ-কে ফ্ল্যাটে একদম একা থাকে। ফুলের মতো জীবনটা যেন তেজপাতা হয়ে গেছে, শুকিয়ে। ভাবে অনন্যা, জীবন কত কিছুই না দেখায় সময়ে সময়ে।

হঠাৎ ডোরবেল বেজে উঠল। অনন্যা এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতেই খুশি একগাল হেসে বাইরে দাঁড়িয়ে।

অনন্যা: হ্যাঁ রে, এ কী সাজ তোর?

খুশি: এই যে দিদি, কাছেই একটা বিয়েবাড়িতে কাজ ছিল। ফেরার পথে ভাবলাম, তোমার সঙ্গে একবার দেখা করে যাই।

খুশি খুব সাদামাটা নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। শহরের বস্তিতে একটি ঝুপড়িতে থাকে। আঠারো বছর বয়সেই দিনমজুর বাবা মাতৃহারা কন্যার বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল রাজমিস্ত্রি পাত্রের সঙ্গে। খুশির পড়াশোনা ভালো লাগত না। স্কুলেও অনিয়মিত ছিল। তাই কোনোমতে মাধ্যমিক দিয়েই লেখাপড়ায় ইতি টেনে দু-চার বাড়িতে কাজ নেয়। এক-দু'বাড়িতে রান্নার কাজও করে।

যাতায়াতের পথে সুমন মিস্ত্রির সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো। নতুন ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি হচ্ছে। সুঠাম স্বাস্থ্য, হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল যুবকটি হাঁ করে তাকিয়ে থাকত, খুশি যখন যেত। একদিন সুমন ওর কাছে এসে নাম জিজ্ঞাসা করলে খুশি মৃদু হেসে চলে যায়। কয়েক মাস পর যুবকটি প্রেমের প্রস্তাব দিলে খুশি বলে, "দেখো, প্রেম-ট্রেম করার সময় আমার নেই। পাঁচ বাড়ি কাজ করে পেট চালাতে হয়। বিয়ে করবে তো বলো?" সুমনও রাজি হয়ে যায়। দেখাশোনা পর্ব শেষে এক মাস পরে কাছের একটি কালীমন্দিরে ওদের বিয়ে হয়।

সংসার বেশ সুখেই চলছিল। একটি পুত্রসন্তানও হয়। বছর দুই পর হঠাৎ একদিন ওদের জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। সুমন ফ্ল্যাটবাড়ি প্লাস্টারের সময় বাঁশের সিঁড়িতে পা পিছলে উঁচু থেকে পড়ে যায়। হাসপাতালে যাওয়ার সময়েই ও মারা যায়। খুশি অথৈ জলে পড়ে। সংসার চালাবে কী করে? বছর দুয়েকের বাচ্চাটি খাবে কী? সুমন বেঁচে থাকাকালীন কোনো বাড়িতে কাজ করতে দেয়নি খুশিকে।

খুশি কাজের সন্ধান করতে করতে একদিন অনন্যার ফ্ল্যাটের সামনে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। অনন্যা তখন অফিস বেরোবে বলে তৈরি হচ্ছিল। ড্রাইভার কার পার্কিং থেকে গাড়ি আনতে গেছে। হঠাৎ দেখে একটি মেয়ে ফ্ল্যাটের গেটের বাইরে পড়ে গেল। সিকিউরিটি গার্ডকে ডাক দিতেই এগিয়ে এলো। নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতলটা বার করে চোখে-মুখে জল ছিটিয়ে ড্রাইভার ও গার্ডের সহায়তায় পার্কিংয়ে নিয়ে এলো।

কয়েক মুহূর্ত পরে ওর জ্ঞান ফিরলে হাউহাউ করে কেঁদে অনন্যার পা দুটো জড়িয়ে ধরে বলল, "একটা কাজ দাও না দিদি, দু-বছরের ছেলেকে নিয়ে একরকম অর্ধাহারে দিন কাটছে।" অনন্যার দেরিও হচ্ছে। কিন্তু মেয়েটির কাতর আর্তনাদ উপেক্ষা করে যেতে পারল না। "আগামীকাল সকাল আটটায় আমার ফ্ল্যাটে এসো, দেখি কী করতে পারি তোমার জন্য।"

পরের দিন সকাল আটটায় কলিংবেলের আওয়াজ। ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি থেকে ফ্ল্যাট নম্বরটা জেনে ঠিক সময় পৌঁছে গিয়েছিল। অনন্যা দরজা খুলতেই হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে খুশি। "ভেতরে এসো। তোমাদের ইউনিয়নে নাম লেখাওনি?"

