আগস্ট মানে ভারতের স্বাধীনতার মাস। ১৫ আগস্টে পতাকা ওড়ে, শহর ভরে ওঠে দেশাত্মবোধক স্লোগানে। কাগজের ত্রিবর্ণ পতাকা দিয়ে সাজানো হয় অলিগলি। কিন্তু পরদিন? সেই পতাকাগুলোই নর্দমায় ভাসে। দেশপ্রেমও কি তেমনই ক্ষণস্থায়ী? শুধু একদিনের প্রদর্শনী?
আমরা প্রতিজ্ঞা করি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার। অথচ অফিসের দরজায়, হাসপাতালের কাউন্টারে, লাইসেন্স থেকে আদালত — ঘুষ যেন অঘোষিত নিয়ম। আমরা আইন মানি যখন পুলিশের চোখ আছে, অন্যথায় ট্রাফিক ভাঙতে আমাদের দ্বিধা নেই। আমরা স্লোগান তুলি নারী নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু আর জি কর কাণ্ডের এক বছর পরও নারীরা আজও ভয়ে রাতে রাস্তায় হাঁটতে পারেন না। NARI রিপোর্ট বলছে, কলকাতা নারীর জন্য এখনও নিরাপদ শহরের তালিকায় নীচের দিকে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা — গত বছরে অপরাধ বেড়েছে ২১ শতাংশ। পুরুষেরাও কি নিরাপদ? বেকারত্ব, ঋণ, মানসিক চাপ — অসংখ্য মানুষ আজ ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।
২২শে শ্রাবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রার্থনাই মনে পড়ে যায় —
বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা —
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
কিন্তু আমরা কি সত্যিই ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে শিখেছি? নাকি সুবিধের জন্য ঘুষ মেনে নেওয়া, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা, এটাই আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতার রূপ? স্বাধীনতা তখনই সত্যি হবে, যখন দেশপ্রেম আর সততা একদিনের উৎসব নয় — বরং প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে উঠবে। স্বাধীনতা মানে শুধু পতাকার ওড়ানো নয়।
প্রকাশিত হলো — বাঙালি.নেটওয়ার্ক-এর উদ্যোগ ই-পত্রিকার আগস্ট ২০২৫ সংখ্যা। স্বাধীনতা দিবসের চেতনা, নারী ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন, দুর্নীতি ও নৈতিকতার সংকট, আর আগস্টে জন্ম নেওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসকে নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ — সব মিলিয়ে আজকের সমাজ ও আগামী দিনের ভাবনা একত্রে বোনা এই সংখ্যায় আপনাদের স্বাগত।
চলুন, একসাথে পড়ি, ভাবি, আর Glocal বাংলার জন্য Vocal হই।