"না দিদি, আমি ওসব ইউনিয়ন, অফিস জানি না। সেরকম একটা পরিচিতিও নেই আমার।"

এই বলে কাঁদতে কাঁদতে জীবনের কিছু গল্প অনন্যার সামনে গড়গড় করে বলে গেল। ওকে দেখে অনন্যার খুব মায়া হল। "কত সংসার খরচ লাগে তোমার মাসে?"

"এই দিদি, হাজার পাঁচেক টাকা হলে মা-বেটার চলে যায়।"

"ঠিক আছে, আমার বাড়ির ঘরের কাজ, রান্নার কাজ সব তুমি দেখবে। তোমাকে আর কোথাও কাজ করতে হবে না, আমার বাড়িতেই কাজ কোরো। আমি সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাইরে থাকি।"

মৌখিক চুক্তিতে রাজি হলো খুশি। গত কুড়ি বছর কাজ করছে খুশি অনন্যার কাছে। কাজের লোক কখন কাছের লোক হয়ে গেছে, দুজনেই বুঝতে পারেনি। সুখ-দুঃখের অনেক আলোচনা দুজনের মধ্যে হয়। সকাল সাতটায় কাজে আসে, দশটায় কাজ শেষ করে বেরিয়ে যায়। অনন্যা ওকে একটি মোবাইলও কিনে দিয়েছে। মোবাইলের অতশত বোঝে না, কোনোরকমে ফোনটুকু করতে পারে।

খুশির ছেলে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। এখন কলেজে পড়াশোনা করে, শেষ বর্ষের ছাত্র। অনন্যা ওর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছে। অনন্যাকে "ভালো আন্টি" বলে ডাকে। মাঝেমধ্যে অনন্যা বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ফোন করে খুশিকে ডেকে নেয়, যখন নিজের শরীর খারাপ হয় বা একাকীত্ব গ্রাস করে তাকে।

খুশি লক্ষ্য করল, দিদির গালে জলের দাগ। সরাসরি জিজ্ঞাসা করল, "দিদি, তোমার মুখটা এমন থমথমে লাগছে কেন?"

অনন্যা: কোনোমতে লুকিয়ে, ওসব বাদ দে। তুই কিছু খাবি এখন?

খুশি: বিয়েবাড়িতে অনেক কিছু খেয়েছি। এখন এক গ্লাস জল খাব!

অনন্যা ফ্রিজ থেকে জলের বোতলটা এনে দিল।

অনন্যা একা মানুষ। রাতে এখন ঝাল-মশলাদার বা ভারী খাবার খায় না। হালকা মসলা বা শাকসবজি সেদ্ধ খায়। আমিষ বলতে মাঝে মাঝে মাছ। খুশি খানিকক্ষণ একথা-সেকথা বলেই চলেছে। ও কথা শুরু করলে শেষই হয় না। একথা-সেকথা। অনন্যা বলল, "রাত হচ্ছে খুশি। তুই কি আজ রাতে এখানে থাকবি, না বাড়ি যাবি?"
খুশি বলল, "ছেলেটা আজ বাড়ি ফিরবে, এবারই যাই দিদি।"
অনন্যা: ঠিক আছে, সাবধানে যাস।

এগিয়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে ড্রয়িংরুমে বসলো। কিছুক্ষণ পর এক কাপ ব্ল্যাক কফি বানিয়ে খেয়ে বাথরুমে ফ্রেশ হতে গেল।

রাতে এখন কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না। মন ভালো নেই। কী করবে? একটু স্যুপ বানিয়ে খেল। এসির রিমোটে টার্বো কুল মোড দিয়ে শরীরটা এলিয়ে দিল বিছানায়। আজ মনটা খুব খারাপ, শরীরটা আনচান করছে। কিছুতেই ঘুম আসছিল না। গতকাল বাবা ও মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। কার অ্যাক্সিডেন্টে একসাথে দুই বয়স্ক দম্পতি রাস্তার হাইওয়েতে — সব শেষ। ভাবতে ভাবতে কত স্মৃতি ভিড় করে আসছে চোখে।

জেদি, একগুঁয়ে, স্বাধীনচেতা অনন্যা। নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রেমিক — সকলকে ত্যাগ করে, স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পাড়ি দিয়েছিল দূরের শহরে।

কলেজে পড়ার সময়ই বাবা-মা বিয়ের যোগাযোগ করছিল। কিন্তু অনন্যার তাতে সায় ছিল না। সুন্দরী, ফর্সা, স্লিম ও আধুনিকমনস্ক অনন্যা অনেক প্রেমের আমন্ত্রণ পেয়েছিল জীবনে। একদিন ওর বাবা নিজের পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে ফাইনাল জানালে অনন্যা ওর বাবাকে বলেছিল — "আমাকে কয়েক মাস সময় দাও। দেখি কিছু করতে পারি কিনা, তারপর না হয়!"
বাবা: যা কাণ্ড তুমি ঘটিয়েছ, তাতে আর কোনো উপায় নেই। লোকসমাজে মুখ দেখাতে হবে তো, নাকি! তোমার মায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়ে গেছে। ব্যস।

কলেজের পড়াশোনা চলাকালীন বিউটিশিয়ান কোর্স করেছিল। স্কুলে পড়াকালীন হাতখরচ নিজেই চালাত টিউশনি পড়িয়ে। আধুনিকা অনন্যা। কলেজে দু-একটা সিগারেটের টান বা দু-এক পেগ মদও চলত মাঝেমধ্যেই পার্টিতে। পোশাকের উপর ওর যেন একটা আলাদা আসক্তি ছিল — ফোবিয়া বলা যায়। মাসে অন্তত কয়েকবার শপিং মলে না গেলে ওর ঘুম হতো না। আলমারি ভর্তি হয়ে উপচে পড়ছে নানান বাহারি পোশাক। একটা ড্রেস একবার পড়লে ও আর দ্বিতীয়বার পড়বে না। ওর নেশা ছিল অভিনেত্রী হওয়ার, একটা প্যাশন ছিল মনে মনে। বন্ধু-বান্ধবী নেহাত কম ছিল না। বখাটে সুন্দরী বললেও ভুল হবে না ওকে। বন্ধুমহলে গভীর রাত পর্যন্ত খুনসুটি বা মোবাইল চ্যাটিংয়ে বেশ অভ্যস্ত। এইভাবেই বেশ চলছিল, কিন্তু হঠাৎ বাড়ির চাপে বিয়ের তোড়জোড়ে বি-এড কোর্সটা সম্পূর্ণ করেনি।

এর মধ্যে আবার অভিষেক বলে একজনের আগমন ঘটে ওর জীবনে। কলেজের ক্যান্টিনে ওরা কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিল ক্লাস বাঙ্ক করে। কলেজে নতুন সেশন। কিছুদিন পর আবার নবীনবরণ — এই নিয়ে প্ল্যান চলছিল ওদের কার্যকরী কমিটির মধ্যে। কলেজের সোশ্যাল যেন একটা আলাদা উন্মাদনা। ওই দিনের প্রোগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা চলছে। মোমো, কফির সঙ্গে স্যান্ডউইচ — যার যা পছন্দ খাচ্ছে।

ক্যান্টিনে কয়েকটা টেবিলের মধ্যে কোণে একজন সাদা টি-শার্ট ও জিন্স পরা ছেলেটি অনন্যার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অনন্যার পাশে থাকা সুইটি ব্যাপারটা লক্ষ্য করলে অনন্যাকে ফিসফিস করে কানে বলছে, আর ওরা হাসাহাসি করছে। অনন্যা ছেলেটির দিকে তাকালে ছেলেটি চোখ নামিয়ে নিয়ে মোবাইল ঘাঁটছে। এরকম বেশ কিছুক্ষণ চলতে থাকে। হঠাৎ অনন্যা উঠে গিয়ে বলে —
"এই যে, আপনার কী ব্যাপার বলুন তো? আপনি কে? এরকম হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?"
ছেলেটি নিরুত্তর।
অনন্যা বেশ খানিক কড়া কড়া কথা বলছিল ছেলেটিকে। হঠাৎ ওর বন্ধুরা এসে অনন্যাকে নিয়ে চলে গেল।

কলেজ সোশ্যালের প্রোগ্রাম চলছে, এমন সময় অভিমন্যু সরকারের নাম ঘোষণা করা হলো। শেষ বর্ষের ছাত্র, গান তার প্যাশন। গিটার বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাইল, হাততালিতে হল ভরে উঠল। অনন্যাও ছিল নৃত্যশিল্পী। কলেজের জিএসকে বলে ওকে আরেকটি গান গাওয়ার অনুরোধ করা হয়, নিজে সেই গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৃত্য পরিবেশন করল। অপূর্ব মেলবন্ধন দুজনের। দর্শকাসন হাততালিতে মুখর।

অনুষ্ঠান শেষে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। প্রাথমিক পরিচয়পর্ব হলো।
অনন্যা: আপনি সেদিন আমার কথায় কিছু মনে করেননি তো?
অভি: আরে না, না। সত্যিই তো তাই।
অনন্যা: আপনি দেখছিলেন তো আমাকে এক দৃষ্টিতে।
অভি: ওই, আর কি!
অনন্যা: আপনার ফোন নম্বরটা বলুন।
অভি বলল।
অনন্যা: লিখে রাখলাম। মাঝে মাঝে বিরক্ত করব কিন্তু।

এবার দুজনে একটু হেসে কলেজ থেকে বেরিয়ে যে যার গন্তব্যে চলে গেল।

ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকল, সম্পর্ক প্রায় দুই বছর। একদিন ওরা বেড়াতে গিয়েছিল পার্কে দুজনে। শীতের আমেজে গোধূলির আলোয় পার্কের পরিবেশ, বাগানের ফুলগুলি বেশ সুন্দর লাগছিল। একটা কাঠের বেঞ্চে ওরা দুজন বসল। হঠাৎ অনন্যা গুনগুন করে গান করল, "মনেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।" অভিমন্যু অনন্যার হাতে হাত রেখে প্রেমের প্রস্তাব দিল। অনন্যা সহাস্যে "ধ্যাত" বলে উঠে চলে গেল। কিন্তু ভালোবাসার অদৃশ্য টান কতক্ষণ বাধা না পড়ে থাকবে, অনু?

এর কয়েক মাস পর একদিন অনু অভিমন্যুর বাড়ির পাশ দিয়েই যাচ্ছিল। দুপুরে হঠাৎ মেঘ কালো করে আকাশভাঙা বৃষ্টি এলো। অনন্যা ভিজে গেছে। অভির বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে কলিংবেল বাজাল। অভি এসে দরজা খুলল। অনন্যাকে এই অবস্থায় দেখে বলল, "ভেতরে এসো।" তাড়াতাড়ি একটা টাওয়েল এবং মায়ের শাড়ি নিয়ে এসে অনুকে দিল। অনুর ড্রেস বদলানোর জন্য বেডরুম দেখিয়ে দিল অভি।

অভি বাড়িতে কেউ নেই জানাল। "কফি খাবে অনু?" মাথা নাড়িয়ে বেডরুমের দিকে চলে গেল। কফি বানিয়ে আনছে, এমন সময় ভেতর থেকে অভির মোবাইলটা বেজে উঠল। অভি দরজায় নক করল। অনন্যা দরজা খুলে দিলে অনন্যাকে দেখে অভি নির্বাক। অনন্যা অভির হাত ধরে টানল। দুজন দুজনের অন্তরঙ্গ হলো।

বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে। অনন্যার হঠাৎ গা গোলায়, বমিও হচ্ছে। অনন্যার মা কিছু একটা সন্দেহ করে ওকে একজন গাইনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। গাইনি ডাক্তার প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দিলেন। অনন্যার রেজাল্ট পজিটিভ। অনন্যার মাকে ডেকে পাঠালেন চেম্বারে। ডা. সান্যাল আগেই জেনেছেন, মেয়েটির বিয়ে হয়নি। কিন্তু ওর মাকে সরাসরি বলবেন — কী করে ভাবছেন।

ওর মা দরজা ঠেলে ভেতরে এলে ডাক্তার বললেন, "খবরটা আপনাকে কীভাবে দিই! যাই হোক, বলতে বাধ্য হচ্ছি — আপনার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা।" শুনেই অনন্যার মা কেমন একটা হয়ে গেলেন। কাঁদতে কাঁদতে মাথায় হাত দিয়ে বললেন, "অনু, আমাদের রায় পরিবারের মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিলি। তোকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। আমাদের কোনো পুত্রসন্তান নেই, কিন্তু কোনো খেদও ছিল না। তোকে আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আর সেই তুই! ছি!"

অনন্যা: মা! বাড়ি ফিরে কথা বলি।

ওর মনে কিন্তু কোনো আফসোস নেই। ওরা ঘরে এলো। অনুর মা সুপ্রিয়া দেবী স্বামীকে কীভাবে বলবেন ঘটনা, তার কোনো ভাষা খুঁজে পেলেন না। ওর বাবা জানলে কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে দেবে। ওর সঙ্গে ওর মায়ের বেশ কথা কাটাকাটি হতো মাঝেমধ্যে। লোকসমাজে মুখ দেখাবে কী করে? এসব ভাবতে থাকেন, গুমড়ে গুমড়ে থাকতেন সুপ্রিয়া। একদিন রাতে অনুর বাবাকে জানালেন।

অনন্যার বাবা অনু, অনু করে চিৎকার করতে লাগল।
অনন্যা: একটু বিস্তৃত ভয়ে, হ্যাঁ বাবা।
বাবা: ঘেন্না, রাগ, অপমানে বললেন, স্নেহ, অবাধ স্বাধীনতা, ভালোবাসার অপমান করেছ তুমি। এখন দুটো উপায়। হয় অ্যাবরশন করিয়ে নাও, না হলে আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।

অনন্যা কাঁদতে কাঁদতে ওর রুমে চলে গেল।

পরের দিন ভোরে বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে একটা চিঠি লিখে অন্তর্ধান হয়। চিঠিতে লেখা ছিল —
"প্রিয় বাবা-মা,
আমি তোমাদের ছেড়ে চললাম স্বাধীনভাবে বাঁচতে। ভয় নেই, মরব না, নিরুদ্দেশ হলাম। অভি খুব ভালো ছেলে। আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোরো না। কারণ যে নিজে থেকে হারিয়ে যায়, তাকে কেউ খুঁজে পায় না।
ইতি
তোমাদের অনু।"

সেদিন ভোরে অভির বাড়িতে গিয়েছিল অনু। অভি মেনে নিলেও অভিমন্যুর বাবা-মা কিন্তু মেনে নেয়নি, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিল অনুকে। অভিমন্যু তখন এমটেক পড়ছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনুকে নিয়ে সংসার বাঁধবে কী করে — কোনো রোজগার নেই! অনুকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্নই রয়ে গেল, বাস্তব পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ও অনুকে বিদায় জানাল।

অনন্যার বিশ্বাস ছিল, অভি মেনে নেবে। হতাশায়, দুঃখে, অপমানে ওখান থেকে বেরিয়ে সোজা পরিচিত গাইনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে সবটা খুলে বলল। একা একটা মেয়ে, যার নিজেরই কোনো ঠিক ঠিকানা নেই, সে কীভাবে জন্ম দেবে একটা নতুন প্রাণের এই পৃথিবীতে?

ডাক্তারের পরামর্শে অ্যাবরশনও করিয়ে নিল। এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না ওর কাছে। হয়তো এরপর বাড়ি ফিরতে পারত, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান? না। আর বাড়ি ফেরা হয়নি।

এরপর কুড়ি বছর কেটে গেছে। অনন্যার নিজস্ব বিউটিশিয়ান হাব রয়েছে। রূপচর্চার পাশাপাশি বিউটিশিয়ান কোর্সের ডিপ্লোমা ও প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা আছে সেখানে। সরকার-অনুমোদিত সার্টিফিকেট দেওয়া হয় কোর্স শেষে। অনেক মেয়েই স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। তাই ছাত্রীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। মোটামুটি সচ্ছল ভাবেই তাঁর জীবন চলে যাচ্ছিল।

সারাদিন কাজ করার পর রাতে যখন বাড়ি ফেরে, একাকীত্ব যেন তাকে গ্রাস করে দিনের পর দিন। একটা সময়ের পর মানুষ আর একা থাকতে পারে না, বলাবাহুল্য একা বাঁচতে ইচ্ছেও করে না।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী বরাবর লতানো গাছের মতো। কাউকে না কাউকে অবলম্বন করে তাকে জীবনে বাঁচতে হয় — এটাই নিয়ম, চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবুও জীবনের বাঁধা ছক, চেনা গণ্ডির বাইরে অনন্যার এই পথচলা প্রশংসার দাবি রাখে ওর জীবনে।

ও যে ফ্ল্যাটে থাকে, ওখানে কয়েকটি পরিবার থাকে, কিন্তু পুজো বা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া কোনো যোগাযোগ নেই কারও সঙ্গে। যেমনটা হয় শহরাঞ্চলে — ফ্ল্যাটে বসবাসকারী পরিবারের লোক পাশের ফ্ল্যাটের লোককে চেনে না। শহরের উঁচু উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িগুলো যেন কংক্রিটের জঙ্গল। মানুষ যেন যন্ত্রচালিত হয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞানের যত উন্নতি হচ্ছে। মেট্রো, বাসে প্রায়ই দেখা যায় ঘাড় হেঁট করে বা কানে ব্লুটুথ হেডফোন গুঁজে অনেককে মোবাইল ঘাঁটতে। পাশের সিটে কে বসল, বা কী বলল — কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

যখন মোবাইল ছিল না, মানুষ ছিল মুক্ত। এখন মোবাইল মুক্ত, মানুষ বন্দী হয়েছে তার নিজের হাতের মুঠোয়।

অনন্যা সেন্টারে যাতায়াতের পথে এইসব লক্ষ্য করে। এই চল্লিশ বছর বয়সে মোবাইল ঘাঁটার বাতিক নেই। সোশ্যাল সাইট, বন্ধু — সব যেন একটা ফানুস লাগে তার কাছে। কেমন যেন অকৃত্রিম সব। আছে, কিন্তু না থাকার মতো। স্বার্থ ছাড়া কেউ কারও খবর রাখে না এখন, কারণ সময়ের মূল্য যে অমূল্য।

অনন্যার স্মৃতিতে মনে পড়ে যায় অনেক কিছু — ওর অনাগত সন্তান, বাবা, মা, এখন আর পৃথিবীতে নেই। ওর প্রিয় কুকুর পোমেরেনিয়ান, যাকে ও খুব ভালোবাসত। স্মৃতিতে আরেকটি মানুষের ছবি ভেসে ওঠে।

স্মৃতির পাতায় খোঁজে সেই দিন, যেদিন বাড়ির কাছে একটি মধ্যবয়সি যুবকের সঙ্গে ওর দেখা হয়েছিল। ওর দাদার সঙ্গে পুরুষটির পরিচিতি ছিল। পুরুষটি ওকে দেখামাত্রই প্রেমে পড়েছিল। কিন্তু ওকে বুঝতে দেয়নি প্রথমে। কিন্তু নারীর চোখে ধরা পড়বে না — তা তো হয় না। এ তো ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা। পুরুষের দৃষ্টি কী চাইছে, তা নারী ভালো করে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারে।

ফোন নম্বর আদানপ্রদান হলো। মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হতো কয়েক মিনিট। প্রেমালাপ ঠিক নয় — সাংসারিক জীবন, স্বাবলম্বী হওয়া, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, নানারকম আলোচনা চলত বন্ধুর মতো। কোথায় কী চাকরির ভ্যাকেন্সি বেরোচ্ছে, কীভাবে অ্যাপ্লাই করতে হবে — ইত্যাদি। অনন্যা খুব ব্যস্ত থাকত ওর বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়ির কনে বা আত্মীয়ার মেকআপ সিডিউলে।

কয়েক দিন পর অর্ণব ওকে প্রপোজ করে, মনের কথা খুলে জানায়। অর্ণবের ডিভোর্স মামলা চলছে। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি, ওঁর স্ত্রী মানসিক রোগগ্রস্ত ছিল। তাই অনেক ঝুটঝামেলা, অশান্তির পর নিজে থেকেই অর্ণব বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করে। অনন্যাকে সব খুলে বলেছিল। কিন্তু অনন্যার তরফ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে যোগাযোগ কমে যায় ধীরে ধীরে।

অর্ণব বিশিষ্ট লেখক ছিলেন। বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে। নামীদামি পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিনে দেশে-বিদেশে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ওনার অনেক সুনাম আছে লেখা ও কাজের সূত্রে।

এদিন খবরের কাগজ পড়ে অনন্যার মনটা বেশ খারাপ হয়েছিল। অর্ণব আজ মারা গেছেন, আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অনন্যা নিজের সেন্টার দেখছে বটে, কিন্তু মনটা ভালো নেই। কেমন যেন মনটা হু হু করছে। স্মৃতিরা ভিড় করছে মনে।

একটা বড় গাড়ি এসে থামল। একটি বছর-কুড়ির তরুণী ও একজন বয়স্ক ভদ্রলোক। রিসেপশনে গিয়ে নামটা বললে রিসেপশনিস্ট জানালেন, "হ্যাঁ ম্যাডাম, আপনার নামে বুকিং আছে। এই টোকেনটা নিয়ে আপনি ওই দিকে চলে যান।"
তরুণী: আমার সঙ্গে বাবা এসেছেন। তিনি রিসেপশনে অপেক্ষা করবেন?
রিসেপশনিস্ট: হ্যাঁ।

মেয়েটি ভেতরে কাঁচের দরজা ঠেলে চলে গেল। এক কাপ ব্ল্যাক কফি চলে এলো। বয়স্ক ভদ্রলোকটি কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে ম্যাগাজিন নাড়াচাড়া করতে লাগলেন। মোবাইল বেজে উঠল।

"হ্যালো মহুয়া, হ্যাঁ, আমরা পৌঁছে গেছি অনেকক্ষণ। সুমি ভেতরে আছে। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে বলল। ওর হয়ে গেলে আমি তোমাকে ফোন করছি। তুমি চিন্তা কোরো না। ওনার তো সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায় সময় আসবেন বলেছেন। আমার সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। এখন তো বিকেল পৌনে পাঁচটা। ছটার মধ্যে আমরা বাড়ি ফিরছি, ওকে মহুয়া।"

অনন্যা কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। বাইরে লবিতে চোখ পড়লে ও থমকে গেল কিছু মুহূর্ত। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে রিসেপশনিস্টকে ফোনে ডেকে পাঠালেন তাঁর কেবিনে।

রিসেপশনিস্ট: ম্যাডাম, আসব?
অনন্যা: হ্যাঁ। শোনো, বাইরে যে ভদ্রলোক বসে আছেন, তিনি কে? কেন এসেছেন?
রিসেপশনিস্ট: ম্যাডাম, ওনার নাম অভিমন্যু সরকার। ওনার মেয়ের আজ এনগেজমেন্ট। তাই উনিও সঙ্গে এসেছেন।
অনন্যা: ও। ঠিক আছে। শোনো, ওনার কাছ থেকে কোনো বিল নেবেন না। আমার একটা ভিজিটিং কার্ড শুধু ওর বাবাকে দেবেন, মোবাইল নম্বরটা মুছে দিয়ে। মনে রাখবেন, নম্বর যেন না থাকে। ওকে।

রিসেপশনিস্ট: ঠিক আছে ম্যাডাম। একটা প্রশ্ন করতে পারি ম্যাডাম?
অনন্যা: কী?
রিসেপশনিস্ট: উনি কি আপনার আত্মীয়?
অনন্যা: না! আর এর বেশি প্রশ্ন করবেন না।
রিসেপশনিস্ট: সরি ম্যাডাম। কিন্তু উনি জানতে চাইলে কী বলব?
অনন্যা: ওই জন্যই তো বললাম, ভিজিটিং কার্ডটা দেবেন। আর বলবেন, ম্যাডামের তরফ থেকে এটা গিফট, আপনার মেয়ের এনগেজমেন্টের জন্য। আর কিছু বলার দরকার নেই।

অনন্যা সেন্টার থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেল।

ফোনের রিং হলো। "বাপি, ব্রাইডাল মেকআপ রেডি হয়ে গেছে আমার।"
বয়স্ক লোকটি "হ্যাঁ মামনি" বলে তিনি রিসেপশনে বিল কাউন্টারটা জানতে চাইলেন।
রিসেপশনিস্ট: আপনার বিল পেমেন্ট হয়ে গেছে।
বয়স্ক ভদ্রলোকটি: মানে? কি বলছেন?
উত্তরে রিসেপশনিস্ট বললেন, "হ্যাঁ, আমি ঠিক কথাই বলছি। আপনার মেয়ের বিল পেমেন্ট হয়ে গেছে।"
"কিন্তু কে করল? আমি তো কোনো টাকা দিইনি?" মেয়ের দিকে তাকিয়ে, "হ্যাঁ রে মামনি, তুই পেমেন্ট করলি?"
সুমি: না তো বাপি!
বয়স্ক ভদ্রলোক: তাহলে? কী হলো ব্যাপারটা, ঠিক বুঝলাম না!

ভদ্রলোক রিসেপশনিস্টের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে। রিসেপশনিস্ট একটি ভিজিটিং কার্ড বার করে দিল।
"ম্যাডাম দিয়েছিলেন, আপনাকে দিতে।"
বয়স্ক ভদ্রলোক: ম্যাডাম?

ভিজিটিং কার্ডে চোখ পড়ল। খুব সুন্দর, সোনালি রঙের লেখা — "মিস অনন্যা রায়, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অনন্যা বিউটিক হাব।" মোবাইল নম্বরটি কাটা।

বয়স্ক ভদ্রলোকটি হতভম্ব হয়ে মেয়েটির দিকে, একবার কার্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। "আচ্ছা, আপনার ম্যাডামের কোনো ছবি আছে?"
রিসেপশনিস্ট ইশারায় দেখিয়ে দিলেন, "ওই যে, ওখানে রয়েছে, স্যার।"
তরুণীটি তাড়া দিচ্ছে, "চলো বাবা, মম ও গেস্টরা অপেক্ষা করছে। আমাদের ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গেছে।"

বয়স্ক ভদ্রলোকটি দেওয়ালে ছবির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ অচৈতন্য হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। দু-চারজন ছুটে এলো। চোখে-মুখে জল ছিটালে কিছুক্ষণ পর তাঁর জ্ঞান ফিরে এলো।

"তুমি ঠিক আছ তো বাপি? নিশ্চয়ই আজ প্রেশার বা সুগারের ওষুধ খেতে ভুলে গেছ। ওহ, তুমি না! তুমি আস্তে আস্তে ওঠো বাপি। কিছুক্ষণ সোফায় বসো।"
অভিমন্যু চোখ বুজে হেলান দিয়ে সোফায়। চোখ মুছে ভাবতে লাগলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর —
তরুণী: বাপি, ঠিক আছে তো এখন?
অভিমন্যু মেয়ের দিকে তাকিয়ে, "চল, উঠি।" বলে বেরিয়ে এলেন। দরজা ঠেলে বাইরে এসে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন।

ওদিকে ফ্ল্যাটে ফিরে বিছানায় ভাবতে ভাবতে অনন্যার চোখে বুজে এলো। ভাবতে থাকে, পৃথিবীতে এমন অনেক সম্পর্ক থাকে, যার কোনো নাম হয় না। কোনো বিশেষণই বোধহয় যথার্থ নয়। নাম দেওয়ার চেষ্টাও হয়তো করে না কেউ কেউ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কোনোদিন কোনো কিছুর প্রত্যাশা করে না।

অভিমন্যু যাকে অনন্যাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিল, অভিমন্যু ভালোবাসলেও তার ভালোবাসার মর্যাদা, বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেনি। অন্যদিকে অর্ণব যে প্রকৃতই অনন্যাকে ভালোবেসেছিল হৃদয় থেকে, অনন্যা তার ভালোবাসা স্বীকার করেনি। মনে মনে আফসোস হয় — ইস, সেদিন যদি অর্ণবকে গ্রহণ করতাম, ওর ভালোবাসা বুঝতে পারতাম, তাহলে হয়তো জীবনটা আজ অন্যরকম হতো।

কথায় আছে না — "নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে"।

কয়েক ফোঁটা জল চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল বালিশে...




আপনার ভোটেই নির্ধারিত হবে ‘মাসের সেরা কলম’

এখনই আপনার পছন্দ বেছে নিন

বিস্তারিত নিয়ম

প্রতিটি কলম প্রতিক্রিয়াই একবার করে দেওয়া যাবে, তবে প্রয়োজনে সেই প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করা সম্ভব। কোনো লেখায় একটি কলম প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পর, একই মাসে অন্য কোনো লেখায় সেই একই কলম প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করলে আগের প্রতিক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, রয়ে যাবে সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াটি। এই প্রতিক্রিয়াগুলির মাধ্যমেই নির্বাচিত হবেন ‘মাসের সেরা কলম’ সম্মানের ‘পাঠকের প্রতিক্রিয়া’ পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক–লেখিকারা।

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন?

‘উদ্যোগ’ ওয়েব ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যা ❛নববর্ষ ১৪৩৩❜ প্রকাশিত হবে ১৫ এপ্রিল। ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিভাগগুলি থেকে আপনার পছন্দের বিষয়ে লেখা পাঠান ১০ই এপ্রিলের মধ্যে। লেখা পাঠানোর আগে অতি অবশ্যই শর্তাবলী পড়ুন। নির্বাচিত লেখাগুলি লেখক / লেখিকার ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ Bangali.Network ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং ১২ জন পর্যন্ত লেখক / লেখিকা পাবেন 'মাসের সেরা কলম' সম্মান। বিশদে জানতে ও আপনার লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন

পৃষ্ঠা

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ডিসক্লেইমার : লেখা, মতামত, মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট লেখক / লেখিকা / সাক্ষাৎকারদাতার নিজস্ব এবং সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁদের উপরই বর্তায়। এই সমস্ত মতামত Bangali Network-এর নিজস্ব মতামত, অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। লেখক পরিচিতিতে প্রদত্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী প্রকাশিত। Bangali Network উক্ত তথ্যের যথার্থতা, সম্পূর্ণতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা প্রদান করে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায় গ্রহণ করে না।

ভালো লাগলে ভালোবাসা দিন
অপছন্দ হলে পরামর্শ দিন
মতামত জানাতে মন্তব্য করুন
0 0 ভোট
স্টার
guest
0 কমেন্ট
নতুন থেকে পুরোনো
পুরোনো থেকে নতুন ভোটসংখ্যা অনুসারে
ইনলাইন প্রতিক্রিয়া
সকল কমেন্ট দেখুন
ফেসবুক পেজ
Udyog Web Magazine by Bangali Network

বিভিন্ন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে লেখা পড়ুন

    বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়া লেখা পড়ুন

    মাসিক সংখ্যাগুলি দেখুন
    Scroll to Top